হস্তিনাপুরে পাণ্ডবরা আসবার পর কৌরবদের সাথে একইসাথে বসবাস করতে শুরু করল। কিন্তু মনে মনে পাণ্ডবদের প্রতি একটা হিংসা শুরু থেকেই দুর্যোধনের মনে ছিল। সবচেয়ে বেশি হিংসা ছিল মধ্যম পাণ্ডব ভীমের প্রতি। আর সেই হিংসা এমন পর্যায়ে যায়, যে তা ভীমের ওপর দুর্যোধনের বিষপ্রয়োগ অবধি চলে আসে।
রাজ্যের উত্তরাধিকারের দিক থেকে পাণ্ডবদের বড়ভাই যে যুধিষ্ঠিরই ভবিষ্যতের রাজা, সেটা দুর্যোধন অনুভব করতে পারত। আর তাই জন্যই পাণ্ডবদের জন্য তার মনে ছিল অতুলনীয় হিংসা আর ঈর্ষা। এই ঈর্ষার পাশাপাশি যোগ হল ভীমের খেলা। পাণ্ডব এবং কৌরব ভাইয়েরা যখন একসাথে খেলতে আসতে থাকল, তখন সবচেয়ে বলশালী ভীম খেলাচ্ছলে তাদের বেশ নির্যাতন করতে লাগল। যদিও ইচ্ছাকৃতভাবে ভীম একদমই তা করে না। সরল প্রকৃতির ভীমের শক্তি সবচেয়ে বেশি হওয়ায় খেলার আসরে যে প্রতিদ্বন্ধিতা হত, সেখানে কৌরবভাইয়েরা বেশ নির্যাতিতই হতে লাগল ভীমের হাতে। হয়ত দেখা গেল, হঠাৎ করে ঝড়ের গতিতে দৌড়ে এসে কয়েকটা কৌরবভাইকে তুলে নিয়ে লুকিয়ে পড়ল সে, অথবা জলের মধ্যে কৌরবভাইদের বেশ কিছুক্ষণ মাথা ডুবিয়ে রেখে দিল, অথবা কৌরবভাইরা হয়ত গাছে উঠেছে, তো ভীম গাছে এমন ঝাকুনি দিল যে তারা সবাই নীচে পড়তে থাকল। এভাবে যখন চলতে থাকল, দুর্যোধনের মনে ভীমের প্রতি রাগ এতটাই বেড়ে গেল যে সে ভীমকে খুন করবার পরিকল্পনা করল। তার ধারণা, যদি পাণ্ডবদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভীমকে একবার সরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে অন্য পাণ্ডবেরা তার কিছু করতে পারবেনা।
সেইমত দুর্যোধন সমস্ত পরিকল্পনা করল। জলবিহার করার জন্য গঙ্গার ধার ঘেঁষে যে জায়গাটা স্থির করা হল, তার নাম প্রমাণকোটি। সেখানে পাণ্ডব আর কৌরব ভাইয়েরা এল। খাওয়া-দাওয়া চলতে থাকল। এরই মধ্যে দুর্যোধন খাবারে বিষ মিশিয়ে এনে সেই খাবার দিল ভীমকে। সরল ভীম সেই খাবার খেয়ে নিল। তারপরে দুর্যোধন সকলকে জলক্রীড়ায় আমন্ত্রণ জানাল। সাঁতার, জল ছোঁড়াছুড়ি অনেক হল। কিন্তু ভীমের শরীরে ততক্ষণে বিষক্রিয়া চালু হয়ে গেছে। জল থেকে উঠে সকলে যখন বিশ্রাম করতে গেল, তখন ভীম গঙ্গার ধারেই বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এলিয়ে পড়ল। দুর্যোধন রাতের অন্ধকারে ফিরে এসে তাকে লতাপাতায় বেঁধে জলে ফেলে দিল।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- “মহাভারত সারানুবাদ”, দেবালয় লাইব্রেরী(প্রকাশক সৌরভ দে, তৃতীয় প্রকাশ) – রাজশেখর বসু, আদিপর্ব (২১। ভীমের নাগলোক দর্শন) পৃষ্ঠাঃ ৪৭-৪৯
- “কৃষ্ণা, কুন্তী ও কৌন্তেয়”, আনন্দ পাবলিশার্স, নবম মুদ্রণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, অধ্যায়ঃ ভীম, পৃষ্ঠাঃ ১৬৬-১৭২
- http://www.sushmajee.com/mahaabhaarat/bhim-and-poison


আপনার মতামত জানান