ইতিহাস

ভগিনী নিবেদিতা রচিত গ্রন্থাবলী

ভগিনী নিবেদিতা একজন অ্যাংলো-আইরিশ বংশোদ্ভুত সমাজকর্মী, লেখিকা, শিক্ষিকা এবং স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্যা। নারী শিক্ষা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আমরা সকলেই জানি। এখানে আমরা ভগিনী নিবেদিতা রচিত গ্রন্থাবলী নিয়ে আলোচনা করব।

ভগিনী নিবেদিতা রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে দ্য ওয়েব অফ ইন্ডিয়ান লাইফ (এই বইতে নিবেদিতা ভারতীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সম্পর্কে পাশ্চাত্যে প্রচলিত নানা ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন করেন), মাতৃরূপা কালী, স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়াছি, স্বামীজির সহিত হিমালয়ে, ক্রেডল টেলস অফ হিন্দুইজম, স্টাডিজ ফ্রম অ্যান ইস্টার্ন হোম, সিভিল আইডিয়াল অ্যান্ড ইন্ডিয়ান ন্যাশানালিটি, হিন্টস অন ন্যাশানাল এডুকেশন ইন ইন্ডিয়া, গ্লিম্পসেস অফ ফেমিন অ্যান্ড ফ্লাড ইন ইস্ট বেঙ্গল – ১৯০৬ উল্লেখযোগ্য।

  • মাতৃরূপা কালী, সোয়ান সোনেনচেইন অ্যান্ড কোম্পানি, ১৯০০- মাতৃরূপা কালী (মূল ইংরেজিতে: কালী দ্য মাদার) হল ভগিনী নিবেদিতার লেখা একটি ইংরেজি বই। স্বামী অমলেশানন্দ বইটির বঙ্গানুবাদ করেন। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী কালী তাঁর পূজকদের সবরকম ভয় ও বিপদ থেকে মুক্তি দেন। এই বইতে নিবেদিতা দেবী কালীর কথা আলোচনা করেছেন।
  • দ্য ওয়েব অফ ইন্ডিয়ান লাইফ, ডব্লিউ. হেইনমান, ১৯০৪- বইটি একটি প্রবন্ধ সংকলন। প্রকাশের পর বইটি খুবই জনপ্রিয় হয়। বইটির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই বইতে নিবেদিতা ভারতের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে প্রধান হল ভারতীয় হিন্দুদের জীবন। ভারতের বর্ণব্যবস্থা নিয়েও নানা কথা আলোচনা করা হয়েছে এখানে। এছাড়া সমাজে নারীর স্থান, জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে বৈদিক মত, তীর্থযাত্রা, ভারতে ইসলামের আগমন ইত্যাদি বিষয়ও আলোচিত হয়েছে।
  • ক্রেডল টেলস অফ হিন্দুইজম লংম্যানস, ১৯০৭- ১৮৯৮ সালে নিবেদিতা ভারতে আসেন। স্বামী বিবেকানন্দের বন্ধু ও শিষ্য জোসেফিন ম্যাকলাউড বিবেকানন্দকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি কীভাবে তাঁকে সাহায্য করতে পারেন। বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “ভারতকে ভালবেসে”। নিবেদিতা ভারতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে পাশ্চাত্য জগৎকে পরিচিত করাতে চেয়েছিলেন। এই জন্যই তিনি এই বইটি রচনা করেন। এটি হিন্দু পৌরাণিক সাহিত্যের একটি মুখবন্ধ এবং পুরাণ থেকেই এই বইয়ের গল্পগুলি সংকলিত হয়েছে।
  • অ্যান ইন্ডিয়ান স্টাডি অফ লাভ অ্যান্ড ডেথ লংম্যানস, গ্রিন অ্যান্ড কোম্পানি- নিবেদিতা ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রথা রীতিনীতি ইত্যাদি নিয়ে একাধিক বই লিখেছিলেন। এই বইটি “অ্যান ইন্ডিয়ান স্টাডি অফ লাভ অ্যান্ড ডেথ” তারই অন্যতম। নিবেদিতা এই বইটিকে কয়েকটি অধ্যায়ে ভাগ করেছিলেন। প্রথম কয়েকটি অধ্যায়ে রয়েছে (“মেডিটেশন” অংশ) “আত্মা”, “প্রেম”, “আন্তরিক সৌকর্য” ও “শান্তি” সম্পর্কে ধ্যান। পরে আত্মা ও প্রেমিকের সম্পর্ক আলোচিত হয়েছে। শেষে মৃত ব্যক্তির সম্মানে হিন্দুদের আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিবরণ রয়েছে।
    স্বামীজিকে যেরূপ দেখিয়াছি, ১৯১০।
  • সিলেক্ট এসেজ অফ সিস্টার নিবেদিতা, গণেশ অ্যান্ড কোং, ১৯১১- এ. জে. এফ. ব্লেয়ার বইটির ভূমিকা লিখে দেন। এই বইতে নিবেদিতা ভারত, ভারতীয় সংস্কৃতি, ধর্ম, সমাজ, ইতিহাস, রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে কয়েকটি প্রবন্ধ লিখেছেন। সেই সময় ভারতীয় নারীর অবস্থা, স্বদেশী আন্দোলন ইত্যাদি নিয়েও তিনি তাঁর মত প্রকাশ করেছেন। ভারত ও হিন্দুধর্ম সেই সময় যে সমস্যাগুলির সম্মুখীন হয়েছিল, সেগুলি আলোচনা করে নিবেদিতা তার সমাধানের কিছু পথ প্রস্তাব করেছেন। বইয়ের পরিশিষ্টভাগে নিবেদিতার প্রতি কয়েকটি শ্রদ্ধালেখ সংযোজিত হয়েছে।
  • স্টাডিজ ফ্রম অ্যান ইস্টার্ন হোম লংম্যানস, গ্রিন অ্যান্ড কোম্পানি, ১৯১৩- ভগিনী নিবেদিতার একটি আত্মজীবনীমূলক বই। এই বইতে নিবেদিতা তাঁর ভারতবাসের স্মৃতিকথার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গাপূজা, দোলযাত্রা, রাসযাত্রা। জন্মাষ্টমী প্রভৃতি উৎসব এবং কলকাতায় প্লেগ মহামারীর অভিজ্ঞতা, উত্তর ভারত ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা লিখে যান।
  • মিথস অফ হিন্দুজ অ্যান্ড বুদ্ধিস্টস, লন্ডন : জর্জ জি. হারাপ অ্যান্ড কোং., ১৯১৩- এই বইটি ভগিনী নিবেদিতা ও আনন্দ কে. কুমারস্বামীর লেখা। এই বইতে লেখক হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্য থেকে কিছু পুরাণ ও গল্প বর্ণনা করেছেন। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তত্ত্বাবধানে আঁকা বেশ কিছু জলরং ছবি এই বইতে অন্তর্ভুক্ত হয়। অবনীন্দ্রনাথ নিজেও এই বইয়ের কয়েকটি ছবি এঁকে দেন।
    স্বামীজির সহিত হিমালয়ে, ১৯১৩।
  • ফুটফলস অফ ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি, লংম্যানস গ্রিন অ্যান্ড কোম্পানি, ১৯১৫- এই বইতে লেখক ভারতের ইতিহাস, তার গৌরব ও সীমাবদ্ধতাগুলি আলোচনা ক্করেছেন। ভারতের ধর্ম, দর্শন, সংস্কৃতি, স্থাপত্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এই বইতে আলোচিত হয়েছে। লেখক শুধু ভারতের সমস্যাগুলিই আলোচনা করেননি, বরং এই সমস্যার সমাধানে কিছু পথের কথাও বলেছেন।
  • রিলিজিয়ন অ্যান্ড ধর্ম, লংম্যানস গ্রিন অ্যান্ড কোম্পানি, ১৯১৫- ১৮৯৮ সালে নিবেদিতা ভারতে আসেন। তিনি ভারতের (বিশেষত বাংলার) ছাত্রসমাজের সঙ্গে গভীরভাবে মেলামেশা করেন। ভারতীয় ভাষায় “ধর্ম” কথাটিকেই ইংরেজি অনুবাদে বলে “রিলিজিয়ন”। কিন্তু এই বইতে দেখানো হয়েছে, কেন “ধর্ম” শব্দের একটি বৃহত্তর ও আরও প্রসারিত অর্থ আছে। বইটি একটি প্রবন্ধ সংকলন। এই বইতে লেখক হিন্দু রীতিনীতি, মুক্তির ধারণা, হিন্দুধর্ম ও সংগঠন, সম্প্রদায়, সন্ন্যাস, ধর্ম ও জাতীয় সাফল্যের মতো হিন্দুধর্মের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
  • সিভিক অ্যান্ড ন্যাশানাল আইডিয়ালস। উদ্বোধন কার্যালয়, ১৯২৯।
    ১৯১০-১১ সালে দ্য মডার্ন রিভিউ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত দ্য এনশিয়েন্ট অ্যাবে অফ অজন্তা বইটি ২০০৯ সালে কলকাতার লালমাটি প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র


  1. ভগিনী নিবেদিতা ও বাংলায় বিপ্লববাদ, গিরিজাশঙ্কর রায়চৌধুরী, অরুণা প্রকাশন (২০১২)।
  2. Not Earth's Girl, article by Arindam Chakrabarti on Telegraph, dated 5/10/2012.
  3. The Complete Works of Sister Nivedita, Vol. 1 & 2.
  4. Swami Vivekananda's Spiritual Daughter: Sister Nivedita by Hironmoy N. Mukherjee, Sri Ramakrishna Math Chennai (2015).
  5. Nivedita of India, published by Ramakrishna Mission Institute of Culture.
  6. Letters of Sister Nivedita, Vol. 1 & 2.

১ Comment

1 Comment

  1. Pingback: ভগিনী নিবেদিতা | সববাংলায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!