ধর্ম

অভিশপ্ত পাণ্ডু

মহাভারত

পাণ্ডুর বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই দু’স্ত্রীকে রাজধানীতে রেখে তিনি দিগ্বিজয়ে বেরোলেন। দিগ্বিজয় থেকে ফিরে স্ত্রী দের নিয়ে বনে গেলেন। একদিন মৃগয়া গিয়ে তীর দিয়ে মৈথুনরত দুটি হরিণ-হরিণী কে বিদ্ধ করলেন। আসলে হরিণ দুটি প্রকৃত হরিণ ছিল না,তারা ছিলেন মহাতেজস্বী ঋষি কুমার কিমিন্দম এবং তার স্ত্রী। পান্ডুর এই কাজের জন্য ঋষি কুমার তাকে অভিশাপ দেন যে মিলনকালে তাঁরও  মৃত্যু  হবে।

পান্ডু না জেনেই এমন কাজ করে ফেলেছিল। তাদের এভাবেই তীরে বিদ্ধ করার পর পান্ডু তাদের কাছে আসেন, তখন পাণ্ডুকে ঋষি কুমার বললেন,“এমন পাপ কাজ কোন ধার্মিক রাজা করেন না।”


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

পাণ্ডু জবাব দিলেন, “যে কারণে রাজারা শত্রুবধ করে থাকে, একই কারণে মৃগয়ায় এসে মৃগবধও করে থাকে। তাই হরিণ বধের নিন্দা আপনি করতে পারেন না। এটা তো রাজার ধর্মের মধ্যে পড়ে।”

ঋষি কুমার বললেন, “যখন তখন শত্রুর প্রতি তীর ছোঁড়া করা মোটেই প্রশংসনীয় নয়, সেটা নিন্দনীয়ই। ”

পাণ্ডু বললেন, “ যখন তখন আবার কি! হরিণ সাবধান হোক বা অসাবধান, দেখা পেলেই রাজারা বধ করে।”

ঋষি কুমার বললেন, “মহারাজ! আপনি হরিণ ভেবে আমায় বধ করেছেন, আমি সেজন্য আপনাকে দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু আমার মিলন সমাপ্ত হওয়া অবধি আপনার অপেক্ষা করা উচিত ছিল। আমি পুত্র উৎপাদনের আনন্দে আমার মৃগরূপী স্ত্রীর সাথে মিলনে প্রবৃত্ত হয়েছিলাম। আপনি তা ব্যর্থ করে দিলেন। তাই আমি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছি, আপনিও কামনার বশে স্ত্রীর সঙ্গে মিলনে প্রবৃত্ত হলে তখনই প্রাণ ত্যাগ করবেন।”

ঋষি কুমারের অভিশাপে পাণ্ডু এতটা আহত হলেন যে সবাই কে ছেড়ে কঠোর তপস্যায় জীবন যাপন করবেন ঠিক করলেন। কিন্তু তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে যেতে রাজি হল না, তারাও তাঁর অনুগামিনী হল।  মহারাজ পাণ্ডু তখন সমস্ত অলঙ্কার, উৎকৃষ্ট বস্ত্র ইত্যাদি ত্যাগ করে ব্রাহ্মণদের দান করলেন। অনুচর ও ভৃত্যেরা হস্তিনাপুরে এসে খবর দিল যে পাণ্ডু বনে থেকে তপস্যা করেই কাটিয়ে দেবেন। দুই স্ত্রীকে নিয়ে পাণ্ডু নাগশত, চৈত্ররথ, কালকূট, গন্ধমাদন, হংসকূট পেরিয়ে শতশৃঙ্গ পর্বতে এসে তপস্যা করে জীবন কাটাতে লাগলেন।

তথ্যসূত্র


  1. "মহাভারত সারানুবাদ", দেবালয় লাইব্রেরী(প্রকাশক সৌরভ দে, তৃতীয় প্রকাশ) - রাজশেখর বসু, আদিপর্ব (২০। যুধিষ্ঠিরাদির জন্ম - পাণ্ডু ও মাদ্রীর মৃত্যু) পৃষ্ঠাঃ ৪৫
  2. "মহাভারতের একশোটি দুর্লভ মুহূর্ত", আনন্দ পাবলিশার্স, পঞ্চম মুদ্রণ - ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য, অধ্যায় ১৩ অভিশপ্ত পাণ্ডু, পৃষ্ঠাঃ ৭০-৭৩

 
4 Comments

4 Comments

  1. Pingback: পাণ্ডু ও মাদ্রীর মৃত্যু | সববাংলায়

  2. Pingback: অর্জুনের জন্ম | সববাংলায়

  3. Pingback: ভীমের জন্ম | সববাংলায়

  4. Pingback: যুধিষ্ঠিরের জন্ম | সববাংলায়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

মনোরথ দ্বিতীয়া ব্রতকথা নিয়ে জানতে


মনোরথ দ্বিতীয়া

ছবিতে ক্লিক করুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন