ইতিহাস

তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) বাংলাদেশের একজন চিকিৎসক, কবি ও সাহিত্যিক। তাঁর নারীবাদী ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক রচনার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘লজ্জা’ উপন্যাসের জন্য বাংলাদেশের এক মৌলবাদী সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তাঁর অন্যান্য রচনা ভারত ও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। বর্তমানে তিনি ভারতে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন।

১৯৬২ সালের ২৫ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের ময়মনসিংহ শহরে তসলিমা নাসরিনের জন্ম হয়। তাঁর বাবা রজব আলী ছিলেন পেশায় চিকিৎসক  এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক। মায়ের নাম ছিল ঈদুল ওয়ারা।  ১৯৭৬ সালে তিনি ময়মনসিংহের স্কুল থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) পাস করেন এবং ১৯৭৮ সালে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক  (এইচএসসি) পাস করেন। এরপর তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৮৪ সালে এমবিবিএস পাস করেন।  ডাক্তারি পাশ করার পর তিনি প্রথমে ময়মনসিংহের ফ্যামিলি প্ল্যানিং ক্লিনিকে এবং পরবর্তী সময়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিভাগে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চিকিৎসক হিসেবে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন ধর্ষিতা নারীদের যন্ত্রণা, শুনেছেন কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য মায়ের হাহাকার। যদিও তিনি এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তবে সময়ের সাথে সাথে তিনি নাস্তিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন।

তাঁর লেখায় নারীবাদের সোচ্চার প্রকাশ ঘটেছে। অল্প বয়স থেকেই তসলিমা কবিতা লেখা শুরু করেন। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় পর্যন্ত তিনি ‘সেঁজুতি’ নামক একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করতেন। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তাঁর ৬টি কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়। ১৯৮৬ সালে ‘শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা’ নামক তাঁর প্রথম কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালে ‘নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে’ ও ১৯৯০ সালে ‘আমার কিছু যায় আসে না’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালে তসলিমা ঢাকা থেকে প্রকাশিত নঈমুল ইসলাম খান সম্পাদিত ‘খবরের কাগজ’ নামক রাজনৈতিক সাপ্তাহিকীতে নারী অধিকার বিষয়ে লেখা শুরু করেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থ ও সংবাদপত্রের কলামে নারীদের প্রতি মুসলিম মৌলবাদীদের শোষণের কথা প্রকাশিত হওয়ায় ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের মৌলবাদীরা এই পত্রিকার অফিস ভাঙচুর করে। পরে তসলিমা নাসরিন এই কাগজে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধগুলি নিয়ে ‘নির্বাচিত কলাম’ নামক বিখ্যাত প্রবন্ধসংকলন প্রকাশ করেন। এই গ্রন্থের জন্য ১৯৯২ সালে তিনি ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। ১৯৯৩ সালের মধ্যে তাঁর ‘অতলে অন্তরীণ’, ‘বালিকার গোল্লাছুট’ ও ‘বেহুলা একা ভাসিয়েছিল ভেলা’ নামক আরো তিনটি কাব্যগ্রন্থ; ‘যাবো না কেন? যাব’ ও ‘নষ্ট মেয়ের নষ্ট গল্প’- নামক  দুটি প্রবন্ধসংকলন এবং ‘অপরপক্ষ’, ‘শোধ’, ‘নিমন্ত্রণ’ ও ‘ফেরা’ নামক চারটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়।

১৯৯৩ সালে ‘লজ্জা’ নামক তাঁর পঞ্চম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে  মুসলিম অধ্যুষিত পরিবেশে একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াই-এর কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসটি প্রকাশের পর ‘অমর একুশে’ গ্রন্থমেলায় মুসলিম মৌলবাদীরা তসলিমার ওপর শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে ও তারা এই উপন্যাস নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি জানায়। গ্রন্থমেলা কর্তৃপক্ষ তাঁকে মেলায় প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। একই বছরে অক্টোবর মাসে ‘কাউন্সিল অব ইসলামিক সোলজার্স’ নামক এক মৌলবাদী সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে। ‘লজ্জা’ উপন্যাসটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ৫০,০০০ বই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। এই উপন্যাসটি তাঁকে আন্তর্জাতিক মহলে বিখ্যাত করে তোলে। ২০০২ সালে রচিত হয় তাঁর অপর একটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘ফ্রেঞ্চ লাভার’ (French Lover)।

তসলিমা নাসরিনের সাতটি আত্মজীবনী গ্রন্থের অধিকাংশ বাংলাদেশ ও ভারত সরকার দ্বারা নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়। ‘আমার মেয়েবেলা’ নামক তাঁর প্রথম আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে ইসলাম ও মহম্মদের প্রতি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। যদিও ২০০০ সালে এই বইয়ের জন্য তসলিমা নাসরিন দ্বিতীয়বার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। ২০০২ সালে ‘আমার মেয়েবেলা’ উপন্যাসটি ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। ২০০২ সালে তাঁর দ্বিতীয় আত্মজীবনী ‘উতাল হাওয়া’ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়। ২০০৩ সালে ‘ক’ (Ka (speak up)) নামক তাঁর তৃতীয় আত্মজীবনীটিও বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই বইটি ‘দ্বিখণ্ডিত’ নামে প্রকাশিত হলেও ভারতীয় মুসলিমদের একাংশের চাপে নত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে বইটি নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞা ২০০৫ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। ২০০৪ সালে ‘সেই সব অন্ধকার’ নামক তাঁর  চতুর্থ আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তাঁর মোট সাতটি আত্মজীবনীমূলক রচনা প্রকাশিত হয়।

১৯৯৪ সালে মে মাসে ‘দ্য স্টেটসম্যান’ (The Statesman) পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামী ধর্মীয় আইন ‘শরিয়া’ অবলুপ্তির মাধ্যমে কুরআন সংশোধনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর ফলে ইসলামি মৌলবাদীরা তাঁর ফাঁসির দাবি জানাতে শুরু করে। তিন লাখ মৌলবাদী একটি জমায়েতে তাঁকে ইসলামের অবমাননাকারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালালরূপে অভিহিত করে। দেশ জুড়ে তাঁর শাস্তির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে জনগণের ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় এবং জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করা হয়। দু’ মাস লুকিয়ে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং ১৯৯৪ সালের শেষের দিকে তসলিমা বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই সময় থেকেই চিকিৎসকের পেশা ছেড়ে তিনি সম্পূর্ণরূপে লেখিকা ও সংস্কারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর দশ বছর তিনি সুইডেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তিনি ১৯৯৪ সালে সুইডেনে ও ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জার্মানিতে বসবাস করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি পুনরায় সুইডেন ফিরে গেলে রাজনৈতিক নির্বাসিত হিসেবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভ্রমণ নথি লাভ করেন। এই সময় তিনি সুইডেনের নাগরিকত্ব লাভ করেন ও সুইডিশ কর্তৃপক্ষের নিকট তাঁর বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দেন। এমনকি তাঁর বাবা-মা মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীনও তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি।

২০০০ সালের মার্চ মাসে তিনি ‘শোধ’ নামক তাঁর একটি উপন্যাসের মারাঠি ভাষায় অনুবাদকর্মের প্রচারে মুম্বই শহরে পৌঁছানোর সময় মুসলিম মৌলবাদীরা তাঁকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয়। ২০০৪ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারতে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। তসলিমা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে বসবাস শুরু করেন। কলকাতায় থাকাকালীন তিনি নিয়মিত ভাবে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’, ‘দেশ’ এবং অন্যান্য সংবাদপত্র ও পত্রিকায় লিখতে শুরু করেন। ২০০৬ সালে  টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম সৈয়দ নূরুর রহমান বরকতি তসলিমা নাসরিনের মুখে কালিলেপন করার জন্য পুরস্কারের ঘোষণা করেন। ২০০৭ সালের মার্চ মাসে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল বোর্ড’ নামক একটি সংগঠন তাঁর মুন্ডচ্ছেদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করে। সেই বছরই ৯ আগস্ট তিনি ‘শোধ’ উপন্যাসের তেলুগু ভাষায় অনুবাদকর্মের প্রচারে হায়দ্রাবাদ শহরে গেলে ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস’-এ ‘ইত্তেহাদুল মুসলিমীন’ নামক একটি রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় উত্তেজিত জনতা তাঁকে আক্রমণ করে। ১৭ আগস্ট কলকাতা শহরের মুসলিম নেতারা তসলিমাকে হত্যা করার জন্য বিপুল অর্থ পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ২১ নভেম্বর ‘অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি ফোরাম’ নামক একটি ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী কলকাতা শহরে তাণ্ডব শুরু করলে সেনাবাহিনীকে আইন ও শান্তিরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর নাসরিনকে কলকাতা থেকে জয়পুর হয়ে নতুন দিল্লিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারত সরকার তাঁকে পরবর্তী সাত মাস একটি অজ্ঞাত স্থানে গৃহবন্দি করে রাখে।

২০০৮ সালে তাঁকে ‘সাইমন দ্য বোভিয়ার’ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হলেও তিনি ভারতে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ার আশঙ্কায় ফ্রান্স যাত্রা করে পুরস্কার নিতে অসম্মত হন। এই সময় তিনি ‘নেই কিছু নেই’ নামক তাঁর আত্মজীবনীর ষষ্ঠ ভাগ প্রকাশ বাতিল করেন ও কলকাতার দাঙ্গার জন্য দায়ী ‘দ্বিখণ্ডিত’ নামক তাঁর বিতর্কিত বইটির কিছু অংশ অপসারণ করতে বাধ্য হন। ভারতের প্রাক্তন বিদেশসচিব মুচকন্দ দুবের অনুরোধে লন্ডনের  মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি পত্রে ভারত সরকারকে তসলিমার গৃহবন্দী অবস্থার মুক্তির জন্য এবং নিরাপদে কলকাতায় ফেরার জন্য অনুরোধ করে।

২০০৮ সালে তসলিমা ভারত ছাড়তে বাধ্য হন এবং সুইডেনে বসবাস করতে শুরু করেন। সুইডেনে থাকার সময় তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির রিসার্চ স্কলার হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তী সময় তিনি আবার ভারতে ফিরে আসেন এবং দিল্লিতে বসবাস করতে শুরু করেন।

২০১৫ সালে আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত মৌলবাদীরা তাঁর প্রাণনাশের হুমকি দিলে ,’সেন্টার ফর এনকোয়ারি’ তাঁকে ঐ বছর ২৭ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে সহায়তা করে এবং তাঁর খাদ্য, বাসস্থান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। নির্বাসিত হওয়ার পর তসলিমা নাসরিন ভারতে থাকাকালীন সময়ে প্রথম বাংলাদেশী হিসাবে জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘বিগ বস ৮’-এ আমন্ত্রণ পান। কিন্তু তিনি এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখান করেন। তসলিমা নাসরিনের জীবন নিয়ে দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন নাটক ও গান রচিত হয়েছে। তাঁর রচনাগুলি সারাবিশ্বে প্রায় ৩০টি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

১৯৮২ সালে তসলিমা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে বিয়ে করেন। ১৯৮৬ সালে তাঁদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের সাথে তাঁর বিয়ে হয় এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর তিনি ১৯৯১ সালে ‘সাপ্তাহিক বিচিন্তা’-র সম্পাদক মিনার মাহমুদকে বিয়ে করেন । কিন্তু ১৯৯২ সালে তাঁদের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়। তসলিমার কোন সন্তান নেই।

তসলিমা দেশ-বিদেশ থেকে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। ১৯৯২ এবং ২০০০ সালে ‘আনন্দ পুরস্কার’-এ সম্মানিত হন। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে ‘নাট্যসভা পুরস্কার’-এ ভূষিত হন। ১৯৯৪ সালে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট কর্তৃক ‘শাখারভ পুরস্কার’ পান। ফ্রান্স সরকার প্রদত্ত ‘মানবাধিকার পুরস্কার’ লাভ করেন ১৯৯৪ সালে। ১৯৯৪ সালে ‌ফ্রান্সের ‘এডিক্ট অব নান্তেস’ পুরস্কারে সম্মানিত হন। সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল পেন কর্তৃক ‘কার্ট টুকোলস্কি পুরস্কার’ (১৯৯৪) লাভ করেন। ২০০৮ সালে পান ‘সাইমন দ্য বোভিয়ার’ পুরস্কার’। ২০০৩ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘Carr Centre for Human Rights Policy’ তে ‘ফেলোশিপ’ অর্জন করেন। এছাড়াও বিদেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ‘সাম্মানিক ডক্টরেট’ উপাধি লাভ করেন। ‘সম্মানজনক নাগরিকত্ব’ লাভ করেন ফ্রান্স, প্যারিস, লুক্সেমবার্গ থেকে। ২০১৩ সালে বেলজিয়ামের ‘রয়্যাল অ্যাক্যাডেমি অফ আর্টস, সায়েন্স অ্যান্ড লিটারেচার’ থেকে ‘অ্যাকাডেমি ‌অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হন।

বর্তমানে তাঁর অনুরোধে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর ভারতে বসবাসের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত করেছে। তবে বর্তমানে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। ২০২০ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ‘লজ্জা’ নামক উপন্যাসের পরবর্তী প্রকাশনা। ইংরেজি অনুবাদে বইটির নাম রাখা হয়েছে ‘শেমলেস’। তসলিমা নাসরিনের এই বইটি প্রকাশ করেছে ভারতের নামী প্রকাশনা সংস্থা ‘হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়া’।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

লতা মঙ্গেশকর



তাঁর সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন

সাহিত্য অনুরাগী?
বাংলায় লিখতে বা পড়তে এই ছবিতে ক্লিক করুন।