সববাংলায়

১৪ আগস্ট ।। স্বাধীনতা দিবস (পাকিস্তান)

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। পাকিস্তান দেশটিও তার ব্যাতিক্রম নয়। পাকিস্তানের পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলির মধ্যেই একটি হল স্বাধীনতা দিবস (Independence day of Pakistan)।

প্রতিবছর ১৪ আগস্ট পাকিস্তানে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয় । বৃটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্ত হয়ে এই দিনে পাকিস্তানের একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার জন্য এই দিনটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

১৯৪৭ সালের আগে ভারত ,পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে একটিই দেশ ছিল। তৎকালীন ভারতে বসবাসকারীদের এক চতুর্থাংশ ছিল মুসলমান। হিন্দু বা মুসলমান কেউই বৃটিশ শাসনকে মেনে নিতে পারেনি। তারা বৃটিশ শাসনের বিররুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ১৯২০ সালে ভারতীয় মুসলমানরা দেশীয় মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং দেশে খলিফাতন্ত্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে খিলাফত আন্দোলন সংগঠিত করে। এই সময়েই গান্ধীজীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় ইংরেজদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এই দুটি আন্দোলনই পূর্ণতা পাওয়ার আগে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা শুরু হয় এবং তা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে পূর্বভারত তথা পশ্চিমভারতের নানা প্রান্তে। এরই মধ্যে ১৯৪০ সালে মহম্মদ আলী জিন্না লাহোরের অধিবেশনে তাঁর বিখ্যাত দ্বিজাতি তত্ত্বের উল্লেখ করেন। তিনি দাবী করেন হিন্দু ও মুসলমান দুটি আলাদা জাতি। তাঁদের সভ্যতা সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁরা কোনদিনই একসঙ্গে একটি দেশ হিসেবে থাকতে পারে না। তাঁর এই তত্ত্বের ভিত্তিতেই পৃথক মুসলমান রাষ্ট্রের দাবী জোরালো হতে থাকে। ইংরেজরা এই অবস্থার সম্পূর্ণ সুযোগ নেয়। ১৯৪৬ সালে ভারতের নতুন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের স্বাধীনতার পরিবর্তে ভারতকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাব রাখেন। এইসময়ে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা এতটাই হিংসাত্মক হয়ে ওঠে যে ভারত ও পাকিস্তান পৃথক রাষ্ট্র ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকে না। বলা যেতেই পারে শুধুমাত্র ধর্মের কারণেই দুটি দেশকে পৃথক হতে হয়। এইভাবেই জন্ম হয় পাকিস্তান।

তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের ক্ষমতা হস্তান্তর করেন ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাতে। ঐদিন ভারত ও পাকিস্তান দুটি দেশ পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তরফ থেকে লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যে ভারতের স্বাধীনতা হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মাউন্টব্যাটেন ভারতকে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দিন হিসেবে ১৫ আগস্ট দিনটিকে নির্দিষ্ট করেন এবং এর একদিন আগে ১৪ আগস্ট ঠিক হয় পাকিস্তানকে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। স্বাধীনতা পাওয়ার দিনটিকে স্মরণীয় করতে মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট রাত বারোটায় অর্থাৎ ১৫ তারিখ মাঝরাতে ভারত ও পাকিস্তানকে দুটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জনক তথা দেশের প্রথম গর্ভনর জেনারেল মহম্মদ আলি জিন্না ১৫ আগস্টকে স্বাধীন পাকিস্তানের জন্মদিবস হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে পাক নেতৃত্ব ১৪ আগস্টকে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ হিসেবে তাঁরা জানান রমজান মাসের সাতাশতম দিন হল ১৪ আগস্ট যা ইসলামিক মতানুসারে শুভ দিন। সেই থেকে অর্থাৎ পরের বছর অর্থাৎ ১৯৪৮ সাল থেকে ১৪ আগষ্ট পাকিস্তান তাদের স্বাধীনতা দিবস পালন করে আসছে।

স্বাধীনতা দিবস পাকিস্তানে ছুটির দিন হিসেবেই উদযাপন করা হয়ে থাকে। সমস্ত সরকারি অফিস ছুটি থাকে এবং বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এইসব অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করে থাকেন। রাজধানী ইসলামাবাদে প্রধান অনুষ্ঠানটি সংগঠিত হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্যারেড ও দেশাত্মবোধক সংগীতের দ্বারা দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ ভবনে পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় সংগীত গাওয়া হয় এবং বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের ভাষণ সরাসরি প্রচার করা হয়। সরকারি তরফে বিভিন্ন সেমিনার, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading