সববাংলায়

তাকদা ভ্রমণ

দার্জিলিং বললে যেমন প্রথমেই পাহাড়ের কথা মনে আসে তেমনি প্রসঙ্গতই এসে পড়ে চা বাগানের কথাও।। এখানে পাহাড়, অরণ্য, চা-বাগানের সৌন্দর্য একত্রে উপভোগ করবার দারুণ অবকাশ রয়েছে। এই দার্জিলিং-এ এমন কয়েকটি অফবিট জায়গা রয়েছে, সৌন্দর্যের বিচারে যাদের জুড়ি মেলা ভার। সুদৃশ্য চা-বাগান এবং অর্কিডের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে অবশ্যই তাকদায় যেতে হবে। দার্জিলিং-এর একটি সুদৃশ্য গ্রাম এই তাকদার কাছেই রয়েছে সবচেয়ে সুন্দর চা-বাগানগুলি। কাঞ্চনজঙ্ঘা এখান থেকে দেখা যায় না, কিন্তু চা-বাগান, অর্কিড সেন্টারে বিচিত্র অর্কিডের সমাহার, কুয়াশাচ্ছন্ন, শান্ত, স্নিগ্ধ মায়াবী সবুজ এক গ্রাম যদি উপভোগ করতে হয় তবে অবশ্যই তাকদা হতে পারে এক উপযুক্ত ভ্রমণস্থল। তাকদা থেকে খুব কাছাকাছি তিনচুলের আরও এমনকিছু অসাধারণ দর্শনীয় স্থান রয়েছে যেগুলি একটি দিনের মধ্যেই দেখে নেওয়া সম্ভব। তাকদাতে রয়েছে মনাস্ট্রিও, যা নির্মল শান্তির আশ্রয়। সবমিলিয়ে শহুরে ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে গিয়ে দুদন্ড অবসর যাপনের একটি উপযুক্ত স্থান হতে পারে দার্জিলিং-এর তাকদা।

তাকদা কোথায়

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত ছোট পাহাড়ি গ্রাম হল তাকদা। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে এটি দার্জিলিং সদর মহকুমার রুংলি রুংলিয়ট সিডি ব্লকের একটি অংশ। এই গ্রামটি প্রায় ৫১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। তাকদা দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে, কালিম্পং থেকে তাকদা ৩৩ কিলোমিটার দূরে, শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৫৯ কিলোমিটার দূরে এবং নিউ জলপাইগুড়ি থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কলকাতা থেকে তাকদার দূরত্ব প্রায় ৬৩৮ কিলোমিটার।

তাকদার ইতিহাস

তাকদা ভ্রমণ » সববাংলায়
তাকদার অর্কিড। ছবি সববাংলায়

তাকদা বা স্থানীয় ভাষায় তুকদা শব্দের অর্থ হল, কুয়াশায় ঢাকা। বাস্তবিকই এই গ্রামে ঘুরতে গেলে এমন নামের সার্থকতা বুঝতে পারা যায়। তাকদার ইতিহাসের দিকে তাকালে ব্রিটিশদের প্রসঙ্গ চলে আসে। বিশ শতকের গোড়ার দিকে, ১৯১১ সালে এই তাকদাতে ব্রিটিশদের সেনানিবাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজও সেখানে পুরোনো, সেই ব্রিটিশ আমলের কিছু চিহ্ন, স্থাপত্য খুঁজে পাওয়া যাবে। যেমন, সেখানে মূল টাউন থেকে ১ কিলোমিটার দূরত্বেই দেবদারু গাছের সারিতে ঢাকা একটি পুরোনো ক্লাব রয়েছে যা ব্রিটিশ সেনানিবাসের সাক্ষীস্বরূপ দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখন বর্তমানে সেটি পর্যটকদের থাকার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। এছাড়াও ব্রিটিশদের থাকবার জন্য সেখানে বাংলো এবং ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলী মেনে অনেক বাড়ি তৈরি করা হয়েছিল। এই বাংলো এবং বাড়িগুলি মূলত ১৯০৫ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। সেই বাড়িগুলির কিছু কিছু স্থানীয়রা গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহার করছেন। কয়েকটি বাংলোকে আবার স্কুলে রুপান্তরিত করা হয়েছে। এখানে রয়েছে প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি পুরোনো তারের ঝুলন্ত সেতু। তখন এখান থেকে শিলিগুড়ি যেতে হত ঘুম হয়ে, সেটিই ছিল একমাত্র পথ। কিন্তু দ্রুত সরবরাহের জন্য প্রয়োজন ছিল একটি সংক্ষিপ্ত পথ, সেই প্রয়োজন মেটাতেই এই ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে নির্মিত একটি মঠ রয়েছে এই তাকদায়।

তাকদা কীভাবে যাবেন

ট্রেনে করে তাকদাতে যেতে হলে হাওড়া বা শিয়ালদহ বা বর্ধমান থেকে উত্তরবঙ্গের ট্রেন ধরে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে দার্জিলিং-এর ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া যাবে তাকদাতে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন এবং শিয়ালদহ/হাওড়া/বর্ধমান রুটের কয়েকটি ট্রেনের তালিকা নিচে দেওয়া হল। এদের মধ্যে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস বুধবার বন্ধ থাকে।

ট্রেন নাম্বারট্রেনের নামকোথা থেকে ছাড়বেকখন ছাড়বেকোথায় পৌঁছবেকখন পৌঁছবে
২২৩০১বন্দে ভারত এক্সপ্রেসহাওড়াসকাল ৫টা ৫৫ মিনিটনিউ জলপাইগুড়িদুপুর ১টা ২৫ মিনিট
১৩১৪৭উত্তর বঙ্গ এক্সপ্রেসশিয়ালদহরাত ৭টা ৪০ মিনিটনিউ জলপাইগুড়িপরেরদিন সকাল ৬টা ২০ মিনিট
১৩১৪৭উত্তর বঙ্গ এক্সপ্রেসবর্ধমান জংশনরাত ৯টা ২২ মিনিটনিউ জলপাইগুড়িপরেরদিন সকাল ৬টা ২০ মিনিট
১২৩৪৩দার্জিলিং মেইলশিয়ালদহরাত ১০টা ৫ মিনিটনিউ জলপাইগুড়িপরেরদিন সকাল ৮টা ৫ মিনিট
১২৩৪৩দার্জিলিং মেইলবর্ধমান জংশনরাত ১১টা ৩৮ মিনিটনিউ জলপাইগুড়িপরেরদিন সকাল ৮টা ৫ মিনিট
১২৩৭৭পদাতিক এক্সপ্রেসশিয়ালদহরাত ১১টা ২০ মিনিটনিউ জলপাইগুড়িপরেরদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিট
১২৩৭৭পদাতিক এক্সপ্রেসবর্ধমান জংশনরাত ১২টা ৫৪ মিনিটনিউ জলপাইগুড়িপরেরদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিট
২২৩০২বন্দে ভারত এক্সপ্রেসনিউ জলপাইগুড়িদুপুর ৩টেহাওড়ারাত ১০টা ৩৫ মিনিট
১২৩৪৪দার্জিলিং মেইলনিউ জলপাইগুড়িরাত ৭টা ৪৫ মিনিটবর্ধমান জংশনরাত ৩টে ১৮ মিনিট
১২৩৪৪দার্জিলিং মেইলনিউ জলপাইগুড়িরাত ৭টা ৪৫ মিনিটশিয়ালদহপরেরদিন ভোর সাড়ে ৫টা
১২৩৭৮পদাতিক এক্সপ্রেসনিউ জলপাইগুড়িরাত ৮টা ৪০ মিনিটবর্ধমান জংশনপরেরদিন ভোর ৪টে ২০ মিনিট
১২৩৭৮পদাতিক এক্সপ্রেসনিউ জলপাইগুড়িরাত ৮টা ৪০ মিনিটশিয়ালদহপরেরদিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট

বাসে করে যেতে হলে শিলিগুড়ি পর্যন্ত বাসে গিয়ে, সেখান থেকে তাকদা বাজার পর্যন্ত শেয়ারের ট্যাক্সি বা জিপ পাওয়া যায়। অবশ্য গাড়িও বুক করে নেওয়া যাবে। বলে নেওয়া ভালো যে, ওইসব শেয়ারের ট্যাক্সি সাধারণত বেলা আড়াইটের পর চলে না। এখানে উল্লেখ্য যে, বিকেলের দিকে দার্জিলিং থেকে তাকদা পর্যন্ত বাস পাওয়া যায়। প্রাইভেট গাড়িতে আসতে হলে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সেবক রোড (১০ নম্বর জাতীয় সড়ক) ধরতে হবে এবং তারপর রাম্বি বাজার, তিস্তা বাজার ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে গিয়ে বড় মাংওয়া, ছোট মাংওয়ার ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া যাবে তাকদাতে। দার্জিলিং থেকে গেলে জোড়েবাংলো, পেশক রোড হয়ে যেতে তাকদাতে যেতে হবে। আকাশপথে যেতে হলে নিকটবর্তী বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে ট্যাক্সি বা গাড়ি বুক করে তাকদায় পৌঁছে যাওয়া যাবে।

তাকদায় কোথায় থাকবেন

তাকদা খুব জনপ্রিয় একটি পর্যটনকেন্দ্র না হলেও বর্তমানে এখানে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে, সেই কারণে এখানে থাকার জন্য হোমস্টে, গেস্ট হাউসও গড়ে উঠেছে। পুরোনো ব্রিটিশ আমলের বাড়িগুলি যার মধ্যে কয়েকটিকে হোমস্টে হিসেবে এখন ব্যবহার করা হয়, সেগুলিকে থাকবার জন্য বেছে নেওয়াই যায়। সেখানে থাকলে একরকম রোমাঞ্চও অনুভব করা যাবে। এই সমস্ত হেরিটেজ বাংলোগুলি ছাড়াও অনেক গেস্ট হাউস এবং হোমস্টে এখানে পাওয়া যাবে। এখানে উল্লেখ্য যে, তাকদা ক্লাব হাউসকে বর্তমানে ফরেস্ট রেস্ট হাউসে রূপান্তরিত করে ফেলা হয়েছে। চা বাগান আর সবুজের মাঝে ঘেরা দুর্দান্ত জায়গায় অবস্থিত এই রেস্ট হাউসে থাকলে একটা আলাদা অনুভূতি হবে। সেখানে থাকতে হলে পশ্চিমবঙ্গ বন বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে ঘর বুক করা যাবে।

তাকদায় কী দেখবেন

কুয়াশাচ্ছন্ন ছোট্ট এক পাহাড়ি গ্রাম এই তাকদা। কাঞ্চনজঙ্ঘার শোভা এখান থেকে দৃশ্যমান নয়, তবে দার্জিলিং-এর সবচেয়ে সুন্দর, নয়নাভিরাম চা-বাগানগুলির অবস্থানই এবং সুন্দর অর্কিডে ঘেরা স্থান হল এখানকার বিশেষত্ব। এখানে পাহাড়ের ঢালে সবুজ বন্য প্রকৃতির মধ্যে পায়চারি করার যে আনন্দ তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কুয়াশাচ্ছন্ন পথ, বিচিত্র পাখির কলতান, বিস্তৃত সবুজ ক্ষেত্র, ঝর্ণার শব্দ, বিবিধরকম অর্কিড দর্শনের সুযোগ, চা-বাগানের নৈসর্গিক সৌন্দর্য—প্রকৃতি যেন পর্যটকদের জন্য সুন্দরের ডালি সাজিয়ে রেখেছে এখানে। চাইলে এখানে ট্রেকিং করবারও দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে। সেটিও বেশ একটা অ্যাডভেঞ্চারের মতো হতে পারে। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ইতিহাসের অদ্ভুত মিশেল দেখা যায় এখানে। এমন কুয়াশাচ্ছন্ন নির্জন, শান্ত পরিবেশে প্রাচীন ব্রিটিশ স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনগুলির সামনে দাঁড়ালে রোমাঞ্চকর এক অনুভূতি হতে বাধ্য। সব মিলিয়ে তাকদা অবসর যাপনের জন্য নিঃসন্দেহে এক উপযুক্ত ভ্রমণস্থল। তাকদাতে মূলত দেখার যা-কিছু আছে, সেগুলি সম্পর্কে নিম্নে আলেচনা করা হল।

চা-বাগান – দার্জিলিং জেলার সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর চা-বাগানগুলি থাকার কারণেই তাকদা বিশেষভাবে পরিচিত। হেঁটে বা গাড়িতে করে পাহাড়ের গায়ে অবস্থিত চা-বাগানগুলির নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তাকদাতে অবস্থিত প্রধান চা-বাগানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, রুংলি রুংলিয়ট, গিয়েলে, নামরিং, জিংলাম, পুমং এবং তিস্তা ভ্যালি এস্টেট। এদের মধ্যে বলা হয় রংলি রংলিয়ট চা বাগানটিই সবচেয়ে সুন্দর। তাকদা বাজার থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উৎরাইতে এই চা-বাগান অবস্থিত। কথিত আছে একজন সন্ন্যাসী এই রুংলি রুংলিয়ট চা-বাগানের নামকরণ করেছিলেন। এছাড়াও চায়ের কারখানাগুলিতে গিয়ে চা তৈরির প্রক্রিয়াও স্বচক্ষে দেখে আসবার সুযোগ রয়েছে। তবে শীতকালে সাধারণত বেশিরভাগ কারখানাই বন্ধ থাকে।

গিয়েলে ভানজ্যাং বাজার – রুংলি রুংলিয়ট থেকে আরও নীচের দিকে নেমে গেলে পাওয়া যাবে গিয়েলে ভানজ্যাং বাজার, যা-কিনা গান্ধী চক নামেও পরিচিত। একসময় এখানে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। এখান থেকে কালিম্পং টাউন, দুরপিন দারা, মংপু, রাম্বি খোলা, রঞ্জু ভ্যালি, টাইগার হিল ইত্যাদি অনেকগুলি অসাধারণ সুন্দর জায়গা একসঙ্গে দেখতে পাওয়া যায়। এটি জিংলাম টি এস্টেট এবং গিয়েলে টি এস্টেটের সীমান্ত অংশ। এখান থেকে নীচের দিকে গেলে নামরিং, পুমং এবং জিংলাম চা-বাগানে পৌঁছনো যাবে।

তাকদা ভ্রমণ » সববাংলায়
তাকদা অর্কিড সেন্টার। ছবি সববাংলায়

তাকদা অর্কিড সেন্টার – তাকদার অন্যতম আকর্ষণ হল এই অর্কিড সেন্টার। বাজার এলাকা থেকে সিক্সথ মাইলের দিকে আধ কিলোমিটার দূরত্বে এই অর্কিড সেন্টার অবস্থিত। এখানে বিচিত্র ধরনের রঙিন হিমালয়ান অর্কিডের চাষ হয়। নানারকম অর্কিডের এই বিপুল সম্ভার একত্রে উপভোগ করতে হলে এই অর্কিড সেন্টারে যেতেই হবে। একসময় এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্কিড হাউস ছিল তবে দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার তার পুরনো গরিমা সে হারায়। তবে এখন এই সেন্টারকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নতুনভাবে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখানে প্রবেশ করতে হলে পাঁচ বছরের ওপরের যে কাউকে ২০ টাকা মূল্যের টিকিট কাটতে হবে।

তাকদা মঠ – চা-বাগান এবং অর্কিডের শোভা ছাড়াও এই তাকদাতে রয়েছে একটি মঠ, যার পোশাকি নাম দেচেন পেমা শোইলিং মনাস্ট্রি। তবে স্থানীয়দের কাছে এটি তাকদা মঠ নামে অধিক পরিচিত। বাজার এলাকা পেরিয়ে একটি খাড়া চড়াই রাস্তা চলে গেছে এই মঠের সিঁড়িগুলির দিকে। বেশ কয়েকটি সিঁড়ি ভেঙে এই মঠে পৌঁছতে হয়। ১৯৮৫ সালে এই মঠটি নির্মিত হয়েছিল এবং এখানে বৌদ্ধ নিংমা সম্প্রদায়ের আচারবিধি অনুসরণ করা হয়। এটি অপূর্ব কারুকাজে ভরা। এক নির্মল প্রশান্তি সেখানে বিরাজ করছে। এই মনাস্ট্রি থেকেও আবার দুরপিন দারা ভিউ পয়েন্ট, রুংলি রুংলিয়ট টি এস্টেট, তিস্তা ভ্যালি টি এস্টেট, কালিম্পং ইত্যাদির সুস্পষ্ট দৃশ্য চোখে পড়ে।

তাকদা ভ্রমণ » সববাংলায়
তাকদা ঝুলন্ত সেতু। ছবি ইন্টারনেট

তাকদা ঝুলন্ত সেতু – ১৯১৬ সালে দ্রুত যোগাযোগের জন্য এই ঝুলন্ত সেতুটি নির্মিত হয়েছিল যার পোশাকি নাম বারবেটি ব্রিজ। তাকদার অন্যতম আকর্ষণ হল এই ব্রিজ। ১০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই ঝুলন্ত সেতুটির ওপর দাঁড়ালে রোমাঞ্চ জাগে। তবে পূর্বে এখানে প্রবেশ করতে দিলেও বর্তমানে এই সেতুটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ আছে। কিন্তু এখনও তাকদার সাইটসিইং করার সময় গাড়িচালকেরা এই সেতুটিকে তাদের প্যাকেজ লিস্টে দেখিয়ে থাকেন। আপনারা সাইটসিইং এর সময় অবশ্যই এটা নিয়ে কথা বলে নেবেন।

ডোকান দারা – এই ডোকান দারা হল তাকদার একটি স্থানীয় হাট বা বাজার, যেটি কেবল সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বসে। সেইদিনটিকে ধরে যদি তাকদা ভ্রমণের পরিকল্পনা করা হয়, তবে অবশ্যই হাটটি একটি দর্শনীয় স্থান। আশপাশের জায়গা থেকে মানুষ সেখানে স্থানীয় শাকসবজী ও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে আসে৷ সেখানকার মানুষের স্থানীয় জীবন সম্পর্কে একটা আভাস পেতে হলে এই হাটটি হল উপযুক্ত একটি জায়গা।

উক্ত জায়গাগুলি ছাড়াও তাকদার আশেপাশে যেসব দর্শনীয় স্থান রয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, মংপু, দুরপিন দারা, বড় এবং ছোট মাংওয়া, পেশোক চা-বাগানের ভিউ পয়েন্ট, তিনচুলে, লামাহাট্টা ইত্যাদি।

তাকদায় কখন যাবেন

সারা বছরই তাকদাতে বেশ কিছু পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে। তবে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস, এই সময়কালটি তাকদা ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত বলে মনে হয়। প্রথমত শীতকালে আকাশ পরিস্কার থাকে, আবহাওয়াও থাকে মনোরম। তাছাড়া শীতের কুয়াশায় তাকদার সৌন্দর্য যেন আরও বৃদ্ধি পায়। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যেও যাওয়া চলে, তবে জুনের মাঝামাঝি যখন থেকে বর্ষা শুরু হয়, সেই সময়টা মেঘলা আবহাওয়ার জন্য এবং বৃষ্টিতে জঙ্গলে কিংবা চা-বাগানে ঘোরাঘুরিটা অসুবিধাজনক হতে পারে বলে এই সময়টা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

সতর্কতা ও পরামর্শ :-

  • তাকদায় চা কারখানাগুলি সাধারণত শীতকালে বন্ধ থাকে। তাই চা প্রক্রিয়াকরণ পরিদর্শন করতে হলে শীতকালে আসার পরিকল্পনা না করাই ভালো।
  • শিলিগুড়ি থেকে তাকদা যাওয়ার জন্য যে শেয়ার ট্যাক্সিগুলি পাওয়া যায়, তা সাধারণত বেলা আড়াইটের পর চলে না।
  • তাকদা মঠের ভিতরকার শান্ত পরিবেশটি নষ্ট করবেন না এবং মঠ চত্বর কিংবা তাকদার চা-বাগান বা সবুজ বিস্তীর্ণ ক্ষেত্রগুলি আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না।
  • তাকদার স্থানীয় হাট বা বাজারটি বসে বৃহস্পতিবার। সেখানে ঘুরতে গেলে বৃহস্পতিবারটিকে ধরে পরিকল্পনা করতে হবে।
  • আবহাওয়ার কারণে এবং জঙ্গল ও পাহাড়ে ঘোরাঘুরিতে অসুবিধা হতে পারে বলে বর্ষাকালটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
  • তাকদা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে তাকদা থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত অতীব সুন্দর তিনচুলে গ্রামে চলে যাওয়া যায়। সেখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যাবে।

বিশেষ পরামর্শ

  • তাকদা ক্লাব হাউসকে বর্তমানে ফরেস্ট রেস্ট হাউসে রূপান্তরিত করে ফেলা হয়েছে। চা বাগান আর সবুজের মাঝে ঘেরা দুর্দান্ত জায়গায় অবস্থিত এই রেস্ট হাউসে থাকলে একটা আলাদা অনুভূতি হবে। সেখানে থাকতে হলে পশ্চিমবঙ্গ বন বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে ঘর বুক করা যাবে।
  • বর্তমানে তাকদা ঝুলন্ত সেতু জনসাধারণের জন্য বন্ধ আছে। তবে তাকদার সাইটসিইং করার সময় গাড়িচালকেরা এই সেতুটিকে তাদের প্যাকেজ লিস্টে দেখিয়ে থাকেন। আপনারা অবশ্যই এটা নিয়ে কথা বলে নেবেন।

সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৪


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading