কথায় কথায় আমরা এখন শুনি আমরণ অনশনের কথা। রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের হামেশাই আমরা দু – চারদিনের আমরণ অনশন করতে দেখি। ভারতবর্ষের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বিপ্লবী যতীন দাস ই প্রথম আমরণ অনশনকে নজিরবিহীন এক অস্ত্রে পরিণত করেন। ভারতীয় জেলে রাজবন্দিদের মর্যাদা দান সম্মানকর ব্যবহারের দাবীতে যতীন দাস লাহোর জেলে ১৯২৯ সালের ১৩ই জুলাই থেকে টানা অনশন শুরু করেন। একটানা ৬৩ দিন অনশন চালানোর পরে নলের মাধ্যমে জোর করে খাওয়ানোর সময় শ্বাসনালিতে খাবার আটকে লাহোরের বোরস্টাল জেলে যতীন দাসের মৃত্যু হয়। দক্ষিনেশ্বর বোমা মামলায় প্রথমে অভিযুক্ত হিসেবে বন্দি হন যতীন দাস। কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও বেঙ্গল অর্ডিন্যান্স আইনে তাঁকে আটক করে রেখে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে শুরু করে ময়মনসিং হয়ে পাঞ্জাবের মিয়ানওয়ালী জেল সহ বিভিন্ন জেলে তাঁকে রাখা হয়। ময়মনসিং জেলে বন্দিদশায় থাকাকালীন জেল কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে টানা ২১ দিন অনশন করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট জেল থেকে তাঁর মুক্তি হয়। ১৯২৮ সালের ৮ জুলাই প্রেসিডেন্সি জেলে থাকাকালীন যতীন দাস (ডাকনাম খেঁদু) তাঁর বাবাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। বাবাকে লেখা বিপ্লবী যতীন দাসের চিঠি টি তুলে দেওয়া হল –

শ্রীচরণেষু……
বাবা, পাঞ্জাবের জেল হইতে আমাকে অদ্য এখানে লইয়া আসিয়াছে। আপনার ২রা তারিখের পত্রখানি পথেই আমার হস্তগত হইয়াছে।
আমাকে বোধ হয় শীঘ্রই হয় খালাস করিয়া দিবে, না হয় কোনও গ্রামে নজরবন্দী করিয়া রাখিবে। আমি যত শীঘ্র পারি বাড়ী যাইতে চেষ্টা করিব।
আপনারা সকলে এখন কেমন আছেন লিখিবেন। আমি এখানে একলা আছি ও শারীরিক অবস্থাও তত ভাল নয়। অধিক কি লিখিব। প্রণাম জানিবেন ও পত্রের উত্তর দিবেন। কিরণ যদি আসিয়া থাকে ত’ অবিলম্বে আমার সহিত যেন সাক্ষাৎ করে।
ইতি
খেঁদু
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- অগ্নিযুগের চিঠি, শুভেন্দু মজুমদার, র্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন, পৃষ্ঠা – ১৩, যতীন্দ্রনাথ দাস – পৃষ্ঠা -১১৮ -১১৯
- https://irabotee.com/
- https://eisamay.com/


আপনার মতামত জানান