ভূগোল

বড়বাজার

কলকাতার মানচিত্রে বেশ কিছু ‘বাজার’ আছে, যেমন  বাগবাজার, শ্যামবাজার, লালবাজার, বৌবাজার ( বহুবাজার) , আমিনীবাজার, জানবাজার, চিনাবাজার, বড়বাজার, টেরিটি বাজার, শোভাবাজার ইত্যাদি৷ প্রত্যেকটি বাজারেরই আছে তার নিজস্বতা, আছে তার ইতিহাস। এইরকমই স্থাননামে প্রসিদ্ধ কলকাতার বাজার-গুলির মধ্যে এখানে  বড়বাজার নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হল।

বড়বাজার নামে এবং কাজে দুইয়েই বড়৷ যদিও বলা হয় এটির প্রকৃত নাম ‘ বুড়ো বাজার ‘ যা পরিবর্তিকালে হয় ‘বড়বাজার’। এটি পাইকারি কেনাকাটার সব থেকে বড় বাজার। সমস্ত রকম ব্যবসায়ীদের সমাবেশ এখানে দেখা যায়৷ বহু ক্রেতা এবং বিক্রেতার সমাবেশে এলাকাটি জমাটি হয়ে থাকে। ইলেকট্রিকের দ্রব্য থেকে শুরু করে কাপড়ের দোকান, গয়না, মশলাপাতি, বাচ্চাদের খেলনা কিংবা ঘরোয়া জিনিস সবই বড়বাজারে পাওয়া যায়৷ খুচরো বিক্রেতারা এখান থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনে নিয়ে যান। এত বড় এলাকায় খাবারের দোকান থাকবে না তা হয় না, তাই শিঙারা কচুরি লাড্ডু লস্যির মতন লোভনীয় খাবারের দোকান অলিতে গলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে৷এই এলাকাটি মাড়োয়ারি অধ্যুষিত অঞ্চল। ব্রিটিশদের আগমনের আগে এই অঞ্চলের সর্বাধিক শক্তিশালী পরিবারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শেঠ এবং বাইস্যাকসরা যারা ছিলেন সুতানুটির কাপড়ের বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম৷ ব্রিটিশদের আগমনের পর এই পরিবারগুলির আর্থিক অবস্থা বিকাশ লাভ করে। জনার্দন শেঠ ছিলেন ব্রিটিশদের ট্রেডিং এজেন্ট। শোনা যায় শোভরম বাইস্যাক ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বস্ত্র সরবরাহ করে কোটিপতি হয়ে উঠেছিলেন। এই সমস্ত বড় ব্যবসায়ী ছাড়াও তুলনামূলক কম স্বচ্ছল ব্যবসায়ী পরিবার  এলাকার নিকটবর্তী কালাকার স্ট্রীটে বসতি স্থাপন করেছিলেন, কালাকার স্ট্রীট যা অতিপরিচিত ছিল ঢাকাপট্টি নামে। এখানকার কাপড় ব্যবসায়ীরা মুর্শিদাবাদ এবং ঢাকার কাপড় উৎপাদন কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন৷

ইতিহাস বলে বড়বাজারটি আসলে চীনা ব্যবসায়ীদের দ্বারা  পরিদর্শন ও দখল করা হয়েছিল। এখানে বুন্দেলখণ্ডের রত্ন, কাশ্মীরের শাল, ইংল্যান্ডের কাপড়, মুর্শিদাবাদ ও বেনারসের সিল্ক, কাবুলের শুকনো ফল, সব কিছু কেনা বেচা হত৷ বিভিন্ন দেশের মানুষের সমাগম এখানে দেখা যেত৷

বড়বাজার এলাকাটি মাড়োয়ারী অধ্যুষিত হওয়ার কারণেই হয়ত দীপাবলির সময় সমগ্র এলাকাজুড়ে উৎসবের রূপ নেয়, চারিপাশে আলোর সমাবেশ ঘটে৷ বড়বাজার এলাকাটি অধিকতর ঘিঞ্জি হওয়ায় বেশ কয়েকবার গোডাউনে আগুন লাগার মতন ঘটনা খবরে উঠে এসেছে৷ ঐতিহ্যপূর্ণ এবং এত বড় এই বাজারটির রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের আরও সচেতনতার প্রয়োজন সে সম্পর্কে দ্বিমত নেই৷

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

বাংলা ভাষায় তথ্যের চর্চাকে ছড়িয়ে দিতে পোস্টটি লাইক ও শেয়ার করুন। 

  

error: Content is protected !!