সববাংলায়

ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৬২

ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৬২ ছিল ফিফা বিশ্বকাপের সপ্তম আসর। এই বিশ্বকাপের আসর ৩০ মে থেকে ১৭ জুন চিলিতে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বমোট ১৬টি দেশ এই খেলায় অংশগ্রহণ করেছিল। ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়াকে হারিয়ে বিজয়ী হয় ব্রাজিল

১৯৬২ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নানান কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে। এই বিশ্বকাপে ইতালির পর ব্রাজিল প্রথম দেশ হিসেবে ১৯৫৮ সালের পর এই বছর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে। এই বিশ্বকাপেই প্রথম একই পয়েন্ট প্রাপ্ত একাধিক অংশগ্রহণকারী দলকে গড় গোলের ভিত্তিতে পৃথক করা চালু হয়।  এটাই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে প্রতিটা ম্যাচে গড় গোলের সংখ্যা তিনের কম হয়।  ইতিহাসে এই বিশ্বকাপ কেবল বিখ্যাত নয় কুখ্যাতও হয়ে আছে খেলাকে কেন্দ্র করে  হিংসাত্মক ঘটনার কারণে।

১৬টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রথম গ্রুপে ছিল – চিলি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে।  দ্বিতীয় গ্রুপে ছিল পশ্চিম জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইংল্যান্ড। তৃতীয় গ্রুপে ছিল ইতালি, হাঙ্গেরি, স্পেন, যুগোস্লাভিয়া । চতুর্থ গ্রুপে ছিল বুলগেরিয়া, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড । এই বিশ্বকাপে মোট ৩২ টি খেলায় ৮৯ টি গোল হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৬২ এর ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিজয়ী হয় ব্রাজিল। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান যথাক্রমে চিলি ও যুগোস্লাভিয়া অর্জন করে। 

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোয় অবস্থিত জাতীয় স্টেডিয়ামে  ফাইনাল ম্যাচটি খেলা হয়।  ব্রাজিলের পক্ষে গোল করেন যথাক্রমে আমারিলদো, জিতো এবং ভাভা।  চেকোস্লোভাকিয়ার পক্ষে একটি গোল করেন মাসোপুস্ত।  

ফ্লোরিয়ান আলবার্ট, গ্যারিঞ্চা, ভ্যালেন্টিন ইভানভ, ড্রাজান জেরকোভিচ, লিওনেল সানচেজ এবং ভাভা প্রত্যেকে চারটি করে গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারটি ভাগ করে নেন। 

ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৬২ ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে আছে খেলাকে কেন্দ্র করে ভয়ানক হিংসাত্মক ঘটনার জন্য।  এই হিংসাত্মক ঘটনাটি মূলত ঘটে চিলি এবং ইতালির মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে। এক ইতালীয় সংবাদপত্রের দুই সাংবাদিক দেশ হিসেবে চিলির দুরাবস্থা এবং বিশ্বকাপ আয়োজন করার ক্ষেত্রে তার অযোগ্যতার অভিযোগ করে অত্যন্ত কঠোর সমালোচনা করে। এই মন্তব্যের ফলে চিলির জনতা এবং চিলির খেলোয়াড়দের মধ্যেও ইতালির প্রতি প্রবল অসন্তোষ তৈরী হয়।  এই অবস্থায় চিলি এবং ইতালি দুই দল খেলতে নামে। খেলা শুরুর ১২ সেকেন্ডের মধ্যেই প্রথম ফাউল হয়।  ক্রমেই পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজক হয়ে ওঠে যে দুজন ফুটবলারকে বাধ্য করা হয় মাঠ ছাড়তে এবং চারবার পুলিশ নামানো হয় মাঠে পরিস্থিতি সামলাতে। ম্যাচ রেফারি ছিলেন কেন অ্যাস্টন যিনি এই ম্যাচটির পর আর কোন বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলাননি।  উল্লেখ্য পরবর্তীকালে তিনি রেফারিং কমিটির একজন বরিষ্ঠ সদস্য হন এবং লাল এবং হলুদ কার্ড ব্যবহারের রীতি প্রচলন করেন। 

ফিফা বিশ্বকাপ

ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৫৮ ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৬৬

সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading