আজকের দিনে

৪ জুন ।। আন্তর্জাতিক আগ্রাসন আক্রান্ত শিশু দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে কিছু  হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বের পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলি মধ্যে একটি হলো আন্তর্জাতিক আগ্রাসন আক্রান্ত শিশু দিবস  (International day of innocent children victims of aggression)।

৪ জুন সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক আগ্রাসন  আক্রান্ত শিশু দিবস পালন করা হয়ে থাকে।সারা বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসন এবং পীড়নের শিকার হয়েছে যে সমস্ত শিশু-কিশোর তাদের স্মরণ করতে এবং তাদের অধিকার বিষয়ে সচেতন হওয়ার জন্য এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে।

১৯৮৩ সালের ৪ জুন থেকে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৮২ সালে ১৯ আগস্ট এই দিবসটি পালনের ঘোষণা করা হয়। ১৯৮২ সালে লিবিয়ার যুদ্ধে বেইরুটে ইজরায়েলের হানাদার বিমান আক্রমণে লিবিয়া ও প্যালেস্টাইনের ৬০ জন নির্দোষ শিশু নিহত হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভা এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল এই দিবসকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর সব দেশের সরকার ও সংগঠন গুলো শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসবে। পরের বছর থেকে এই দিনটি সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে।
শিশুদের প্রতি এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীতে আরো বহুবার ঘটেছে। ২০০৪ সালে ১ সেপ্টেম্বর  বেসলানে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে বন্দি হয়েছিল একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। সন্ত্রাসবাদীরা নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়। এর ফলে ৩৩০ জন মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ১৭২ জন ছিল ছাত্রছাত্রী।
সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন জায়গায় শিশু ও কিশোর কিশোরীরা নানাভাবে আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে। যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, হিংসা, ধর্ষণ, অনাহার প্রভৃতি নানা কারণে শিশুদের মৃত্যু বা মর্মান্তিক পরিণতি হচ্ছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রকাশিত এক তথ্যানুযায়ী, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে প্রায় ৪০ হাজার শিশু অনাহারে মারা যায়। এছাড়া এইডস রোগের কারণেও বহু শিশু শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় অথবা মৃত্যুর শিকার হয়। পৃথিবীতে প্রায় ৫ কোটি শিশু যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদীদের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এমনকি নিজের দেশ তাদের কাছে নিরাপদ নয়, বাধ্য হয়ে তারা অন্যত্র বাস করছে। আর এর জন্য দায়ী হল যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদ। যুদ্ধের কারণে যেমন বহু শিশু মারা গেছে এবং গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, সে রকম বহু শিশু অনাথও হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রসংঘ ও‌ বিভিন্ন দেশের সরকার এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ধরনের সমস্যার মোকাবিলায় একজোট হয়ে কাজ করছে। আফ্রিকার গ্রেট লেকস অঞ্চলে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬৭ হাজার শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। শিশুশ্রম, অপহরণ, পাচার এই ধরনের ক্ষেত্রগুলিতেও প্রতিনিয়ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা নির্যাতিত হয়ে চলেছে। এমনকি অশিক্ষার কারণে কন্যাভ্রূণ হত্যা থেকে শুরু করে অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়া বা পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া প্রভৃতি নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজকর্ম সমাজে চলে আসছে। এই ধরনের কার্যকলাপের ফলে প্রতি মুহূর্তে বিপন্ন হচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যৎ।‌ নিরপরাধ এই সমস্ত শিশুদের উদ্ধার করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়াই এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য। যদিও এই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে গিয়ে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। তবুও সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন একজোট হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে।

শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের ভবিষ্যৎ জীবন যাতে অন্ধকারে ঢেকে না যায়, সেজন্য তাদের প্রতি সকলেরই যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। শিশুদের অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র ও সংগঠনের পাশাপাশি সব মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের জন্য গড়ে তুলতে হবে এক নিরাপদ পৃথিবী।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।