ধর্ম

অজানা কিছু রথযাত্রা

পুরীর রথযাত্রার কথা বিশ্ববিদিত। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা এমন অনেক রথযাত্রা এই বাংলার জেলায় জেলায় হয়, যারা নামে অত বিখ্যাত না হলেও আড়ম্বরে নজর কাড়েই(lesser-known-Rathyatra)।

হবিবপুর ঃ রানাঘাট থানা এলাকার হবিবপুর ইসকনের রথযাত্রা এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।রথের দিন রাধামাধব মন্দির থেকে ৪০ ফুট উচ্চতার জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে তিন কিলোমিটার দূরে স্বাস্থোন্নতি ময়দানে মাসির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।উল্টোরথের দিন আবার রথে চেপে ফেরত্ আসে বাড়িতে।

নবদ্বীপ ঃ নবদ্বীপের রথযাত্রা  যথেষ্ট প্রাচীন। গবেষক প্রবীর ভট্টাচার্য 'র মতে " ১৭৪০-৫০ খ্রিস্টাব্দে মণিপুরের মানুষ গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নেওয়া শুরু করেন। মণিপুরের পরম বৈষ্ণব মহারাজ ভাগ্যচন্দ্রের হাত ধরেই ১৭৯৮ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপে মণিপুরীদের উপনিবেশ গড়ে ওঠে। মণিপুরের প্রথা মেনেই রথযাত্রা পালিত হয়।” নবদ্বীপে মনিপুরের রাজবাড়ি থেকে যে শোভাযাত্রা বেরোয় তাতে জগন্নাথ কেবল একাই অধিষ্ঠান করেন।এই স্বতন্ত্র রীতিটির কারণ হিসেবে প্রবীরবাবু বলেন-"  দ্বারকা থেকে বৃন্দাবনে কৃষ্ণ একা এসেছিলেন। সেখানে তিনি রাধারানি-সহ অন্যান্য গোপিনীদের কৃপা করেন।সেই দর্শনটিই এই রথযাত্রায় অনুসরণ করা হয়।"  এই রথযাত্রায়  প্রতি দিন রাতে জয়দেবের দশাবতার স্তোত্র পাঠ করা হয়।এছাড়াও এই রথ যাত্রাপথে বিভিন্ন ভক্তের বাড়িতে থামে এবং সেই বাড়ির তরফে জগন্নাথকে আরতি করা হয় এবং ভোগ দেওয়া হয়।

মানকরমানকরের কর বাড়ির পিতলের রথ এই অঞ্চলের অন্যতম বিখ্যাত উৎসব।কর পরিবারের মাধবচন্দ্র কর এই রথ তৈরি করে রথযাত্রা উৎসবের প্রচলন করেন ।দক্ষিণ রাইপুরের গোস্বামী পাড়ার এই রথ কর পরিবারের রথ নামে খ্যাত। এই রথযাত্রার ইতিহাস প্রসঙ্গে যেটুকু জানা যায় কর পরিবারের গান্ধর্ব্য কর তীর্থ করতে যান । কাশীতে তিনি পান লক্ষী – জনার্দনের মুর্তী । বাড়িতে নিয়ে আসার পর তিনি স্বপ্নাদেশ পান মন্দির তৈরি করে তার পুজো শুরু করার । মন্দির তৈরি করে পুজো প্রচলন করা হয় ।১৩১৮ সালের ১৩ আষাঢ় মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় ।কর পরিবারের পিতলের রথ সাড়ে নয় ফুট উচ্চতার । এই রথ তৈরি করেন স্থানিয় শিল্পি কেদারনাথ দে । রথের দিনে কুড়ি কেজি পিতলের ঘোড়া , সারথী এবং গড়ুর পক্ষী দিয়ে রথ সাজানো হয় । পরিবারের রীতি অনুসারে কর পরিবারের গৃহদেবতা লক্ষী – জনার্দনের পুজো হয় এবং রথে বসানো হয় । এছাড়াও রথে থাকে জগন্নাথ ,বলরাম এবং সুভদ্রার পটচিত্র ।রথ এবার কর পরিবারের বাড়ির মন্দির থেকে বার করা হয় । মানকর হাটতলার কাছে মাটির একটি বেদিতে রাখা হয় । এই বেদিকে মাসির ঘর বলে মেনে নেওয়া হয় পরিবারের রীতি অনুসারে । কিন্তু কর পরিবারের রথ বাড়ির বাইরে থাকে না একদিনের জন্যও । সেই রীতি মেনে রাত ১১ টার পর রথ ফিরে আসে মন্দিরে । উলটো রথের দিনেও একই নিয়ম মানা হয় ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!