প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ওই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সমস্ত দিবস গুলির মধ্যে একটি হল বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস (World Pharmacists Day)।
প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর সারা বিশ্ব জুড়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত হয়। বিশ্বের সকল দেশের ফার্মাসিস্টরা একযোগে এই দিনটি উদযাপন করে সমাজের প্রতি তাঁদের অবদান এবং কাজকে আরও মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য।
২০১২ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন (International Pharmaceutical Federation, FIP) প্রতিষ্ঠার দিনটিকে স্মরণে রেখে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত হয়। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন হল ফার্মাসিস্টদের এবং ফার্মাসিস্ট বিজ্ঞানীদের একটি বিশ্বজনীন সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organization, WHO) সাথেও এর যোগ আছে। এই সংস্থায় প্রায় ১৪৪ জন সদস্য আছে যাঁরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রায় চার লক্ষেরও বেশি ফার্মাসিস্ট এবং বিজ্ঞানীদের প্রতিনিধিত্ব করছে। এই সংস্থার ইস্তাম্বুল শাখা থেকে দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।
ফার্মাসিস্টরা পেশাগতভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আধুনিক জীবন যাপনের সাথে ফার্মাসিস্টরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই তাঁদেরকে বিশেষ সম্মান জানাতেই এই দিনটি উদযাপন করা হয়। এই দিনটি উদযাপনের কিছু উদ্দেশ্য হল স্বাস্থ্য পরিষেবা ভালো করা, ওষুধ পরিষেবা সুগম করা, ফার্মাসিস্টদের সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা ইত্যাদি। এই দিনটি স্মরণীয় রাখতে সারা পৃথিবী জুড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। আলোচনা সভা, সেমিনার (seminar), চিত্রপ্রদর্শনী, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ফার্মাসিস্টদের প্রতি জনসচেতনতা গড়ে তোলা হয়। ফার্মাসিস্টদের কাজে উৎসাহ দেওয়া এই দিনটি উদযাপনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সারা পৃথিবীতে যত রকমের ওষুধ রোগীরা ব্যবহার করে এবং দোকানে পাওয়া যায় তার পেছনে এই ফার্মাসিস্টদের অবদান অনস্বীকার্য। কোনো ওষুধ তৈরীর পদ্ধতি এবং উপকরণ সম্পর্কে ফার্মাসিস্টদের সম্পূর্ণ জ্ঞান থাকে। ওষুধের বৈধতা, তার উপযোগিতা, তার কার্যকারিতা ইত্যাদি সবই ফার্মাসিস্টরা রোগীদের বুঝিয়ে দেয়। রোগীদের কোন ওষুধ কোন কোন সময় খাওয়া উচিত এবং কোন কোন সময় খাওয়া উচিত না এই ব্যাপারেও ওয়াকিবহাল করে ফার্মাসিস্টরা। তাই সমাজের প্রতি তাঁদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রত্যেক বছর একটি নির্দিষ্ট থিম প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে এই দিনটি পালিত হয়ে থাকে। ২০১৮ সালের প্রতিপাদ্য ছিল “ফার্মাসিস্ট আপনার ওষুধ বিশেষজ্ঞ” (Pharmacists: your medicines expert)। এই প্রতিপাদ্য নির্বাচনের মূল লক্ষ্য ছিল ফার্মাসিস্টরা যে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য এবং ওষুধ সম্পর্কে অভিজ্ঞ তা প্রচার করা। ২০১৯ সালের প্রতিপাদ্য ছিল “সবার জন্য নিরাপদ এবং কার্যকরী ওষুধ” (Safe and effective medicine for all) যার মাধ্যমে রোগীদের সঠিক ওষুধ ব্যবহার এবং নিরাপত্তা দিকে জোর দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া ওষুধের গুণগত মান বাড়িয়ে তোলা এবং ওষুধ তৈরিতে ভুলভ্রান্তি কমানোর দিকেও লক্ষ্য ছিল। ২০২০ সালের প্রতিপাদ্য ছিল “বিশ্ব স্বাস্থ্যের রূপান্তর” (Transforming global health)। ২০২১ সালের প্রতিপাদ্য ছিল “ফার্মেসি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সর্বদা বিশ্বস্ত” ( Pharmacy: Always trusted for your health )। ২০২২ সালের প্রতিপাদ্য ছিল “একটি স্বাস্থ্যকর বিশ্বের জন্য ফার্মেসি কাজে ঐক্যবদ্ধ” ( Pharmacy united in action for a healthier world )। ২০২৩ সালের প্রতিপাদ্য হল “ফার্মাসিস্ট স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে” ( Pharmacists strengthening health systems )। ২০২৪ সালের প্রতিপাদ্য হল – ফার্মাসিস্ট : বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যের চাহিদা পূরণ করা (Pharmacists: Meeting Global Health Needs)।
আশা করা হচ্ছে ভবিষ্যতে এই দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আরও বেশি করে সচেতনতা গড়ে তোলা যাবে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান