সববাংলায়

দার্জিলিং এর মনাস্ট্রি ভ্রমণ

দার্জিলিং শুধুই চা বাগান এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দর্শন করার জন্য বিখ্যাত নয়, দার্জিলিং শহরে রয়েছে অসংখ্য মনাস্ট্রি। এই মনাস্ট্রিগুলোর ধর্মীয় গুরুত্ব তো রয়েইছে, তাছাড়াও দার্জিলিং এর মনাস্ট্রি গুলো দার্জিলিংয়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দার্জিলিং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ করতে হলে দার্জিলিং এর মনাস্ট্রি গুলো অবশ্যই ঘুরে দেখতে হবে। এখানে দার্জিলিং এর মনাস্ট্রি গুলো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হল –

ভুটিয়া বস্তি মনাস্ট্রি

দার্জিলিং চৌরাস্তা মলের ১ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত এই মনাস্ট্রির পোশাকি নাম হল কর্মা দোরজে চোলিং মনাস্ট্রি। তবে দার্জিলিং শহরের ভুটিয়া বস্তিতে অবস্থিত হওয়ার কারণে এটি ভুটিয়া বস্তি মনাস্ট্রি নামেই অধিক পরিচিত। এই মনাস্ট্রিটি ভুটিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা পরিচালনা করে। ১৮৭৯ সালে সিকিম থেকে ভুটিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা এখানে চলে আসেন এবং এটি নির্মাণ করেন।

তামাং মনাস্ট্রি

দার্জিলিং চৌরাস্তা মল থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মনাস্ট্রির পোশাকি নাম হল তাশি দার্গ্যালিং মনাস্ট্রি। দার্জিলিং শহরের কাছেই অবস্থিত এই মনাস্ট্রিটি তামাং সম্প্রদায়ের কাছে প্রাচীনতম মনাস্ট্রি এবং তাঁরাই এটি পরিচালনা করে। ১৯২৬ সালে এই মনাস্ট্রির নির্মাণ করা হয়েছিল।

ডালি মনাস্ট্রি

দার্জিলিং চৌরাস্তা মল থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মনাস্ট্রির পোশাকি নাম হল ড্রুক স্যাংগা চোলিং মনাস্ট্রি। তবে এটি ডালি মনাস্ট্রি নামেই অধিক পরিচিত। মনাস্ট্রিটি এখানের মধ্যে সবচেয়ে বড় মনাস্ট্রি।

ডালি মনাস্ট্রি
ডালি মনাস্ট্রি। ছবি সববাংলায়

উনবিংশ শতকের শেষ দিকে এই মনাস্ট্রিটি নির্মিত হয়। মনাস্ট্রিটি খুব বড় এবং মনাস্ট্রির শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। মনাস্ট্রিটির বাইরে ছবি তোলায় কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও এর ভিতরে ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মনাস্ট্রিটির পাশেই রয়েছে মিউজিয়াম, যেখানে প্রবেশের জন্য কুড়ি টাকা মূল্যের টিকিট কাটতে হবে। তবে আপনি মিউজিয়ামে না যেতে চাইলেও আপনাকে গেটে টিকিট কাটতেই হবে। তাই ডালি মনাস্ট্রি ঘুরতে গেলে হাতে একটু সময় নিয়ে যাওয়া ভাল যাতে একইসাথে মনাস্ট্রি এবং মিউজিয়াম দুটোই দেখা যায়। মিউজিয়ামের ভিতরে ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

আলুবাড়ি মনাস্ট্রি

দার্জিলিং চৌরাস্তা মল থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মনাস্ট্রির পোশাকি নাম হল ম্যাগ-ধোগ ইওলমোয়া মনাস্ট্রি। নেপাল থেকে আসা ইয়লমো সম্প্রদায় এই মনাস্ট্রিটি নির্মাণ করেছিল। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এই মঠের নির্মাণ কাজ চলতে থাকে। সে কারণে পৃথিবীর শান্তিকামনার উদ্দেশ্যে এই মনাস্ট্রিটিকে উৎসর্গ করা হয়।

ঘুম মনাস্ট্রি

ঘুম মনাস্ট্রি
ঘুম মনাস্ট্রি। ছবি সববাংলায়

দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে ঘুম অঞ্চলে অবস্থিত ঘুম মনাস্ট্রির পোশাকি নাম হল স্যামটেন চোলিং মনাস্ট্রি। তবে এটি ঘুম মনাস্ট্রি নামেই অধিক পরিচিত। গোর্খা সৈন্যদের স্মরণে বিংশ শতকের শুরুর দিকে এই মনাস্ট্রিটি নির্মিত হয়েছিল বলে জানা যায়। এখানে ভগবান বুদ্ধের একটি ২৬ ফুট উঁচু মূর্তি রয়েছে, যেটি খুব সম্প্রতিই নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে বেশ কিছু প্রাচীন বৌদ্ধ পাণ্ডুলিপি এবং বই রয়েছে। মনাস্ট্রির ভেতরে শীতের পোশাক এবং ঘর সাজানোর জিনিসপত্র বিক্রি হয়। এখানে যাওয়ার জন্য কোন প্রবেশমূল্য নেই।

পুরনো ঘুম মনাস্ট্রি

দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে ঘুম অঞ্চলে অবস্থিত এই মনাস্ট্রির পোশাকি নাম হল ইগা চোয়েলিং মনাস্ট্রি। তবে এটি পুরনো ঘুম মনাস্ট্রি নামেই অধিক পরিচিত।

ঘুম মনাস্ট্রি
পুরনো ঘুম মনাস্ট্রি। ছবি সববাংলায়

এই মনাস্ট্রির প্রধান ঐতিহাসিক গুরুত্ব হল যে, এটি দার্জিলিং অঞ্চলে নির্মিত প্রথম তিব্বতি বৌদ্ধ বিহার। ১৮৫৭ সালে একজন মোঙ্গোলিয়ান পণ্ডিত এই প্রাচীন মনাস্ট্রি নির্মাণ করেন। অনেককালের অনেক ইতিহাস বুকে নিয়ে এটি দাঁড়িয়ে রয়েছে স্বমহিমায়। তবে দার্জিলিং শহরের বাইরে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণত দার্জিলিং এর ঘোরার প্যাকেজের তালিকায় এই মনাস্ট্রিটি থাকে না। তাই এখানে যেতে হলে অবশ্যই গাড়ি বুক করার সময়ে আলাদা ভাবে কথা বলে নেবেন। এখানে কোন প্রবেশমূল্য নেই। তবে মনাস্ট্রির ভেতরে ছবি তুলতে হলে দশ টাকা লাগে। পুরনো ঘুম মনাস্ট্রি নিয়ে আরও বিশদে জানতে পড়ুন এখানে

সোনাদা কার্মা গ্যালসিং মনাস্ট্রি

দার্জিলিং মল থেকে কিছুটা দূরে, সোনাদা এলাকায় অবস্থিত এই মনাস্ট্রিটি তিব্বতী বৌদ্ধধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই মনাস্ট্রিটি বিংশ শতকের শেষ দিকে নির্মিত হয়।

গিং গুম্ফা

দার্জিলিং মল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মনাস্ট্রির পোশাকি নাম হল সাংচেন থোং ডেলিং গুম্ফা। এটি দার্জিলিং শহরে প্রাচীনতম মঠগুলির মধ্যে একটি। যখন দার্জিলিং সিকিম রাজ্যের অন্তর্গত ছিল, তখন নির্মিত হয়।

সতর্কতা ও পরামর্শ

  • ডালি মনাস্ট্রির মিউজিয়ামে না যেতে চাইলেও আপনাকে গেটে মিউজিয়ামের টিকিট কাটতেই হবে।
  • ডালি মনাস্ট্রির মিউজিয়ামের ভিতরে ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
  • দার্জিলিং শহরের বাইরে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণত দার্জিলিং এর ঘোরার প্যাকেজের তালিকায় পুরনো ঘুম মনাস্ট্রিটি থাকে না। তাই এখানে যেতে হলে অবশ্যই গাড়ি বুক করার সময়ে আলাদা ভাবে কথা বলে নেবেন।
  • পুরনো ঘুম মনাস্ট্রির ভেতরে ছবি তুলতে হলে দশ টাকা লাগে।
  • সব মনাস্ট্রি একদিনে ঘোরা সম্ভব নয়। তাই কোথায় কোন দিনে যাবেন, তা গাড়ির সাথে অবশ্যই কথা বলে নেবেন।
  • মনাস্ট্রির ভেতরে কোলাহল করবেন না। শালীনতা এবং নীরবতা বজায় রাখবেন

সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. Darjeeling, City Guide Map, Editors – Dr. RP Arya, Jitender Arya, Dr. Gayathri Arya, Anshuman Arya, Page 14-15
  3. https://darjeeling.gov.in/dali-monastery/
  4. https://en.wikipedia.org/Bhutia_Busty_Monastery
  5. https://en.wikipedia.org/wiki/Ging_Gompa
  6. https://www.holidify.com/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading