জীবন থেকে নেওয়া

এক জীবনে এত পড়াশোনা ? শ্রীকান্ত জিচকর

পয়সার গরম তো জীবনে অনেক দেখলেন। আরবপতি থেকে আম্বানি। বিল গেটস থেকে সারদা। দেখে দেখে চোখ একেবারে টাটিয়ে গেল। কিন্ত বিদ্যার এমন গরম দেখেছেন না শুনেছেন কখনও? সবটা শুনলে মাথা ঝিমঝিম করবে, হাত পা’ও অবশ হয়ে যেতে পারে বৈকি। এক জীবনে এত পড়াশোনা কোন রক্ত মাংসের মানুষ করতে পারে, না পড়লে বিশ্বাস হবে না। তাও আবার সেই ভদ্রলোক যদি মেড ইন ইন্ডিয়া হয়। মারাঠি এই ভদ্রলোকের নাম শ্রীকান্ত জিচকর (Shrikant Jichkar)।

পড়াশোনার কেরিয়ারটা একবার হাল্কা করে চোখ বুলিয়ে নিন শুধু , তাহলেই মালুম পড়বে ভদ্রলোক কি কাণ্ডটাই না করেছেন।

১. জীবন শুরু MBBS, M.D দিয়ে।
২. এরপর L.L.B করলেন। সাথে করলেন ইন্টারন্যাশানাল ল’-এর ওপর স্নাতকোত্তর।
৩.এরপর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এর ওপর ডিপ্লোমা,সাথে M.B.A ।
৪. এরপর জার্নালিজম নিয়ে স্নাতক।


প্রাকৃতিক খাঁটি মধু ঘরে বসেই পেতে চান?

ফুড হাউস মধু

তাহলে যোগাযোগ করুন – +91-99030 06475


 


এতদূর পড়ার পর আপনার যখন মনে হচ্ছে লোকটা পাগল নাকি,তখন আপনাকে বলতেই হচ্ছে এ তো সবে কলির সন্ধ্যেবেলা।এখনো গোটা রাত বাকি।

এই ভদ্রলোকের শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রীই আছে দশটা বিষয়ের ওপর! স্নাতকোত্তরের বিষয়ের তালিকাটা একবার দেখুন খালি-

১.পাবলিক আ্যডমিনিস্ট্রেশন

২.সোশিওলজি

৩.ইকোনমিক্স

৪.সংস্কৃত(ডি.লিট)

৫.হিস্ট্রী

৬.ইংলিশ

৭.ফিলোসফি

৮.পলিটিক্যাল সায়েন্স

৯.এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান হিস্ট্রী, কালচার,এন্ড আর্কেওলজি

১০.সাইকোলজি

ওপরের যতগুলো বিষয় দেখছেন সব ক’টিতেই জিচকর প্রথম শ্রেণীর সঙ্গে স্নাতকোত্তর, এবং ২৮টি স্বর্ণপদক বিজয়ী। সব মিলিয়ে ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রতি গ্রীষ্মে ও প্রতি শীতেই উনি কোনো না কোন স্নাতকোত্তরের বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে গেছেন।

মাথা ঝিমঝিম করছে তো!তা মাথার আর দোষ কি বলুন! তবে মাথা ঘুরে পড়ে যাবার আগে একবারটি শুধু শুনে যান। এতসব পড়তে পড়তে ওনার যখন একঘেয়েমি লাগছিল,ঠিক করলেন এবার একটু স্বাদ বদলানো যাক! তো স্বাদ বদলাতে আমি আপনি বেড়াতে যাই,আর উনি আই.পি.এস(IPS) পরীক্ষায় বসলেন আর পাশ করলেন। সেটা ১৯৭৮ সাল। কিন্তু পোষালো না চাকরীটা। চাকরীটা ছেড়ে দিয়ে বসলেন আই.এ.এস(IAS) পরীক্ষায়। ১৯৮০ তে আই.এ.এস(IAS) হলেন।

নটে গাছটা তাহলে মুড়োলো শেষ অবধি। আজ্ঞে না মুড়োয় নি এখনো। চারমাসের মধ্যে আই.এ.এস(IAS) এর চাকরীটাও ছেড়ে দিলেন মহারাষ্ট্রের বিধান সভা ভোটে লড়বেন বলে। ১৯৮০ তে জিচকর যখন বিধায়ক নির্বাচিত হলেন তখন ওনার বয়স সবে ২৫। উনি হলেন ভারতের সবচেয়ে কমবয়সী বিধায়ক। সবই হল যখন তখন মন্ত্রী হওয়াটাই বা আর বাকী থাকে কেন!সেটাও হলেন এবং একটা দুটো দপ্তরের নয়, একেবারে ১৪টা দপ্তরের।১৯৯২ সাল নাগাদ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হলেন শ্রীকান্ত জিচকর।

ওনার এই ‘সামান্য’ কয়েকটি গুণ ছাড়াও তিনি একজন

অসাধারণ চিত্রশিল্পী,

পেশাদার ফটোগ্রাফার,

মঞ্চাভিনেতা,

শখের বেতার চালক।

এছাড়া তিনি জ্যোতিষশাস্ত্রেও বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ও ইউনেস্কোতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।

ব্যক্তিগত সংগ্রহে ৫২০০০ বই রয়েছে ওনার। ‘লিমকা বুক অফ রেকর্ডস’ ওনাকে ‘ভারতবর্ষের সবথেকে শিক্ষিত ব্যক্তি’র শিরোপা দিয়েছে। ১৯৮৩ তে উনি ‘বিশ্বের অসামান্য দশজন তরুণ’ হিসেবে নির্বাচিত হন।

শ্রীকান্ত জিচকরের ২০০৪ সালের ২ জুন মাত্র ৪৯ বছর বয়সে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়।নাগপুর শহরে শ্রীকান্তের নামে একটি সংস্থাও ( non-profit organisation)  আছে যেখান থেকে মানুষকে নানাভাবে সাহায্য করা হয়। এই সংস্থার বিবিধ কাজের মধ্যে অন্যতম হল শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্য সচেতনতা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ সচেতনতা ইত্যাদি। জিচকর একটি সুন্দর ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখতেন যেখানে মানুষ সুস্থ এবং সচেতন থাকবে, শিক্ষিত হবে এবং ভালো থাকবে। নব্বই দশকের থেকেই তিনি নাগপুরে স্বাস্থ্য আন্দোলন (fitness movement) শুরু করেন। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা যাতে তারা ১০০ বছর বাঁচতে পারে। এই সংস্থাটি সারা বছর ধরেই নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যে জড়িয়ে থাকে এবং জিচকরের জন্মদিনের দিন নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে।

ওনাকে নিয়ে ভিডিও দেখুন এখানে

  • সববাংলায় সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আজই যোগাযোগ করুন
    contact@sobbanglay.com

  • এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

    আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

আধুনিক ভ্রূণ বিদ্যার জনক পঞ্চানন মাহেশ্বরীকে নিয়ে জানুন



ছবিতে ক্লিক করে দেখুন ভিডিও