সববাংলায়

ঠোঁট সরু করে ফুঁ দিলে ঠান্ডা বাতাস বের হয় আর হাঁ করে বাতাস বের করলে গরম হয় কেন?

কোথাও গরম ছ্যাঁকা খেলে জায়গাটি দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য আমরা ঠোঁট সরু করে ফুঁ দিই আবার শীতকালে ঠান্ডা হাতকে গরম করার জন্য হাঁ করে বাতাস দিই। গরম চায়ে চুমুক দেওয়ার আগে ঠান্ডা করার জন্য ফুঁ দেওয়া হয়। এই ঘটনাগুলি খুবই সাধারণ এবং আমাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপের সঙ্গে জুড়ে আছে। অথচ কোনদিন ভেবে দেখেছেন যে ঠোঁট সরু করে ফুঁ দিলে ঠান্ডা বাতাস বের হয় আর হাঁ করে বাতাস বের করলে গরম হয় কেন?

এই আপাত সহজ সরল ব্যাপারটি নিয়েও কিন্তু অনেক ভুল ধারণা জড়িয়ে আছে। অনেকে এই ঘটনাকে চার্লসের সূত্র (Charles’s Law) দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন যা মূলত আদর্শ গ্যাসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অনেকে এই ঘটনাকে ভেঞ্চুরি এফেক্ট (Ventury Effect) দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, তবে সেটিও এক্ষেত্রে ঠিক নয় কারণ এক্ষেত্রে চাপের পার্থক্য খুবই কম হয় এবং তার ফলে যেটুকু উষ্ণতার পার্থক্য হয় তা বোঝা সম্ভব নয়। এখানে ঠোঁট সরু করে ফুঁ দিলে ঠান্ডা বাতাস বের হয় ও হাঁ করে বাতাস দিলে গরম বাতাস বের হয় কেন তার সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করব।

প্রথমেই জেনে রাখা দরকার, ঠোঁট সরু করে বা হাঁ করে বাতাস ছাড়ার দুক্ষেত্রেই বাতাসের উষ্ণতা একই থাকে কারণ এই দুই বাতাসের উৎস একই। দেহের ভিতরের তাপমাত্রা সাধারণত বাইরের তাপমাত্রার থেকে বেশি হয়। ভিতরের যে বাতাস বাইরে আসে তা স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলক ভাবে উষ্ণ হয় এবং দুক্ষেত্রেই সেই উষ্ণতা একই। তাহলে এই পার্থক্য হয় কেন? আসুন এর উত্তর আলাদা আলাদা করে দিই।

ঠোঁট সরু করে ফুঁ দিলে ঠান্ডা বাতাস বের হয় কেন?

ঠোঁট সরু করে ফুঁ দিলে ঠান্ডা বাতাস বের হয় কেন?

ধরুন আপনি হাতের উপর ফুঁ দিচ্ছেন। যখন ঠোঁট সরু করে ফুঁ দেওয়া হয় তখন বাতাস দ্রুত বেগে সরু জায়গা দিয়ে যায়। ফলে মুখের বাতাস তার গতি প্রবাহের দিকে পারিপার্শ্বিক বাতাসকে সঙ্গে টেনে নেয় (চিত্র দেখুন)। এর ফলে হাতের উপর যে হাওয়া গিয়ে পড়ছে তার সঙ্গে থাকে বাইরের ঠান্ডা বাতাস ও সামান্য পরিমাণ ভিতরের উষ্ণ বাতাস, ফলে হাতে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা অনুভূতি হয়। এই ঠান্ডা লাগার পরিমান অনেকাংশে ঠোঁট কতটা সরু করছেন ও কত দ্রুত বায়ু ছাড়ছেন তার উপর নির্ভর করে। বেশি সরু ও বেশি দ্রুত বায়ু ছাড়লে পারিপার্শ্বিক বাতাসের পরিমাণ বাড়বে ও ঠান্ডা বেশি মনে হবে।

আরেকটি কারণ হল, দ্রুতগতিতে হাওয়া যাওয়ার ফলে পরিবহন পদ্ধতিতে জায়গাটি শীতল হয়। হাতের থেকে বা চায়ের কাপের কথা ধরলে চায়ের কাপ থেকে পারিপার্শ্বিক বায়ুর উষ্ণতা কম। তাই দ্রুত হাওয়া দিলে হাতের ওই অংশে দ্রুত ঠান্ডা হাওয়া বয়ে যায় ফলে হাতের ত্বকের থেকে তাপ সঞ্চালন হয় ও জায়গাটি ঠান্ডা অনুভূত হয়। এছাড়াও দ্রুত হাওয়া দেওয়ার ফলে হাতের সেই অংশে ঘামের বাস্পীভবন ঘটে যা লীনতাপ ত্বক থেকে সংগ্রহ করে ও হাওয়াকে ঠান্ডা মনে হয়।

এই কারণেই ঘরের উষ্ণতা একই হলেও ফ্যান চললে ঠান্ডা অনুভূত হয়।

হাঁ করে বাতাস বের করলে গরম হয় কেন?

ঠোঁট সরু করে ফুঁ দিলে ঠান্ডা বাতাস বের হয় আর হাঁ করে বাতাস বের করলে গরম হয় কেন? | সববাংলায়

আগেই বলা হয়েছে, দেহের ভিতরের বাতাস অপেক্ষাকৃত উষ্ণ। যখন হাঁ করে বাতাস বের করা হয় তখন বাতাস যাওয়ার ক্ষেত্রফল বেশি হয় ও তুলনামূলক বেশি ভিতরের বাতাস কম গতিতে গিয়ে হাতের উপর ধাক্কা খায়। যেহেতু এক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক বাতাস কম যুক্ত হতে পারে ও দেহের ভিতরের বাতাস বেশিটাই ত্বকে গিয়ে পড়ে তাই হাঁ করে দেওয়া বাতাস উষ্ণ লাগে। সঙ্গে দেওয়া চিত্রটি দেখলে বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে।

এছাড়াও, দেহের ভিতরের বাতাসে কিছু পরিমাণ জলীয়বাস্প মিশে থাকে। এই জলীয় বাস্প ঠান্ডা ত্বকের উপর পড়লে ঘণীভূত হয় যা কিছুটা উষ্ণতা ত্বকে সঞ্চারিত করে। এই কারণেও হাঁ করে বাতাস বের করলে গরম মনে হয়।

আশা করি, চিত্রসহ এই সহজ ব্যাখা আপনার মনের জিজ্ঞাসা মেটাতে সক্ষম হয়েছে।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. https://www.toppr.com/
  2. https://www.vaia.com/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading