আজকের দিনে

৮ মার্চ ।। আন্তর্জাতিক নারী দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছুদিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়ে থাকে। এই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়ে থাকে। বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলোর মধ্যে একটি হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস ।

৮ মার্চ সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ৮ই মার্চ কে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে পালন করার প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। এই সম্মেলনে ১৭টি দেশ থেকে মোট ১০০ জন নারী প্রতিনিধি যোগ দিতে এসেছিলেন। এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৯১১ সাল থেকে সমাজে নারীদের সমান অধিকার প্রদানের জন্য সম অধিকার দিবস হিসেবে ৮ই মার্চ দিনটি পালন করা হবে। ১৯১৪ সালে বেশ কয়েকটি দেশ ৮ ই মার্চ নারীদের সমঅধিকার দিবস হিসেবে দিনটিকে  পালন করে। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ৮ই মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে  বিভিন্ন দেশকে এই দিনটি পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এরপর থেকে সারা বিশ্বে এই দিনটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

সমাজে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই শুরু করেছিল ১৮৫৭ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে। এটা ছিল নারী শ্রমিকদের  মজুরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না করে পুরুষদের সমান মজুরি দেওয়ার  দাবি, কাজের একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করার দাবি, নারীদের কাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ থাকার দাবি। এই সবকিছুর দাবিতে আমেরিকার সুতো কারখানার নারী শ্রমিকরা এই আন্দোলন শুরু করেছিল এবং বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিকদের হস্তক্ষেপে তাদের এই অধিকার সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিণ্তু এখনও অনেক জায়গায় নারীদের মজুরি আদায়ের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার  মুখে পড়তে হয়।

সমাজের এক অভিন্ন অঙ্গ, নারী। নারী ছাড়া সমাজ অচল। কিণ্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদেরকেই নানা বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অন্যের মুখাপেক্ষি হয়ে জীবন কাটাতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় নারীদের লড়াই বিভিন্ন। অথচ নারীরা আজ ডাক্তার, বিজ্ঞানী, এমনকি বিমান চালকের পদেও নিযুক্ত রয়েছে। সুতরাং সমাজে তাদের যোগ্য সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে জনসাধারণকে সচেতন করাই এই দিবসের মূল লক্ষ্য।

বিশ্বের কিছু কিছু দেশগুলোতে এই দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসাবে পালন করা হয় যেমন আবার কোনো দেশে শুধুমাত্র নারীরাই এই ছুটির সুবিধা পেয়ে থাকে। আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া, রাশিয়া ও ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশে সবাই সরকারি ভাবে ছুটি পেয়ে থাকে এই দিনটিতে।

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


তথ্যসূত্র


  1. আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় দিবসের ইতিকথা,বিমান বসু, পাতা নং-২১

  2. https://bn.m.wikipedia.org/
  3. https://www.un.org/

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন