ভূগোল

পাকিস্তান

পাকিস্তান পাকিস্তান (Pakistan) দেশটির নামটি এসেছে (অবিভক্ত) ভারতের উত্তর পশ্চিমাংশের চারটি অঞ্চলের নাম থেকে যথাক্রমে
প - পাঞ্জাব (পঞ্জাব), আ - আফগানিয়া (উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, বর্তমানে খাইবার পাখতুনখোয়া), ক - কাশ্মীর, স- সিন্ধ (সিন্ধু), তান- বালোচিস্তান (বেলুচিস্তান)। ১৯৩৩ সালে চৌধুরী রহমত আলী তাঁর "নাও অর নেভার" (Now or Never) গ্রন্থে এই নামটির জন্য প্রস্তাব রাখেন।

এশিয়া মহাদেশের একটি অন্যতম দেশ হল পাকিস্তান। উর্দু ভাষায়, "পাকিস্তান" নামটির অর্থ "পবিত্রদের দেশ", ' পাক' শব্দের অর্থ হল পবিত্র। এই দেশের উত্তর পূর্বে তিব্বত, পূর্ব দিকে ভারতবর্ষ, পশ্চিমে আফগানিস্তান ও ইরান এবং দক্ষিণে আরব সাগর ঘিরে রয়েছে সমগ্র দেশটিকে। এই দেশটি দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত৷

পাকিস্তানের রাজধানী হল ইসলামাবাদ । জনসংখ্যার বিচারে এই শহর পাকিস্তানে নবম স্থান অধিকার করে। শহরটি পাকিস্তানের উত্তর পূর্ব দিকে রাওয়ালপিন্ডি এবং মার্গাল্লা হিলস ন্যাশনল পার্কের মাঝামাঝি অবস্থান করছে৷ পূর্বে করাচি ছিল পাকিস্তানের রাজধানী, ১৯৬০ সালে তা ইসলামাবাদে স্থানান্তরিত হয়। ইসলামাবাদে অবস্থিত ফায়সাল মসজিদ দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মসজিদ। পাকিস্তান ম্যাপ

আয়তনের বিচারে পাকিস্থান বিশ্বের ৩৬ তম বৃহত্তম দেশ। ২০১৭সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জনসংখ্যার বিচারে পাকিস্তান বিশ্বে ৫ম জনবহুল দেশ।

পাকিস্থানী মুদ্রার নাম রুপি।এখানে ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষই অধিক পরিমানে বসবাস করে থাকেন ।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হল উর্দু এবং ইংরাজী। তবে জাতীয় ভাষা হিসেবে উর্দু ভাষা স্বীকৃত। এই ভাষায় অসংখ্য সাহিত্য লেখা হয়েছে। এছাড়া এই দেশে পাঞ্জাবি, সিন্ধি,পাশতু, বেলুচি ভাষা প্রচলিত।

অর্ধ-রাষ্ট্রপতিশাসিত যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার কাঠামো।

পাকিস্থানের ভ্রমণ তালিকায় আছে বেশ কিছু লেক মনুমেন্ট মিউজিয়াম এবং সুসজ্জিত পার্ক। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কিনঝার লেক, যেটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় বিশালতম ও স্বচ্ছ জলের লেক। এছাড়া আছে ফায়সাম মসজিদ, পাকিস্থান মনুমেন্ট ও ঐতিহাসিক যাদুঘর, মার্গালা পর্বতশ্রেণী, রাওয়াল লেক,খানপুর দাম, রাওয়াল ফোর্ট ইত্যাদি।

পাকিস্তানী খাবার সুগন্ধি এবং মশলার স্বাদের জন্য বিখ্যাত। কিছু খাবারে যথেষ্ট পরিমান তেল ব্যবহারের কারণে স্বাদে এবং গন্ধে আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু। বিভিন্ন মশলা যেমন জিরা, লবঙ্গ, দারচিনি, গোলমরিচ, তেজপাতা, মরিচ গুঁড়ো, হলুদ ইত্যাদির ব্যবহার খাদ্যে পাওয়া যায়।

পাকিস্তানের সংগীত চর্চা কম বেশী চর্চার বিষয়। পাকিস্তানি গজল অতি শ্রুতি মধুর। এছাড়া পাকিস্তানি সাহিত্যিকদের মধ্যে বিখ্যাত কিছু ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করা যায়, সাদাত হোসেন মন্টো, বাপসি সিদ্ধা, খুশওয়ান্ত সিং প্রমুখ।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top
error: Content is protected !!