আজকের দিনে

৩ মে ।। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বের পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলোর মধ্যে একটি হল বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস (World Press Freedom Day)।

প্রতি বছর ৩ মে সারা বিশ্বে এই দিনটি পালন করা হয়। মূলতঃ সংবাদপত্র, গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই দিনটি পালন করা হয়। একই সঙ্গে এই দিনটিতে শ্রদ্ধা জানানো হয় সেই সমস্ত সাংবাদিকদের যাঁরা তাদের পেশার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন কিংবা কারাবরণ করেছেন।

১৯৯৩ সালে ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনের এক সভায এই দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করাই বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস বা বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসের মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন দেশের সরকার যাতে এ ব্যাপারে তাদের কর্তব্য পালন করতে পারে সে ব্যাপারেও জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সংবাদ পরিবেশন ও সংগ্রহ করতে গিয়ে যে সমস্ত সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন বা কারাবরণ করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করাও এই দিনটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৭৬ সালে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম কমিটি ‘ বা ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম কমিটি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সারা বিশ্বের ৪৪ টি সংবাদ সংস্থার কিছু স্বাধীন সাংবাদিকদের নিয়ে এই কমিটি গঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি আর্জেন্টিনায় অবস্থিত । এই কমিটির কাজ ছিল সারা বিশ্বে মানবাধিকার ও বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরা। এরপর ১৯৯৩ সালে আয়োজিত ইউনাইটেড নেশন জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৯১ সালে আফ্রিকান সাংবাদিকরা স্বাধীন  আফ্রিকান সংবাদ মাধ্যমগুলিকে প্রেরণা দেওয়ার জন্য একটি বিবৃতি দেয় যেখানে সংবাদমাধ্যমের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই বিবৃতিকে ‘ডিফ্লোরেশন অফ উইন্ডহক’ (declaration of Windhoek) বলা হয়। এই বিবৃতির বার্ষিকী হিসেবে ৩ মে এই দিনটিকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন করতে গিয়ে বহু সময় সাংবাদিকদের বহু নিগ্রহ, কারাবরণ সহ্য করতে হয়, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হয়। এ ব্যাপারে সচেতনতা ও প্রতিবাদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়ার জন্যই এই দিবস পালনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।১৯৯১ সাল থেকে ‘ইউনেস্কো’ বা ‘গুইলেরমো কানো বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম পুরস্কারে’ ভূষিত করা হয় সেই সমস্ত ব্যক্তি বা সংস্থাকে যাঁরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়টিকে তুলে ধরতে গিয়ে নিজেদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছেন। গুইগলেরমো কানো(Guillermo Cano) ছিলেন একজন কলম্বিয়ান সাংবাদিক যিনি ড্রাগ ধনকুবেরদের প্রকাশ্য সমালোচনা করতে গিয়ে ১৯৮৬ সালে খুন হন।

প্রতিবছর এই দিনটিতে ইউনেস্কো বিশ্বের বিভিন্ন মাধ্যমের পেশাদার সাংবাদিক, বিভিন্ন  সংস্থা যারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ব্যাপারে কাজ করছে এবং ইউ এন(UN)এর‌ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সারা বিশ্বব্যাপী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যাগুলি ও তার সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা সভা সংগঠিত করে। ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর এই সভার একটি বিশেষ ‘থিম ‘বা ‘বিষয়’ থাকে। বিভিন্ন বছরে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে এই আলোচনা সভা আয়োজিত হয়। ২০১৯ সালে ইথিওপিয়ার আ্যডিস আবাবা শহরে এই সভার আয়োজন হয়েছিল এবং বিষয় ছিল ‘মিডিয়া ফর ডেমোক্রেসি এন্ড ইলেকশন ইন টাইমস অফ ডিসইনফর্মেশন’।২০২০ সালে বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিবসের ২৭ তম আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে । এই শহরটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও বিচারের জন্য যে ভূমিকা পালন করেছে সে ব্যাপারকেই তুলে ধরা হবে এই আলোচনা সভায়।আলোচনা সভা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানটিও সংগঠিত হয় এই বিশেষ দিনটিতে।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।