সববাংলায়

মিশেল প্লাতিনি

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস যেসব কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের কৃতিত্বে সমৃদ্ধ হয়ে রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রাক্তন ফরাসি ফুটবলার মিশেল প্লাতিনি (Michel Platini)। ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর ফ্রান্সের জাতীয় দলের কোচ হিসেবে যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন তেমনই প্রশাসনিক স্তরের নানারকম দায়িত্বও সামলেছেন দক্ষ হাতে। পরপর তিনবার ব্যালন ডি’অর-এর মতো পুরস্কারের প্রাপক ছিলেন প্লাতিনি৷ ন্যান্সি, জুভেন্টাস প্রভৃতি বিখ্যাত ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন দীর্ঘদিন। ইউরোপীয় চ্যাম্পিনশিপে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড ছিল তাঁর, পরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো তা ভেঙে দেন। 

১৯৫৫ সালের ২১ জুন ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত লোরেনের জোউফ শহরে মিশেল প্লাতিনির জন্ম হয়। তাঁর সম্পূর্ণ নাম মিশেল ফ্রঁসোয়া প্লাতিনি।  তাঁর বাবা অ্যালডো প্লাতিনি নিজেও ছিলেন একজন পেশাদার ফুটবলার এবং ন্যান্সি ক্লাবের দীর্ঘদিনের পরিচালক। এই ক্লাব থেকেই প্লাতিনি তাঁর পেশাদার কেরিয়ারের সূচনা করেছিলেন। মিশেলের মা আনা ছিলেন অ্যালডোর মতোই একজন ইতালীয় বংশোদ্ভূত। বাবার  সংস্পর্শে থেকে ফুটবলের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই ভালবাসা তৈরি হয়ে গিয়েছিল প্লাতিনির। রাস্তায় ফুটবল খেলবার অনুমতিও পেয়েছিলেন পরিবার থেকেই। তাঁর স্ত্রীয়ের নাম ক্রিস্টেল প্লাতিনি। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে।

খুব শীঘ্রই নিজের দক্ষতায় সমবয়সীদের মধ্যে ভীষণই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর ডাকনাম ছিল পেলেটিনি। ছোট থেকেই বলে সজোরে শট নেওয়ার ক্ষমতা ছিল তাঁর। এগারো বছর বয়সে প্লাতিনি এএস জোউফের যুব দলে যোগ দেন। এরপর ষোলো বছর বয়সে কুপ গাম্বারডেলা টুর্নামেন্ট ম্যাচে মেটজ জুনিয়র দলের বিপক্ষে জোউফ জুনিয়রের হয়ে অসাধারণ খেলে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তাঁর এই পারফরম্যান্সের পর তাঁকে মেটজ ক্লাবের সঙ্গে ট্রায়ালের জন্য ডাকা হয়।  কিন্তু চোটের কারণে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয় তাঁর। এরপর মেটজ ক্লাবে যোগদানের আরও একবার সুযোগ আসে তাঁর। কিন্তু ট্রায়ালে শ্বাস পরীক্ষার সময় প্লাতিনি অজ্ঞান হয়ে যান। ডাক্তারি পরীক্ষায় তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যা এবং দুর্বল হৃদয় ধরা পড়লে এই দলটিতে খেলার স্বপ্ন চিরকালের মত ভেঙে যায় তাঁর। অবশেষে ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজের বাবার ক্লাব ন্যান্সির রিজার্ভ সাইডে যোগ দেন এবং দলের গোলরক্ষক জিন-মিশেল মাউটিরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নেন।

এই দলে এসে প্লাতিনির প্রথম বড় সাফল্য পান যখন রিজার্ভ দলের হয়ে উইটেলশেইমেরের বিপক্ষে একটি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। এরপর আরও ভাল প্রদর্শন এবং অসামান্য দক্ষতার কারণে ন্যান্সির প্রথম টিমে তাঁর জায়গা পাওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এমনকি ভ্যালেন্সিয়েনেসের বিপক্ষে একটি ম্যাচে স্ট্যান্ডে ঝামেলা শুরু হলে রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকা প্লাতিনির দিকে ভিড় থেকে বিভিন্ন জিনিস ছোঁড়া হয় আঘাত করার জন্য। এরপর রিজার্ভের হয়ে একটি খেলায় অপর পক্ষের জোরালো ট্যাকেলে গোড়ালিতে চোট পেয়ে বসে যান প্লাতিনি। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালের ৩ মে, নাইমসের বিরুদ্ধে লীগ অভিষেক হয় প্লাতিনির।

শীঘ্রই প্লাতিনি নিজেকে ন্যান্সির একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং তাঁর অপূর্ব ফ্রি-কিক শৈলী নজর কাড়ে সকলের। ১৯৭৪ সালের মরশুমে বাঁ হাতে চোট পেয়ে খেলতে না পারলেও পরের মরশুমে সতেরোটি গোল করেন তিনি যার মধ্যে বেশিরভাগ গোল ছিল ফ্রি-কিক থেকে। প্লাতিনির অনবদ্য খেলার জন্য তৎকালীন ফরাসি লীগ চ্যাম্পিয়ন সেন্ট-এতিয়েন ফরাসি কাপ থেকেই ছিটকে যায়।

ন্যান্সি লিগ ১-এ ফিরে এলেও প্লাতিনি সামরিক পরিষেবায় ব্যস্ত থাকায় দলের হয়ে সেই সময় খুব বেশি খেলতে পারেননি। সেই সময় লাভালের সঙ্গে একটি অ্যাওয়ে ম্যাচে লাভাল সমর্থকদের কটুক্তিতে অত্যন্ত অপমানিত হন প্লাতিনি। এই অপমানের জবাব হিসেবে সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। এরপর ১৯৭৬ সালে প্লাতিনি ন্যান্সির সাথে দুই বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এটি ছিল তাঁর প্রথম পেশাদার চুক্তি।

১৯৭৮ সালে নিসের বিপক্ষে ফ্রেঞ্চ কাপ ফাইনালে প্লাতিনির একটিমাত্র গোলেই জয় পায় ন্যান্সি। এটি প্লাতিনির জীবনের প্রথম বড় কাপ জয়।

প্লাতিনির খেলা প্রথম বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স খুব একটা প্রশংসনীয় হয়নি এবং পরবর্তী মরশুমে তিনি ঠাট্টা বিদ্রুপের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন৷ ফলে সেন্ট-এতিয়েনের সঙ্গে একটি ম্যাচে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে গিয়ে পুনরায় গোড়ালিতে চোট পান এবং ন্যান্সির উইনার্স কাপ অভিযান থেকে বাদ পড়েন শেষ পর্যন্ত।  ক্লাবের সাথে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ১৯৭৯ সালের জুনে শেষ হয়।  ইন্টারনাজিওনালে, প্যারিস সেন্ট জার্মেই, সেন্ট-এতিয়েনের মতো ক্লাবগুলি তাঁর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে চেয়েছিল। অবশেষে সেন্ট-এতিয়েনে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন প্লাতিনি। লেস ভার্টসের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি সাক্ষর করেন। তিন বছরের মেয়াদ শেষে ১৯৮২ সালে সেন্ট-এতিয়েন ক্লাব থেকে স্থানান্তরের ফি-স্বরূপ নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে তিনি জুভেন্তাস ক্লাবে যোগদান করেছিলেন।

জুভেন্তাসে যাওয়ার পরই একজন সুপারস্টার ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে প্লাতিনির নাম ছড়িয়ে পড়ে। এই ক্লাবে যাওয়ার পরই ফুটবলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি তিনি এনে দেন জুভেন্তাসের ঘরে। জুভেন্তাসে ১০ নম্বর জার্সি পেয়েছিলেন প্লাতিনি। প্রথমে ১৯৮৩ সালে ইতালিয়ান কাপে জয় এনে দেন তিনি জুভেন্তাসকে। ১৯৮২-৮৩-এর ইউরোপীয়ান কাপে ফাইনালে পৌঁছেও হামবুর্গের কাছে হেরে যায় জুভেন্তাস। কিন্তু ১৯৮৪-৮৫-মরসুমে লিভারপুলকে হারিয়ে প্রথমবার ইউরোপীয়ান কাপ জয়ের স্বাদ জুভেন্তাসকে এনে দিয়েছিলেন প্লাতিনি। প্লাতিনি জুভেন্তাসসের হয়ে ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে দুবার ‘সেরি এ’ শিরোপা জিতেছিলেন। ১৯৮৪ সালে ইউরোপীয়ান উইনার্স কাপে পোর্তোকে হারিয়ে প্লাতিনিরা জয়লাভ করেছিলেন। ১৯৮৩, ১৯৮৪ এবং ১৯৮৫ টানা তিনবার ব্যালন ডি’অর -এর মতো সম্মানেও ভূষিত হয়েছিলেন প্লাতিনি। এছাড়াও ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে সকার ম্যাগাজিন দ্বারা বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলেও প্লাতিনির অসাধারণ প্রদর্শনী সারা বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কুপ গাম্বারডেলা টুর্নামেন্টে প্রথম জাতীয় দলের নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর, প্লাতিনিকে ফরাসি জুনিয়র দলের জন্য নির্বাচন করা হয়।  কিন্তু চোটের কারণে তখন খেলতে পারেননি তিনি। 

এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৭৫ সালে সামরিক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হন প্লাতিনি। তাঁকে জয়নভিল ব্যাটালিয়নে নিয়োগ করা হয়েছিল। প্লাতিনি ফরাসি অনূর্ধ্ব-তেইশ এবং ফরাসি অলিম্পিক দলের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি ফরাসি সামরিক দলের হয়েও খেলেছেন৷ এমনকি অলিম্পিকে রোমানিয়া দলকে ৪-০ ব্যবধানে হারানোর পিছনেও প্লাতিনির অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। বুখারেস্টে একটি কোয়ালিফাইং ম্যাচে ড্র করার পর ফ্রান্সের প্রথম জাতীয় দল থেকে ডাক পান প্লাতিনি৷ ১৯৭৬ সালে প্যারিসে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে প্রথম জাতীয় দলের হয়ে খেলেন তিনি।

প্লাতিনি মন্ট্রিলে ১৯৭৬ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ফরাসি ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৭ সালে বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩০ গজ দূর থেকে অনবদ্য একটি গোল করেন জাতীয় দলের হয়ে এবং তার ফলেই ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ফ্রান্স। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিপর্বে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইতালির বিপক্ষে খেলায় দুর্দান্ত প্রদর্শনীর জন্য ইতালিতেও সুপরিচিত হয়ে ওঠেন প্লাতিনি। তবে ১৯৭৮ বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ফ্রান্স। প্লাতিনিকে তবুও বিশ্বকাপের পর ফরাসি জাতীয় দলের অধিনায়ক করা হয় এবং ১০ নম্বর জার্সিও দেওয়া হয় তাঁকে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফাইং ম্যাচে ফ্রি-কিক থেকে প্লাতিনির গোলটির দৌলতেই ফ্রান্স সেই বিশ্বকাপ খেলতে পেরেছিল। ১৯৮২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল ফ্রান্স এবং মুখোমুখি হয়েছিল পশ্চিম জার্মানির। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স হেরে যায় সেই ম্যাচে।

১৯৮৪ সালে প্লাতিনির নেতৃত্বেই ফ্রান্স ইউরো কাপের চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছিল। প্লাতিনি ৯টি গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে শারীরিকভাবে খুব বেশি ফিট না থাকা সত্ত্বেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন তিনি। সেই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে করা একটি গোলই ছিল প্লাতিনির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ গোল।

সমস্ত ধরণের ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণের আগে ১৯৮৭ সালের ২৯ এপ্রিল ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের খেলায় প্লাতিনি তাঁর কেরিয়ারের শেষ খেলাটি খেলে অবসর নেন৷ অবশ্য এরপর একবার অবসর ভঙ্গ করে ১৯৮৮ সালের ২৭ নভেম্বর কুয়েতের আমিরের অনুরোধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে কুয়েতের হয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে ফ্রান্সের হয়ে মোট ৭২টি ম্যাচে গোল করেছিলেন ৪১টি। তাঁর ক্লাব কেরিয়ারে গোলের হিসেব করলে দেখা যায়, ৫৮০ ম্যাচে মোট ৩১২টি গোল করেছিলেন প্লাতিনি।

১৯৮৮ সালের ১ নভেম্বর প্লাতিনিকে ফরাসি জাতীয় দলের কোচ মনোনীত করা হয়। প্লাতিনিকে ওয়ার্ল্ড সকার অ্যাওয়ার্ডস দ্বারা বছরের সেরা ম্যানেজার হিসাবে মনোনীত করা হয়েছিল। তিন বছর ফরাসী জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটির প্রধানদের মধ্যে একজন ছিলেন প্লাতিনি। তিনি ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত উয়েফা টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট কমিটির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সাল থেকে উয়েফা নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। 

২০০৬ সালে প্লাতিনি উয়েফার সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে নিশ্চিত করেন। ২০০৭ সালের ২৬ জানুয়ারি ডুসেলডর্ফের নির্বাচনে তিনি লেনার্ট জোহানসনকে পরাজিত করে উয়েফা প্রেসিডেন্ট হন। তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশগ্রহণকারী ইতালীয়, স্প্যানিশ এবং ইংলিশ দলের সংখ্যা চারটির পরিবর্তে সর্বোচ্চ তিনটিতে নামিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। ক্লাবগুলির নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী  ক্লাবগুলিকে প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার কথাও বলেন তিনি। তাঁর বিতর্কিত দাবিগুলির মধ্যে  অন্যতম একটি দাবি ছিল ১৮ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক স্থানান্তর প্রকৃতপক্ষে একটি অবৈধ ‘শিশু পাচার’ এবং ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন দ্বারা অনুমোদিত হওয়া উচিত।

পরবর্তী সময়ে প্লাতিনি দুর্নীতি মামলায় জড়িয়ে পড়েন। ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তাঁর এবং প্লাতিনির মধ্যে দুই মিলিয়ন ডলারের  বেআইনি লেনদেন হয়েছিল। তাঁদের দুজনকেই ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষদিকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের অধীনে রাখা হয়। এই মামলা চলাকালীন জুন মাসেই সেপ ব্লাটার ফিফা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তদন্তের পর ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর প্লাতিনিকে ফুটবল-সম্পর্কিত যেকোনো কার্যকলাপ থেকে ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। ২১ ডিসেম্বর, প্লাতিনি এবং ব্লাটার উভয়কেই নৈতিকতা লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত খেলাধুলা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। প্লাতিনি অবশ্য সুইস আদালতে এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে আপিল করেন কিন্তু আদালত তাঁর আপিল প্রত্যাখ্যান করে। মিশেল প্লাতিনি ২০১৫ সালের গ্রীক ফুটবল কেলেঙ্কারিতে গ্রীক পাবলিক পলিমিকার সাথেও জড়িত ছিলেন বলে মনে করা হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading