ভূগোল

আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা (Argentina)দেশটির পরিচয় বেশিরভাগ বিশ্ববাসীর কাছে ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে।আর্জেন্টিনাকে বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল-এর মতই একটি ফুটবল পাগল দেশ কেবল নয়, সারা বিশ্বের নিরিখে ব্রাজিল এর পরই সবথেকে জনপ্রিয় ফুটবল খেলিয়ে দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে প্রতিষ্ঠার পেছনে সবথেকে বড় ভুমিকা যিনি পালন করেছেন তিনি ডিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা এবং বর্তমানে লিওনেল মেসি।কিন্তু ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে চেনার বাইরেও আর্জেন্টিনাকে দেশ হিসেবে আমরা জেনে নেব একটু।

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অন্যতম একটি দেশ হল আর্জেন্টিনা(Argentina) ।  রূপোর ল্যাটিন নাম ‘আর্জেন্টাইন’ আর সেখান থেকেই এই দেশের নাম আর্জেন্টিনা।পৃথিবীর একমাত্র দেশ যার নামকরণ কোন ধাতুর নামানুসারে হয়।  পশ্চিমে চিলি, উত্তরে  বলিভিয়া এবং প্যারাগুয়ে, উত্তর পশ্চিমে ব্রাজিল, পূর্ব দিকে উরুগুয়ে এবং দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর এবং দক্ষিণে ড্রেক প্রণালী ঘিরে রয়েছে সমগ্র দেশটিকে।

আর্জেন্টিনার মধ্যেই পড়ছে বিখ্যাত আন্দিজ পর্বতমালা যার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আকোনকাগুয়া।ছোটবেলায় ভূগোল বইতে পড়া ‘পম্পাস’ তৃণভূমি এই  আর্জেন্টিনার মধ্যেই পড়ে। ‘পম্পাস’ নামটি এসছে ‘পম্পা’ শব্দ থেকে যার অর্থ-  “বৃক্ষ বিহীন সমভূমি”। স্থানীয় ভাষায় এই ‘পম্পাস’ কে ‘লা পম্পা’ বলা হয়।আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ মানুষ এই ‘লা পম্পা’-তেই বসবাস করে এবং এখানেই বিশ্বখ্যাত আর্জেন্টাইন রাখাল বা কাউবয় ‘গাউচো’রা বাস করে।আর্জেন্টিনার রাজধানী হল-  বুয়েনোস আইরেস। আয়তনের বিচারে আর্জেন্টিনা বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং ল্যাটিন অ্যামেরিকান দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।জনসংখ্যার বিচারে আর্জেন্টিনা বিশ্বে ৩১ তম জনবহুল দেশ।

আর্জেন্টিনার মুদ্রার নাম- আর্জেন্টাইন পেসো।১ আর্জেন্টাইন পেসো সমান আমেরিকান মুদ্রায় প্রায় ০.০৪ আমেরিকান ডলার আর ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২.৪৫ টাকা।   জাতীয় ভাষা হল স্প্যানিশ। দেশের প্রায় সবাই খ্রিষ্টান। দেশের শাসক রাষ্ট্রপতি।

বিখ্যাত ল্যাতিন আমেরিকান বিপ্লবী চে গেভারা এই আর্জেন্টিনার।এই আর্জেন্টিনাতেই অবস্থিত  বিশ্বের সব থেকে চওড়া রাস্তা- ‘ ৯ দে জুলিও অ্যাভেন্যু’ যেটি আর্জেন্টিনার স্বাধীনতার দিন অনুসারে নামকরণ হয়েছে।এই দেশটিই কিন্তু সারা দুনিয়ায় প্রথম দেশ যারা অপরাধী ধরতে ‘আঙ্গুলের ছাপ বিশ্লেষণ’ পদ্ধতির আবিষ্কারকআর্জেন্টিনার উল্লেখযোগ্য  ভ্রমণ স্থানের তালিকা অপূর্ণই থেকে যাবে যদি তালিকার শুরুতেই- ইগুয়াজু জলপ্রপাতের নাম না থাকে।ইগুয়াজু জলপ্রপাত ছাড়াও বিখ্যাত ভ্রমণ স্থানের মধ্যে পড়ে- পেরিতো মোরেনো হিমবাহ, ব্যারিওলচে শৈল শহর, উশুহাইয়া – যা পরিচিত পৃথিবীর দক্ষিণতম স্থান হিসেবে, সিয়েরা দে করডোবা ইত্যাদি।বিফ আর ওয়াইনের জন্য আর্জেন্টিনা বিখ্যাত।এর মধ্যে ‘রোস্টেড  বিফ ‘ এর একটি জনপ্রিয় পদ হল ‘আসাদো’।বলা হয় ‘ আসাদো’ না খেয়ে আর্জেন্টিনা দেশ ত্যাগ করা অপরাধ।আসাদো আর্জেন্টিনার জাতীয় খাবার।এছাড়া ‘আলফাজোর’ ও অবশ্য গ্রহণীয় খাবারের মধ্যে পরে।বিশ্বে সবথেকে বেশী  ‘আলফাজোর’ আর্জেন্টিনাই উৎপাদন করে।

আর্জেন্টাইন জাতীয় ফুটবল দল ১৯৩০,১৯৫৪ এবং ১৯৭০ ছাড়া সব বিশ্বকাপ ফুটবলেই অংশগ্রহণ করেছে যার মধ্যে ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬ তে চ্যাম্পিয়ন হয়।বিখ্যাত ফুটবলার দের মধ্যে রয়েছে -মারিও কেম্পেস, ডিয়েগো মারাদোনা,গঞ্জালো হিগুয়েইন,গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা,হারনান ক্রেসপো,লিওনেল মেসি।

3 Comments

3 Comments

  1. Pingback: ১৯৫০ বিশ্বকাপ ফুটবলে ভারত অংশ নেয়নি কেন | সববাংলায়

  2. Pingback: ব্রাজিল | সববাংলায়

  3. Pingback: ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৫৮ | সববাংলায়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়



তাঁর সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন