ইতিহাস

টলেমি

টলেমি

জ্যোতির্বিজ্ঞানের জগতে যে সমস্ত মানুষের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মিশরীয় জ্যোতির্বিদ টলেমি (Ptolemy)। তবে কেবলমাত্র জ্যোতির্বিদ হিসেবেই নয়, গণিতবিদ, সঙ্গীততত্ত্ববিদ এবং একজন ভৌগোলিক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়ে থাকে তাঁর নাম। মহাবিশ্বের ভূ-কেন্দ্রিক মডেল উপস্থাপন তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব। পরবর্তী জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তিনি শিখিয়ে গিয়েছিলেন যে, মহাজাগতিক মডেলগুলিকে সংশোধন করতে রেকর্ডকৃত তারিখের সঙ্গে পরিমাণগত পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করতে হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমস্যায় গাণিতিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিলেন তিনি৷ গ্রেকো-রোমান বিশ্বের ভৌগোলিক জ্ঞানের উপর পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করেছিলেন টলেমি। এপিসাইকেল এবং ইকুয়েন্টস নামে পরিচিত জ্যামিতিক নির্মাণের ব্যাপক ব্যবহার করে টলেমি গ্রহের গতির একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করেছিলেন। গ্রহের অবস্থানের ভবিষ্যদ্বাণী বিষয়ে এই মডেলটি ভীষণভাবে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। গ্রহতত্ত্ব নিয়ে বেশ কিছু গ্রন্থও রচনা করেছিলেন টলেমি। ঋতুর দৈর্ঘ্যও নির্ধারণ করেছিলেন তিনি অয়নকাল এনং বিষুব সম্পর্কে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। এমনই দক্ষ ভৌগোলিক ছিলেন তিনি যে তাঁর তৈরি এশিয়া ও আফ্রিকার মানচিত্রগুলি ক্রিস্টোফার কলম্বাসকেও অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনিই বিশ্বের প্রথম মানচিত্র নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়াও সঙ্গীততত্ত্বের নানা দিক নিয়েও আলোচনা করেছেন টলেমি তাঁর লেখায়। তাঁর অন্যতম বিখ্যাত একটি কাজ হল তেরো খণ্ডে সম্পূর্ণ ‘দ্য আলমাজেস্ট’।

অনেক পণ্ডিতের মতে আনুমানিক ১০০ খ্রিস্টাব্দে রোমান শাসনের অধীনস্থ মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমির জন্ম হয়। অবশ্য ১৩৬০ সালে থিওডোর মেলিটিনিওটস দাবি করেছিলেন যে, টলেমাইস হারমিউতে টলেমির জন্ম হয়েছিল। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ক্লডিয়াস টলেমি (Claudius Ptolemy)। অবশ্যই এই নাম গ্রিক-মিশরীয় ‘টলেমি’ এবং রোমান ‘ক্লডিয়াস’-এর মিশ্রণ। এ থেকে পণ্ডিতদের অনুমান মিশরে বসবাসকারী এক গ্রিক পরিবারের সদস্য এবং রোমের নাগরিক ছিলেন টলেমি। টলেমির পরিচয় নিয়েও পণ্ডিত ও গবেষকদের নানা মত রয়েছে। আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের সময় ম্যাসিডোনিয়ান উচ্চশ্রেণির মধ্যে এমন নাম প্রায়ই লক্ষ্য করা যেত। আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনীর মধ্যেও এই নামে কয়েকজন ছিল। তাঁদের মধ্যে টলেমি আই সোটার নামে একজন পরবর্তীকালে টলেমাইক রাজ্যের প্রথম ফ্যারাও হয়েছিলেন। মিশর রোমান প্রদেশে পরিণত হওয়ার আগে পর্যন্ত কয়েকটি ব্যাতিক্রম ছাড়া সকল ফ্যারাওয়ের নাম রাখা হয়েছিল টলেমাইস৷ আবার নবম শতাব্দীর জ্যোতির্বিজ্ঞানী আবু মাশার টলেমিকে টলেমাইক মিশরের রাজকীয় বংশের সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, পণ্ডিতদের মতে, সেই অনুমান ছিল খুবই ভ্রান্ত। টলেমি প্রাচীন গ্রিক ভাষায় লিখেছিলেন এবং ব্যাবিলনীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য ব্যবহার করেছিলেন বলেই গবেষকদের মত। একজন রোমান নাগরিক হলেও তিনি নৃতাত্ত্বিকভাবে সম্ভবত একজন গ্রিক অথবা হেলেনাইজড মিশরীয় ছিলেন। জেরাল্ড টুমারের মতে, সম্ভবত সম্রাট ক্লডিয়াস বা সম্রাট নিরো টলেমির পুর্বপুরুষদের একজনকে রোমান নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

টলেমির জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক বিখ্যাত কাজটি হল ‘আলমাজেস্ট’। টলেমি প্রথমে তাঁর গ্রন্থের নাম রেখেছিলেন ‘ম্যাথেমেটিকাল সিসটেমেটিক ট্রিটাইস’। পরবর্তীকালে আরবি এবং গ্রিক শব্দের সংমিশ্রণ এই ‘আলমাজেস্ট’ নামটি ব্যবহার করেন তিনি। ‘আল’ হল আরবি শব্দ যার অর্থ হল ‘দ্য’ এবং ‘মাজিস্ট’ হল গ্রিক শব্দ যার অর্থ ‘গ্রেটেস্ট’। গ্রন্থটি আনুমানিক ১৫০ খ্রিস্টাব্দে সম্পন্ন হয়েছিল৷ এটি মোট ১৩টি বিভাগ নিয়ে গঠিত। ব্যাবিলনীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক কৌশল এবং গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জ্যামিতিক মডেলকে একত্র করার চেষ্টা করে হিপারকাস নামে এক বিজ্ঞানী নতুন এক জ্যামিতিক মডেল তৈরি করেছিলেন যা শুধুমাত্র গ্রহ ও নক্ষত্রের বিন্যাসের তথ্য সংগ্রহ নয় তাদের গতি গণনার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। হিপারকাসকে অনুসরণ করে এপিসাইকেল এবং ইকুয়েন্টস নামে পরিচিত জ্যামিতিক নির্মাণের ব্যাপক ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রহের গতিবিধির গাণিতিক মডেল নির্মাণ করেছিলেন টলেমি। এই মডেলগুলি টেবিলাকারে পাশাপাশি উপস্থাপন করেছিলেন তিনি যার সাহায্যে গ্রহের অতীত ও ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে যেমন জানা যায়, তেমনি পরবর্তীকালে কোন সময় গ্রহণ হবে, তাও জানা যেতে পারে আগে থেকেই৷ অ্যারিস্টটল দ্বারা বর্ণিত পৃথিবীকেন্দ্রিক ব্যবস্থার তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে টলেমি দেখিয়েছিলেন যে পৃথিবী আসলে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং সূর্য, চাঁদ, গ্রহরা তাকে ঘিরে আবর্তিত হয়। যদিও এ তাঁর এক ভ্রান্ত ধারণা। তাঁর আরও এক ভুল ছিল, যে তিনি বুধকে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ ভেবেছিলেন। অ্যারিস্টটলের সৃষ্টিতত্ত্ব, সূর্যের গতি, চাঁদের গতি, স্থির তারার গতি ইত্যাদির রূপরেখা পাওয়া যায় এই আলমাজেস্ট গ্রন্থটিতে৷ তারকাদের একটি তালিকাও তৈরি করেছিলেন, তাতে প্রায় ৪৮টি নক্ষত্রমণ্ডল ছিল যা তিনি পর্যবেক্ষণ করতে পারতেন। এছাড়াও অয়নকাল এবং বিষুবগুলির সময় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ঋতুর দৈর্ঘ্য নির্ণয়ের কাজও করেছিলেন তিনি সফলভাবে। এই তথ্য থেকে তিনি গ্রহগুলির চারপাশে সূর্যের গতি বর্ণনার চেষ্টা করেছিলেন। তবে অবশ্যই তিনি ভুল করেছিলেন কারণ সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে না। তবে মহাকাশে কী ঘটনা ঘটে সেসবের চার্টিং এবং পরিমাপ করার কাজটি হল মহাকাশের ঘটনা ব্যাখার প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা। এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘আলমাজেস্ট’ গ্রন্থটি সমগ্র ইউরোপ, মধ্য-প্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা জুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রামাণিক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হত।

জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত একটি টেবিলের সেট ‘দ্য হ্যান্ডি টেবিল’-এর উদ্ভাবক ছিলেন টলেমি। জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনার সুবিধার্থে, টলেমি সূর্য, চাঁদ ও গ্রহের অবস্থান, নক্ষত্রের উদয় ও অস্ত এবং সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের গণনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্যের সারণী করেছিলেন, এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং জ্যোতিষীদের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান হয়ে ওঠে৷ ‘দ্য প্ল্যানেটারি হাইপোথিসিস’ হল টলেমির শেষের দিককার একটি মহাজাগতিক কাজ। একটি ভূ-কেন্দ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহ এবং তাদের গতিবিধিকে চিত্রিত করার জন্য যন্ত্রগুলি কীভাবে তৈরি করা যায় সেই বর্ণনার কারণে কাজটি উল্লেখযোগ্য। টলেমির জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত অন্যান্য কাজগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল ‘অ্যানালেমা’, ‘ফেইসিস’, ‘প্ল্যানিসফেরিয়াম’ ইত্যাদি। ফেইসিসে একটি তারকা ক্যালেন্ডার বা ‘প্যারাপেগমা’ (Parapegma) দিয়েছিলেন তিনি যা সৌরবছরের সময়কালে নক্ষত্রের উপস্থিতি এবং অদৃশ্য হওয়ার উপর ভিত্তি করে নির্মিত। ১৪৬-১৪৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে টলেমি ক্যানোপাসের একটি মন্দিরে গক শিলালিপিও তৈরি করেছিলেন যা ‘ক্যানোবিক শিলালিপি’ নামে পরিচিত। যদিও মূল শিলালিপিটির অস্তিত্ব নেই এখন।

দ্বিতীয়ত টলেমি একজন বিখ্যাত ভৌগোলিক হিসেবে পরিচিত বিশ্বের কাছে। তাঁর সুপরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ হল ‘জিওগ্রাফিক হাইফেজেসিস’। এই বইটিতে মূলত তিনি লিখেছেন রোমান জগতের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা ব্যবহার করে কীভাবে মানচিত্র নির্মাণ করা সম্ভব। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ভৌগোলিক মারিনাসের এবং রোমান ও প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যের গেজেটিয়ারগুলির উপর নির্ভর করেছিলেন। বইটির শুরুতে তথ্য এবং তিনি যে পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করেছিলেন তার আলোচনা আছে৷ দ্বিতীয় অংশে মারিনাস ও অন্যান্যদের থেকে সংগ্রহ করা ৮ হাজার এলাকার একটি তালিকা প্রদান করেন যা প্রাচীনকালের সবচেয়ে বড় ডেটাবেস বলা যায়। এই স্থানগুলির মধ্যে ৬,৩০০টি স্থান এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলির অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানাঙ্ক প্রদান করেছিলেন তিনি। বইয়ের তৃতীয় অংশে রয়েছে কীভাবে সমগ্র জনবসতিপূর্ণ বিশ্ব এবং রোমান প্রদেশ উভয়ের মানচিত্র নির্মাণ তৈরি করতে হয়, প্রয়োজনীয় টপোগ্রাফিক তালিকা ও মানচিত্রের ক্যাপশনসহ তার নির্দেশনা দিয়েছেন টলেমি এই পর্বে। ক্রিস্টোফার কলম্বাস তাঁর তৈরি ম্যাপ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।

মোট চারটি অংশে টলেমি একটি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যেটি ‘ট্রেটাবিবলস’ নামে পরিচিত৷ এর মূল শিরোনাম অজানা। প্রায় এক হাজার বছর ধরে এই গ্রন্থটি জ্যোতিষশাস্ত্রের লেখকদের কাছে বাইবেলের মতো মূল্যবান অপরিহার্য সম্পদ হয়ে রয়েছে। এটি আরবি থেকে লাতিন ভাষায় অনুবাদ করেন টিভোলির প্লেটো। এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু অধিকাংশটাই পূর্বতন নানা উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। টলেমির কৃতিত্ব ছিল, তিনি সেগুলিকে একটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সুসংবদ্ধ করেছিলেন। গ্রন্থটিকে ‘মধ্যযুগীয় ইসলামিক জ্যোতিষশাস্ত্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী উৎস’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। টলেমি নামের সংখ্যাতাত্ত্বিক বিবেচনা করার তাৎপর্য ইত্যাদিতে বিশ্বাস করতেন না। সেই কারণে নির্বাচনী জ্যোতিষশাস্ত্র এবং চিকিৎসা জ্যোতিষশাস্ত্রের মতো জনপ্রিয় বিষয়গুলিকে বাদ দেন তিনি। এছাড়াও ‘সেন্টিলোকিয়াম’ নামে জ্যোতিষশাস্ত্রের একশত অ্যাফোরিজিমের (Aphorism) একটি সংকলনকেও টলেমির অবদান বলেই মনে করেন অনেকে।

সঙ্গীতের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল টলেমির। তিনি সঙ্গীততত্ত্ব এবং সঙ্গীতের গণিত বিষয়ে রচনা করেছিলেন ‘হারমোনিক্স’ নামে এক অভিনব গ্রন্থ। গাণিতিক অনুপাতের ওপর সাঙ্গীতিক ব্যবধানের ভিত্তির পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন তিনি। কীভাবে বাদ্যযন্ত্রের নোটগুলিকে গাণিতিক সমীকরণে অনুবাদ করা যায় এই গ্রন্থে তার হদিশ দিয়েছেন টলেমি। এটিকে ‘পিথাগোরিয়ান টিউনিং’ বলা হয় কারণ এটি পিথাগোরাস প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন। পিথাগোরাস বিশ্বাস করতেন যে সঙ্গীতের গণিত ৩:২-এর নির্দিষ্ট অনুপাতের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত যেখানে টলেমি কেবলমাত্র বিশ্বাস করতেন যে এটিতে সাধারণত টেট্রাকর্ড এবং অক্টেভগুলি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তিনি টেট্রাকর্ড এবং অক্টেভের নিজস্ব বিভাজন উপস্থাপন করেছিলেন যা একটি মনোকর্ডের সাহায্যে আহরণ করেন তিনি।

টলেমির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল ‘অপটিক্স’। কাজটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত। এই গ্রন্থে টলেমি প্রতিফলন, প্রতিসরণ, দৃষ্টিশক্তির বৈশিষ্ট্য ছাড়াও আলো, আকার, রঙ, বাইনোকুলার ভিশন সম্পর্কিত অনেক ঘটনার ব্যাখা প্রদান করেছেন। বিভ্রমকে তিনি অপটিক্যাল ফ্যাক্টর দ্বারা সৃষ্ট বিভ্রম এবং বিচারজনিত কারণ দ্বারা সৃষ্ট বিভ্রম এই দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন। সমতল, উত্তল, অবতল এবং যৌগিক আয়নায় প্রতিফলনকেও বিশ্লেষণ করেছেন তিনি এই গ্রন্থটিতে। টলেমির দৃষ্টিতত্ত্বের মধ্যে রয়েছে চোখ থেকে আসা রশ্মি যা একটি শঙ্কু তৈরি করে। শীর্ষবিন্দুটি থাকে চোখের মধ্যে এবং ভিত্তিভূমিটি দৃশ্যজগতকে ফুটিয়ে তোলে।

এছাড়াও টলেমি জ্ঞানতত্ত্ব এবং মনস্তাত্ত্বিক আলোচনার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তিনি ‘অন দ্য ক্রাইটেরিয়ন অ্যান্ড হেজেমোনিকন’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন। মানুষ কীভাবে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করে, সেই সঙ্গে আত্মার প্রকৃতি, গঠন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তিনি এই লেখায়। টলেমির মতে, সত্যে পৌঁছানোর জন্য, যুক্তি এবং ইন্দ্রিয় উপলব্ধি উভয়ই এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত যা একে অপরের পরিপূরক। টলেমি গণিতকে ধর্মতত্ত্ব বা অধিবিদ্যার চেয়ে উচ্চতর বলে বিশ্বাস করতেন কারণ অধিবিদ্যার জগত অনুমান-নির্ভর জগত। এই দৃষ্টিভঙ্গি প্লেটোনিক এবং অ্যারিস্টটলীয় ঐতিহ্যের বিপরীত।

পণ্ডিতেরা অনুমান করেন যে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াতেই আনুমানিক ১৬৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ টলেমির মৃত্যু হয়।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন