সববাংলায়

বার্ট্রান্ড রাসেল

উনিশ ও বিশ শতকে পাশ্চাত্যে যেসব প্রতিভাবান, উচ্চমেধা ও দার্শনিক মননসম্পন্ন মানুষের আবির্ভাব সমাজ ও রাজনীতির ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করেছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell)৷ বার্ট্রান্ড আর্থার উইলিয়াম রাসেল প্রাথমিকভাবে একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ ও গণিতবিদ ছিলেন। বিশ্লেষণাত্মক দর্শনের একজন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। তাঁর রচনা এবং বক্তৃতাগুলি যুক্তিবিদ্যা এবং গণিতবিদ্যার জগতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে আছে। রাসেলের যৌক্তিক পরমাণুবাদ, ভাষার দর্শন, বিজ্ঞানের দর্শন ইত্যাদি তত্ত্ব দার্শনিক সমাজের কাছে অমূল্য মণিমাণিক্যস্বরূপ। তিনি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের উপর যেমন জোর দিয়েছিলেন, তেমনি ভিয়েতনামের যুদ্ধে আমেরিকার তীব্র সমালোচনা করতেও পিছপা হননি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমালোচনা করার ফলে তাঁকে লেকচারারের পদ থেকে অপসারিত করা হয়। এমনকি কারাবাসও করতে হয় তাঁকে পরবর্তীকালে।

১৮৭২ সালের ১৮ মে যু্ক্তরাজ্যের মনমাউথশায়ারের অন্তর্গত ট্রেলেচের র‍্যাভেনক্রফ্টে একটি ব্রিটিশ অভিজাত এবং উদার মনোভাবাপন্ন পরিবারে বার্ট্রান্ড রাসেলের জন্ম হয়। তাঁর বাবা ভিসকাউন্ট অ্যাম্বারলি এবং মায়ের নাম ক্যাথারিন। রাসেলের দাদা ফ্রাঙ্ক তাঁর থেকে সাত বছরের বড় ছিলেন এবং বড় বোন রাচেল ছিলেন চার বছরের বড়। ১৮৭৪ সালের জুন মাসে ডিপথেরিয়ায় তাঁর মায়ের মৃত্যু হয় এবং তার কিছুদিন পরেই বড় বোন রাচেল মারা যায়। দু’বছর পর ১৮৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে দীর্ঘ বিষন্নতার পর ব্রঙ্কাইটিসে মারা যান রাসেলের বাবা ভিসকাউন্ট। এরপরেই রাসেল এবং ফ্রাঙ্ক তাঁদের ঠাকুরদাদা ও ঠাকুরমার কাছে রিচমন্ড পার্কের পেমব্রোক লজে চলে যান। ঠাকুরদাদার মৃত্যুর পর রাসেল তাঁর ঠাকুরমা কাউন্টেস রাসেলের কাছেই বড় হয়ে ওঠেন। ধর্মীয় রক্ষণশীলতা থাকলেও কাউন্টেস প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিও পোষণ করতেন। সামাজিক ন্যায়-বিচারের বিষয়ে রাসেলের উপরে তাঁর ঠাকুরমার প্রভাব ছিল বিস্তর। যদিও পেমব্রোক লজের ধর্মীয় প্রার্থনার বাতাবরণে ভীষণ অস্বস্তির মধ্যে দিনযাপন করতেন তিনি। তাঁর বয়ঃসন্ধিকাল খুবই একাকিত্বের মধ্যে কেটেছিল এবং মাঝে মাঝে আত্মহত্যার কথাও চিন্তা করতেন তিনি।

গভর্নেস এবং গৃহশিক্ষকের কাছেই তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। তাঁদের কাছেই ফরাসি ও জার্মান ভাষার নিঁখুত জ্ঞান অর্জন করেছিলেন তিনি৷ ঠাকুরদাদার লাইব্রেরিতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটাতেন বার্ট্রান্ড রাসেল। ধর্মশাস্ত্র এবং বিশেষত গণিতের প্রতি তাঁর আগ্রহ প্রবল হয়ে ওঠে। গণিতশাস্ত্র সম্পর্কে আরও বেশি জ্ঞানলাভের ইচ্ছাই তাঁকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রেখেছিল। তাঁর যখন এগারো বছর বয়স, সেই সময় দাদা ফ্রাঙ্ক তাঁকে ইউক্লিডীয় জ্যামিতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় যা রাসেলের জীবন বদলে দিয়েছিল। এসময় পার্সি বিসি শেলির লেখালেখির জগতের সংস্পর্শেও আসেন তিনি৷ ১৫ বছর বয়সেই রাসেল খ্রিস্টান ধর্মীয় মতবাদের বৈধতা নিয়ে চিন্তা করে যথেষ্ট সময় ব্যয় করেছিলেন। ১৮ বছর বয়সে মিলের আত্মজীবনী পড়ার পর পুরো মাত্রায় নাস্তিক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। রাসেলের বাবা চাইতেন সন্তানদের অজ্ঞেয়বাদী হিসেবেই গড়ে তুলতে। ১৮৯০ সালে একজন আমেরিকান বন্ধু এডওয়ার্ড ফিটজেরাল্ডের সঙ্গে মহাদেশে ভ্রমণ করেন বার্ট্রান্ড রাসেল।

কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে গণিতশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য একটি বৃত্তি লাভ করেন বার্ট্রান্ড রাসেল। এখানে গোপন ছাত্র সমাজ ‘অ্যাপোসল’-এর সদস্যপদ লাভ করেছিলেন রাসেল। এই দলের সঙ্গে আলোচনায় অনুপ্রাণিত হয়ে দর্শনের জন্য গণিতকে ত্যাগ করেন তিনি এবং ট্রিনিটিতে অ্যান এসে অন দ্য ফাউন্ডেশনস অফ জিওমেট্রি’ গবেষণাপত্রের জন্য ফেলোশিপও পান রাসেল। পরবর্তীকালে ১৮৯৭ সালে এটির একটি সংশোধিত সংস্করণ রাসেলের প্রথম দার্শনিক গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। এই গবেষণা জ্যামিতিকে স্থানিক অন্তর্দৃষ্টির কাঠামোর বিশ্লেষণ হিসেবে দেখিয়েছিল। ১৮৯৩ সালে সপ্তম র‍্যাংলার হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৮৯৪ সালে কেমব্রিজ ত্যাগ করেন তিনি এবং কয়েক মাস প্যারিসে ব্রিটিশ দূতাবাসে কাটান।

১৮৮৯ সালে রাসেল ১৭ বছর বয়সে অ্যালিস পিয়ারসাল স্মিথের পরিবারের সঙ্গে আলাপ করেন। সেই পরিবারের মানুষ লর্ড জনের নাতি রাসেলকে দেখে খুবই আনন্দ পেত এবং তাঁকে পছন্দও করত। শীঘ্রই বিশুদ্ধতাবাদী, উচ্চমনা অ্যালিসের প্রেমে পড়েন তিনি এবং ঠাকুরমার অমতেই ১৮৯৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর তাঁকে বিবাহ করেন রাসেল। ১৮৯৫ সালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বার্লিন সফরে যান তিনি। ১৮৯৬ সালে তাঁর লেখা প্রথম রাজনৈতিক গ্রন্থ ‘জার্মান স্যোশাল ডেমোক্রেসি’ এই বার্লিন সফরেরই ফল। ১৮৯৬ সালেই ‘লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স’-এ জার্মান স্যোশাল ডেমোক্রেসি পড়িয়েছিলেন তিনি। ১৯৩৭ সালের শরৎকালে সেখানে ক্ষমতার বিজ্ঞান নিয়ে এক বক্তৃতা দিয়েছিলেন রাসেল। ১৯০১ সাল থেকে রাসেলের বৈবাহিক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। ১৯১১ সালে লেডি অটোলিন মোরেলের সঙ্গে রাসেলের সম্পর্কের ফলে অ্যালিসের সঙ্গে দীর্ঘ বিচ্ছেদের সূচনা হয়। অবশেষে ১৯২১ সালে তাঁদের বিবাহ-বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছিল। অ্যালিসের সঙ্গে বিচ্ছেদের বছরগুলিতে বেশ কিছু মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন রাসেল।

১৯০০ সালে প্যারিসে দর্শনের প্রথম আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে যোগদান করেন রাসেল যেখানে তিনি জিউসেপ্পে পিয়ানো এবং আলেসান্দ্রো পাডোয়ার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের বক্তব্যে এতটাই মুগ্ধ হয়ে যান তিনি যে, জিউসেপ্পে পিয়ানোর ‘ফর্মুলারিও ম্যাথেম্যাটিকো’-সহ ইতালীয় সাহিত্য গোগ্রাসে পড়ে ফেলেছিলেন তিনি। পিয়ানোর যুক্তির সূক্ষ্মতা তাঁকে মুগ্ধ করে এবং ইংল্যান্ডে ফিরে তিনি ‘দ্য প্রিন্সিপালস অফ ম্যাথেমেটিক্স’ নামক যুগান্তকারী কাজ করতে শুরু করেন ও ১৯০৩ সালে তা প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থ যুক্তিবাদের জগতে এক মহামূল্যবান সংযোজন। গণিত এবং যুক্তিবাদ যে এক এবং অভিন্ন এই গ্রন্থে তা স্পষ্টত দেখিয়েছেন রাসেল। এই গ্রন্থের গবেষণার সময়তেই ১৯০১ সালে ‘রাসেল’স প্যারাডক্স’-এর আবিষ্কার করেন তিনি। এটি মূলত যুক্তি ও গাণিতিক সেটতত্ত্বের পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি এক দ্বন্দ্ব। যদিও জর্জ ক্যান্টর ছিলেন আধুনিক সেটতত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা। ক্যান্টরের প্রমাণে কিছু ত্রুটি দেখেছিলেন তিনি৷ যেহেতু সেট তত্ত্বকে গণিতের অন্যান্য সমস্ত শাখার স্বতঃসিদ্ধ বিকাশের ভিত্তি হিসাবে দেখা হয়েছিল, রাসেলের প্যারাডক্স সামগ্রিকভাবে গণিতের ভিত্তিকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছিল।

ফেবিয়ান প্রচারক ব্রিটিশ ওয়েব এবং সিডনি দ্বারা ১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘সহগ ডাইনিং ক্লাব’-এর সদস্য হন তিনি। ১৯০৫ সালে ‘অন ডিনোটিং’ নামে তাঁর লেখা একটি প্রবন্ধ ‘মাইন্ড’ নামক দার্শনিক জার্নালে প্রকাশিত হয়। ১৯০৮ সালে র‍য়্যাল সোসাইটির একজন সদস্য নির্বাচিত হন বার্ট্রান্ড রাসেল। ১৯১০ সালে ট্রিনিটি কলেজের প্রভাষক পদ লাভ করেন রাসেল। হোয়াইটহেডের সঙ্গে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা কিনা পূর্ববর্তী ‘দ্য প্রিন্সিপালস অফ ম্যাথেমেটিক্স’-এর খসড়া থেকে উদ্ভূত তিন খণ্ডে প্রকাশিত এক স্বয়ংসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। ১৯১০ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৯১৩-এর মধ্যে মোট তিনটি খণ্ডের প্রকাশ সম্পূর্ণ হয়। ১৯১০-এ ‘অ্যান্টি-সাফ্রাজিস্ট অ্যাঙ্কজাইটি’তে মহিলাদের ভোটাধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন রাসেল। ১৯১৪-তে প্রকাশিত ‘আওয়ার নলেজ অফ দ্য এক্সটার্নাল ওয়ার্ল্ড অ্যাজ আ ফিল্ড ফর সায়েন্টিফিক মেথড ইন ফিলোসফি’-তে বিজ্ঞান নিয়ে চিন্তাভাবনা প্রকাশ পায় রাসেলের। বিজ্ঞানের দর্শনের পাশাপাশি ভাষার দর্শন নিয়েও চিন্তা করেছিলেন তিনি।

১৯১৪ সালে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং আগস্ট মাসে যুদ্ধ যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে। রাসেল সেসময় শান্তিবাদী গোষ্ঠীতে যোগদান করেন। এই গোষ্ঠী যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল। যুদ্ধবিরোধিতায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে ডিফেন্স অফ দ্য রিয়েলম অ্যাক্ট, ১৯১৪-এর অধীনে রাসেলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে ট্রিনিটি কলেজ থেকেও বরখাস্ত করা হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে একটি পদের প্রস্তাব দিলেও তাঁর পাসপোর্ট প্রত্যাখান করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ফলে ১০০ ডলার জরিমানা করা হয় তাঁকে, কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করায় পরে তাঁর বইগুলি নিলামে বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। ১৯১৭ সালের জুন মাসে লিডস কনভেনশনে যোগ দেন রাসেল। সেটি এক হাজারেরও বেশি যুদ্ধবিরোধী সমাজতান্ত্রিক মানুষের এক ঐতিহাসিক সমাবেশ ছিল। যুক্তরাজ্যের পক্ষে যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করে ‘ট্রাইব্যুনাল’-এ লেখা একটি শান্তিবাদী নিবন্ধের জন্য তাঁকে ১৯১৮ সালে ব্রিক্সটন কারাগারে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই কারাবাসকালেই তিনি রচনা করেন ‘ইন্ট্রোডাকশন টু ম্যাথেমেটিকাল ফিলোজফি’ যা ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯২১ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘অ্যানালিসিস অফ মাইন্ড’ লন্ডনে দেওয়া কয়েকটি বক্তৃতার সংকলন। ১৯১৯ সালে ট্রিনিটিতে পুনর্বহাল হন এবং ১৯২০-তে পদত্যাগ করেন।

১৯২০ সালে রাশিয়া যান রাসেল বলশেভিজমের অবস্থা খতিয়ে দেখতে। ‘দ্য নেশন’ কাগজের জন্য ‘সোভিয়েত রাশিয়া ১৯২০’ শিরোনামে চার-অংশের সিরিজ লিখেছিলেন তিনি সেই সময়। ভ্লাদিমির লেনিনের সঙ্গেও তিনি দেখা করেন। পরবর্তীকালে ‘দ্য প্র্যাকটিস অ্যান্ড থিওরি অফ বলশেভিজম’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন বার্ট্রান্ড রাসেল। সেসময় রাসেলের প্রেমিকা ব্রিটিশ লেখিকা, নারীবাদী ও সমাজবাদী প্রচারক ডোরা ব্ল্যাক রাশিয়া সফর করছিলেন। চিনে তখন অনেক পণ্ডিতের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন রাসেল ও জাপানি সংবাদমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয় যা সম্পূর্ণরূপে ভুল ছিল। সেখান থেকে ফিরে গর্ভবতী ডোরাকে বিয়ে করেন রাসেল ১৯২১ সালে। তাঁদের সন্তান জন কনরাড রাসেল জন্মায় সেই বছর নভেম্বর মাসে।

এসময় বার্ট্রান্ড রাসেল পদার্থবিদ্যা, নীতিশাস্ত্র এবং শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে বই লিখে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯২২ এবং ১৯২৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে রাসেল চেলসি নির্বাচনী এলাকায় লেবার পার্টির প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছিলেন, যদিও ব্যর্থ হন। ডোরার সাথে ১৯২৭-এ পরীক্ষামূলক বিকন হিল স্কুল স্থাপন করেন তিনি। ১৯৩২ সাল নাগাদ ডোরা ও রাসেলের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৩৬ সালে রাসেল বিবাহ করেন প্যাট্রিসিয়া (পিটার) স্পেন্সকে (Patricia “Peter” Spence)। তাঁদের একটি পুত্র ছিল। ১৯৫২ সালে তাঁদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটার পর সেবছরেই এডিথ ফিঞ্চকে (Edith Finch) বিবাহ করেন রাসেল। ১৯২৯ সালে ‘ম্যারেজ অ্যান্ড মোরালস’-এ উন্মুক্ত যৌনশিক্ষার পক্ষে কথা বলে সমালোচনা ও নিন্দার শিকার হন তিনি। ‘হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স’-এ তিনি বলেন নৈতিক বিষয়কে ইচ্ছের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত।

১৯৩৭ সালে শক্তি বিজ্ঞানের লেকচারার পদের জন্য লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে ফিরে আসেন বার্ট্রান্ড রাসেল। ১৯৩২-১৯৩৯ পর্যন্ত ইন্ডিয়া লীগের সভাপতি ছিলেন রাসেল। লস এঞ্জেলেসে ইউডিএল-এ দর্শনের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি, আবার ১৯৪০-এ নিউইয়র্কের সিটি কলেজেও তিনি দর্শনের অধ্যাপনা করেন। উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তিনি সেই চাকরি হারান। বার্নেস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করেন। সেসময় দর্শনের ইতিহাসের ওপর দেওয়া বক্তৃতাগুলি ‘আ হিস্ট্রি অফ ওয়েস্টার্ন ফিলজফি’ বইয়ের ভিত্তি তৈরি করে। ১৯৪৫-এ বইটি প্রকাশ পেলে খুব জনপ্রিয় হয়। ১৯৪৪-এ রাসেল ট্রিনিটি কলেজের অনুষদে যোগ দেন। ১৯৫৫-তে আইনস্টাইনের সঙ্গে একটি ম্যানিফেস্টো জারি করে পারমাণবিক যুদ্ধের বিপদ তুলে ধরেন তিনি। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধিতায় বার্ট্রান্ড রাসেল সক্রিয় ভূমিকা নেন। ১৯৬১-তে পারমাণবিক বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হন তিনি। ১৯৬২-তে কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। ভিয়েতনামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ বিষয়ে তদন্তের জন্য অনেকের সঙ্গে রাসেল ‘ভিয়েতনাম ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছিলেন। মিশরীয় ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বোমা হামলারও তিনি নিন্দা করেন। ১৯৬০-এর শেষে রাসেল তিন খণ্ডের আত্মজীবনী প্রকাশ করেন।

১৯৫০-এ সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। এছাড়াও কলিঙ্গ পুরস্কার, জেরুজালেম পুরস্কার, লন্ডন ম্যাথমেটিকাল সোসাইটির ডি মরগান পদক ইত্যাদি খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন রাসেল।

১৯৭০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ওয়েলসের পেনরাইন্ডেউড্রেথে ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে বার্ট্রান্ড রাসেলের মৃত্যু হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading