সিলভিয়া প্লাথ

সিলভিয়া প্লাথ

বিংশ শতকের বিশ্বসাহিত্যের একজন অন্যতম প্রগতিশীল এবং বহুল প্রশংসিত আমেরিকান সাহিত্যিক সিলভিয়া প্লাথ (Sylvia Plath)। ক্ষণজন্মা এই লেখিকা মূলত কবি হিসেবে পরিচিত হলেও বহু ছোটগল্প এবং একটি উপন্যাস রচনা করেছিলেন। তাঁর লেখার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় একপ্রকার আগ্রাসী বিচ্ছিন্নতা এবং আত্মধংসের ইঙ্গিত। হতাশা, হিংস্র আবেগ, মৃত্যুর প্রতি আবিষ্ট এক সত্ত্বা তাঁর কবিতার ছত্রে ছত্রে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কবিতা অধিকাংশই স্বীকারোক্তিমূলক এবং আত্মজৈবনিক। মানসিক যন্ত্রণা, সমস্যাসঙ্কুল বৈবাহিক জীবন, মা-বাবার সঙ্গে অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব ইত্যাদি তাঁর লেখার বিষয় হিসেবে এসেছে ঘুরে-ফিরে। তৎকালীন আমেরিকার মেয়েদের অবস্থাও তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে। সিলভিয়া প্লাথকে ইংরেজি ভাষায় যুদ্ধোত্তর কবিদের মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত এবং বিতর্কিত বলে মনে করেছেন কোনো কোনো সমালোচক। সাহিত্যে মূলত কবিতায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য মরণোত্তর পুলিৎজার পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল তাঁকে। এক মানসিক যন্ত্রণা, হতাশা ও বিচ্ছিন্নতার বোধ তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ হল আংশিক আত্মজৈবনিক একটি উপন্যাস ‘বেলজার’।

১৯৩২ সালের ২৭ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে একটি শিক্ষিত পরিবারে সিলভিয়া প্লাথের জন্ম হয়। তাঁর মা অরেলিয়া শোবার প্লাথ (Aurelia Schober Plath) ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় প্রজন্মের আমেরিকান। তিনি তাঁর কলেজের জার্মান ক্লাবের সভাপতি এবং রাইটার্স ক্লাবের সহ সভাপতি ছিলেন। সিলভিয়া প্লাথের বাবা অটো প্লাথ (Otto Plath) ছিলেন জার্মানির গ্র্যাবোর বাসিন্দা। অটো প্লাথ একজন নামকরা কীটতত্ত্ববিদ এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যার অধ্যাপক ছিলেন। ‘বাম্বলবীস’ নামক একপ্রকার মৌমাছি নিয়ে গ্রন্থও রচনা করেছিলেন তিনি। সিলভিয়ার বাবা আদপে এক কঠিন চরিত্রের মানুষ ছিলেন। ১৯৩৫ সালের ২৭ এপ্রিল সিলভিয়ার ভাই ওয়ারেন প্লাথের জন্ম হয়। ১৯৩৬ সালে প্লাথ পরিবার ম্যাসাচুসেটসের উইনথ্রপে জনসন অ্যাভিনিউতে একটি বাড়িতে চলে আসেন। সেই শহরের পয়েন্ট শার্লি নামক একটি অংশে সিলভিয়ার ঠাকুরদা-ঠাকুরমা বসবাস করতেন। শৈশবে সিলভিয়ার অধিকাংশ সময় কেটেছিল তাঁর ঠাকুরমার সঙ্গেই। উইনথ্রপ পাবলিক স্কুলে তাঁর আশ্চর্য লেখার ক্ষমতা দেখে শিক্ষকেরা বিস্মিত হয়েছিলেন। উইনথ্রপে থাকাকালীন আট বছর বয়সে সিলভিয়ার প্রথম লেখা কবিতা ‘বোস্টন হেরাল্ড’ পত্রিকার শিশু বিভাগে প্রকাশিত হয়। সেবছরই ১৯৪০ সালে ডায়াবেটিসের কারণে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। প্লাথের বয়স তখন আট বছর। সিলভিয়ার বিখ্যাত ‘ড্যাডি’ কবিতার মধ্যে বাবার সঙ্গে তাঁর সমস্যাযুক্ত সম্পর্কের খোঁজ মেলে। বাবার মৃত্যুর পর ঈশ্বরে বিশ্বাস করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। উইনথ্রপে থাকার সময় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য্য এবং ভয়াল রূপের বিষয়ে সচেতন হন। সমুদ্রের প্রতি ভালবাসা যেমন জন্মেছিল, সেই সঙ্গে মনের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল একপ্রকার ভয়ও। 

পরবর্তী কয়েকবছর আঞ্চলিক পত্রিকা এবং সংবাদপত্রে প্লাথের অনেক কবিতা প্রকাশিত হয়। আর্থিক পরিস্থিতির চাপে এরপর প্লাথ পরিবার ওয়েলেসলিতে চলে যেতে বাধ্য হয়। সেখানে সিলভিয়ার মা অরেলিয়া প্লাথ বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেক্রেটারিয়াল স্টাডিজ পড়াতে শুরু করেন। 

সিলভিয়া প্লাথ একজন প্রতিভাবান ছাত্রী ছিলেন। ওয়েলেসলিতে থাকাকালীন সিলভিয়া পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন ব্র্যাডফোর্ড সিনিয়র হাইস্কুলে (বর্তমানে ওয়েলেসলি হাইস্কুল)। এগারো বছর বয়স থেকেই একটি জার্নাল রাখতে শুরু করেন তিনি এবং স্থানীয় কাগজে কবিতা, গল্প লেখার চর্চা চালিয়ে যান। তাঁর প্রথম গল্প ‘অ্যাণ্ড দ্য সামার উইল নট কাম এগেইন’ প্রকাশিত হয়েছিল ‘সেভেনটিন’ পত্রিকায় ১৯৫০ সালে। একটি জাতীয় পত্রিকা ‘ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর’-এর ১৯৫০ সালের ১৬ মার্চ সংস্করণে ‘ইয়ুথস অ্যাপিল ফর ওয়ার্ল্ড পিস’ নামক সিলভিয়ার একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এই প্রথম কোনো জাতীয় স্তরের পত্রিকায় তাঁর লেখা ছাপা হয় এবং এরপর থেকে বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পত্রিকায় সিলভিয়ার লেখা নিয়মিতভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করে।

বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষা সমাপ্ত করবার পর সিলভিয়া প্লাথ ১৯৫০ সালে সিলভিয়া ম্যাসাচুসেটসের নর্থহ্যাম্পটনে অবস্থিত স্মিথ কলেজে ভর্তি হন পড়াশোনার জন্য এবং একটি বৃত্তিও লাভ করেন। এটি ছিল মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত এবং মহিলাদের জন্য একটি বেসরকারি এবং উদারনৈতিক আর্ট কলেজ। স্মিথ কলেজে পড়াকালীন তিনি লরেন্স হাউসে থাকতেন। একজন ব্যতিক্রমী উজ্জ্বল ছাত্রী ছিলেন সিলভিয়া প্লাথ । সেইসময় ‘দ্য স্মিথ রিভিউ’ পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালের আগস্ট মাসে ‘ম্যাডমোইসেল’ পত্রিকা দ্বারা আয়োজিত কলেজগুলির মধ্যে এক কথাসাহিত্য প্রতিযোগিতায় ‘সানডে অ্যাট দ্য মিন্টনস’ নামের গল্প লিখে জয়ী হন সিলভিয়া। পরে কলেজের তৃতীয় বর্ষে পড়াকালীন ১৯৫৩ সালে সেই ‘ম্যাডমোইসেল’ পত্রিকার তরফ থেকেই অতিথি সম্পাদক হওয়ার প্রস্তাব পেয়ে নিউইয়র্কে চলে যান তিনি এবং সেখানে গোটা জুন মাস কাটিয়ে আসেন। 

এই সময় ওয়েলসের এক কবি ডিলান থমাসের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল সিলভিয়ার। থমাসের খুবই প্রশংসা করতেন তিনি৷ কিছু সময় পরে সিলভিয়া যখন জানতে পারেন যে হার্ভার্ড সামার স্কুলের লেখকদের সেমিনারে তাঁর প্রবেশের চেষ্টাও প্রত্যাখ্যাত হয় তখন প্রচণ্ড হতাশার মধ্যে ডুবে গিয়ে অদ্ভুত আচরণ করতে শুরু করেছিলেন তিনি। এসময় তাঁর লেখা ‘ম্যাড গার্লস লাভ সং’ প্রকাশিত হয়েছিল ‘ম্যাডমোইসেল’ পত্রিকায়। পরবর্তীকালে তিনি ওয়েলেসলিতে ফিরে আসেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর বিষণ্নতা এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে তিনি তাঁর পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারতেন না। সেসময় তাঁর মা তাঁকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে সিলভিয়ার চিকিৎসা করেন সেই ডাক্তার। ১৯৫৩ সালের ২৪ আগস্ট মাসে সিলভিয়া প্রথম আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওষুধের বাক্স ভেঙে ২৪টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে। যদিও তখন প্রাণহানি হয়নি তাঁর এবং সঙ্গে সঙ্গে ম্যাকলিন হাসপাতালের মানসিক বিভাগে তাঁকে ভর্তি করা হয়। পরের ছয় মাস ধরে তাঁর মানসিক চিকিৎসা চলে এবং একটা সময় পর সুস্থ হয়ে তিনি কলেজে ফিরে আসেন। 

১৯৫৫ সালের জানুয়ারি মাসে সিলভিয়া তাঁর থিসিস ‘দ্য ম্যাজিক মিরর : আ স্টাডি অব দ্য ডবল ইন টু অফ দস্তয়েভস্কি’স নভেল’ জমা দেন এবং ‘সুমা কাম লড’ অর্থাৎ ডিস্টিংশনসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ‘ফি বেটা কাপা অ্যাকাডেমিক অনার সোসাইটি’র সদস্য ছিলেন।

ইংল্যাণ্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত মাত্র দুটি মহিলাদের কলেজের মধ্যে অন্যতম নিউনহ্যাম কলেজে পড়বার জন্য ফুলব্রাইট বৃত্তি পেয়েছিলেন সিলভিয়া প্লাথ । সেসময় খুব সক্রিয়ভাবে কবিতা লেখার কাজ চালিয়ে যান তিনি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের পত্রিকা ‘ভার্সিটি’তে তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। একটি প্রতিযোগিতায় তিনি ‘টু লাভারস অ্যাণ্ড এ বিচকম্বার বাই দ্য রিয়েল সি’ কবিতার জন্য গ্লাসকক পুরস্কার জেতেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকাকালীন সিলভিয়া তাঁর লেখালেখি এবং সামাজিক জীবনের প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন৷ 

১৯৫৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরি কবিতা পত্রিকা ‘বোটলফস রিভিউ’য়ের উদ্বোধনের পার্টিতে সিলভিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ইংরেজ কবি টেড হিউজের। সিলভিয়া মুগ্ধ হয়েছিল হিউজের ব্যক্তিত্বে, কন্ঠস্বরে এবং লেখায়। সেবছরই অর্থাৎ ১৯৫৬ সালের ১৬ জুন হলবর্নের সেন্ট জর্জ দ্য মার্টিয়ারে প্লাথের মায়ের উপস্থিতিতে সিলভিয়া এবং টেড হিউজের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। এই দম্পতি প্যারিস এবং বেনিডর্মে মধুচন্দ্রিমা করেছিলেন। দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনার জন্য সিলভিয়া নিউনহ্যামে ফিরে আসেন। এসময় তাঁরা দুজনেই জ্যোতিষশাস্ত্র এবং অতিপ্রাকৃত বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন৷ ১৯৫৭ সালের জুন মাসে প্লাথ এবং হিউজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন এবং সেপ্টেম্বর থেকে প্লাথ তাঁর পূর্বতন পড়াশোনার স্থল স্মিথ কলেজে পড়াতে শুরু করেন। এই চাকরির ফলে তিনি লেখালেখির জন্য খুব অল্প সময় পেতেন এবং দিনান্তে অল্প শক্তিই অবশিষ্ট থাকত তাঁর শরীরে। ফলত ক্রমেই তিনি হতাশার মধ্যে ডুবে যেতে থাকেন।

১৯৫৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই দম্পতি বোস্টনে চলে আসেন। প্লাথ ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের সাইকিয়াট্রিক ইউনিটে রিসেপশনিস্ট হিসেবে চাকরি নেন এবং সন্ধ্যায় হাজির থাকতেন রবার্ট লোয়েলের সৃজনশীল লেখালেখির সেমিনারে। সেখানে অ্যানে সেক্সটন এবং জর্জ স্টারবাকের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। সেক্সটন এবং স্টারবাক দুজনেই সিলভিয়াকে তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে লেখবার জন্য বলেন। এইসময় তাঁর লেখা কবিতা ‘মুসেল হান্টার অ্যাট রক হার্বার’ এবং ‘নকটার্ন’ জনপ্রিয় বাণিজ্যিক পত্রিকা ‘দি নিউ ইয়র্কার’-এর সম্পাদকদের দ্বারা গৃহীত হয়েছিল। যদিও এই লেখাগুলি তাঁর পক্ষে রচনা করা খুবই কঠিন ছিল এবং এক বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল তাঁকে। ডিসেম্বর নাগাদ মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা পুনরায় শুরু করেছিলেন তিনি।

১৯৫৯ সালের প্রথম দিক থেকে নিজস্ব চিন্তা-ভাবনাগুলিকে আরও অন্তর্মুখী শৈলীতে প্রকাশ করবার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এসময় তাঁর কাজগুলি ‘দ্য স্পেক্টেটর’ এবং ‘টাইমস লিটারারি সাপ্লিমেন্ট’-এ ছাপা হতে শুরু করে। ১৯৫৯ সালের জুন মাসে সিলভিয়া প্লাথ এবং তার স্বামী আমেরিকা ও কানাডা জুড়ে ভ্রমণ করেন এবং বেশ কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করে অবশেষে সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্ক রাজ্যের সারাটোগা স্প্রিংসের ইয়াডো আর্টিস্ট কলোনিতে বসতি স্থাপন করেন। সেসময় সিলভিয়া গর্ভবতী ছিলেন, ফলে ডিসেম্বরে তাঁরা ইংল্যাণ্ডে ফিরে গিয়েছিলেন। 

১৯৬০ সালের অক্টোবরে সিলভিয়া প্লাথের প্রথম কবিতার বই ‘দ্য কলোসাস অ্যাণ্ড আদার পোয়েমস’ প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য ব্রিটিশ প্রকাশক হাইনেম্যানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। বইটি খুব সীমিত আলোচনার আলোকে এসেছিল, তবে খুব একটা খারাপ প্রতিক্রিয়া পায়নি। সিলভিয়ার প্রথম সন্তান ফ্রিদার জন্ম হয় ১৯৬০ সালেরই ১ এপ্রিলে। ১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় গর্ভাবস্থার সময় থেকেই সিলভিয়া  এবং হিউজের দাম্পত্য সম্পর্কে তিক্ততা এসে মেশে। এসময় আগস্ট মাসে সিলভিয়া তাঁর আংশিক আত্মজীবনীমূলক একমাত্র উপন্যাস ‘দ্য বেলজার’ শেষ করেন। এর পরই এই পরিবার ডেভনের নর্থ টোটনের ছোট বাজার শহর কোর্ট গ্রীনে চলে যায়। ১৯৬২ সালের জানুয়ারি মাসে সিলভিয়ার দ্বিতীয় সন্তান নিকোলাসের জন্ম হয়। ১৯৬২ সালের মাঝামাঝি প্লাথ এবং হিউজ জীবিকার্জনের তাগিদে মৌমাছি পালন শুরু করেন।

১৯৬২ সালের জুন মাসে গাড়ির সাহায্যে এক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সিলভিয়া। ১৯৬২ সালের জুলাই মাসে সিলভিয়া জানতে পারেন তাঁদের শ্যালকট স্কোয়ারের ভাড়াটে আসিয়া ওয়েভেলের সঙ্গে হিউজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই সংবাদ তাকে গভীরভাবে বিচলিত করে এবং হতাশার মধ্যে তিনি তার দ্বিতীয় উপন্যাসের একমাত্র পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেন,। সেই লেখাটি ছিল ‘দ্য বেলজার’-এর সিক্যুয়াল। ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরে টেড হিউজের সঙ্গে সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে আলাদা হয়ে যান সিলভিয়া। ডিসেম্বরে তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে লণ্ডনে একা ফিরে আসেন এবং পাঁচ বছরের লিজে ২৩, ফিটজরয় রোডের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেবছর ১১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত যে ছাব্বিশটি কবিতা রচনা করেন তিনি, তা তাঁর জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কবিতাগুলি একত্রে তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৬৫ সালে ‘এরিয়েল’ নামে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৩ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর একমাত্র উপন্যাস ‘দ্য বেলজার’ প্রকাশিত হয় ‘ভিক্টোরিয়া লুকাস’ ছদ্মনামে। 

স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সিলভিয়ার বিচ্ছিন্নতার যন্ত্রণা এবং হতাশাবোধ তাঁকে ক্রমাগত আত্মধ্বংসের দিকে চালনা করেছিল। তিনি ঝুঁকির মধ্যে আছেন জেনে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু জন হর্ডার রোজ দেখা করতে আসতেন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করবার জন্য বহু চেষ্টা করেছিলেন। সিলভিয়ার জন্য একটি নার্সের বন্দোবস্ত করেন হর্ডার। 

১৯৮২ সালে তাঁর কবিতার সংকলন ‘দ্য কালেক্টেড পোয়েমস’-এর জন্য সিলভিয়াকে মরণোত্তর পুলিৎজার পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি ছবি আঁকাতেও পারদর্শী ছিলেন সিলভিয়া। 

১৯৬৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে সন্তানদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে রেখে ঘুমন্ত শিশুদের ভালো করে ঘরবন্দী করে গ্যাস জ্বালিয়ে ওভেনে মাথা রেখে আত্মহত্যা করেন সিলভিয়া প্লাথ।

আপনার মতামত জানান