ধর্ম

শিবপুরের রায়চৌধুরী পরিবারের প্রাচীন কালীপূজা

১৬৮২ খ্ৰীস্টাব্দে শিবপুরের রায়চৌধুরী পরিবারের  কালীপূজা শুরু হয়। রাজা রামব্রম্ভ রায়চৌধুরী এই পুজো শুরু করেছিলেন। এরপর তার বংশধরেরা বংশ-পরম্পরায় এই পুজো করে আসছেন। বঙ্গে কালীপূজার ইতিহাস অনেক প্রাচীন। কিন্তু এক রাতে প্রতিমা গড়ে, সেই রাতেই রং করে, সাজিয়ে এবং পুজো করে, সূর্যোদয়ের আগেই বিসর্জন দেওয়ার রীতি বেশ বিরল। আরও অবাক লাগে যখন এই রীতি মানা হয় কোনও গার্হস্থ্য বাড়িতে। হোক না সে জমিদার বাড়ি। বঙ্গের অন্য কোনও প্রাচীন জমিদার বাড়িতে এই অদ্ভুত রীতি মেনে কালীপূজা হয় না। ১৬৮২ খ্ৰীস্টাব্দ থেকে শুরু করে আজ, এই বর্তমান সময়েও মা কালী এখানে একই নিয়ম ও রীতিতে পূজিত হয়ে আসছেন।

এই পুজোর নিয়ম হচ্ছে, যেদিন পূজা সেদিনই ঠাকুর তৈরী করা হয় (বর্তমানে ঐ একই দিনে ঠাকুর রং করা হয় ও সাজ পরানো হয়) এবং পূজা শেষে সূর্য ওঠার আগেই প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে দেওয়া হয়। রাতের বেলায় পাড়ার ও আসে পাশের মানুষ এই পূজাতে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু এই অংশগ্রহণের জন্য কোন অবস্থাতেই কোন অর্থ নেওয়া হয় না। রাতের বেলায় ভক্তদের খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। পুজাতে ছাগ বলিদান করা হয়ে থাকে। কোন মানতের বলিদান নেওয়া হয় না। শুধু মাত্র পূজা নেওয়া হয় এবং পূজা শেষে তা তাঁদের কে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। রায় চৌধুরী পরিবারের কেউই এইখান থেকে নিজের পূজার প্রসাদ ব্যতীত আর কিছুই নিয়ে যান না। মায়ের নৈবেদ্যতে থাকে খিচুড়ি তরকারি, সাদা ভাত, নানারকম ভাজা, পায়েস। মায়ের প্রতিমা ডাকের সাজে সাজানো হয়, যিনি ঠাকুর গড়েন তিনিই ঠাকুর সাজান। মায়ের সোনার জিভ থাকা সত্ত্বেও লাগানো হয় না, কারণ মাকে নিবেদন করা আহার্য্যবস্তুর স্বাদ যাতে মা প্রকৃতরূপে পান সেই জন্য। এই পরিবারে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা হয় না। কালী পূজার দিন অলক্ষ্মী বিদায় করে মা লক্ষ্মীকে আবাহন করা হয়, যা দীপান্বিতা লক্ষ্মীপূজা নামে খ্যাত। তিথি অনুসারে এই পূজা কালী পূজার একদিন আগে বা পরেও হয়ে থাকে। অনেক আগে দীপান্বিতা লক্ষ্মীপূজায় সাদা পাঁঠা বলি দেওয়ার প্রথা ছিল বলে কথিত আছে। বর্তমানে এই বলিদান প্রথার অবলুপ্তি ঘটেছে। মা দুর্গা ও মা কালীর মত একই রকম নিষ্ঠার সাথে এই পরিবার দীপান্বিতা লক্ষ্মীকে ও আরাধনা করে থাকেন।

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


তথ্যসূত্র


  1. কৃতজ্ঞতা স্বীকার : শ্রী শ্রী দূর্গা কালীমাতা দেবোত্তর এস্টেট। রায় চৌধুরী পরিবার। হাওড়া, শিবপুর- ৭১১১০২
  2. https://www.kolkata24x7.com/durga-puja-has-started-in-this-family-after-getting-divine-call/

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।