ইতিহাস

গুরু দত্ত

গুরু দত্ত (Guru Dutt) হলেন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা। তাঁর প্রকৃত নাম বসন্ত কুমার শিবশঙ্কর পাড়ুকোন৷ ২০১০ সালে সিএনএনের “সর্বকালের সেরা ২৫ এশীয় অভিনেতা” তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১৯২৫ সালের ৯ জুলাই পাড়ুকোনে (বর্তমান কর্ণাটকে) গুরু দত্তর জন্ম হয় ৷ ছোটোবেলায় একটি দুর্ঘটনার পর তাঁর বসন্ত কুমার শিবশঙ্কর নামটি বদলে গুরু দত্ত রাখা হয়৷ তাঁর ছোটোবেলা কলকাতার ভবানীপুরে কেটেছে৷

গুরু দত্তর প্রাথমিক পড়াশোনা কলকাতাতেই হয়৷ ১৯৪১ সালে গুরু দত্ত উদয় শঙ্কর ভারত সংস্কৃতি কেন্দ্রে যোগদান করেন যেখানে তিনি নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্করের অধীনে পারফর্মিং আর্টের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন।

গুরু দত্তর কর্মজীবন শুরু হয় লিভার ব্রাদার ফ্যাকটরিতে টেলিফোন অপারেটর হিসেবে৷ কিন্তু ১৯৪৪ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে মা – বাবার কাছে বোম্বাইতে চলে যান৷ তাঁর কাকার সহায়তায় ওই বছরই তিনি প্রভাত ফিল্ম কোম্পানিতে তিন বছরের চুক্তিতে যোগ দেন৷ প্রভাত ফিল্ম কোম্পানিতেই গুরু দত্তর আলাপ হয় অভিনেতা রেহমান এবং দেব আনন্দের সাথে যারা তাঁর জীবনে ভালো বন্ধু হয়ে থেকেছেন৷ ১৯৪৪ সালে গুরু দত্ত ‘চাঁদ’ চলচ্চিত্রে শ্রী কৃষ্ণ চরিত্রে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি একটি সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেন এবং পি এল সন্তোষির ছবি, ‘হাম এক হে’-র জন্য নাচের পরিচালনাও করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে প্রভাত ফিল্ম কোম্পানির সঙ্গে তাঁর চুক্তি শেষ হয়ে যায়৷ তারপর ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করলেও প্রায় দশ মাস তিনি কর্মহীন ছিলেন। কিন্তু এই সময়ই তিনি সাপ্তাহিক ইংরেজি পত্রিকা The Illustrated Weekly of India তে ছোটো গল্প লেখা শুরু করেন৷
প্রভাত ফিল্ম কোম্পানিতে কাজ করার সময় সহকারী পরিচালকের ভূমিকায় তিনি অমীয় চক্রবর্তী এবং জ্ঞান মুখার্জীর মতন পরিচালকের সঙ্গে কাজের সুযোগ পান। এরপর দেবানন্দ তাঁকে নিজস্ব কোম্পানি নবকেতনে ডিরেক্টর হিসেবে চাকরিতে নিযুক্ত করেন।

নবকেতন থেকে গুরু দত্তের প্রথম পরিচালিত সিনেমা ‘বাজি’ ১৯৫১ সালে মুক্তি পায়৷ দেবানন্দ ও গুরু দত্ত নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তি করেছিলেন যে গুরু দত্ত যদি সিনেমা প্রযোজনা করেন তাহলে সেই ছবিতে দেবানন্দকে তাঁর নায়ক হিসাবে নিয়োগ করবেনএবং যদি দেবানন্দ কোনও ছবি প্রযোজনা করেন তবে তিনি দত্তকে পরিচালক হিসাবে নেবেন । পরবর্তীকালে গুরু দত্ত ‘সি.আই.ডি’ সিনেমার পরিচালক হিসেবে কাজ করার সময়ে দেবানন্দকে নিয়েছিলেন৷ গুরুদত্ত ও দেবানন্দ একসঙ্গে দুটি সুপার-হিট ছবি তৈরি করেছিলেন ‘বাজি’ এবং ‘জাল’৷ ১৯৫৪ সালে গুরু দত্তের পরিচালিত সিনেমা ‘আর পার’ ব্লকবাস্টারে সাফল্য লাভ করে। তারপর ১৯৫৫ সালে “মিস্টার এন্ড মিসেস ৫৫”, ‘সি আই ডি’ ১৯৫৭ সালে ‘শৈলব’, ” পিয়াসা’ এই পাঁচটা সিনেমার তিনটিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন৷ সব কটি সিনেমা বক্সঅফিসে সফল হয়৷ ১৯৫৯ সালে ‘কাগজ কা ফুল’ সিনেমায় পরিচালক এবং মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন গুরু দত্ত৷ সেই সময় এই সিনেমা বলিউডে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছিল৷

১৯৫৯ সালে তাঁর পরিচালিত ও অভিনিত সিনেমা “কাগজ কে ফুল” বানিজ্যিক ব্যর্থতা আনে৷ তিনি এই ছবিতে প্রচুর অর্থ এবং শ্রম এবং শক্তি বিনিয়োগ করেছিলেন।” কাগজ কে ফুল ” ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরু দত্ত বিধ্বস্ত হয়ে পরেন। কিন্তু তারপর তাঁর অভিনীত ‘চৌধভিন কা চাঁদকে’ সিনেমাটি আবার সাফল্যের মুখ দেখে৷ এই সিনেমার একটি গান ”চৌধভিন কা চাঁদ হো…” তে বিশেষ কালার সিকোয়েন্স ব্যবহার করা হয়৷ তাঁর পরিচালিত ‘সাহেব বিবি অর গোলাম’ চলচ্চিত্রটি সর্বাধিক সমালোচিত হয়েছিল এবং এটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি ফিল্মফেয়ারে সেরা পরিচালকের পুরস্কার এনে দিয়েছিল তাঁকে। গুরু দত্তের প্রযোজনায় শেষ চলচ্চিত্রটি হল ‘বাহারে ফির ভী আয়েগী’ যেটি ১৯৬৬ সালে প্রকাশ পায়৷ ১৯৬৪ সালে ‘সাঁঝ অর সভেরা’ তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমা।

গুরু দত্তের প্রযোজনা বা অভিনয়ে বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা বলিউড পেয়েছে৷ তাঁর পরিচালিত ছবিগুলো বানিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে। ২০০৪ সালের ১১ অক্টোবর ভারতীয় ডাক বিভাগ তাঁর নামে ডাকটিকিট প্রকাশ করে।

১৯৬৪ সালের ১০ অক্টোবর গুরু দত্তর মৃত্যু হয়৷ যদিও তাঁর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে৷ বোম্বাই এর পোদ্দার রোডের বাড়িতে বিছানায় তাঁর মৃত দেহ পাওয়া গেছিল৷ মদ্যপান করার সময় তিনি তাতে ইচ্ছে করে বেশী ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন না অসাবধানতা বশত বেশী ওষুধ খেয়েছিলেন তা জানা যায় নি৷

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন