সববাংলায়

কালিম্পং ভ্রমণ

পাহাড়প্রিয় মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে কেবল পাহাড় নয়, সেই সঙ্গে সবুজ অরণ্য, খরস্রোতা নদী এবং কুয়াশাচ্ছন্ন অপূর্ব সুন্দর এক শহর যদি উপভোগ করতে হয়, তবে কালিম্পং হতে পারে একটি উপযুক্ত গন্তব্য। হিমালয়ের পাদদেশে গভীর এক উপত্যকার মধ্যে অবস্থিত এই শহর পর্যটকদের নিমেষেই মুগ্ধ করে দিতে পারে। নাতিশীতোষ্ণ আরামদায়ক আবহাওয়া এবং এখানকার জনপ্রিয় সব পর্যটনকেন্দ্রগুলির টানে মানুষ ছুটে আসেন বারবার। তাছাড়া অর্কিডের জন্যও খুবই বিখ্যাত এই কালিম্পং। অসংখ্য বৌদ্ধমঠ, তিব্বতি মন্ত্রোচ্চারণের গম্ভীর ধ্বনি, পাহাড়ি নির্জনতা, কুয়াশার মায়া—সব মিলিয়ে কালিম্পং বাস্তবিকই যেন এক জাদু শহর। একঘেঁয়ে জীবন থেকে মুক্তি পেতে এই শৈলশহরে ঘুরতে গেলে হতাশ হবেন না।

দার্জিলিং হিমালয়ের পূর্বদিকে ১৩০০ মিটার উচ্চতায় কালিম্পং অবস্থিত। ভারতের পূর্বদিকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একেবারে উত্তরে এর অবস্থান। দার্জিলিং হিল স্টেশন থেকে কালিম্পং-এর দূরত্ব ৫৩ কিলোমিটার।

কালিম্পং নামটির উৎস নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত আছে। তিব্বতি ভাষায় কালিম্পং নামের অর্থ হল রাজার মন্ত্রীদের সমাবেশ এবং তিব্বতি কালন ও পং শব্দদুটি থেকে এই নামের উৎপত্তি বলে মনে করা হয়। লেখক কেপি তামসাং-এর মতে, কালেনপুং থেকে কালিম্পং নামটির উদ্ভব, যার অর্থ সম্মিলিত পাহাড়। সময়ের সাথে সাথে নামটি বিকৃত হয়ে কালিবুং হয় এবং তা থেকে হয় কালিম্পং। অন্য একটি মতানুসারে, এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে প্রাপ্ত একটি তন্তুজাতীয় উদ্ভিদ কৌলিম (স্থানীয়রা বলে ওদাল) থেকে কালিম্পং নামটির উদ্ভব হওয়া সম্ভব।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত, কালিম্পং-এর আশেপাশের অঞ্চল সিকিমিজ এবং ভুটানি রাজ্যের দ্বারা শাসিত ছিল। কালিম্পং ১৭০৬ সালে ভুটানের নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা যায়। ১৮৬৪ সালে অ্যাংলো-ভুটান যুদ্ধের পর, সিনচুলা চুক্তি (১৮৬৫) স্বাক্ষরিত হয়, যাতে তিস্তা নদীর পূর্বে ভুটানি-অধিকৃত অঞ্চল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়। কয়েক বছর ধরে এটি ‘পশ্চিম ডুয়ার্স’ জেলা হিসাবে শাসিত হয়েছিল এবং তিনটি তহসিলে বিভক্ত ছিল। কালিম্পং ডালিংকোট তহসিলের মধ্যে পড়ত। ১৮৬৬ সালে কালিম্পং দার্জিলিং জেলার সাথে যুক্ত করা হয়। যুদ্ধের পর, অঞ্চলটি পশ্চিম ডুয়ার্স জেলার একটি মহকুমায় পরিণত হয়। এখানকার নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু ব্রিটিশদের দার্জিলিং-এর বিকল্প হিল স্টেশন হিসেবে শহরটিকে গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছিল। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর কালিম্পং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অংশ হয়ে ওঠে। ১৯১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দার্জিলিং জেলার একটি মহকুমা হিসেবে কালিম্পং পরিচালিত হয়েছিল। ২০১৭ সালেই কালিম্পং পৃথক জেলা হিসেবে ঘোষিত হয় এবং পশ্চিমবঙ্গের একুশতম জেলা হয়ে ওঠে।

পাহাড়, অরণ্য, খরস্রোতা নদী, মায়াবি কুয়াশার হাতছানি—এইসব মিলিয়ে এখানের তুলনা মেলা ভার। সেইসঙ্গে অবশ্যই উপরিপাওনা এখানকার বিখ্যাত ফুলের বাজার। হরেকরকম চোখধাঁধানো রঙিন ফুলের বাহার, বিশেষত বিচিত্র অর্কিডের সমাবেশে ও সুগন্ধের মধ্যে যে অপূর্ব অনুভূতি হবে তা ভাষায় প্রকাশ করা দুঃসাধ্য ব্যাপার। সবুজ উপত্যকার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ থেকে আগত মন্ত্রোচ্চারণের গম্ভীর ধ্বনি, কুয়াশাবৃত ছোট্ট এই শৈলশহরের অপূর্ব ও সুদৃশ্য রাস্তাঘাট, ঘন পাইনবনের নির্জনতা ও নিস্তব্ধতা এক নিমেষে সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেবে। দূরে পাহাড়ের কোলে সূর্যের ঢলে পড়া কিংবা সেই পাহাড়ের গা ঘেঁষেই সূর্যোদয়ের সময় বিচিত্র রঙের যে হোলিখেলা দেখা যায়, সেই অভিজ্ঞতা আজীবনকালের এক অমূল্য সঞ্চয় হয়ে থেকে যাবে। পাহাড়ি খরস্রোতা নদীর তীরে, প্রাচীন সাহেব বাংলোর রহস্যাবৃত পরিবেশে কত বিচিত্র স্বাদের অভিজ্ঞতা জড়ো হবে মনে। ডেলো পাহাড়ের ওপর থেকে গোটা কালিম্পং শহরের সম্পূর্ণ দৃশ্য উপভোগ করবার আনন্দ তো অবর্ণনীয়। এছাড়াও এখানে প্যারাগ্লাইডিং-এরও সুযোগ রয়েছে। আকাশের বুকে প্যারাসুটে করে এই শৈলশহরের ওপর দিয়ে পাখির মতো উড়ে বেড়ানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়ে থাকতে বাধ্য। সব মিলিয়ে শৈলশহর কালিম্পং-এর ছুটি কাটানোর এক আদর্শ জায়গা।

ট্রেনে করে যেতে হলে হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা স্টেশন ছাড়াও সাঁতরাগাছি জংশন থেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের ট্রেন ধরতে হবে। নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনে নেমে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে চলে যেতে হবে কালিম্পং। কেউ যদি সম্পূর্ণ সড়কপথে কালিম্পং যেতে চান, তাহলে, ধর্মতলা বাস টার্মিনাস থেকে শিলিগুড়ির বাস পাওয়া যাবে সহজেই। শিলিগুড়ি থেকে আবার কালিম্পং পর্যন্ত যাওয়ার অনেক বাস রয়েছে। বিমানে যেতে হলে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে গাড়িতে যেতে হবে কালিম্পং।

কালিম্পং পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে যেহেতু খুবই জনপ্রিয় তাই এখানে বিভিন্নরকম ভাড়ার থাকবার হোটেল সহজেই পাওয়া যাবে। শহরের মধ্যে এমন হোটেল অনেক পাওয়া যাবে যেখান থেকে সহজেই দূর পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

কালিম্পং-এ ঘুরতে গেলে যেসব স্থানগুলি অবশ্যই দ্রষ্টব্য, সেগুলি সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল।

ডেলো পাহাড় – কালিম্পং-এর আকর্ষণীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হল ডেলো পাহাড়। প্রায় ২০০০ মিটার উচ্চতায় এই পাহাড় অবস্থিত। এই পাহাড়ের ওপর থেকে গোটা কালিম্পং শহরের এক অসাধারণ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য চোখে পড়ে। এই পাহাড়ের ওপর থেকে সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখবার অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখবার জন্য পাহাড়ের ওপরে নির্দিষ্ট ভিউ পয়েন্টও রয়েছে। ডেলো পাহাড় ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে এখানে ক্লিক করুন।

কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার – ডেলো পাহাড়ের কাছে অবস্থিত কালিম্পং সায়েন্স সেন্টারটি বিশেষত ছোটদের জন্য খুবই উপভোগ্য। ভিতরে এবং বাইরে দুইজায়গাতেই বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের প্রদর্শনী এখানে দেখা যায়। এছাড়াও এর ভিতরে একটি থ্রীডি মুভি থিয়েটার রয়েছে। বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র শুধু ঘুরে দেখবার জন্য ১০টাকা প্রবেশমূল্য এবং মুভি থিয়েটারের জন্য লাগে ৩০টাকা। সোমবার এই বিজ্ঞানকেন্দ্র বন্ধ থাকে।

মঙ্গলধাম – কালিম্পং-এর রেলিরোডে অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দির হল এই মঙ্গলধাম। এই মন্দিরটি গুরুজী শ্রী মঙ্গলদাসজী মহারাজের স্মৃতিতে নির্মিত। এখানকার প্রধান আরাধ্য দেবতা হলেন শ্রীকৃষ্ণ। মন্দিরে গুরুজীর সমাধি রয়েছে। মন্দিরের ভিতরে কৃষ্ণলীলার বিভিন্ন দৃশ্যও চিত্রিত রয়েছে দেখা যায়। মন্দির সংলগ্ন একটি সুদৃশ্য ফুলের বাগান রয়েছে, যেখানে ঘুরে বেড়াতে দারুণ লাগে।

পাইন ভিউ নার্সারি – পাইন ভিউ নার্সারি হল কালিম্পং-এর তিস্তা নদীর তীরে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় ক্যাকটাস নার্সারি। এটি সমগ্র এশিয়ার মধ্যে ক্যাকটাসের বৃহত্তম সংগ্রহ। একটি বৃহৎ গ্রীনহাউসে বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাসের প্রজাতি সেখানে দেখতে পাওয়া যায়। ২ একর জমি জুড়ে প্রায় ১৫০০ প্রজাতির ক্যাকটাস রয়েছে এখানে। ৪০ বছর ধরে সারা বিশ্ব থেকে এগুলি সংগ্রহ করা হয়েছে। এখানে প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ২০টাকা করে। তবে বিকেল চারটে পর্যন্ত এটি খোলা থাকে।

নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার – এই কেন্দ্রটি পরিবেশের ওপর মানুষের কার্যকলাপের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে। এই কেন্দ্রটি বনবিভাগ দ্বারা গঠিত। এখানে জাদুঘরে পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্য, ছবি, আলোকচিত্রের প্রদর্শনী দেখা যাবে। পাওয়া যাবে পরিবেশ বিষয়ক বইও।

থার্পা চোয়েলিং গোম্পা – ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত থার্পা চোয়েলিং মনাস্ট্রিটি কালিম্পং-এর তিরপাই পাহাড়ে অবস্থিত। এটি এখানকার প্রাচীনতম গোম্পাগুলির মধ্যে একটি। এই মঠে বেশকিছু প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ ও সাহিত্যের গ্রন্থও সংরক্ষিত রয়েছে।

দুরপিন দারা পাহাড় – দুরপিন দারা পাহাড় থেকে কালিম্পং শহরের মনোরম দৃশ্য, পশ্চিম সিকিমের তুষার-ঢাকা হিমালয় পর্বতমালা, তিস্তা নদী এবং এর উপত্যকা দারুণভাবে উপভোগ করা যায়। সেই পাহাড়ের ওপরে একটি গল্ফ কোর্স রয়েছে, জাং ধোগ পালরি মঠ রয়েছে এবং রয়েছে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন।

মরগ্যান হাউস – মিস্টার এবং মিসেস মরগান ১৯৩০-এর দশকে মর্গান হাউস নামে পরিচিত বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। এটি কালিম্পং-এর ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের একটি নিদর্শন। এই বাড়িটিকে ঘিরে আবার কিছু ভুতুড়ে গল্পও গড়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

নেওরা ভ্যালি ন্যাশানাল পার্ক – নেওরা ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কে না যাওয়া পর্যন্ত কালিম্পং ভ্রমণ যেন ঠিক সম্পূর্ণ হয় না। এই ন্যাশানাল পার্কটি বিপন্ন লাল পান্ডা এবং কালো এশিয়াটিক বিয়ারের আবাসস্থল। এছাড়াও অন্যান্য বন্যপ্রাণী তো প্রচুর রয়েছেই, সেইসঙ্গে বিরল প্রজাতির অনেক পাখিও দেখা যায় এখানে। পার্কের সর্বোচ্চ পয়েন্ট রাচেলা পাস যা সিকিম এবং ভুটানের সাথে একটি সীমান্ত তৈরি করে। পার্কে প্রবেশের জন্য ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস থেকে পারমিট নিতে হবে। পার্কটি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকে।

জেলেপ্লা ভিউপয়েন্ট – এটি কালিম্পং-এর অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। ভারতীয় সেনাবাহিনী জেলেপ্লা ভিউপয়েন্ট রক্ষণাবেক্ষণ করে। জেলেপ্লা পাস তিব্বতের সাথে বাণিজ্যের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। এখান থেকে তুষারাবৃত কাঞ্চনজঙ্ঘার দুর্দান্ত দৃশ্য চোখে পড়ে।

লেপচা জাদুঘর – কালিম্পং-এর মূল শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে এই লেপচা জাদুঘর অবস্থিত। লেপচা জনজাতির সাংস্কৃতিক ইতিহাসটিকে এখানে গেলে খুব ভাল বোঝা যেতে পারে। এখানে তাদের উপাসনার বিভিন্ন সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র এবং পোশাক রয়েছে। সোম থেকে শুক্র সকাল ১০.৩০টা থেকে বিকেল ৪.৩০টে পর্যন্ত এবং শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে।

ম্যাকফারলেন মেমোরিয়াল চার্চ – ১৮৯০-এর দশকে একজন স্কটিশ ধর্মপ্রচারক দ্বারা নির্মিত ম্যাকফারলেন মেমোরিয়াল চার্চটি কালিম্পং-এর অন্যতম একটি আকর্ষণ। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই গির্জা খোলা থাকে। গির্জার ভিতরে ফটোগ্রাফি, খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় গ্রহণ নিষেধ।

শহীদ পার্ক – শহীদ পার্ক ১২০০ গোর্খাদের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যাঁরা ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে গোর্খাল্যান্ডের জন্য লড়াই করে মারা গিয়েছিলেন। এখানকার স্থানীয় ইতিহাসের একটুকরো যেন পার্কে সংরক্ষিত করা রয়েছে।

ড. গ্রাহামস হোম – রেভারেন্ড ডঃ জন অ্যান্ডারসন গ্রাহাম ১৯০০ সালে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রায় ৫০০ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত এই স্কুল দেওলো পাহাড়ের নীচের ঢালে অবস্থিত। এর ভিতরকার জাদুঘর এবং লাইব্রেরিতে পর্যটকেরা ঘুরে আসতে পারবেন।

প্রতিমা দেবীর বাড়ি (ঠাকুরবাড়ি) – ১৯৪৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যের এক নিদর্শন হিসেবে এই বাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে আজও। জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিও।

ক্রুকটি হাউস – ক্রুকটি হাউসে বিখ্যাত রাশিয়ান দার্শনিক এবং লেখক হেলেনা রোরিচ তার জীবনের শেষ ৭ বছর অতিবাহিত করেছিলেন। এই বাড়িটি কালিম্পং-এর আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি। এই বাড়িটিতে ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন লক্ষ করা যায়।

থংসা গোম্পা – থংসা গোম্পা অবশ্যই কালিম্পং-এর দর্শনীয় স্থানের তালিকায় থাকা উচিত। এই অঞ্চলের প্রাচীনতম মঠগুলির মধ্যে এটি একটি। এখানকার শান্ত, নির্মল ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ মনকে শান্তিতে ভরিয়ে দেবে। এই গোম্পায় ২১৯টি প্রার্থনার চাকা রয়েছে।

হনুমান মন্দির – ডেলো পাহাড়ের পথে অবস্থিত কালিম্পং-এর হনুমান মন্দির এখানকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থান। পূর্ব ভারতের সবচেয়ে উঁচু হনুমানের মূর্তিটি আছে এখানেই। সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই মন্দির খোলা থাকে।

সেন্ট থেরেসা ক্যাথলিক চার্চ – স্থানীয় কারিগরদের দ্বারা নির্মিত এই চার্চটি একটি ভুটানি গোম্পা (মঠ)-এর মত এবং এটি তিব্বতি স্থাপত্য নকশায় নির্মিত। বাইবেলের বিভিন্ন দৃশ্য থেকে আঁকা ছবি এবং শিলালিপি দিয়ে এই গির্জার দেওয়াল শোভিত।

ইচ্ছেগাঁও – এই জায়গাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখান থেকে সিলারী গাঁও এবং আলগারাহ পর্যন্ত বিদ্যমান ট্রেকিং রুট রয়েছে। সুন্দর সিনকোনা এবং পবিত্র কোকো মেন্ডো গাছে ঘেরা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত, এটি একটি মডেল ইকো ভিলেজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালিম্পং থেকে আশেপাশে দার্জিলিং বা গ্যাংটক থেকেও ঘুরে আসা যায়।

কালিম্পং একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এখানে সারাবছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। সারা বছরই তবে মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়কাল কালিম্পং ঘোরার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়।

কালিম্পং-এ কেনাকাটার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য স্থান হতে পারে তিস্তা বাজার। চীন, তিব্নত, ভুটান থেকে আসা বিভিন্নরকম জিনিসপত্র পাওয়া যায় এখানে। এছাড়াও হস্তশিল্পের অনেক উপকরণও পাওয়া যায়।

ট্রিপ টিপস

  • কীভাবে যাবেন – ট্রেনে যেতে হলে নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি স্টেশনে নেমে সেখান থেকে গাড়ি বা বাস ধরে চলে যাওয়া যায় কালিম্পং। বাসে যেতে হলে ধর্মতলা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত বাসে গিয়ে সেখান থেকে বাস বদল করে কালিম্পং পৌঁছনো যায়। বিমানে গেলে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে যেতে হবে।
  • কোথায় থাকবেন – কালিম্পং জনপ্রিয় পর্যটন স্থান বলে এখানে বিভিন্নরকম দামের থাকবার হোটেলের অভাব হবে না। সেইসব হোটেল থেকে পাহাড়ের দৃশ্য দারুণ উপভোগ করা যায়।
  • কী দেখবেন – ডেলো পাহাড়, মঙ্গলধাম, কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার, লেপচা জাদুঘর, জেলপ্লা ভিউপয়েন্ট, থংসা গোম্পা, নেওরা ভ্যালি ন্যাশানাল পার্ক, থার্পা চোয়েলিং গোম্পা, সেন্ট থেরেসা ক্যাথলিক চার্চ, পাইন ভিউ নার্সারি ইত্যাদি।
  • কখন যাবেন – মোটামুটি মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কালিম্পং গেলে আরামে ঘোরা যেতে পারে।
  • সতর্কতা – 
    • কালিম্পং-এর ঐতিহাসিক স্থান এবং মঠগুলিতে নোংরা ফেলে অপরিচ্ছন্ন করে তুলবেন না।
    • ন্যাশানাল পার্কের বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন না।
    • সোমবার কালিম্পং সায়েন্স সেন্টারটি বন্ধ থাকে।
    • নেওরা ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশের জন্য ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস থেকে পারমিট নিতে হবে।
    • ম্যাকফারলেন মেমোরিয়াল চার্চের ভিতরে ফটোগ্রাফি, খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় গ্রহণ নিষেধ।
  • বিশেষ পরামর্শ
    • কালিম্পং-এ গেলে শরীরে সামর্থ্য থাকলে এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জনের খিদে থাকলে অবশ্যই প্যারাগ্লাইডিং-এর স্বাদ গ্রহণ করবেন।

সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৩


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading