ইতিহাস

জন ডাল্টন

জন ডাল্টন

বিজ্ঞানের জগতকে যেসমস্ত পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিকের অবদান প্রভূত সমৃদ্ধ করে তুলেছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন জন ডাল্টন (John Dalton)। মূলত রসায়নবিদ, পদার্থবিদ ও একজন আবহাওয়াবিদ হিসেবেই তাঁর পরিচয়। রসায়নে পারমানবিক তত্ত্ব প্রবর্তনের জন্য সারা বিশ্বের কাছে তিনি পরিচিত। এমনকি তাঁকে আধুনিক পারমানবিক তত্ত্বের জনকও বলা হয়ে থাকে। ব্যারোমিটারের সাহায্যে পাহাড়ের পরিমাপ করেছেন যেমন তেমনি বর্ণান্ধতা বিষয়ে তত্ত্ব উপস্থাপন করেছিলেন, যেটি ডাল্টনিজম নামেও পরিচিত। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের একজন পথপ্রদর্শকও বলা চলে তাঁকে। আবার বাষ্পীভবন, গ্যাসের তাপীয় সম্প্রসারণ, আংশিক চাপের আইন ইত্যাদির ওপরেও রচনা করেছিলেন গবেষণামূলক প্রবন্ধ। এছাড়াও তিনি বৃষ্টি ও শিশিরের উৎপত্তি, আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণা প্রবন্ধ রচনা তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব৷ বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রয়্যাল মেডেলের মতো সম্মানীয় খেতাব যেমন পেয়েছেন তেমনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রির প্রাপক ছিলেন জন ডাল্টন।

১৭৬৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের কাম্বারল্যান্ডে ককারমাউথের কাছে ঈগলসফিল্ডে এক দরিদ্র পরিবারে জন ডাল্টনের জন্ম হয়। তাঁদের পরিবার ছিল কোয়েকার অর্থাৎ ঐতিহাসিকভাবে যারা প্রোটেস্টেন্ট খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। ডাল্টনের পিতা জোসেফ পেশায় ছিলেন একজন তাঁতি। ১৭৫৫ সালে জোসেফ বিবাহ করেছিলেন আরেক কোয়েকার পরিবারের কন্যা ডেবোরা গ্রিনআপকে। ডেবোরার পরিবার অবশ্য ছিল ধনী৷ এই ডেবোরা এবং জোসেফের তিন সন্তানের মধ্যে ডাল্টনই ছিলেন কনিষ্ঠতম, যিনি দীর্ঘসময় বেঁচেছিলেন। জন ডাল্টনের দাদা জোনাথন ডাল্টন পেশায় ছিলেন একজন জুতা কারিগর।

পার্শ্ববর্তী গ্রামে পারদশ হলের একটি প্রাইভেট স্কুলের পরিচালক জন ফ্লেচার নামক একজন কোয়েকারের কাছ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন জন ডাল্টন । কিন্তু ডাল্টনের পরিবার আর্থিক দিক থেকে এতখানিই বিপর্যস্ত ছিল যে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা খুব বাধাহীনভাবে চলবার সুযোগ পায়নি। এখানে উল্লেখ্য যে, যদিও কোয়েকাররা খ্রিস্টান তবুও চার্চ অব ইংল্যান্ডের চোখে তারা ছিল ভিন্নমত পোষণকারী। সেকারণেই ইংল্যান্ডের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনায় এই অননুগামীতার কারণেই বাধা সৃষ্টি হয়েছিল পরে৷ যাই হোক আর্থিক স্বচ্ছলতার অভাবে মাত্র দশ বছর বয়সে ডাল্টন স্থানীয় ধনী এক কোয়েকার এলিহু রবিনসনের সেবায় নিযুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করেন। ডাল্টনের বয়স যখন সবে বারো বছর তখন ফ্লেচার তাঁর স্কুলের দায়িত্ব তুলে দেন জোনাথনের হাতে। সেখানে শিক্ষকতার কাজে ডাল্টন সাহায্য করতেন তাঁকে। পরবর্তীকালে ১৫ বছর বয়সে তিনি বাড়ি থেকে ৪০ মাইল দূরে কেন্ডাল শহরে একটি কোয়েকার বোর্ডিং স্কুল চালানোর কাজে সাহায্য করতেন জোনাথনকে। সেই স্কুলে ছাত্র ছিল প্রায় ৬০ জন। খুব অল্প বয়স থেকেই বুদ্ধিমান ছিলেন জন। পরিপার্শ্ব সম্পর্কে আগ্রহ এবং সবকিছুই গভীরভাবে শেখবার খিদে ছিল তাঁর। সেসময় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতা হিসেবে পেয়েছিলেন এলিহু রবিনসন এবং কেন্ডালের একজন গণিত ও শাস্ত্রীয় পন্ডিত জন গফকে। তাঁদের কাছ থেকেই মূলত তিনি গণিত, লাতিন, গ্রীক এবং ফরাসী ভাষার মূল বিষয়গুলি অর্জন করেছিলেন। যখন তাঁর ১৯ বছর বয়স তখন তিনি স্কুলের অধ্যক্ষ হয়েছিলেন এবং ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই পদের দায়িত্ব পালন করে গেছেন দক্ষ হাতে। ছাত্ররাও শিক্ষক ডাল্টনকে পছন্দ করত তাঁর নম্র স্বভাবের জন্য। এছাড়াও তাঁর শিক্ষাপদ্ধতিও ছাত্রদের কাছে ছিল আকর্ষণীয়। গণিতের মধ্যে এতটাই ডুবে থাকতেন ডাল্টন যে, অনেকসময় ছাত্রদের বেশ কিছু ত্রুটি তাঁর নজর এড়িয়ে যেত। প্রায় ২৩ বছর বয়সে ডাল্টন আইন বা মেডিসিন অধ্যয়নের কথা ভেবেছিলেন কিন্তু আত্মীয়রা এবিষয়ে উৎসাহ দেননি তাঁকে এবং তখন সম্ভবত ওই কোয়েকার হওয়ার জন্য ইংরেজি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বাধা দেওয়া হয় তাঁকে।

১৭৯৩ সালে ২৭ বছর বয়সে জন ডাল্টন গণিত এবং প্রাকৃতিক দর্শনের শিক্ষক হিসেবে ম্যানচেস্টারের নিউ কলেজে যোগ দেন। প্রায় সাতবছর এই কলেজে পড়িয়েছিলেন কিন্তু তারপর কলেজের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ায় তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
জন গফ এবং রবিনসন দুজনেই ছিলেন আবহাওয়াবিদ এবং আবহাওয়া পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রের নির্মাতা। এই দুজনের দ্বারা ভীষণভাবে প্রভাবিত হন তিনি৷ এঁদের কারণেই গণিত এবং আবহাওয়াবিদ্যার সমস্যার আগ্রহী হয়ে ওঠেন ডাল্টন। গফদের কাছ থেকে তিনি আবহাওয়ার যন্ত্র নির্মাণের কৌশল, দৈনন্দিন আবহাওয়ার রেকর্ড রাখার নির্দেশনা সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। ১৭৮৭ সাল থেকে আবহাওয়া বিষয়ক নানা পর্যবেক্ষণ একটি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করে রাখতেন তিনি। জীবদ্দশায় প্রায় ৫৭ বছর ধরে তিনি প্রায় ২০,০০০ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের রেকর্ড রেখেছিলেন৷ ১৭৯৩ সাল নাগাদ জন গফ এবং পিটার ক্রসথওয়েটের সঙ্গে নিজের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে আবহাওয়া-সংক্রান্ত প্রবন্ধ সংগ্রহ ‘মেটেওরোলজিকাল অবজারভেশনস অ্যান্ড এসেজ’ রচনা করেন, যেটি ১৭৯৩ সালেই প্রকাশিত হয়েছিল৷ পরবর্তীকালে তাঁকে ‘আবহাওয়াবিদ্যার জনক’ আখ্যাও দেওয়া হয়। আবহাওয়া বিষয়ক এই গ্রন্থটি তাঁর পরবর্তী আবিষ্কারগুলির ভিত্তি স্থাপন করে দিয়েছিল।
লেক ডিস্ট্রিক্টে থাকার সময় পাহাড়ী প্রকৃতির  মধ্যে আবহাওয়াবিদ্যার চর্চা করতেন ডাল্টন। বিমান বা বেলুন আবিষ্কারের পূর্বে তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা পরিমাপের জন্য আবহাওয়াবিদদের পাহাড়ে চড়তে হত৷ তখন ব্যারোমিটার ব্যবহার করে পাহাড়ের উচ্চতাও পরিমাপ করেছিলেন তিনি। ১৮৬০-এর আগে অর্ডন্যান্স সার্ভে লেক ডিস্ট্রিক্টের কোনো মানচিত্র প্রকাশ করেনি। তার আগে এই অঞ্চলের পাহাড়ের উচ্চতা সম্পর্কে জ্ঞানী লোকেদের মধ্যে ডাল্টন ছিলেন অন্যতম। স্থানীয় শিখরগুলির উচ্চতা বিষয়ের গবেষক জোনাথন ওটলির সঙ্গে প্রায়শই থাকতেন তিনি। নিজের গবেষণার কাজ পরীক্ষা করার জন্য ডাল্টনের পরিসংখ্যানগুলিকে তুলনা হিসেবে ব্যবহার করতেন ওটলি।

১৭৯৪ সালে ম্যানচেস্টার লিটারারি অ্যান্ড ফিলোজফিক্যাল সোসাইটির সদস্য নির্বাচিত হন৷ এর কয়েক সপ্তাহ পরে রঙের দৃষ্টিভঙ্গির সম্পর্কিত অসাধারণ তথ্যের উপর তাঁর প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এখানে উল্লেখ্য যে তিনি এবং তাঁর দাদা দুজনেই বর্ণান্ধ ছিলেন। তাঁর অনুমান ছিল যে, চোখের মণির তরল মাধ্যমের বিবর্ণতার কারণেই রঙ-উপলব্ধির ঘাটতি হয়। তাঁর মতে, এ-জিনিস অবশ্যই বংশগত। পরবর্তীকালে যদিও এই তত্ত্বটি খারিজ হয়ে যায় কিন্তু জীবদ্দশায় রঙ দর্শনের ঘাটতি বিষয়ক তাঁর প্রাথমিক গবেষণা স্বীকৃতি লাভ করেছিল।

১৮০০ সালে ডাল্টন ম্যানচেস্টার লিটারারি অ্যান্ড ফিলোজফিক্যাল সোসাইটির সেক্রেটারি হন এবং ঠিক তার পরের বছরই মিশ্র গ্যাসের সংবিধানের উপর ‘এক্সপেরিমেন্টাল এসেজ’ নামে একটি বক্তৃতা উপস্থাপন করেন। শূণ্যস্থানে এবং বাতাসের মধ্যে বিভিন্ন তাপমাত্রায় বাষ্প ও অন্যান্য বাষ্পের চাপ, বাষ্পীভবন এবং গ্যাসের তাপীয় সম্প্রসারণের ওপর চারটি প্রবন্ধ ১৮০২ সালের ২ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে মেমোয়ার্স অব ম্যানচেস্টার লিটারারি অ্যান্ড ফিলোসফিক্যাল সোসাইটিতে প্রকাশিত হয়েছিল। ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন তরলের বাষ্পের চাপ পর্যবেক্ষণ করে তিনি সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে, সমস্ত তরলেরই বাষ্পের চাপের বৈচিত্র্য সমান। ১৮০২ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘অন দ্য এক্সপ্যানশন অব ইলাস্টিল ফ্লুইডস বাই হিট’ রচনাটিতে তিনি দেখান যে, অ-প্রতিক্রিয়াশীল গ্যাসের মিশ্রণে, প্রয়োগ করা মোট চাপ পৃথক গ্যাসগুলির আংশিক চাপের সমষ্টির সমান। এটি পরবর্তীকালে ডাল্টনের আংশিক চাপের আইন নামে পরিচিত হয়। ১৮০৩-এর একটি বক্তৃতা ‘অন দ্য অ্যাবসর্পশন অব গ্যাসেস বাই ওয়াটার অ্যান্ড আদার লিকুইডস’-এও এই আংশিক চাপের আইন সম্পর্কে ব্যাখা রয়েছে।

তবে এসবের পরেও ডাল্টনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল পারমাণবিক তত্ত্বের উপস্থাপন। তাঁর নাম এই তত্ত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ডাল্টনের চিন্তাভাবনার বিকাশ আইরিশ রসায়নবিদ ব্রায়ান হিগিন্সের ধারণা দ্বারা প্রভাবিত ছিল। কিন্তু পরমাণু ক্যালোরির বায়ুমন্ডল দ্বারা বেষ্টিত, ব্রায়ানের এই মডেলকে স্বীকার করেননি ডাল্টন। তাঁর পারমাণবিক তত্ত্বের অপরিহার্য অভিনবত্ব হল যে তিনি রাসায়নিক উপাদানগুলির জন্য আপেক্ষিক পারমাণবিক ওজন গণনা করার একটি পদ্ধতি প্রদান করেছিলেন, যা ব্রায়ান বা উইলিয়াম হিগিন্স কেউই করেননি। পরমাণুর ধারণাটি তাঁর মনে সম্পূর্ণ একটি ভৌত ধারণা হিসেবে উদ্ভূত হয়েছিল। তাঁর একটি ল্যাবরেটরি নোটবুক ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে ১৮০৩ সাল নাগাদই তিনি পারমাণবিক তত্ত্বটি তৈরি করেছিলেন। তাঁর এই তত্ত্বের মূল কথাগুলি হল, যে কোনো উপাদান পরমাণু নামক অত্যন্ত ছোট কণা দিয়ে তৈরি। একটি উপাদানের পরমাণু আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যে অভিন্ন, আবার বিভিন্ন উপাদানের পরমাণু আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যে ভিন্ন। পরমাণুকে উপবিভক্ত, সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। বিভিন্ন উপাদানের পরমাণু রাসায়নিক যৌগ গঠনের জন্য সাধারণ পূর্ণ-সংখ্যা অনুপাতে একত্রিত হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় , পরমাণু একত্রিত, পৃথক বা পুনর্বিন্যাস করা হয়। মূলত এগুলিই ডাল্টনের পারমাণবিক তত্ত্বের প্রধান বক্তব্য। পারমাণবিক তত্ত্বের ওপর তাঁর প্রথম বর্ধিত আলোচনা ‘রুল অব গ্রেটেস্ট সিমপ্লিসিটি’ ১৮০৮ সালে প্রকাশিত হয়। তবে ডাল্টনের পারমাণবিক তত্ত্বের কেন্দ্রস্থলে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও নীতিগুলি টিকে ছিল।

‘আ নিউ সিস্টেম অব কেমিক্যাল ফিলোজফি’তে যৌগগুলিকে বাইনারি, টারনারি, কোয়াটারনারি (দুই তিন চার ইত্যাদি পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত অনু) ইত্যাদি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল একটি যৌগের সহজতম, অভিজ্ঞতামূলক আকারে থাকা পরমাণুর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। ডাল্টন অনুমান করেছিলেন যে যৌগের গঠন সম্পূর্ণ সংখ্যা অনুপাতে উপস্থাপন করা যেতে পারে। ডাল্টন যৌগগুলির পারমাণবিক কাঠামোকে দৃশ্যমানভাবে উপস্থাপন করতে তাঁর নিজস্ব প্রতীক ব্যবহার করেছিলেন। এগুলিকে ‘আ নিউ সিস্টেম অব কেমিক্যাল ফিলোজফি’তে চিত্রিত করেছিলেন তিনি। যেখানে তিনি ২১টি উপাদান এবং ১৭টি সরল অণু তালিকাভুক্ত করেছিলেন।

ডাল্টন বৃষ্টি ও শিশিরের উৎপত্তির মতো বিষয়েও গবেষণা করেছিলেন। এমনকি আকাশের রঙ, বাষ্প এবং আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণ বিষয়ক গবেষণা ছাড়াও তিনি স্কুল ও একাডেমির ব্যবহারের জন্য ইংরেজি ভাষার ব্যকরণগত নির্দেশনার একটি নতুন পদ্ধতি ব্যাখা করেছিলেন ‘এলিমেন্টস অফ ইংলিশ গ্রামার’ গ্রন্থে। ক্লোরিন সম্পর্কেও মতামত রেখেছিলেন তিনি। ১৮১৭ থেকে ১৮৪৪ সালে মৃত্যু পর্যন্ত ডাল্টন ১১৭টি মেমোয়ার্স লিখেছিলেন লিটারারি অ্যান্ড ফিলজফিক্যাল সোসাইটি অব ম্যনচেস্টারের সভাপতি থাকাকালীন। ১৮৪০ সালে ফসফেট এবং আর্সেনেটের ওপর একটি কাজ রয়্যাল সোসাইটি দ্বারা প্রত্যাখাত হলে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজেই সেটা প্রকাশ করেছিলেন। ১৮০৩ সালে, তিনি লন্ডনের রয়্যাল ইনস্টিটিউশনে প্রাকৃতিক দর্শনের উপর বক্তৃতার একটি সিরিজ উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হন। ১৮১০-এ হামফ্রে ডেভী তাঁকে রয়্যাল সোসাইটির ফেলোশিপের প্রার্থী হিসেবে নিজেকে হাজির করতে বললেও, সম্ভবত আর্থিক কারণে তা প্রত্যাখান করেছিলেন। ফ্রেঞ্চ অ্যাকাডেমি ডেস সায়েন্সেস -এর সংশ্লিষ্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি এবং ১৮৩০ সালে তিনি ডেভির জায়গায় আটটি বিদেশী সহযোগীর একজন নির্বাচিত হন। ডাল্টন ১৮৩৪ সালে আমেরিকান একাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের বিদেশী অনারারি সদস্য নির্বাচিত হন।

বিজ্ঞানে অবদানের জন্য ডাল্টন নানা সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৮২৬ সালে রয়্যাল মেডেলের প্রাপক ছিলেন তিনি। রয়্যাল সোসাইটি অফ লন্ডন এবং রয়্যাল সোসাইটি অফ এডিনবার্গের ফেলোশিপ লাভ করেছিলেন পরে। এছাড়াও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিগ্রিও তাঁকে প্রদান করা হয়েছিল।

কখনই বিবাহ করেননি ডাল্টন। কেবল কয়েকজন বন্ধু ছিল তাঁর।  তিনি ইয়র্ক, অক্সফোর্ড, ডাবলিন এবং ব্রিস্টলে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনের বেশ কয়েকটি সভায় যোগদান করেন।

১৮৩৭ সালে ছোট একটি স্ট্রোক হয় ডাল্টনের। ১৮৩৮-এ দ্বিতীয় আঘাতে তিনি বাক-প্রতিবন্ধীকতার শিকার হন। ১৮৪৪ সালের মে মাসে তার আরেকটি স্ট্রোক হয়েছিল। ২৬শে জুলাই তিনি কম্পিত হাতে তার শেষ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ রেকর্ড করেন। অবশেষে ২৭ জুলাই, ম্যানচেস্টারে, বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে এই মহান বৈজ্ঞানিক জন ডাল্টনের মৃত্যু হয়েছিল।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

সববাংলায় তথ্যভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল - যা জানব সব বাংলায়