বিশ্বকে ‘হিস্টোরি’ অর্থাৎ ইতিহাস শব্দটির সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিলেন গ্রিক লেখক এবং ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস (Herodotus)। তিনিই প্রথম অতীতে সংঘটিত ঘটনাগুলিকে যথাযথ অনুসন্ধান ও গবেষণার মাধ্যমে একটি সুসংবদ্ধ পদ্ধতিতে গ্রথিত করে ইতিহাস রচনার বর্তমান ধারাটিতে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেকারণেই হেরোডোটাসকে ‘ইতিহাসের জনক’ আখ্যা দিয়েছিলেন প্রাচীন রোমান বক্তা সিসেরো। মূলত তিনি যে ইতিহাসগ্রন্থ রচনা করেছিলেন, গ্রেকো-পার্সিয়ান যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনাই তার উপজীব্য। সেই গ্রন্থে পারস্য সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনেরও বিশদ বর্ণনার সন্ধান মেলে। জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় জুড়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে নিরলস ভ্রমণ করে গেছেন হেরোডোটাস। ঘুরেছেন এবং সাক্ষাৎ করেছেন বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে। বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যের অনুসন্ধান করে বেরিয়েছেন নিরন্তর৷ নাট্যকার সোফোক্লেসের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাঁর। জীবনব্যপী নানা মূল্যবান সংগ্রহকে তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর ইতিহাসে অনেক ঘটনা কাল্পনিক এবং মনগড়া, এই অভিযোগ করে সমালোচকেরা নিন্দাও করেছিলেন হেরোডোটাসের গ্রন্থের।
সাম্প্রতিক পোস্ট
খ্রিস্টপূর্ব ৪৮৪ অব্দে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া মাইনরের পারস্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত একটি ছোট গ্রিক শহর হ্যালিকারনাসাসে (বর্তমানে তুরস্কে) একটি বিশিষ্ট বিত্তশালী পরিবারে হেরোডোটাসের জন্ম হয়। হেরোডোটাস সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায় দশম শতাব্দীর বাইজেন্টাইন বিশ্বকোষ ‘সৌদা’ থেকে। তাঁর পিতার নাম লিক্সেস (Lyxes) এবং মাতার নাম ড্রয়ো (Dryo)। হেরোডোটাসের এক ভাইয়ের কথা জানা যায়, যাঁর নাম থিওডোরাস। আরেকজন কাকা বা কাকাতো ভাই ছিলেন তাঁর, যাঁর নাম প্যানিয়াসিস। এই প্যানিয়াসিস ছিলেন একজন মহাকবি।শৈশব থেকেই হেরোডোটাস সব বিষয়ে ভীষণ কৌতুহলী ছিলেন। পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ এবং ভালেবাসাও ছিল তাঁর বরাবর। বিদেশি ভূমি দেখবার ইচ্ছে ছিল তাঁর এবং জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি ভ্রমণ করেছেন নানাপ্রান্তে।
হেরোডোটাসের জন্মের সময় হ্যালিকারনাসাস রানি আর্টেমিসিয়ার শাসনের অধীনে ছিল। রানির পুত্র পিসিনডেলিস পরে শাসনভার হাতে নেন। হেরোডোটাস যখন প্রায় প্রাপ্তবয়স্ক তখন পিসিনডেলিসের পুত্র অত্যাচারী লিগডামিস সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। পূর্বে যে কবি প্যানিয়াসিসের উল্লেখ করা হল, লিগডামিস তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় এবং হত্যা করে। এসময় হেরোডোটাসরা হ্যালিকারনাসাস শহর থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন লিগডামিসের অত্যাচারের জন্য। আরেকটি মত এই যে, কবি প্যানিয়াসিসকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে হেরোডোটাস স্বেচ্ছায় শহর ছাড়েন। যদিও অত্যাচারের কারণে পলায়নের তথ্যটিই অধিকাংশ স্থলে গ্রহণ করা হয়। হ্যালিকারনাসাস থেকে সামোস দ্বীপে পালিয়ে গিয়েছিলেন হেরোডোটাস। ‘সৌদা’ অনুসারে সেই সামোস দ্বীপে তিনি আয়োনিয়ান উপভাষা শিখেছিলেন। এই উপভাষাতেই পরবর্তীকালে তাঁর বিখ্যাত ‘হিস্টোরিস’ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন তিনি। হেরোডোটাস হোমারের ‘ইলিয়ড’ এবং ‘ওডিসি’ মহাকাব্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও স্যাফো, ইস্কাইলাস, পিন্ডার, হেকাটেউস প্রমুখের লেখালেখি হেরোডোটাস পড়েছিলেন মনোযোগ সহকারে। কারও কারও মতে সামোস থেকে তিনি হ্যালিকারনাসাসে ফিরে এসেছিলেন অত্যাচারী শাসক লিগডামিসের উৎখাতে অংশ নিতে। আবার কেউ বলেন, হেরোডোটাসরা সাত-আট বছর সামোসে ছিলেন এবং লিগডামিসের উৎখাতের পরে হ্যালিকারনাসাসে ফিরে আসেন। হেরোডোটাস তাঁর ২০ থেকে ৩৭ বছর বয়সের মধ্যেই জীবনের অধিকাংশ ভ্রমণ করেছিলেন বলেই গবেষকরা মনে করেন। তিনি এশিয়া মাইনর এবং ইউরোপ গ্রিস জু্ড়ে একাধিকবার ভ্রমণ করেন এবং রোডস, সাইপ্রাস, ডেলোস, পারোস, থাসোস, সামোথ্রেস, ক্রিট, সামোস, সাইথেরা এবং এজিনা দ্বীপপুঞ্জের সব গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ পরিদর্শন করেছিলেন। কৃষ্ণ সাগর, ব্যাবিলন, মিশর, এথেন্সসহ তাঁর ভ্রমণের তালিকা আরও দীর্ঘ।
অনেক গবেষকের এটা বিশ্বাস যে হেরোডোটাস প্রথমে উত্তর দিকে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তাঁর অনুসন্ধিৎসু স্বভাবের কারণেই এমন অনুমান করেন অনেকে। দক্ষিণে ছিল মিশর যা গ্রিকদের কাছে পরিচিত একটি দেশ এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল মিশরের সঙ্গে। গ্রিসের পূর্বের সমস্ত দেশ তখন পারস্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং পশ্চিমে গ্রিকরা ম্যসিলিয়া (মার্সেই) পর্যন্ত পথ অন্বেষণ ও উপনিবেশ স্থাপনও করেছিল। কেবল এই উত্তর দিক ছিল এক অনাবিষ্কৃত রহস্য, তাই হেরোডোটাসকে এই উত্তরই প্রবলভাবে টেনেছিল প্রথমে, এমন অনুমান করে থাকেন অনেকে। উত্তর দিকে কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রিক জনবসতি ছিল। তার বাইরে ছিল থ্রেস এবং সিথিয়ার মরুভূমির আভাস।
সামোস থেকে হেরোডোটাস উত্তরে এশিয়া মাইনর এবং হেলেস্পন্টের উপকূলে যাত্রা করেছিলেন। মামারা সাগরের বিভিন্ন স্থানে যাত্রা করার পর, তিনি বসফরাসের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেন এবং বাইজেন্টিয়াম শহরে যান। এই শহর মাত্র তেরো বছর আগে পার্সিয়ানদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিল। দানিয়ুব নদী পর্যন্ত উত্তর দিকে ভ্রমণ করেন তিনি অগ্রিক জাতিদের ভূমিতে এবং নদীর তীরে অবস্থিত লোকদের কাছ থেকে ভূমি ও মানুষদের সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। এরপর অলবিয়া শহরের একটি খাঁড়ি সফর করেন যেখানে বাগ এবং ডিনিপার নদী মিলিত হয়। অলবিয়া ছিল কৃষ্ণ সাগরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিক শহর। সেখানে তিনি সিথিয়ানদের সঙ্গে পরিচিত হন ও তাদের ভূমি সম্পর্কে জানতে পারেন। অলবিয়াতে থাকাকালীন, হেরোডোটাস বিভিন্ন গ্রিক বাণিজ্য জাহাজের সাথে ভ্রমণ করেছিলেন এবং ডিনিপারের দিকে কিয়েভ অঞ্চলে চলে গিয়েছিলেন। সিথিয়ান জাতির উৎস সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন হেরোডোটাস। এছাড়াও কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী কোলচিসেও ভ্রমণ করেছিলেন তিনি।
সমুদ্রযাত্রার সময় তিনি প্রথম থেমেছিলেন সিরিয়ার উপকূলের ফিনিশিয়ান উপনিবেশ মিরিয়ানড্রাস শহরে। সেখান থেকে ১০০ মাইল পূর্বে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে ভ্রমণ করেছিলেন তিনি এবং নদীর স্রোত ধরে ব্যবিলন শহরের দিকে গিয়েছিলেন। হেরোডোটাস নদী বরাবর বিভিন্ন শহরে সফর করে তাদের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি সংগ্রহ করেছিলেন। ব্যবিলনে থাকাকালীন পার্সিয়ান সাইরাসের আক্রমণ ও শহর দখল এবং ৫২১ সালে দারিয়ুসের সংক্ষিপ্ত বিদ্রোহ সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। জারজেক্স ব্যবিলনের বেশিরভাগ দুর্গ ভেঙে ধ্বংস করে দিয়েছিল। তার তিরিশ বছর পর হেরোডোটাস যখন সেখানে যান সেইসব ধ্বংসচিহ্ন আর ছিল না তখন। শহরের স্থাপত্যশিল্প, সেখানকার পোশাক, মানুষের বিশ্বাস এবং রীতিনীতি সম্পর্কিত তথ্য নোট করে নিয়েছিলেন তিনি।
এরপর হেরোডোটাস তাঁর তৃতীয় মহান অভিযানে মিশরের দিকে রওনা দিয়েছিলেন। সম্ভবত ব্যাবিলন থেকে ফেরার পথে ফিলিস্তিনের মধ্য দিয়ে মিশরে গিয়েছিলেন তিনি। মিশরে তিনি সম্ভবত ৪৬০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের পরে সফর করেন ও বসবাস করেছিলেন, কারণ সে বছরেই ইনারাস কর্তৃক নিহত পারস্যদের মাথার খুলি দেখেছিলেন। যুদ্ধের পর দুই বা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে খুলি খুব কমই দেখা যায়। এর ফলে অনুমিত হয় তিনি ইনারাসের রাজত্বকালে (৪৬০-৪৫৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) মিশর সফর করেছিলেন। মিশরে তখন এথেনিয়ানদের কর্তৃত্ব ছিল এবং তিনি নিজেকে একজন শিক্ষিত গ্রিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। মিশরের নীলনদ হেরোডোটাসের কাছে একটি আকর্ষণীয় বিষয় ছিল কারণ প্রতিবছর নীলনদের বন্যার কারণ গ্রিসের মানুষের কাছে অজানা ছিল। তিনি নদীর উজানেও গিয়েছিলেন সম্ভবত নীলনদের উৎস সন্ধানে এবং উৎস সম্পর্কিত অনেক প্রাচীন তত্ত্ব তিনি খণ্ডন করে দিয়েছিলেন। যদিও তাঁর মতটিতেও সত্যতা তেমন ছিল না। সেখান থেকে, হেরোডোটাস বুসিরিসের দিকে যাত্রা করেন, যেখানে তিনি ওসিরিস এবং আইসিসের ধর্মের কিছু অনুশীলন পর্যবেক্ষণ এবং সংগ্রহ করেন। তিনি নীল নদের পেলুসিয়ান শাখার পূর্ব তীরে বুবাস্তিসেও ভ্রমণ করেছিলেন। এটা বিশ্বাস করা হয় যে সেখান থেকে হেরোডোটাস হেলিওপোলিসে ভ্রমণ করেছিলেন, যার অধিবাসীরা, হেরোডোটাসের মতে, মিশরে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। হেলিওপোলিস ত্যাগ করে, হেরোডোটাস দক্ষিণে ঘুরে বেড়ান। পর্যটকদের মতো তিনিও মিশরের পিরামিড দেখেন এবং তাঁর বর্ণনাও করেছিলেন, কিন্তু তাঁর লেখায় স্ফিংসের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। হেরোডোটাস দক্ষিণে মেমফিস থেকে উচ্চ মিশরের প্রধান শহর থিবস পর্যন্ত চলে যান। পূর্ব মিশরের কিছু বন্দর থেকে, হেরোডোটাস নৌকায় করে সাইরিনের উদ্দেশ্যেও রওনা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি স্থানীয় জনগণের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যান এবং উত্তর আফ্রিকার অধিবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মিশর থেকে ফিরে আসার সময়, তিনি সিরিয়ার উপকূল ধরে এগিয়ে যান এবং সম্ভবত টায়রে অবতরণ করেন।
৪৪৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময় হেরোডোটাস এথেন্সে চলে আসেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি কবি সোফোক্লিসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন বলে জানা যায়। কেউ কেউ মনে করেন, তখনকার এথেনিয়ান রাষ্ট্রনায়ক পেরিক্লিসের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। একটা মত জানায়, হ্যালিকারনাসাসে তাঁর কাজ ভালোভাবে গ্রহণ করেননি সেখানকার মানুষ, সেকারণে তিনি এথেন্সে চলে আসেন। হেরোডোটাস পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তাঁর কাজের কিছু অংশ এথেনিয়ানদের পড়ে শোনাতেন। সেখানকার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে তিনি প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছিলেন। ইউসেবিয়াস এবং প্লুটার্কের মতে হেরোডোটাসকে তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এথেনিয়ান অ্যাসেম্বলি একটি আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেছিল। এরপর হেরোডোটাস দক্ষিণ ইতালির একটি এথেনিয়ান উপনিবেশ থুরিতে চলে আসেন। যদিও থুরিয়ায় তিনি থাকেননি এবং ৪৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কোনো একসময় তিনি এথেন্সে ফিরে আসেন। থুরিতে অ্যাসিরিয়ার ইতিহাসের ওপর একটি বিশেষ লেখা রচনা করেন।
এত দীর্ঘদিনের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হেরোডোটাস তাঁর প্রায় অর্ধজীবন ধরে রচিত বিশ্ববিখ্যাত ‘হিস্টোরিস’ গ্রন্থের ছত্রে ছত্রে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। ৪৩১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এথেন্স এবং স্পার্টার মধ্যে পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধ শুরু হয় এবং এই যুদ্ধই হয়তো হেরোডোটাসকে তাঁর গল্পগুলিকে ধারাবাহিকভাবে সংগ্রহ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। ‘হিস্টোরিস’ গ্রন্থটি মোট নয়টি খণ্ডে বিভক্ত। এই বইটির মূল উপজীব্য ছিল গ্রিস এবং পারস্যের যুদ্ধ ও গ্রিসের বিজয়গাথা। পারস্য সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের ইতিহাসও এই গ্রন্থটি থেকে জানতে পারা যায়। বইটির প্রথম পাঁচ খণ্ডে গ্রেকো-পার্সিয়ান যুদ্ধের পটভূমি রচনা করেছিলেন তিনি এবং পরবর্তী চার খণ্ডে ছিল যুদ্ধের বিস্তৃত বর্ণনা। বইটির মূলত এই দুইটি অংশ, একটিতে ৪৮০-৪৭৯ সালের যুদ্ধের পদ্ধতিগত বর্ণনা ও ৪৯৯ এর পর থেকে এর প্রারম্ভিকতা এবং অন্য অংশটিতে পারস্য সাম্রাজ্যের বৃদ্ধি ও সংগঠন, ভূগোল, সামাজিক কাঠামো এবং ইতিহাসের বর্ণনা। প্রথম ছয় খণ্ডে পার্সিয়ান সাম্রাজ্যের ইতিহাসের মধ্যে পারস্যের রাজা সাইরাস, ক্যাম্বিসিস, দারিয়াসের বিজয়ের কথা রয়েছে। রাজা জারক্সেসের গ্রিস আক্রমণের কাহিনীও জীবন্ত হয়ে উঠেছে তাঁর কলমে। এছাড়াও বইয়ের ষষ্ঠ খণ্ডে আইওনিয়ান বিদ্রোহ, ম্যারাথনের যুদ্ধের কথা বর্ণনা করেছেন তিনি। তাঁর গ্রন্থ থেকে থার্মোপাইলির যুদ্ধ সম্পর্কেও জানতে পারা যায়। অনেকে তাঁর ইতিহাসগ্রন্থের বহু ঘটনাকে কাল্পনিক এবং মনগড়াও বলেছিলেন। এই অভিযোগ অবশ্য কতকাংশে সত্যই বটে।
হেরোডোটাসের সঠিক মৃত্যুর তারিখ নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। একটি মত অনুযায়ী তিনি ৪২৯ সালের গ্রীষ্মে এথেনিয়ান প্লেগে মারা গিয়েছিলেন। অনেকে বলে থাকেন ৪২৫ থেকে ৪১৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যেই কেনো এক সময়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। ‘হিস্টোরিস’ গ্রন্থে উল্লিখিত সর্বশেষ ঘটনাটির সময়কাল ৪৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। ফলে তার কিছুদিন পরেই তাঁর মৃত্যু হয় এমন অনুমান করা হয়। পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের প্রথম দিকে তিনি এথেন্সে ছিলেন এবং ৪২৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দের আগেও সেখানে তাঁর কাজ প্রকাশিত হয়েছে। সেকারণে এই ৪২৫ সালটিকেই কেউ কেউ তাঁর মৃত্যুর বছর বলে মনে করেন। কেউ বলেন এথেন্সের প্লেগ থেকে বাঁচার জন্য উপনিবেশ থুরিতে পালিয়ে আসেন তিনি এবং সেখানে থাকাকালীন হেরোডোটাস তাঁর ‘হিস্টোরিস’ গ্রন্থের সম্পাদনার কাজ করেছিলেন। তবে এই নয়টি খণ্ডের কোনো সংযোজন বা পরিমার্জনই খ্রিস্টপূর্ব ৪২৪ সালের পরের কোনো তারিখ নির্দেশ করে না। অতএব অনেকের মতে ষাট বছর বয়সে থুরিতেই হেরোডোটাসের মৃত্যু হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান