সববাংলায়

১৪ নভেম্বর | শিশু দিবস (ভারত)

বিভাগঃ , ,

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ওই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের  কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সমস্ত দিবস গুলির মধ্যে একটি হল শিশু দিবস (Children’s Day)।

প্রতি বছর সারা ভারতবর্ষে ১৪ নভেম্বর শিশু দিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে। জওহরলাল নেহরু শিশুমহলে ভীষণই জনপ্রিয় ছিলেন। শিশুদের মধ্যে তিনি ‘চাচা নেহেরু’ নামে বিখ্যাত ছিলেন। নেহেরু মনে করতেন শিশুরাই জাতির আসল শক্তি এবং সমাজের মূল ভিত্তি। তিনি শিশুদের পড়াশুনা সম্পূর্ণ করার পক্ষেও সমর্থন জানিয়েছেন এবং উৎসাহ দিয়েছেন। সেই কারণেই ভারতবর্ষে তাঁর জন্মদিনটিকেই শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর জন্মদিন ১৪ নভেম্বর দিনটিকেই ভারতে শিশু দিবস হিসাবে পালন করা হয়ে থাকে। সর্বপ্রথম তুরস্কে ১৯২০ সালের ২৩ এপ্রিল শিশু দিবস পালিত হয়েছিল। বিশ্ব শিশু দিবস হিসেবে রাষ্ট্রসংঘ ২০ নভেম্বর তারিখটিকে নির্বাচন করেছিল এবং সারা বিশ্বে ওইদিনই শিশু দিবস পালিত হয়। কিন্তু ১৯৬৪ সালের ২৭ মে জওহরলাল নেহেরুর মৃত্যুর পর সেইবছর থেকেই ভারতবর্ষে নেহেরুর জন্মদিন ১৪ নভেম্বরে শিশু দিবস পালিত হয়ে আসছে।

প্রত্যেক শিশুর মন একটি অলিখিত সাদা কাগজের মতো, তাকে যেমন শিক্ষা দেওয়া হবে সে তেমনভাবেই গড়ে উঠবে। শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ, সুতরাং তাদেরকে অবহেলা করা, তাদের প্রতি অমনোযোগী হওয়ার অর্থ আসলে দেশের ভবিষ্যৎকেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া। সুতরাং শৈশব থেকেই শিশুকে উপযুক্ত শিক্ষাদান এবং তাকে সুস্থ স্বাভাবিক একটি জীবনের দিকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য আরও যা-কিছু করণীয় সেগুলি যথাযথভাবে গুরুত্ব সহকারে পালন করা উচিত। সেই কারণে শিশুদের অধিকার, যত্নসহকারে তার দেখাশোনা এবং অবশ্যই তার উপযুক্ত শিক্ষা বিষয়ে মানুষকে আরও বেশি সচেতন করে তোলবার উদ্দেশ্যেই বিশেষ মর্যাদা সহকারে এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। বারংবার মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় শিশুদের সময় দেওয়া, তাদের  সুসভ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা একপ্রকার দেশসেবাই বটে।

সারাদেশে এই দিনটিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সামাজিক সংস্থা বা ক্লাবগুলি এইদিন অনাথ শিশুদের মধ্যে বই, চকোলেট ইত্যাদি বিতরণ করে। স্কুলে-স্কুলে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক বিচিত্র অনুষ্ঠানের অথবা প্রতিযোগিতামূলক নানা ইভেন্টের। শিশুরা সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করে। কখনও দেখা যায় টেলিভিশনে শিশুদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এমনকি অভিভাবকদের জন্য বিভিন্ন চ্যানেলে শিশুবিশেষজ্ঞদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আয়োজনও করা হয়ে থাকে। শিশুরা যেন যথাযথ শিক্ষা পায়, তাদের দৈহিক পুষ্টির যেন অভাব না হয় এইসব বিষয়েও সোশ্যাল মিডিয়া-সহ আরও  নানা মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। যেমন শিশুদেরকে আনন্দদানের মধ্যে দিয়ে তাদের নানা বিষয়ে আগ্রহী করে তোলবার চেষ্টা করা হয় তেমনি শিশুদের জীবনকে গুরুত্ব সহকারে লালন করে গড়ে তোলার জন্য মানুষকে আরও উদ্যোগী হওয়ার কথা বলা হয় এমন বিবিধ উদযাপনের মাধ্যমে।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading