পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় একটি ভ্রমণস্থান হল দার্জিলিং। তবে দিন যত বাড়ছে, তত দার্জিলিং এ মানুষের ভিড় বাড়ছে। সেই কারণে এখন অধিকাংশ ভ্রমণ প্রিয় মানুষের গন্তব্য অফবিট জায়গা। আপনার জন্য এখানে রইল দার্জিলিং-এর সেরা পাঁচটি অফবিট জায়গা।
সাম্প্রতিক পোস্ট
আরও পড়ুন: দার্জিলিং-এর টয় ট্রেন
১) লামাহাট্টা
দার্জিলিং-এর সেরা পাঁচটি অফবিট জায়গার কথা বললে সৌন্দর্যের দিক থেকে প্রথমেই লামাহাট্টার কথাই আসবে। দার্জিলিং থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে ৫৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ছোট্ট জনপদ লামাহাট্টা। লামাহাট্টা শব্দটির অর্থ হল যেখানে লামারা বাস করেন। ভারতীয় সরকার এককালে তিব্বতী লামাদের বসবাস করার জন্য এই জায়গাটি বেছে দিয়েছিল বলে এখানকার নাম লামাহাট্টা হয়েছে বলা হয়।

একদিকে সবুজ বিশাল পাইনের ঘন জঙ্গল এবং অপর দিকে নীল আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য, সংক্ষেপে এটাই এখানের সৌন্দর্য। তবে বর্তমানে এখানের মূল আকর্ষণ হল লামাহাট্টা ইকো পার্ক যেটি ২০১২ সালে তৈরি হয়েছিল। পার্কটি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য ছিল ছোট এই জনপদটিকে একটি ইকো-পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তোলা। এখানে থাকার জন্য কয়েকটি হোমস্টে রয়েছে। অনেকে দার্জিলিং থেকেও লামাহাট্টা যায়, আবার অনেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন বা শিলিগুড়ি থেকে আগে লামাহাট্টা পৌঁছে সেখানে সময় কাটিয়ে তারপর সেখান থেকেও দার্জিলিং ঘুরতে যায়।
২) সিটং
দার্জিলিং-এর সেরা পাঁচটি অফবিট জায়গার কথা বললে জনপ্রিয়তার দিক থেকে প্রথমেই সিটং-এর কথা আসবে। দার্জিলিং থেকে প্রায় ৫০ কিমি দূরে ৪০০০ ফুট উচ্চতায় দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং মহকুমায় অবস্থিত লেপচা গ্রাম হল সিটং। শীতকাল মানেই কমলালেবু আর এই কমলালেবু মানেই দার্জিলিংয়ের সিটং। সিটংকে অনেকে কমলালেবুর দেশও বলে থাকেন, কারণ শীতে সিটং ভরে ওঠে কমলালেবুর অপরূপ শোভায়।

লেপচাদেরই বাস এখানে, তাদের প্রতিটি বাড়িতেই দেখা যাবে কমলালেবুর গাছ। মানুষের থেকেও এখানে হয়ত বা কমলালেবুর বাগানের সংখ্যাই বেশি। কমলালেবুর অদ্ভুত রঙের শোভায় শীতের সিটং পর্যটকদের চোখে টেনে দেয় মায়াকাজল। তাছাড়া কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য তো রয়েছেই। কমলালেবুর বাগান দেখতে চাইলে আসতে হবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে। ঐ সময়ই সিটং-এর সমস্ত গাছ গাছালি কমলালেবুতে ভরে ওঠে। তবে বর্ষাকাল সর্বাগ্রে এড়িয়ে চলা উচিত। এখানে থাকার জন্য বিভিন্ন হোমস্টে রয়েছে। সাধারণত নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন বা শিলিগুড়ি থেকে আগে সিটং পৌঁছে তারপর সেখান থেকে অনেকে দার্জিলিং ঘুরতে যায়।
আরও পড়ুন: দার্জিলিং-এর সব দর্শনীয় স্থান
৩) তিনচুলে
দার্জিলিং-এর সেরা পাঁচটি অফবিট জায়গার কথা বললে তিনচুলের কথা বলতেই হয়। দার্জিলিং থেকে মাত্র ৩০ কিমি দূরে ৫৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত একটি পাহাড়ি ছোট জনপদ হল তিনচুলে। এই গ্রাম থেকে তিনটি পাহাড়ি চূড়া দেখা যায়। এই চূড়াগুলো দেখতে উনুন বা চুলার মত হওয়ায় গ্রামের নাম হয়েছে তিনচুলে বা তিনটি চুলা। এখানের মূল আকর্ষণ হল চারিদিকে ঘেরা পাহাড়, যার মধ্যে প্রধান হল কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং সবুজ চা বাগান। এছাড়াও শীতে তিনচুলে ভরে ওঠে কমলালেবুর অপরূপ শোভায়। কমলালেবুর বাগান দেখতে চাইলে আসতে হবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে। এখানে থাকার জন্য বিভিন্ন হোমস্টে রয়েছে। অনেকে দার্জিলিং থেকেও তিনচুলে যায়, আবার অনেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন বা শিলিগুড়ি থেকে আগে তিনচুলে পৌঁছে সেখানে সময় কাটিয়ে তারপর সেখান থেকেও দার্জিলিং ঘুরতে যায়।
৪) তাবাকোশি
দার্জিলিং-এর সেরা পাঁচটি অফবিট জায়গার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য নাম তাবাকোশি। দার্জিলিং থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে ৩৬০০ ফুট উচ্চতায় মিরিকের কাছে অবস্থিত ছবির মত পাহাড়ি গ্রাম তাবাকোশি।

এখানে গ্রামের বাড়িগুলো বেশ রংবেরঙের এবং পাশ দিয়ে বয়ে গেছে রংভং নদী, পাশে রয়েছে বিভিন্ন চা বাগান।সকালে এই রাস্তায় হাঁটতে খুব সুন্দর লাগবে। নদীর ধারে একটা সুন্দর পার্ক রয়েছে এবং রয়েছে অনেক কমলা লেবুর বাগান, ভুট্টার বাগান। কমলালেবুর বাগান দেখতে চাইলে আসতে হবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে। এখানে থাকার জন্য বিভিন্ন হোমস্টে রয়েছে। তবে বাড়িগুলো একদম পাশাপাশি গায়ে গায়ে। সাধারণত দার্জিলিং থেকে জলপাইগুড়ি স্টেশন বা শিলিগুড়ি ফেরার পথে অনেকে তাবাকোশি ঘুরতে যায়।
৫) চটকপুর
দার্জিলিং-এর সেরা পাঁচটি অফবিট জায়গার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম চটকপুর। দার্জিলিং থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে সেনেচাল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মধ্যে ৭৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ছোট্ট একটি পাহাড়ি গ্রাম হল চটকপুর। গ্রামটি হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার নিয়ে গড়ে উঠেছে। উচ্চতার কারণে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দারুণ দৃশ্য দেখা যায়। যেহেতু গ্রামটি অভয়অরণ্যের ভিতর অবস্থিত, তাই এখানে প্রবেশ করতে গেলে আগে থেকে প্ল্যান করতে হবে এবং পারমিট নিতে হবে। পারমিটের জন্য মাথাপিছু খরচ ১০০ টাকা এবং এই পারমিটটি ২৪ ঘণ্টার জন্য প্রযোজ্য। তবে এখানে যাওয়ার রাস্তা খুবই খারাপ তাই যেতে অনেকটা সময় লাগে। এখানে থাকার জন্য অল্প কয়েকটি হোমস্টে রয়েছে। সাধারণত নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে আগে চটকপুর পৌঁছে তারপর সেখান থেকে অনেকে দার্জিলিং যায়।
দার্জিলিং-এর সেরা পাঁচটি অফবিট জায়গা ছাড়াও দার্জিলিং জেলার অন্যান্য ভ্রমণস্থান নিয়ে পড়ুন এখানে।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫
আরও পড়ুন: দার্জিলিং-এর মনাস্ট্রি
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- নিজস্ব সংকলন


আপনার মতামত জানান