ধর্ম

ছট পূজা

ছট পূজা কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালন করা হয়। সূর্যদেব এবং আর তাঁর স্ত্রী ঊষাকে (মতান্তরে ওনার বোন) আরাধনার মাধ্যমে এই পূজা করা হয়ে থাকে। প্রধানত বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশে এই পূজার ব্যাপকতা দেখা যায়। এছাড়াও ভারতের অন্যান্য রাজ্য যেমন মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ,  এবং নেপালে এই পূজা হয়ে থাকে। বলা হয় কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে এই ব্রত উদযাপিত হওয়ার কারণে এর নাম ছট রাখা হয়েছে। চৈত্র মাসের ষষ্ঠী তিথিতে আরও একটি ছট পূজা করা হয়, যাকে বলে চৈতি ছট।

কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপাবলি শেষ হয়ে যাবার পর কার্তিক শুক্লা চতুর্থী থেকে কার্তিক শুক্লা সপ্তমী অবধি চার দিন ধরে ছট পূজা করা হয়ে থাকে। ব্রতের প্রথম দিনে ব্রতী ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে স্নান সেরে নিরামিষ ভোজন করে। একে বলা হয় নাহাই-খাই।
দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ পঞ্চমীতে ব্রতীরা পুরো দিন উপবাস পালন করে। তারা সূর্যাস্তের আগে এক ফোঁটা জলও খায় না।  সন্ধ্যায় একটি বিশেষ ক্ষীর বা পায়েস এবং চাপাতি দিয়ে একটি বিশেষ প্রসাদ প্রস্তুত করা হয়। এই বিশেষভাবে তৈরি প্রসাদ এবং কলা, মূলা, আদা, কচুর পাতা,কালো এলাচ এবং লবঙ্গ জাতীয় মশলা দিয়ে  ব্রতীরা ছটী মাইয়ার উপাসনা করে। পূজার পরে প্রসাদ খেয়ে তাদের উপবাস ভঙ্গ করে এবং  এটি পরিবার এবং বন্ধুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই দিনটি খরনা নামে পরিচিত।
তৃতীয় দিনে কাছাকাছি কোন নদী বা জলাশয়ের ঘাটে গিয়ে অন্যান্য ব্রতীদের সাথে অস্তগামী সূর্যকে দুধ অর্পণ করে অর্ঘ্য করা হয়। এছাড়াও এইদিন কোশিয়া করা হয়। যে পরিবারে কোন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে বা সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে, তারাই এই  কোশিয়া পালন করে। এখানে পাঁচটি আখের কাঠি ব্যবহার করে একটি ছাউনি তৈরি করা হয়। আখের কাঠিগুলি হলুদ কাপড়ের মাধ্যমে একত্রে বেঁধে দেওয়া হয় এবং প্রদীপ আর মাটির হাঁড়িগুলি ছাউনির নীচে রাখা হয়। আখের পাঁচটি লাঠি আসলে ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ , ব্যোম  এই পাঁচটি উপাদানের প্রতীক। আলোকিত মাটির প্রদীপগুলি সৌরশক্তির প্রতীক। এই আচারটি হয় বাড়ির উঠোনে বা ছাদে হয়। পরে এগুলো নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে তাদের আবার আলোকিত করা হয় এবং এই অনুষ্ঠানের পরে তাদের আবার বাড়িতে পাঠানো হয়।
ব্রতের শেষদিনে পুনরায় ঘাটে গিয়ে উদীয়মান সূর্যকে পবিত্র চিত্তে অর্ঘ্যপ্রদানের পর উপবাসভঙ্গ করে পূজার প্রসাদরূপে বাঁশ নির্মিত পাত্রে সুপ, গুড়, মিষ্টান্ন, ক্ষীর, ঠেকুয়া, ভাতের নাড়ু এবং আখ, কলা, মিষ্টি লেবু প্রভৃতি ফল জনসাধারণকে দেওয়া হয়।

ছট পূজার পেছনে বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীর প্রচলন আছে। একটি প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী শ্রীরাম, শ্রীলঙ্কা জয়ের পর দীপাবলির দিন অযোধ্যা ফিরে আসেন। সেইদিন রাজ্যের সকল প্রজারা মিলে রাজ্য জুড়ে ঘি এর প্রদীপ জ্বালিয়েছিল। এরপর রামের রাজ্যাভিষেক হয় এবং রামরাজ্য স্থাপনের উদ্দেশ্যে শ্রীরাম এবং সীতা কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠীতে উপবাস করে ভগবান সূর্যের আরাধনা করেন। আর সপ্তমীর সূর্যোদয়ে আবার সূর্য আরাধনা করে রামরাজ্যের সূচনা করেন।

অন্য একটি প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী ছট পূজার সূচনা মহাভারত থেকে। সূর্যপুত্র কর্ণই সূর্যোদয়ে সূর্যের পূজা শুরু করলেন। বলা হয় তিনি ভগবান সূর্যের সর্বোচ্চ ভক্ত ছিলেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!