বিজ্ঞান

কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন

অনেক সময় আমরা শুনে থাকি কোন রোগের ক্ষেত্রে রোগীকে কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে থাকতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য এই দুটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। ২০২০ সালের শুরুতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সময় যারা বিদেশ থেকে ভারতে আসছিল, তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশন কি সেটা জেনে নেওয়া যাক।

যখন কোন রোগ, বিশেষ করে যদি সেই রোগ ছোঁয়াচে হয়, তা ছড়িয়ে পড়া রোধ করার উদ্দেশ্যে কোন মানুষকে আলাদা রাখা হয়, তাকে বলে কোয়ারেন্টাইন। আর যদি কোন ব্যক্তি কোন ছোঁয়াচে রোগের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে সেই অসুস্থ ব্যক্তির থেকে বাকিদের যাতে রোগ না ছড়ায় তাই তাকে আলাদা করে রাখার পদ্ধতিকে বলা হয় আইসোলেশন। দুক্ষেত্রেই কিন্তু কোন একটি ব্যক্তিকে বাকিদের থেকে আলাদা করে রাখা হচ্ছে। পার্থক্যটা হচ্ছে কাউকে আইসোলেশন তখনই করা হয়, যখন সেই ব্যক্তি কোন ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত এবং সেই ব্যক্তির থেকে অন্যদের রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। অন্যদিকে কোয়ারেন্টাইনের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় সে কিন্তু রোগে আক্রান্ত হতেও পারে আবার নাও পারে। যদি সন্দেহ করা হয় যে সেই ব্যক্তি আক্রান্ত কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছে, তাহলে তাকে কোয়ারেন্টাইনের পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে সেই রোগ আর বাকিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। একইসাথে এটাও জানা যায় যে সেই ব্যক্তিকে আদৌ সেই রোগে ধরেছে কিনা। আইসোলেশনের ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে সারাক্ষণ থাকতে হয়। হাসপাতালে অন্য রোগীদের কথা ভেবেই সেখানে আলাদা জায়গা তৈরি করে এই বিশেষ রোগীদের সেখানে রাখা হয়। অপরপক্ষে কোয়ারেন্টাইন হাসপাতালে আয়োজন করা হয় না। কোন এক ব্যক্তির দেহে আদৌ সেই বিশেষ ছোঁয়াচে রোগটি ঢুকেছে কিনা সেটা জানতেই সেই ব্যক্তি বা তাদের জন্য সরকারিভাবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানিয়ে তাদের সেখানে রাখা হয়। আবার বাড়িতেও কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা যায়, যাকে বলে হোম কোয়ারেন্টাইন। এক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তি নিজের বাড়িতেই কোয়রান্টাইনের সব নিয়ম মেনে বাইরের লোকজনের সাথে মেলামেশা বন্ধ করে আলাদা থাকতে শুরু করে। কিন্তু হোম আইসোলেশন বলে কিছু হয় না।

কোয়রান্টাইনের উদাহরণ বাংলা সাহিত্য ঘাঁটলেই পাওয়া যায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর প্রচুর উদাহরণ আছে। ২০২০ সালে যখন বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের দাপট শুরু হয়, তখন করোনার সাথে তিনটি শব্দও বেশ শোনা গেছে। আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন ও হোম কোয়ারেন্টাইন। বিদেশ থেকে ফিরলে ভারতে ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সরকারীভাবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারও খোলা হয়েছে। আর যদি করোনা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত এটা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে আইসোলেশানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।