সববাংলায়

কিছু প্রাণী অন্ধকারে দেখতে পারে কীভাবে?

বিভাগঃ ,

বিপুলা এই পৃথিবীর বিচিত্র জীবজগৎ। তার মধ্যে প্রাণীজগতেও রয়েছে বিপুল বৈচিত্র। বিভিন্ন প্রাণী বিভিন্ন বিষয়ে সক্ষম, রয়েছে বিশেষ শক্তি। আমরা, অর্থাৎ মানুষেরা দিনের বেলায় বা আলোর উপস্থিতিতে সব কিছু দেখতে পাই, আলো যত কম আমাদের দৃষ্টিশক্তি ততই কম। অথচ বেশ কিছু প্রাণী আছে যারা অন্ধকারে দেখতে পায়, তারা মূলত নিশাচর (nocturnal) নামে পরিচিত। দিনের আলোয় সবকিছু দেখা স্বাভাবিক মনে হলেও আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে কিছু প্রাণী অন্ধকারে দেখতে পারে কীভাবে? এর উত্তর এককথায় বললে, নিশাচর প্রাণীরা বহু বছরের অভিযোজনের ফলে বিশেষ কিছু ক্ষমতার অধিকারী বলেই রাতের বেলায় দেখতে পারে। বিশেষ ক্ষমতাগুলির উদাহরণ হিসেবে ইকোলোকেশন, চোখের গঠন, এবং অন্যন্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যর কথা বলা যেতে পারে। এখানে কিছু প্রাণী অন্ধকারে দেখতে পারে কীভাবে নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল।

১. ইকোলোকেশন (Echolocation)

ইকোলোকেশন পদ্ধতিতে প্রাণীগুলি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ নির্গত করে এবং সেই শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে এলে তার থেকে তাদের চারপাশের পরিবেশ বুঝতে পারে। একে জৈবিক সোনার (Biological Sonar) বলা যায়। এই পদ্ধতি বাদুড়, ডলফিন, তিমি ইত্যাদি প্রাণীরা ব্যবহার করে।

  • বাদুড় (Bats): বাদুড়রা অন্ধকারে সঠিকভাবে তাদের শিকার ধরতে এবং তাদের পথ খুঁজে পেতে ইকোলোকেশন ব্যবহার করে। তারা তাদের ল্যারিংস ও মুখ থেকে উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির সাউন্ড ওয়েভ বের করে এবং এই সাউন্ড ওয়েভগুলি আশেপাশের বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে। এই প্রতিধ্বনি দিয়ে বাদুড় তার শিকার বা প্রতিবন্ধকতার অবস্থান বুঝত পারে এবং সি অনুযায়ী রাতের অন্ধকারেও উড়তে ও শিকার ধরতে পারে।
  • ডলফিন (Dolphins) এবং তিমি (Whales): এই প্রাণীগুলি জলজ পরিবেশে তাদের শিকার খুঁজে পেতে এবং যোগাযোগ করতে ইকোলোকেশন ব্যবহার করে।

২. চোখের গঠন (Eye Structure)

অন্ধকারে দেখতে সক্ষম কিছু প্রাণীর চোখের গঠন এমনভাবে অভিযোজিত হয়েছে যাতে তারা কম আলোয় দেখতে পারে। এদের চোখের আকার বেশ বড় হয় এবং তারারন্ধ্রগুলিও (Pupils) বড় হয়, ফলে অন্ধকারেও চোখে অনেকটা আলো প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া রেটিনার সামনে একটি বড় লেন্স আলোকরশ্মিকে ঘনীভূত করে রেটিনায় বেশি পরিমাণে আসতে সাহায্য করে। তাছাড়া, তাদের রেটিনায় আলোকসংবেদী রড কোষের (Rod Cells) সংখ্যা বেশি থাকে, যা কম আলোতেও দেখার জন্য উপযুক্ত। কিছু নিশাচর প্রাণীর চোখের রেটিনার পিছনে আয়নার মত একটি অংশ থাকে যা টেপ্টাম লুসিডাম (tapetum lucidum) নামে পরিচিত। এটি রেটিনা পেরিয়ে যাওয়া আলোকরশ্মিগুলিকে পুনরায় রেটিনায় প্রতিফলিত করে ফেরত পাঠায় যা দ্বিতীয়বার রশ্মিগুলিকে বুঝতে সাহায্য করে। এই অংশটির উপস্থিতির জন্যই নিশাচর কিছু প্রাণীর চোখে আলো পড়লে অত্যধিক জ্বলজ্বল করে।

পেঁচা, নেকড়ে ইত্যাদি প্রাণীগুলি রাতের বেলায় এই ভাবেই ভাল দেখতে পারে।

৩. বিশেষ শরীরবৃত্তীয় অভিযোজন

কিছু প্রাণী তাদের দৃষ্টিশক্তির বাইরে অন্যান্য ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে। প্রাণীগুলির বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য তাদেরকে অন্ধকারের পরিবেশে অভিযোজিত হতে সাহায্য করে।

উদাহরণ:

  • কিছু সাপ যেমন পিট ভাইপারস এবং বোয়া রাতে শিকার করতে সক্ষম কারণ তাদের শরীরে একটি বিশেষ ইনফ্রারেড সেন্সর থাকে যা তাপমাত্রার পার্থক্য অনুভব করতে পারে। এটি তাদের শিকার বা প্রতিপক্ষের শরীরের তাপ সনাক্ত করতে সাহায্য করে, বিশেষত রাতে যখন পরিবেশ অন্ধকার থাকে।
  • কিছু প্রাণী যেমন কাঁকড়া এবং কিছু প্রজাতির মাছ তাদের ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে কম্পন বুঝে চলাফেরা, খাদ্য সংগ্রহ ইত্যাদি করে।

নিশাচর প্রাণীরা তাদের জীবন ধারণের জন্য শুধু চোখ দিয়েই দেখে তাই নয়, তারা তাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যবহারের মাধ্যমে রাতের বেলায় বা অন্ধকারে চলাফেরা, শিকার বা খাদ্য সংগ্রহ ইত্যাদি করে থাকে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য আমরা দেখি কীভাবে সে বিষয়ে জানা না থাকলে এখানে জেনে নিন।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading