বাংলার লোকসংস্কৃতির যে প্রাচীন ঐতিহ্য তার একটি বড় অংশ বিবিধ ও বিচিত্র লৌকিক দেবদেবীর মহিমা, আখ্যান ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ। প্রাচীন রাঢ়বঙ্গের ধর্মঠাকুর (Dharma Thakur) তেমনই এক লোকদেবতা। সাধারণত ডোম, বাগদী, জেলে, নাপিত, সদগোপ ইত্যাদি তথাকথিত নিম্নবর্ণীয় প্রান্তিক মানুষদের দ্বারাই ধর্মঠাকুর পূজিত হয়ে থাকেন। এছাড়াও নানা রূপে, নানা নামে উত্তরপূর্ব ভারত, মধ্যভারতের বিভিন্ন আদিম জাতির মধ্যেও ধর্মঠাকুর পূজার প্রচলন রয়েছে। ধর্মঠাকুরের স্বরূপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এই লৌকিক দেবতার মধ্যে অনেক ধর্মের একটা সংমিশ্রণ ঘটেছে। বিবিধ নামের মতোই একেকস্থানে ধর্মের মূর্তিরও নানা রকমফের লক্ষ করা যায়। ধর্মঠাকুরকে কেন্দ্র করে পাঁচালি সাহিত্যও লিখিত হয়েছে। প্রসঙ্গত ধর্মমঙ্গল কাব্যের কথা উল্লেখ করতে হয়। ধর্মঠাকুরের পালাগান লৌকিক দেবদেবী কেন্দ্রিক লোকায়ত পালাগানগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রান্তিক মানুষ রোগ-শোক থেকে মুক্তি পেতে, বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ধর্মঠাকুরের থানে এসে পুজো দেন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
ধর্ম ঠাকুর কে বা তাঁর স্বরূপ কী এ-নিয়ে লোকগবেষকদের নানারকম তত্ত্ব রয়েছে। তবে আদতে তিনি কোন দেবতা তা নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা যায়নি। সুকুমার সেনের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ষষ্ঠ শতাব্দীর বিজয় সেনের তাম্রপট্টানুশাসনে যে রাজদেবতা ধর্মের উল্লেখ রয়েছে, অনেক ঐতিহাসিক সেই অনুশাসনটি আলোচনা করে উদ্দিষ্ট দেবতাকে মহাযান বৌদ্ধধর্মের দেবতা লোকনাথ বলে মনে করেছেন। তবে ধর্ম যে আদতে কোনও বৌদ্ধ দেবতা নন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতো আধুনিক পন্ডিতেরা সেই মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে ধর্মের গাজনের যে নাচ-গান তা আর্য ধর্মের নয় বরং তা দ্রাবিড় বা চীন তিব্বতীয় হতে পারে। অন্যদিকে ড. নীহাররঞ্জন রায় বলেছেন, “ধর্মঠাকুর মূলত ছিলেন প্রাক আর্য আদিবাসী কোমের দেবতা, পরে বৈদিক ও পৌরাণিক, দেশী ও বিদেশী নানা দেবতা তাহার সঙ্গে মিলিয়া মিশিয়া এক হইয়া ধর্মঠাকুরের উদ্ভব হইয়াছে।” সুধাংশুকুমার রায় আবার এক অতি চমকপ্রদ তত্ত্ব দিয়েছেন ধর্মঠাকুর সম্পর্কে। তাঁর মতে মিশরের ‘ডো-আহোম-রা’ থেকে ‘ধর্মরাজ’ শব্দের উৎপত্তি। মিশরীয় প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি আমাদের দেশের ভাষার মধ্যে উপস্থিত অসংখ্য মিশরীয় ভাষার শব্দের কথা বলেছেন। ড. অমলেন্দু মিত্র তাঁর গবেষণা গ্রন্থে ‘ধর্মঠাকুরের স্বরূপ’ শীর্ষক রচনায় লিখেছেন, “তিনি সূর্য, বরুণ, বিষ্ণু, যমরাজ। শিবের সঙ্গে এঁর সম্পর্ক আছে, বৌদ্ধ প্রলেপও পড়েছে; অনার্যগন্ধ তো আছেই।” তবে এতসব তত্ত্বের মাঝে দাঁড়িয়ে এটা বোঝা সত্যিই দুষ্কর যে, ধর্মঠাকুরের মধ্যে আর্য, অনার্য সংস্কৃতির সংমিশ্রণ কতখানি হয়েছে। তবে সুকুমার সেন মহাশয়ের যে-কথাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ তা হল, “ধর্মঠাকুরের পূজা চলে এসেছে দেশের তথাকথিত নিম্নস্তরের জনগণের মধ্য দিয়ে।” তিনি জানিয়েছেন ধর্মঠাকুরের পুজো মূলত ব্রতকেন্দ্রিক এবং তাঁর পূজক হলেন হাড়ি, ডোম, চণ্ডালদের মতো অন্ত্যজ ও অব্রাহ্মণ জাতির মানুষ অর্থাৎ তথাকথিত ব্রাত্য মানুষের দল। অনেক স্থানীয় লোকদেবতাও ধর্মঠাকুর নামে পুজিত হন, যেমন, ধর্মনারায়ণ, যমরাজ, ধর্মরাজ, প্রেতপতি, কূর্মদেবতা, বাবাঠাকুর, ধর্মসনাতন, যুধিষ্ঠির, ধর্মনিরঞ্জন, বাঁকুড়ারায়, দলুরায়, জগৎরায়, মোহনরায়, কালুরায় প্রভৃতি।
নানারকম লৌকিক কাহিনিও ধর্মঠাকুরকে কেন্দ্র করে প্রচলিত রয়েছে। ধর্মকে নিয়ে রচিত লৌকিক কিছু সাহিত্যের মধ্যেও সেসবের হদিশ পাওয়া যায়। তবে ধর্মঠাকুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত কাহিনি দুটি হল হরিশচন্দ্রের কাহিনি ও লাউসেনের কাহিনি। হরিশচন্দ্রের কাহিনির লেখক রাজারাম দাস এবং লাউসেনের কাহিনিটি লিখেছিলেন রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তী।
হরিশচন্দ্রের কাহিনি তুলনামূলক ছোট হলেও বেশ আকর্ষণীয়। হরিশচন্দ্রের রাজসভায় সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে আসেন ধর্মঠাকুর। তিনি রাজপুত্রদের আশীর্বাদ না করে রাজার দিতে চাওয়া ধনরত্ন নিতে অস্বীকার করেন। রাজা ছিলেন অপুত্রক। তিনি মনের দুঃখে সন্ন্যাসীর সঙ্গে তীর্থে গিয়ে প্রাণত্যাগ করতে চাইলেন। ধর্মরাজ দয়াপরবশ হয়ে পুত্রার্থে তাঁকে দেন একটি পদ্মফুল এবং বলেন তাঁর শতরানীকে ভাগ করে সেই ফুল খাওয়াতে। পাটরানী মদনা সকল রানীকে ফুল ভাগ করে দিলে তাঁর নিজের ভাগে কেবল পড়ে পদ্মের ডাঁটি। তিনি তা রাগ করে ফেলে দিলে এক পরিচারিকা সেটি তুলে এনে বুঝিয়েসুঝিয়ে রানীকে খাওয়ান। সব রানীর একটি করে পুত্র হয় এবং মদনার গর্ভে জন্মায় লুইচন্দ্র। অন্য পুত্ররা মুর্খ হলেও লুইচন্দ্র বিদ্বান ও মেধাবি হয়ে ওঠে। রাজার প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে সে। ধর্ম তখন পূজা পাওয়ার উদ্দেশ্যে লুইচন্দ্রের বিরুদ্ধে বাকি ভাইদের লেলিয়ে দিলেন। ধর্মেরই ষড়যন্ত্রে রাজা গোবধের অপরাধে লুইচন্দ্রকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। যদিও অবশেষে তাঁকে দেশান্তরিত করা হয়। বনে গিয়ে তিনি ধর্মপূজা করতে থাকেন। সেসময় ঘুরতে ঘুরতে পল্লব নগরের রাজা হেরম্বের রাজ্যে উপস্থিত হন তিনি। ভবানীর উপাসক হেরম্বকে লুইচন্দ্র ধর্মপূজা করতে বললে রাজা রুষ্ট হন এবং লুইচন্দ্রকে কেটে ফেলার আদেশ দেন। ধর্মরাজ তখন কুষ্ঠ রোগেদের আদেশ দেন হেরম্বরাজাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য। ভবানী তখন ভক্তের বিপদ বুঝে চঞ্চল হলেন এবং ধর্মরাজ ও ভবানীর মধ্যে একটা আপস হল। এরপর ধর্মঠাকুর পচা গলা দেহ নিয়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। শ্মশানে গিয়ে কোটালের কাছে ধর্ম লুইচন্দ্রের প্রাণভিক্ষা চাইলে কোটাল দুজনকেই হত্যা করতে উদ্যত হন। কোটালের ধৃষ্টতায় রুষ্ট হয়ে কুষ্ঠরোগকে চারভাগে ভাগ করে ধর্ম চারদিকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর পুঁথি খন্ডিত। তবে অনুমান করা যায় হেরম্ব রাজার রাজ্য কুষ্ঠতে ধ্বংস হয়ে গেলে তিনি ধর্মের পূজা শুরু করেন এবং রাজ্যের সবাই প্রাণ ফিরে পায় ও রাজকন্যার সঙ্গে লুইচন্দ্রের বিবাহ হয়।
ধর্মঠাকুরের নির্দিষ্ট একটি কোনও মূর্তি নেই। বিভিন্ন জায়গায় ধর্মঠাকুরের বিবিধরকম মূর্তি ও প্রতীক পূজা হতে দেখা যায়। কোথাও ধর্মঠাকুরের প্রতীক হিসেবে নুড়ি বা শিলা দেখা যায়, এটিকে কূর্মপূজা বলা হয়ে থাকে। আসলে সেই নুড়ি বা শিলাটিকে কচ্ছপের পিঠের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। কোথাও আবার বট বা অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় তৈরি মাটির বেদীকেই ধর্মঠাকুর হিসেবে পুজো করা হয়ে থাকে। কোথাও বা হিন্দুসেনাপতির মতো সুসজ্জিত মহিষবাহন ও হংসবাহন, কোথাও আবার ধর্মঠাকুরের বাহনহীন শান্ত ও সৌম্য এক বিগ্রহ দেখতে পাওয়া যায়। কোন কোন জায়গায় ধর্মঠাকুরের বাম হাতে ধনুক, ডানহাতে গদা, পিঠে তীর ও পূর্ণ তূণ দেখা যায়। মাথায় গোলাপী উষ্ণীষ, কাঁধ পর্যন্ত নেমে আসা চুল, কানে কুণ্ডল, পায়ে নাগরা জুতো, কোমরে কোমরবন্ধ — এমন সাজেও দেখা যায় ধর্মঠাকুরকে। অবশ্য ধর্মঠাকুরের আরও নানারকম মূর্তির কথা জানা যায়। যেমন পশ্চিমবঙ্গের ডোমেরা মৎস্যপুচ্ছবিশিষ্ট নরাকৃতি ধর্মঠাকুরের পুজো করেন। এছাড়াও উড়িষ্যায় বুদ্ধ ও পৌরাণিক বিষ্ণুর মিশ্রণে গঠিত মূর্তিকে নগেন্দ্রনাথ বসু ধর্মঠাকুরের মূর্তি বলেছেন।
মূর্তির রকমভেদে ধর্মঠাকুরের পূজারও নানারকম তারতম্য ঘটতে দেখা যায়। যেখানে শিলা বা কূর্ম পূজা হয় সেখানে প্রধানত নাথ বা যুগী সম্প্রদায়ের মানুষেরাই ধর্মের সেবায় নিয়েজিত থাকেন। এই ধরনের পূজাতে সাধারণত ফল বা প্রাণী বলি দেওয়া হয়। ছাগ, পায়রা, বলি-কুমড়ো, হাঁস, মুরগি ইত্যাদি বলি দেওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে। অনেকে আবার থানের সামনে মানত করা ষাঁড় ছেড়ে দেন।
যেসব জায়গায় ধর্মঠাকুরের একটি নির্দিষ্ট মূর্তি পূজিত হয় সেখানে সাধারণত কোনরকম বলি দেখা যায় না। মুরগি, ছাগল, হাঁস ইত্যাদি প্রাণীকে ধর্মের নামে মুক্তি দেওয়া হয়। সেই মুক্ত প্রাণীগুলিকে স্থানীয় মানুষেরা ধরে খায়। যেখানে ধর্মঠাকুরের কোনও মূর্তি বা শিলা নেই, কেবল মাটির বেদী আছে, সেসব ক্ষেত্রে নিত্যপূজা হয় না, বাৎসরিক পূজার অনুষ্ঠান হয়। ধর্মঠাকুরের থানে মুরগির ডিম, মানকচু, শ্বেতপদ্ম, বোয়াল মাছ ইত্যাদি ধর্মপূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কেউ কেউ আবার ধর্মঠাকুরের সামনে ধূপ ও বাতি জ্বেলেও পুজো দেন। প্রবল গ্রীষ্মে ধর্মঠাকুরের পূজা হয় এবং ধর্মপূজার সময় ধর্মঠাকুরের মাথায় আগুন চড়ানো হয়। কোথাও বা ধর্মশিলা হাতে অগ্নি-পরিক্রমা করা হয়। এছাড়াও ধর্মপূজায় ডালভাঙা একটি বিশেষ রীতি। পূজার আগের দিন রাতে ভক্তেরা জাম গাছ, বাবলা গাছ, জামার গাছ ও করম গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে আসে। অবশ্য তা দিয়ে কিছুই তেমন করা হয় না। হয়তো এককালে কোনো প্রথা ছিল, আজ তা লুপ্ত হয়ে গেছে। এছাড়াও ধর্মঠাকুরের অনুষ্ঠানে মড়ার মাথা, গলিত শবদেহ নিয়ে খেলা করবার একটি বিশেষ প্রথা আছে। সব জায়গায় এই প্রথা এখন আর দেখা না গেলেও রাঢ়ের বেশ কিছু অঞ্চলে আজও তা বর্তমান। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী এই শবের প্রসঙ্গে বলেছেন ‘ইহার অনার্যত্বে সংশয় নাই’।
প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এবং পূর্ণিমার দিন ধর্মঠাকুরের পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।এছাড়াও বৈশাখী পূর্ণিমার দিন থাকে ধর্মঠাকুরের জাতপুজো। এই বৈশাখী পূর্ণিমার একমাস আগে থেকে ডোম সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্ম-মন্দিরের আশপাশের দশ-বারোটা গ্রামে ঢাক পিটিয়ে ধর্মের জাতের সংবাদ ছড়িয়ে দেন এবং বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাল ও পয়সা আদায় করে নেন। শিবের গাজন উৎসবের সঙ্গে এর কিঞ্চিৎ মিল পাওয়া যেতে পারে। স্থানীয়ভাবে এই প্রথাটিকে ‘ধর্মের ঢাকে বাড়ি পড়া’ বলা হয়ে থাকে। এমনকি ধর্মের নামে ষাঁড় ছেড়ে দেওয়ার রীতিও আছে, যাকে স্বয়ং ধর্মঠাকুরের প্রতীক বলে মান্যতা দেওয়া হয়।
এছাড়াও ধর্মঠাকুরের থানে পূজার সময় তেলপড়া বা জলপড়া কিংবা ‘হাতে মাথায় ধুনো পোড়ানো’র মতো সব অনুষ্ঠান দেখতে পাওয়া যায়। কোন রোগী বা রোগীর অভিভাবক তেল বা জলের একটি বাটি বাবার থানে কিছুক্ষণ বসিয়ে রেখে তুলে নেন। অনেক সময় সেই তেল বা জল বাবার ঘটে ঢেলে পুনরায় বাটিতে নিয়ে নেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয় সেই তেল বা জলে বাবার কৃপাদৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। রোগী সেটি তখন ভক্তিভরে ব্যবহার করে রোগ নিরাময়ের জন্য। অন্যদিকে ধর্মের থানে হাতে মাথায় ধুনো পোড়ানোর একটি বিশেষ রীতি লোকসমাজে প্রচলিত আছে। মূলত মহিলারা এই নিজেদের সন্তানাদির মঙ্গল কামনায় ব্রত করে হাতে মাথায় ধুনো পোড়ান। প্রথমে মন্দির বা থানের নিকটবর্তী পুকুরে স্নান সেরে কাপড় না নিংড়ে গণ্ডি কেটে বাবার থান তিন, পাঁচ বা সাতবার প্রদক্ষিণ করে বাবার সামনে পদ্মাসনে বসেন ব্রতিনী। তার মাথায় একতাল আঠালো কাদা রেখে তারপর জ্বলন্ত এক মালসা বসিয়ে দেওয়া হয়, ঘন ঘন তাতে ধুনো দেওয়া হতে থাকে এবং ব্রতিনীর কোলে মহিলা, শিশু, কিশোর-কিশোরীরা বসে হাতজোড় করে বা মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে ধর্মঠাকুরকে নমস্কার করেন। শেষে ব্রতিনী নিজে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে উঠে যান। এই রীতি অন্য বেশ কিছু লৌকিক দেবদেবীর পূজাতেও দেখা যায়।
পূজা উপলক্ষে ধর্মঠাকুরের মন্দিরে বা থানে পালাগান অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মঠাকুরের গান গাইতে এক থেকে বারো দিন সময় লাগে। ধর্মঠাকুরের গান গাওয়ার শিল্পীও নিতান্তই কম। উল্লেখ্য যে ধর্মঠাকুরের গান কেবল ধর্মের থানেই অনুষ্ঠিত হয়, কোন গৃহস্থ বাড়ির অঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় না। এই পালাগানের দলে সাধারণত আট-দশজন লোক থাকে। মূল গায়কের হাতে চামর ও মন্দিরা, পায়ে ঝাঁঝর ও কোমরে বড় বড় ঘুঙুরের কোমরবন্ধনী থাকে। প্রত্যেকেই দাঁড়িয়ে গান করে থাকেন। অন্যান্য পালাগানের সঙ্গে ধর্মঠাকুরের গানের অনেক পার্থক্য রয়েছে।
মূলত অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষের দ্বারাই পূজিত হলেও কিন্তু উচ্চবর্ণীয় বেশ কয়েকজন দেবতার ধারণা ধর্মঠাকুরে এসে মিশেছে। এই দেবতা আর্য ও অনার্যের সংমিশ্রণে গড়ে উঠে ভেদাভেদ মুছে দিয়ে যেন সেতুবন্ধনের কাজ করেছে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- ‘রাঢ়ের সংস্কৃতি ও ধর্মঠাকুর’, ড. অমলেন্দু মিত্র, ফার্মা কে.এল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, ১৯৭২ (প্রথম সংস্করণ)।
- ‘চব্বিশ পরগণার লৌকিক দেবদেবী : পালাগান ও লোকসংস্কৃতি জিজ্ঞাসা’, দেবব্রত নস্কর, ফার্মা কে.এল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, ১৯৯৯।
- https://en.wikipedia.org/
- https://www.indianetzone.com/
- https://eibangla.in/


আপনার মতামত জানান