ধর্ম

জগন্নাথের রথের রশি

রথযাত্রায় অবশ্য কর্তব্যের মধ্যে পড়ে জগন্নাথের রথের রশি একবারের জন্য হলেও স্পর্শ করা। জগন্নাথ ভক্তের মন আকুল হয়ে থাকে রথের রশি একবারের জন্য হলেও, মুহূর্তের জন্য হলেও  ছোঁয়ার জন্য।কিন্তু কি এমন মাহাত্ম্য আছে জগন্নাথের রথের রশিতে যা ছোঁয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ ব্যাকুল হয়ে থাকে?

কিংবদন্তি বলে একটা সময়ে ছিল যখন জগন্নাথের রথের রশি ছুঁয়ে সেই রথের চাকার তলায় আত্মঘাতী হত কোনও এক ভক্ত।কিন্তু কি বিশ্বাসে এই আত্ম বলিদান? এ এক অনাদিকাল ব্যাপি বিশ্বাস জগন্নাথদেবের রথের রশি স্পর্শ করে রথের চাকার তলায় একবার প্রাণ বিসর্জন দিতে পারলে পুনর্জন্মের কষ্ট সহ্য করতে হয় না।রথের চাকার তলায় ভক্তের এই আত্মবলিদানই পরবর্তীকালে জন্ম দেয় ইংরেজি শব্দ- juggernaut– এর যার অর্থ- অপ্রতিরোধ্য ধবংসাত্মক শক্তি।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের উৎকল খণ্ড অনুযায়ী জগন্নাথদেবের রথের রশি স্পর্শ করলে- অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়।এই রথের দড়ি মাথায় ঠেকালে আর দুঃস্বপ্ন দর্শন হয় না।  মানুষ সব পাপ থেকে মুক্তি পায়, রোগ থেকে মুক্তিলাভ করে।

সূতসংহিতা বলে- ” রথে তু বামনাং দৃষ্টা,পুনর্জন্ম ন বিদতে।” অর্থাৎ,জগন্নাথদেবের রথের রশি একবার স্পর্শে আর পুনর্জন্ম হয় না। শ্রীজগন্নাথের বামন অবতার রথে।তাই ইন্দ্রনীলময় পুরাণের মতে , জগন্নাথের রথের রশি কোনমতে স্পর্শ করলেও পুনর্জন্মের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। “পুনর্জন্ম ন ভূঞতে”‘ !!

কথিত আছে  সনাতন গোস্বামী, শ্রীচৈতন্যদেবের অন্যতম প্রিয় শিষ্য অসুস্হ হয়ে রথযাত্রার দিন জগন্নাথদেবের চলন্ত চাকার তলে প্রাণ বিসর্জন দিতে চেয়েছিলেন। তাঁকে বাধা দিয়ে শ্রীচৈতন্যদেব বলেন- ,‘‘সনাতন !! এ রকম দেহত্যাগে যদি কৃষ্ণকে পাওয়া যেত তাহলে এক মূহুর্তের মধ্যে আমিও আমার লক্ষ জন্ম তাঁর শ্রীচরণে সমর্পন করতাম। কিন্তু দেহত্যাগে কৃষ্ণকে পাওয়া যায় না। এরকম দেহত্যাগ হচ্ছে তমোগুণ। তমোগুণে কৃষ্ণকে পাওয়া যাবে না। ভক্তি ছাড়া, ভজন ছাড়া তাঁকে পাওয়ার উপায় নেই।’’

কপিল সংহিতায় রয়েছে, জগন্নাথ নিজে বলেছেন গুণ্ডিচা মহাযাত্রায় যে আমাকে দর্শন করবে সে কালক্রমে সব পাপ থেকে মুক্ত হয়ে আমার ভুবনে যাবে।

তথ্যসূত্র


  1. https://bengali.news18.com/
  2. https://ebela.in/

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

অশোক ষষ্ঠী ব্রতকথা



এখানে ক্লিক করে দেখুন ইউটিউব ভিডিও

রচনাপাঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান?



এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন