আমরা সকলেই জানি পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুরছে, তাই তো পর্যায়ক্রমে দিন-রাত হচ্ছে। পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর এই ঘোরাকে আহ্নিক গতি বলে তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু মনের মধ্যে কি কখনও প্রশ্ন উঁকি দেয় যে এই আহ্নিক গতি এলো কীভাবে বা পৃথিবী ঘোরে কেন? যদি এই প্রশ্ন মাথায় এসে থাকে এবং উত্তর না জানা থাকে তাহলে অবশ্যই এই নিবন্ধটি পড়তে হবে।
পৃথিবীর ঘূর্ণন শুরু হল কীভাবে?
পৃথিবী কিন্তু সৃষ্টির সময় থেকেই ঘুরে চলেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে একটি সুপারনোভা থেকে উদ্ভূত শক-ওয়েভ শীতল হাইড্রোজেন মেঘের উপর দিয়ে বয়ে যায়। এর ফলে সৌর নীহারিকা (solar nebula) তৈরি হয়। এই শক-ওয়েভের বিপুল ভরবেগের ফলে সৌর নীহারিকাটি ঘুরতে শুরু করে। এই সৌর নীহারিকা থেকে গ্রহগুলি তৈরি হওয়ার সময় পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলিও সেই ঘূর্ণন গতি প্রাপ্ত হয়। সৃষ্টির প্রথম দিকে সৌর জগতের সমস্ত বস্তুর ঘূর্ণন বেগ একই দিকে প্রায় একই রকম ছিল। তবে বর্তমানে বিভিন্ন গ্রহের গতি বিভিন্ন।
বিভিন্ন গ্রহের ঘূর্ণন বেগ আলাদা কেন?
সৌর জগতের সৃষ্টির প্রথমদিকে সৌর জগতের বিভিন্ন বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গ্রহগুলির গতি পরিবর্তিত হয় ও ঘূর্ণন অক্ষটিও বিভিন্ন কোণে বেঁকে যায়। উদাহরণ হিসেবে আমাদের পৃথিবীর কথাই ধরা যাক। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, পৃথিবীর সঙ্গে প্রায় মঙ্গল গ্রহের সমান আকারের কোন বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা লাগে । যার ফলে পৃথিবীর অক্ষটি ২৩.৫ ডিগ্রি কোণ করে বেঁকে যায় ও একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে চাঁদ তৈরি হয়। এই ধাক্কার ফলে পৃথিবী আরও দ্রুত ঘুরতে শুরু করেছিল বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।
এখনও পৃথিবী ঘোরে কেন?
সৃষ্টির আদিতে বিপুল কৌণিক ভরবেগের ফলে পৃথিবী ঘুরতে শুরু করেছিল। মহাশূন্যে কোন বাধা না থাকার ফলে জাড্য ধর্মের (inertia)) কারণে পৃথিবী ঘুরেই চলেছে। এখানে জানিয়ে রাখা ভাল, জাড্য ধর্ম হল পদার্থের সেই ধর্ম যা স্থির বস্তুকে স্থির ও গতিশীল বস্তুকে গতিশীল রাখে। শুধু মাত্র বাইরে থেকে বল প্রয়োগ করে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো যায়। তবে পৃথিবীর উপর চাঁদ, সূর্য ও অন্যান্য বস্তুর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে পৃথিবীর ঘূর্ণন বেগ কমছে, তবে তা খুবই কম – প্রতি ১০০ বছরে এক সেকেন্ডের পাঁচশ ভাগের একভাগ।
নিজ অক্ষের উপর ঘোরা ছাড়াও পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণও করে যাকে আমরা বার্ষিকগতি বলি। এর কারণও লুকিয়ে আছে সৃষ্টির আদিতে। সূর্যের বিশাল আয়তনের ফলে সূর্য সৌরজগতের ভরকেন্দ্রে (সঠিকভাবে বললে কেন্দ্রের খুব কাছে) অবস্থিত, আর সেই ভরকেন্দ্রকে কেন্দ্র করেই পৃথিবীসহ গ্রহগুলি ঘুরছে। পৃথিবীর নিজস্ব ভরবেগ, কক্ষপথ এবং সূর্যের আকর্ষণ সব মিলিয়ে একটি স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করেছে।
এখানে খুব সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হল পৃথিবী ঘোরে কেন। প্রসঙ্গত এটাও জেনে রাখা দরকার,নিরক্ষ অঞ্চলে পৃথিবীর গতিবেগ ঘন্টায় ১৬৭০ কিমি, উত্তর বা দক্ষিণ মেরুর দিকে গেলে এই গতিবেগ ক্রমশই কমে আসে পৃথিবীর প্রায় গোলাকার গঠনের জন্য।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান