জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সরস্বতী পুজো আর ২৬ জানুয়ারির ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি। ২৩ থেকে ২৬ জানুয়ারির ছুটিতে কোথায় যাবেন ভেবেছেন? এই সময়ে অনেকেই দূরে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করেন এবং ইতিমধ্যেই বেরিয়েও পড়েছেন। আবার অনেকেই এই সময়টা দূরে যাওয়ার প্ল্যান করেন না কারণ ট্রেন-টিকিটের ঝামেলা, হোটেলের বাড়তি দাম আর ভিড়ের কথা ভেবে। কিন্তু ঘরে বসে থাকতেও তো আবার মন চায় না। সেক্ষেত্রে ১–২ রাতের ছোট ট্রিপে কাছাকাছির কোথাও ঘুরে আসতে পারলে মন্দ হয় না। আমাদের এই লেখাটা মূলত তাঁদের জন্যই। ২৩ থেকে ২৬ জানুয়ারির ছুটিতে ঘুরে আসুন এই জায়গাগুলোয়।
১) কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা (সল্টলেক, কলকাতা)
জানুয়ারি মানেই কলকাতা বইমেলা। বইপ্রেমীদের জন্য এটা শুধু একটা মেলা নয়, বরং এক ধরনের উৎসব। নতুন বই কেনা, লেখকদের সঙ্গে দেখা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর ফুড স্টল—সব মিলিয়ে পুরো একটা দিন বা বিকেল অনায়াসে কেটে যায়। যাঁরা দূরে যেতে চাইছেন না, বা ১ দিনের হালকা বেড়ানোর প্ল্যান করছেন, তাঁদের জন্য বইমেলা একদম পারফেক্ট অপশন।
আরও পড়ুন: বাঁকুড়া পুরুলিয়ার পাঁচটি জনপ্রিয় পাহাড়
২) শান্তিনিকেতন (বীরভূম)
শীতকালে শান্তিনিকেতনের আলাদা একটা সৌন্দর্য আছে। লাল মাটির পথ, শাল-পলাশের বন, খোলা আকাশ আর রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত পরিবেশ—সব মিলিয়ে জানুয়ারিতে ঘুরে আসার জন্য দারুণ। বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস, রবীন্দ্রভবন মিউজিয়াম, উত্তরায়ণ কমপ্লেক্স, কলাভবন, সোনাঝুরি হাট—এইগুলোই মূল দ্রষ্টব্য। ২ রাত থাকলেই শান্তিনিকেতন ভালোভাবে ঘোরা যায়।
৩) বিষ্ণুপুর (বাঁকুড়া)
টেরাকোটা মন্দির আর প্রাচীন স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত বিষ্ণুপুর শীতকালে ঘুরে দেখার জন্য একদম আদর্শ। রস মঞ্চ, শ্যাম রায় মন্দির, জোড়বাংলা মন্দির, লালজী মন্দির, দাল মাদল কামান ও বিষ্ণুপুর মিউজিয়াম—সব মিলিয়ে ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য পারফেক্ট স্পট। ১–২ দিনের ট্রিপেই বিষ্ণুপুর কভার করা যায়।
৪) সুন্দরবন
যাঁরা শীতের অ্যাডভেঞ্চার ভালবাসেন, এই ডিসেম্বরে ঘুরে আসুন সুন্দরবন থেকে। সুন্দরবনের পাখিরালয়, দয়াপুর এলাকায় প্রচুর বেসরকারি লজ, হোটেল বা রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া সজনেখালিতে আছে সরকারি পর্যটন আবাস এখানে সেখানে থাকতে হলে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটে আগে বুকিং করতে হবে। তবে সুন্দরবনে বেড়াতে আসা অনেক মানুষই নদীর বুকে লঞ্চ ভাড়া করে থাকতে ভালবাসেন। সেই ব্যবস্থাও এখানে আছে৷ তবে লঞ্চ ভাড়া করতে গেলে আগে বুকিং করে রাখতে হবে৷
রোমাঞ্চের পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেখাও পেতে পারেন। তাছাড়া লঞ্চে করে ঘুরতে ঘুরতে রোদ পোহাতে থাকা কুমীর তো আছেই। বাঘ বা কুমীর ছাড়াও হরিণ, সজারু, গোসাপ, বন বিড়াল, মেছো বিড়াল, বাঁদর, বুনো শূকর, ভোঁদড়ের দেখা মিলবে। পাখিদের মধ্যে চোখে পড়বে গারাপোলা, মদনটাক, বাঁশকুয়াল, গয়াল, করমকুলি, বুনোহাঁস, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, টিয়া, দোয়েল, ফিঙে, দুধরাজ, রক্তরাজ, হাট্টিমাটিম ইত্যাদি নানা প্রজাতির পাখি। তবে সুন্দরবন সফরের মজাটাই হল নদীর বুকে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং রোমাঞ্চ। বিশেষ করে মাতলা নদীর বুকে যখন লঞ্চ ছুটে চলে, তখন মাতলার ব্যাপ্তি এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ জোগায় মনে। সুন্দরবন ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
৫) গৌড়
এই জানুয়ারিতে ঘুরে আসতে পারেন প্রাচীন বঙ্গদেশের রাজধানী গৌড়। বহু রাজবংশের উত্থান পতনের নীরব সাক্ষী গৌড় আজ রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে আগের জৌলুশ হারিয়েছে অনেকটাই। তবুও ইতিহাসের টানে প্রতিবছরই দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর মানুষ আসেন গৌড় ভ্রমণে। শোনা যায়, একসময় গুড়ের ব্যবসার জন্য এই জনপদ ছিল বিখ্যাত আর সেই থেকেই গৌড় নামটা এসেছে। আবার পুরাণ বলে, সূর্যবংশীয় রাজা মান্ধাতার দৌহিত্র গৌড় এই অঞ্চলের অধীশ্বর ছিলেন, সেখান থেকেই এই নামকরণ।
ঐতিহ্যবাহী এই জনপদের বেশিরভাগ অংশ এখন পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার অন্তর্গত, বাকি অংশ পড়েছে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। গৌড় ভ্রমণে বেরিয়ে প্রথমেই দেখে নেওয়া যেতে পারে পিয়াস বারি বা পিয়াজবাড়ি। পিয়াসবাড়ির কাছেই শ্রীচৈতন্যের স্মৃতিবিজড়িত রামকেলি গ্রাম। গৌড়ের সৌধগুলোর মধ্যে অন্যতম বারোদুয়ারী বা বড়সোনা মসজিদ। এছাড়াও গৌড়ের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ দিল্লির কুতুব মিনারের আদলে তৈরি ফিরোজ মিনার। এছাড়া রয়েছে ইউসুফ শাহের তৈরি এক গম্বুজওয়ালা মসজিদ চিকা মসজিদ।
ইতিহাসের খোঁজে আসা পর্যটকেরা আশপাশে ঘুরে দেখে নিতে পারেন তাঁতিপাড়া মসজিদ, ছোটসোনা মসজিদ, লোটন মসজিদ, গুণমন্ত মসজিদ, চমকাটি মসজিদ, কোতোয়ালি দরওয়াজা। শোনা যায়, এই কোতোয়ালি দরওয়াজা দিয়েই নাকি বখতিয়ার খলজি গৌড়ে প্রবেশ করেন। গৌড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এরকম অজস্র জায়গা সমেত গৌড় ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৬
আরও পড়ুন: পুরী ভ্রমণ
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- নিজস্ব সংকলন


আপনার মতামত জানান