প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বের পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলি মধ্যে একটি হল ‘আন্তর্জাতিক দাবা দিবস’ (International Chess Day)।
সমগ্র বিশ্ব জুড়ে ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক দাবা দিবস পালন করা হয় দাবা খেলার প্রচার এবং প্রসারের উদ্দেশ্যে।
ইউনেস্কোর (UNESCO) উদ্যোগে ১৯৬৬ সালের ২০ জুলাই প্রথম ‘আন্তর্জাতিক দাবা দিবস’ পালন করা হয়। ১৯২৪ সালের ২০ জুলাই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিশ্ব দাবা সংস্থা বা ‘International Chess Federation’ (FIDE) প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক দাবা দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফিডে(FIDE)-এর অধীনে প্রায় ১৮১টি দাবাসংস্থা রয়েছে। ফিডের মূল দপ্তর গ্রিসের এথেন্সে অবস্থিত এবং এটিই হল বিশ্বে প্রথম সংস্থা যেটি বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দাবা সংস্থাগুলিকে একত্র করেছে। ফিডের প্রথম প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার রুয়েব (Alexander Rueb) ছিলেন একজন উকিল। ফিডের প্রেসিডেন্ট কিরসান ইলিউমজিনভের (Kirsan Ilyumzhinov)- দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে ১৭৮টি দেশ আন্তর্জাতিক দাবা দিবস উদযাপন করেছিল। সম্প্রতি ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় এই দিনটিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফ থেকে পালনীয় দিবস হিসেবে এই দিনটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
দাবা প্রাচীনকাল থেকেই একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা। ভারতে প্রাচীনকালে ‘চতুরঙ্গ’ নামে পরিচিত ছিল এই খেলাটি। ভারত থেকেই এই খেলাটি প্রথমে পারস্যে, তারপর আরব দেশে এবং পরবর্তীকালে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমে ক্রমে এই খেলায় বিভিন্ন ধরনের নিয়ম তৈরি হয়েছে। দাবা খেলা সাধারণত দুটি পক্ষের মধ্যে বা দুজনের মধ্যে হয়ে থাকে। এই খেলায় মোট ৬৪টি ঘর থাকে। প্রতিটি পক্ষে ১৬ টি ঘুঁটি থাকে। প্রতিটি পক্ষে থাকে দুটি নৌকা, দুটি গজ, দুটি ঘোড়া, রাজা, মন্ত্রী এবং আটটি বোড়ে। একের পর এক কৌশলী দান দিয়ে অপরপক্ষের রাজাকে কিস্তিমাত করাই প্রতিপক্ষের লক্ষ্য থাকে। প্রথমদিকে দাবা ছিল রাজাদের খেলা। এরপর সাধারণত উচ্চ শ্রেণীর মানুষদের মধ্যেই এই খেলা সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে এই খেলাটি সর্বসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮৫১ সালে লন্ডনে প্রথম আধুনিক দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এই প্রতিযোগিতায় জার্মানির দাবাড়ু অ্যাডলফ অ্যান্ডারসন (Adolf Anderson) জিতে ছিলেন।
২০১২ সালে ইউগোভ পোল (Yougov poll) বলেন যে আমেরিকা, জার্মানি, রাশিয়া এবং ভারতের প্রায় ৭০% প্রাপ্ত বয়স্ক জীবনের কোনো না কোনো সময়ে দাবা খেলেছেন। এই বিশেষ দিনটিতে দাবা খেলাকে জনপ্রিয় করার জন্য বিভিন্ন কর্মপন্থা গ্রহণ করা হয়। কারণ দাবা হল এমন একটি খেলা, যা জাতীয় সীমানা, সামাজিক এবং জাতিগত প্রতিবন্ধকতাকে দূর করে। দাবা মানসিক শক্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধি করে। প্রতি বছর বিশ্ব দাবা সংস্থা বিভিন্ন কার্যসূচীর মাধ্যমে এই দিবস উদযাপন করে। এই দিন বিশ্ব দাবা সংস্থার ১৮১টি সদস্য দাবা সংস্থা স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত করে। এই সমস্ত সংস্থাগুলির নিরলস প্রচেষ্টায় বিভিন্ন দেশে দাবা খেলার প্রচলন ও প্রসার ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
আন্তর্জাতিক দাবা দিবসের থিম বা প্রতিপাদ্য
- ২০২৫ – প্রতিটি চাল গুরুত্বপূর্ণ (Every Move Counts)।
- ২০২৪ – কোন প্রতিপাদ্য স্থির করা হয়নি।
- ২০২৩ – কোন প্রতিপাদ্য স্থির করা হয়নি।
- ২০২২ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – দাবা খেলায় মহিলাদের ভূমিকা (Women in Chess)।
- ২০২১ – ২০২০ সালের প্রতিপাদ্যটিই রাখা হয়েছিল।
- ২০২০ – কাউকে শেখাও দাবা কিভাবে খেলতে হয় (Teach someone how to play chess)।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


Leave a Reply to আজকের দিনে ।। ২০ জুলাই | সববাংলায়Cancel reply