সববাংলায়

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা

বিভাগঃ ,

আমাদের পশ্চিমবঙ্গ মূলত ২৩টি জেলাতে বিভক্ত। বেশীরভাগ জেলাই স্বাধীনতার আগে থেকে ছিল, কিছু জেলা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গঠিত, আবার কিছু জেলা একটি মূল জেলাকে দুভাগে ভাগ করে তৈরি হয়েছে মূলত প্রশাসনিক সুবিধের কারণে। প্রতিটি জেলাই একে অন্যের থেকে যেমন ভূমিরূপে আলাদা, তেমনি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকেও স্বতন্ত্র। প্রতিটি জেলার এই নিজস্বতাই আজ আমাদের বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছে। সেরকমই একটি জেলা হল দক্ষিণ দিনাজপুর (South Dinajpur)।

ভৌগলিক দিক থেকে দেখলে এই জেলার উত্তরে দার্জিলিং জেলা,  দক্ষিণে মালদা জেলা ও বাংলাদেশের রাজশাহী জেলা, পূর্ব দিকে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলা এবং পশ্চিম দিকে অবস্থান করছে বিহার রাজ্যের পূর্ণিয়া, কাটিহার ও কিষাণগঞ্জ জেলা এবং মালদার উত্তরাংশ৷ সমতল ভূমি বিশিষ্ট দক্ষিণ দিনাজপুর ক্রমশ দক্ষিণ দিকে ঢালু হয়েছে। এই জেলায় কোন পাহাড় পর্বত না থাকলেও ছোটো বড় মাঝারি মাপের মাটির ঢিপি স্থানে স্থানে দেখা যায়। কোন প্রাকৃতিক অরণ্য তেমন লক্ষ্য করা যায় না। এখানকার উল্লেখযোগ্য নদীগুলি হল, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, আত্রাই, ইছামতী, যমুনা, প্রভৃতি৷ 

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সাথে সাথে পশ্চিমবঙ্গও ভাগ হলে বালুরঘাট, রায়গঞ্জ ও গঙ্গারামপুর মহকুমা ভারতে থেকে গেলেও দিনাজপুরের বাকি অংশ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তী কালে ১৯৯২ সালের ১লা এপ্রিল পশ্চিম দিনাজপুর জেলা দুভাগে ভাগ হয়, নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে উত্তর অংশ উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ অংশ দক্ষিণ দিনাজপুর নাম রাখা হয়৷ দিনাজপুর নামকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর দপ্তর বালুরঘাটে অবস্থিত৷ এই জেলার দুটি উপবিভাগ হল বালুরঘাট এবং গঙ্গারামপুর৷ ২২১৯ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত দক্ষিণ দিনাজপুর আয়তনের বিচারে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে আঠারোতম স্থান অধিকার করেছে৷ ২০১১ সালের জনগননা অনুসারে জনসংখ্যার বিচারে দক্ষিণ দিনাজপুর  এর স্থান পশ্চিমবঙ্গে একুশতম৷

‘খাঁ/খান’ গান এই জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক অঙ্গ। এছাড়া এই জেলার কুশমন্ডির গমীরা-মুখোশ অত্যন্ত বিখ্যাত। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে ‘মুখা মেলা’। এই মেলাকে কেন্দ্র করে প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি জমে ওঠে খনগান, ভাওইয়া গান সহ বিভিন্ন মুখা নাচের আসর।

ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান বাণগড় এখানকার উল্লেখযোগ্য পর্যটন ক্ষেত্র৷ মৌর্য ও ইসলামিক যুগের নানান নিদর্শন এখান থেকে পাওয়া গেছে৷ বাংলার এক প্রাচীন শহর দেবকোটও এই জেলায় অবস্থিত৷ নদীমাতৃক জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরে শুধু বড় নদী বা খাঁড়িই নয়, রয়েছে প্রচুর দীঘি। এরকমই এক বিখ্যাত দীঘি মহীপাল দীঘি যার সাথে জড়িয়ে আছে বাংলার পাল রাজবংশের স্মৃতি। চার কিমিলোমিটার দীর্ঘ, ০.৬ কিলোমিটার ব্যাসযুক্ত বিশাল এই দীঘি খনন করেছিলেন পাল রাজবংশের রাজা দ্বিতীয় মহীপাল। তাঁর নামানুসারেই দীঘির নামকরণ। ভোলা কালী মন্দির, ঢলদীঘি, আর সারংবাড়ি জঙ্গল এখানকার উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্থান৷ 


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading