আজকের দিনে

২ অক্টোবর ।। আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ওই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সমস্ত দিবস গুলির মধ্যে একটি হল আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস (International Day of Nonviolence)।

প্রতি বছর সারা বিশ্বে ২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস পালন করা হয়। সারা বিশ্ব জুড়ে অহিংসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই দিনটি পালন করা হয়। ১৮৬৯ সালে ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্ম হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর মূলমন্ত্র ছিল ‘অহিংসা’। ২০০৪ সালে ইরানিয়ান নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদ শিরিন ইবাদি (Shirin Ebadi) এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবে তৎকালীন ভারতীয় কংগ্রেস পার্টির নেতা এবং নেত্রীরা সমর্থন জানায়। ২০০৭ সালে একটি সমাবেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২ অক্টোবরে অহিংসা দিবস পালন করার। সেই বছরেই ১৫ ই জুন ইউনাইটেড নেশনস জেনেরাল অ্যাসেম্বলি (United Nations General Assembly) ২ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। জনশিক্ষা এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে সারা পৃথিবী জুড়ে অহিংসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যেই এই দিনটি পালিত হয়।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধী সব সময় অহিংসার পথে ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এমনকি প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েও তিনি অহিংসার পথ থেকে সরে আসেননি। সরকারি আইন অমান্য করার পরামর্শ দেওয়া থেকে শুরু করে ১৯৩০ সালের বিখ্যাত লবণ আন্দোলন (salt march) সবই তিনি করেছিলেন  অহিংসার পথে চলে। সামাজিক বা রাজনৈতিক  বদল আনতে গেলে তাঁর মতে  শারীরিক হিংসা নয় অহিংসাই একমাত্র পথ। আর তাঁর এই পন্থাকে আদর্শ করেই সারা বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি পালন করার পিছনে মূল উদ্দেশ্য হল সারা পৃথিবীর সমস্ত দেশের মধ্যে ভ্রাতৃত্বে বন্ধন গড়ে তোলা, পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা, যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা, বিশ্বে শান্তির একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা, একে অপরের প্রতি সহিষ্ণু হওয়া এবং বিপদে একে অন্যকে সাহায্য করা। এই প্রচেষ্টায় সারা বিশ্বের ১৪০ টি দেশ অংশগ্রহণ করে। এই দিন সব দেশের সরকার মহাত্মা গান্ধীর প্রতি বিশেষ সম্মান দেখিয়ে থাকে। অহিংসার দ্বারাই একমাত্র মানবতার উন্নতি হবে, এই মন্ত্রে এই দিন প্রতিটি দেশ দীক্ষিত হয়।

সারা পৃথিবী জুড়ে নানান সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থা আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস পালন করে নানান কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অহিংসা সম্পর্কিত প্রবন্ধ প্রকাশ করা, রেডিও টেলিভিশন এবং বৈদ্যুতিন মাধ্যমে অহিংসা সম্পর্কিত নানান অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা, বক্তৃতা সভা, সেমিনার (seminar), সাংবাদিক বৈঠক, আলোচনা সভা এবং বিতর্ক সভার আয়োজন করা, রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষকে হিংসা সম্পর্কে সচেতন করা, ছবির প্রদর্শনী আয়োজন করা যার মাধ্যমে বেআইনি অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনকে একত্র করে আলোচনা সভা করা ইত্যাদি এই বিপুল কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রসংঘ মনে করে মানবাধিকারের সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর দ্বারা প্রচারিত অহিংসার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

বর্তমান সময়ে যেভাবে বিদ্বেষ এবং হিংসা চারিদিকে বেড়ে চলেছে সেখানে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস পালন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে মানুষের মনে অহিংসার বীজ বপন করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য।

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।