ইতালীয় রেনেসাঁ যুগের চিত্রশিল্পীরা শিল্পের ইতিহাসকে তাঁদের অমূল্য শিল্পকলায় প্রভূত সমৃদ্ধ করেছিলেন। সেই রেনেসাঁ যুগেরই একজন কিংবদন্তি শিল্পী ছিলেন মাইকেলেঞ্জেলো (Michelangelo) বা মাইকেল অ্যাঞ্জেলো। সমসাময়িকদের মধ্যে তাঁর কাজই পশ্চিমা শিল্পের জগতকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল বলা যায়। কেবল একজন চিত্রশিল্পীই নন, তিনি একজন প্রথিতযশা ভাস্কর ও স্থপতিও ছিলেন। তাঁর ডেভিড নামের ভাস্কর্যটি তো বিশ্ববিখ্যাত। মাইকেলেঞ্জেলোর শিল্প শৈলীর মধ্যে শারীরিক অভিব্যক্তিপূর্ণ যে ম্যানারিজম ফুটে উঠেছিল, তা বহু শিল্পীকে প্রভাবিত করেছিল। তাঁকে তাঁর জীবদ্দশাতেই ‘ইল ডিভিনো’ বা ‘ঐশ্বরিক’ বলা হত। নিঃসন্দেহে তিনি ষোড়শ শতকের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী শিল্পী ছিলেন।
১৪৭৫ সালের ৬ মার্চ ফ্লোরেন্সের আরেজোর কাছে ভালটিবেরিনাতে অবস্থিত একটি ছোট শহর ক্যাপ্রেসে মাইকেলেঞ্জেলো ডি লোডোভিকো বুওনারোতি সিমোনি (Michelangelo di Lodovico Buonarroti Simoni) বা সংক্ষেপে মাইকেলেঞ্জেলোর জন্ম হয়। তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোরেন্সে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু ব্যাঙ্ক ফেল করার ফলে তাঁর বাবা লুডোভিকো ডি লিওনার্দো বুওনারোতি সিমোনি (Ludovico di Leonardo Buonarroti Simoni) ক্যাপ্রেসে একটি সরকারী পদ গ্রহণ করেন। মাইকেলেঞ্জেলোর যখন জন্ম হয়, তখন তাঁর বাবা ছিলেন শহরের বিচার বিভাগীয় প্রশাসক এবং চিউসি দেলা ভার্না কমিউনের স্থানীয় প্রশাসক। মাইকেলেঞ্জেলোর মা ছিলেন ফ্রান্সেসকা ডি নেরি দেল মিনিয়াতো ডি সিয়েনা (Francesca di Neri del Miniato di Siena)।
মাইকেলেঞ্জেলোর জন্মের কিছুদিন পর তাঁদের পরিবার পুনরায় ফ্লোরেন্সে ফিরে এসেছিল এবং সেখানেই বড় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এরপর তাঁর মা দীর্ঘ অসুস্থতার পরে ১৪৮১ সালে মারা গিয়েছিলেন। তখন মাইকেলেঞ্জেলোর বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। সেই সময় তিনি সেত্তিগানো শহরে একজন আয়ার কাছে থাকতে শুরু করেন। সেই আয়ার স্বামী পাথর কাটার কাজ করতেন এবং মাইকেলেঞ্জেলোর বাবাও সেখানে একটি মার্বেলের খনি ও খামার ক্রয় করেছিলেন। সেখান থেকেই পরবর্তীকালের কিংবদন্তি ভাস্কর মাইকেলেঞ্জেলোর পাথর এবং পাথুরে শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের শুরু।
অল্প বয়সেই মাইকেলেঞ্জেলোকে ফ্লোরেন্সে ফ্রান্সেস্কো দা উরবিনোর অধীনে ব্যকরণ অধ্যয়নের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার প্রতি একেবারেই আগ্রহ ছিল না তাঁর। বরং গীর্জায় ঘুরে ঘুরে সেখানকার চিত্রকর্মের অনুলিপি করতে এবং চিত্রশিল্পীদের সঙ্গ করতেই বেশি ভালবাসতেন তিনি। ফ্লোরেন্স শহরটি তখন ইতালির শিল্প ও শিক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ কেন্দ্র ছিল। মাইকেলেঞ্জেলোর শৈশশবকালে সিস্টিন চ্যাপেলের দেওয়াল সাজানোর জন্য চিত্রশিল্পীদের একটি দলকে ফ্লোরেন্স থেকে ভ্যাটিকানে ডাকা হয়েছিল । তাদের মধ্যে ছিলেন ফ্লোরেন্সের সেই সময়কার প্রধান শিল্পী ডমেনিকো ঘিরল্যান্ডাইও। তিনি ফ্লোরেন্সে সবচেয়ে বড় ওয়ার্কশপ করেছিলেন। মাইকেলেঞ্জেলোর যখন ১৩ বছর বয়স তখন তিনি ডমেনিকো ঘিরল্যান্ডাইও-এর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। পরের বছর মাইকেলেঞ্জেলোর বাবা একজন শিল্পী হিসেবে মাইকেলেঞ্জেলোকে অর্থ প্রদানের জন্য ঘিরল্যান্ডাইওকে রাজী করিয়েছিলেন। ১৪ বছর বয়সের একটি বালকের শিল্পী হিসেবে অর্থলাভের এই ঘটনা সত্যিই বিরল। ১৪৮৯ সালে লরেঞ্জো ডি মেডিসি নামে এক ধনী ব্যক্তি ঘিরল্যান্ডাইওকে তাঁর সেরা দুই ছাত্রের নাম বলতে বললে ঘিরল্যান্ডাইও ফ্রান্সেস্কো গ্রানাচ্চি এবং মাইকেলেঞ্জেলোকে সুপারিশ করেছিলেন।
১৪৯০ থেকে ১৪৯২ সাল পর্যন্ত তিনি মেডিসি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত প্লেটোনিক একাডেমিতে ছিলেন। তাঁর এই সময় পর্বের কাজগুলি সেই সময়ের বিখ্যাত সব দার্শনিক এবং লেখকদের দ্বারা অনেকাংশেই প্রভাবিত ছিল। এই সময়ে করা মাইকেলেঞ্জেলোর দুটি ভাস্কর্য হল: ‘ম্যাডোনা অব দ্য স্টেইয়ার্স’ এবং ‘ব্যাটল অব দ্য সেন্টোরস’। তিনি সেই সময়ে কিছু সময়ের জন্য ভাস্কর বার্টোল্ডো ডি জিওভানির সঙ্গেও কাজ করেছিলেন। যখন তাঁর সতেরো বছর বয়স তখন পিত্রো টোরিগিয়ানো তাঁকে নাকে আঘাত করেছিলেন, ফলে মাইকেলেঞ্জেলোর প্রতিকৃতিতে খানিক বিকৃতি লক্ষ করা যায়।
১৪৯২ সালে মেডিসির মৃত্যুর পর তাঁর একাডেমি থেকে আর্থিক নিরাপত্তা ত্যাগ করে মাইকেলেঞ্জেলো পিতার বাড়িতে ফিরে আসেন। কয়েকমাস পর তিনি একটি কাঠের ক্রুশিফিক্স তৈরি করেন এবং সান্তা মারিয়া দেল সান্তো স্পিরিটো চার্চকে তা উপহার হিসেবে প্রদান করেন। চার্চের হাসপাতালে পাওয়া কিছু মৃতদেহের শারীরস্থান অধ্যয়নের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। ১৪৯৩ এবং ১৪৯৪ সালের মধ্যে তিনি মার্বেলের একটি ব্লক কিনেছিলেন এবং হারকিউলিসের একটি লার্জার দ্যান লাইফ ভাস্কর্য তৈরি করেছিলেন। এটি ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছিল। ১৪৯৪ সালের ২০ জানুয়ারি প্রচন্ড তুষারপাতের পরে লরেঞ্জোর উত্তরাধিকারী পিয়েরো ডি মেডিসি তুষার দিয়ে একটি মূর্তি নির্মাণের কমিশন দেন মাইকেলেঞ্জেলোকে এবং তিনি পুনরায় মেডিসির দরবারে প্রবেশ করেন। সেই বছরেই স্যাভোনারোলার উত্থানের ফলে মেডিসিদের ফ্লোরেন্স থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। রাজনৈতিক উত্থান শেষ হওয়ার আগেই মাইকেলেঞ্জেলো শহর ছেড়ে চলে যান। প্রথমে তিনি যান ভেনিসে এবং সেখান থেকে চলে যান বোলোগনায়। সেখানে তাঁকে সেন্ট ডমিনিকের মন্দির এবং সমাধিতে কিছু ছোট ছোট মূর্তি খোদাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই সময়ে মাইকেলেঞ্জেলো সেন্ট পেট্রোনিয়াসের ব্যাসিলিকার প্রধান পোর্টালের চারপাশে জ্যাকোপো দেলা কুয়েরসিয়া দ্বারা খোদাই করা মজবুত রিলিফগুলি অধ্যয়ন করেন, যার মধ্যে দ্য ক্রিয়েশন অফ ইভের প্যানেলও ছিল।
১৪৯৪ সাল শেষ হওয়ার আগে, চার্লস অষ্টম যখন পরাজয়ের সম্মুখীন হচ্ছিল এবং ফ্লোরেন্স স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল তখন তিনি ফ্লোরেন্সে ফিরে যান। অবশ্য ফ্লোরেন্সে ফিরে এলেও স্যাভোনারোলার নতুন সরকারের কাছ থেকে কোন কাজের কমিশন তিনি পাননি। এসময় মেডিসির চাকরিতে ফিরে আসেন তিনি। এই সময়ে ফ্লোরেন্সে কাটানো অর্ধেক বছর তিনি একটি শিশু সেন্ট জন ব্যাপটিস্ট এবং একটি ঘুমন্ত কিউপিডের ওপর কাজ করেছিলেন।
১৪৯৬ সালের ২৫ জুন ২১ বছর বয়সে মাইকেলেঞ্জেলো চলে আসেন রোমে। ৪ জুলাই কার্ডিনাল রিয়ারিওর জন্য একটি কমিশনে কাজ শুরু করেন এবং রোমান ওয়াইন দেবতা বাচ্চাসের একটি লার্জার দ্যান লাইফ মূর্তি নির্মাণ করেন। সমাপ্তির পর অবশ্য কাজটি কার্ডিনাল প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ১৪৯৭ সালে হলি সী-তে ফরাসি রাষ্ট্রদূত কার্ডিনাল জিন দে বিলহেরেস-লাগ্রাউলাস মাইকেলেঞ্জেলোকে পিয়েটা খোদাইয়ের নির্দেশ দেন, যেখানে মৃত যীশুর জন্য শোকাহত ভার্জিন মেরীকে তুলে ধরা হবে। এই কাজের চুক্তি যখন স্বাক্ষরিত হয় তখন মাইকেলেঞ্জেলোর বয়স ২৪ বছর। এই পিয়েটা ভাস্কর্যটিই বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত একটি ভাস্কর্য হয়ে উঠেছিল পরবর্তীকালে।
১৪৯৯ সালে মাইকেলেঞ্জেলো ফ্লোরেন্সে ফিরে আসেন। এই সময় ফ্লোরেন্সে পিয়েরো সোদেরিনির উত্থান হয়। গিল্ড অফ উলের কনসালরা মাইকেলেঞ্জেলোকে ৪০ বছর আগে অ্যাগোস্টিনো ডি ডুসিও দ্বারা শুরু করা একটি অসমাপ্ত প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে বলেছিলেন। এরপরেই ক্যারারা মার্বেল দিয়ে মাইকেলেঞ্জেলো ‘ডেভিড’ নামক ভাস্কর্যটি ১৫০৪ সালে সম্পন্ন করে চতুর্দিকে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। কোথায় এই ডেভিড নামক ভাস্কর্যটিকে স্থাপন করা হবে তার জন্য মহান সব শিল্পীদের নিয়ে তৈরি একটি কমিটিও নিযুক্ত করা হয়েছিল। ডেভিডের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কমিশন এসেছিল তাঁর কাছে।
লিওনার্দো দা ভিঞ্চিকে ১৪৪০ সালে ফ্লোরেন্স এবং মিলানের মধ্যে যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরে পালাজো ভেচিওর কাউন্সিল চেম্বারে আঙ্গিয়ারির যুদ্ধের ছবি আঁকার জন্য কমিশন দেওয়া হয়েছিল এবং মাইকেলেঞ্জেলোকে দেওয়া হয়েছিল ‘ব্যাটল অব ক্যাসিনা’ আঁকার কমিশন। তাঁদের দুজনের ছবিতে ছিল বিপুল পার্থক্য। দুটি ছবির কোনটিই সম্পূর্ণ হয়নি এবং চেম্বারের সংস্কারের সময় এই ছবিদুটি চিরতরে হারিয়ে যায়।
অ্যাঞ্জেলো ডনি তাঁর স্ত্রী ম্যাডালেনা স্ট্রোজির জন্য উপহার হিসাবে একটি পবিত্র পরিবারের চিত্র আঁকার কমিশন দিয়েছিলেন মাইকেলেঞ্জেলোকে। সেই ছবিই ‘ডোনি টোন্ডো’ নামে পরিচিত। উপিজি গ্যালারিতে যে চমৎকার ফ্রেমের মধ্যে আসল ছবিটি ঝুলছে, সেই ফ্রেমটিও মাইকেলেঞ্জেলোরই ডিজাইন করা।
১৫০৫ সালে পোপ জুলিয়াস দ্বিতীয় মাইকেলেঞ্জেলোকে রোমে আমন্ত্রণ জানান এবং তাঁকে পোপের সমাধি নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সমাধির কাজটির জন্যই ‘ব্যাটেল অব ক্যাসিনা’ ছবিটি অসম্পূর্ণ রেখে শিল্পীকে রোমে চলে যেতে হয়েছিল। দ্বিতীয় জুলিয়াসের সঙ্গেও তর্কেও জড়িয়ে পড়েন মাইকেলেঞ্জেলো। ১৫০৬ সালের ১৭ এপ্রিল ফ্লোরেন্সের আসার জন্য গোপনে রোম ত্যাগ করেন তিনি। যদিও পরে রোমে পোপের কাছে ফেরার জন্য ফ্লোরেন্টাইন সরকার তাঁকে চাপ দেয়। ৪০ বছর ধরে সেই সমাধির কাজ করেন তিনি। সমাধির কেন্দ্রে অবস্থিত মূসার মূর্তিটি এই সমাধিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
১৫০৮ সাল থেকে ১৫১২ সাল পর্যন্ত, চার বছর ধরে সিস্টিন চ্যাপেলের সিলিং এঁকেছিলেন মাইকেলেঞ্জেলো। ৫০০ বর্গমিটারেরও বেশি সিলিং জুড়ে প্রসারিত এই ঐতিহাসিক কাজটিতে ৩০০টিরও বেশি চিত্র রয়েছে। সিলিং-এ আঁকা সবচেয়ে বিখ্যাত চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ‘দ্য ক্রিয়েশন অফ অ্যাডাম’, ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ ইন দ্য গার্ডেন অফ ইডেন’, ‘দ্য কুমেয়ান সিবিল’, ‘দ্য প্রফেট জেরেমিয়া’ ইত্যাদি।
পোপ জুলিয়াস দ্বিতীয়ের মৃত্যু হলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন পোপ লিও। প্রথমদিকে জুলিয়াসের আত্মীয়দের সঙ্গে লিওর ভাল সম্পর্ক ছিল বলে মাইকেলেঞ্জেলোর জুলিয়াসের সমাধি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়াতে আপত্তি করেননি তিনি, কিন্তু পরবর্তীতে সম্পর্ক তিক্ত হলে পোপ লিও মাইকেলেঞ্জেলোকে সমাধির কাজ বন্ধ করে দিতে বলেন এবং তাঁকে ফ্লোরেন্সের সান লরেঞ্জোর ব্যাসিলিকার সম্মুখভাগ পুনর্নির্মাণ এবং ভাস্কর্য দিয়ে সাজানোর দায়িত্ব দেন। মাইকেলেঞ্জেলো সম্মুখভাগের জন্য অঙ্কন এবং মডেল তৈরি করতে তিন বছর কাটিয়েছেন। কাজটি অবশ্য পৃষ্ঠপোষকদের দ্বারা ১৫২০ সালে বাতিল করে দেওয়া হয়।
১৫২০ থেকে ১৫৩০-এর মধ্যে মাইকেলেঞ্জেলো মেডিসি চ্যাপেল নির্মাণের জন্য সময় ব্যয় করেছিলেন।
১৫২৪ সালে মাইকেলেঞ্জেলো সান লরেঞ্জো চার্চে লরেন্টিয়ান লাইব্রেরির জন্য মেডিসি পোপের কাছ থেকে একটি কমিশন পান। সেই লাইব্রেরির অভ্যন্তরীণ এবং প্রবেশকক্ষের ডিজাইনের দায়িত্ব ছিল তাঁর হাতেই৷ তিনি যে একজন দক্ষ স্থপতিও ছিলেন এই কাজটি তার প্রমাণ।
১৫২৭ সালে মেডিসিদের ক্ষমতাচ্যুত করে প্রজাতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হলেও পুনরায় ১৫৩০ সালে তারা ক্ষমতায় ফিরে আসে। শোনা যায় পোপ ক্লিমেন্ট নাকি মাইকেলেঞ্জেলোকে মৃত্যুদন্ড দেন। তখন নাকি তিনি সান লরেঞ্জোর ব্যাসিলিকার মেডিসি চ্যাপেলের নীচে একটি ছোট চেম্বারে দুই মাস লুকিয়েছিলেন। সেখানে কাঠকয়লা এবং চক দিয়ে কিছু ছবি এঁকেছিলেন। যাই হোক, পরবর্তীতে মেডিসিরা মাইকেলেঞ্জেলোর মৃত্যুদন্ড রদ করে দেয়, যাতে তিনি সিস্টিন চ্যাপেল এবং মেডিসি পরিবারের সমাধির কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেন। ১৫৩৪ সালে ফ্লোরেন্স ত্যাগ করে তিনি রোমে চলে যান। সেখানে সান্তা মারিয়া ডি লরেটোর গির্জার কাছে থাকতেন। ১৫৩৪ সালে পোপ ক্লিমেন্ট মাইকেলেঞ্জেলোকে সিস্টিন চ্যাপেলের বেদীর দেওয়ালে ‘দ্য লাস্ট জাজমেন্ট’-এর একটি ফ্রেস্কো আঁকার দায়িত্ব দিয়েছিলেন৷ ১৫৩৪ থেকে ১৫৪১ সাল পর্যন্ত এই কাজটি করেছিলেন তিনি। এই সময় কিছু স্থাপত্যেরও কাজ করেছিলেন তিনি, যেমন, সান জিওভান্নি দে ফিওরেন্টিনি, ব্যাসিলিকা ডি সান্তা মারিয়া ম্যাগিওরে স্ফোরজা চ্যাপেল ইত্যাদি।
লাস্ট জাজমেন্টের কাজের সময় কমিশন পেয়ে আরও দুটি বিখ্যাত কাজ করেন তিনি, সেদুটি হল, ‘কনভারসন অব সেন্ট পল’ এবং ‘ক্রুসিফিক্সন অব সেন্ট পিটার’। ১৫৪৬ সালে রোমের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার স্থপতি নিযুক্ত হন তিনি। মাইকেলেঞ্জেলোর করা সেই ব্যাসিলিকার গম্বুজের একটি নকশা ভ্যাটিকান আর্কাইভে আবিষ্কৃত হয়েছিল।
মাইকেলেঞ্জেলো একজন দক্ষ কবিও ছিলেন। তিনি তিন শতাধিক সনেট ও মাদ্রিগাল রচনা করেছিলেন।
১৫৬৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ৮৮ বছর বয়সে রোমে ইতালীয় রেনেসাঁসের এই মহান কিংবদন্তি শিল্পী মাইকেলেঞ্জেলোর মৃত্যু হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান