আজকের দিনে

১১ জুলাই ।। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বের পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলি মধ্যে একটি হল ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ (World Population Day)।

১১ জুলাই ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ সারা বিশ্বে এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষের বাঁচার রসদ ক্রমশ কমে আসছে। তাই বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এবং এ ব্যাপারে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।

১৯৮৯ সালের ১১ জুলাই সর্বপ্রথম ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ পালন করা হয়।
বিশ্বের জনসংখ্যা ৫ বিলিয়ন হয়ে যাওয়ায় মানুষকে সচেতন করতে ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-এর (United Nations Development Programme or UNDP) (ইউএনডিপি) পরিচালনা পরিষদ  সর্বপ্রথম বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করা শুরু করে। ১৯৮৯ সালের ১১ জুলাই সর্বপ্রথম ইউএনডিপি-এর উদ্যোগে এই দিনটি পালিত হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ডেমোগ্রাফার (demographer) ডঃ কে.সি. জাকারিয়া (Dr.K.C.Zachariah) প্রথম এই দিনটি পালনের প্রস্তাব দেন। ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক বৈঠকে বিশ্বের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঐতিহাসিক এই বৈঠকে সারা বিশ্বের ১৭৯টি দেশ অংশগ্রহণ করে। ২০১১ সালে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭ বিলিয়ন হয়। ফলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ পালনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হল মানুষের পরিবার পরিকল্পনা সমস্যার সমাধান। এটি ইউএনডিপির পরিচালনা পরিষদের  অন্যতম লক্ষ্য। জনসংখ্যা বিষয়টির সঙ্গে জড়িত রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা, লিঙ্গসমতা, বাল্যবিবাহ, মানবাধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার, শিশুস্বাস্থ্য ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়। তাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস  স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রতিবছর প্রায় ১.৮ মিলিয়ন কিশোর কিশোরী শারীরিকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠছে। ফলে তাদের এই বিষয়ে সচেতন করা খুবই প্রয়োজন।

মানুষকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি বিষয় সচেতন করতে বিভিন্ন আলোচনাসভা, সচেতনতা শিবিরের মাধ্যমে প্রতি বছর ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ পালন করা হয়।
এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলির মাধ্যমে মানুষ জনসংখ্যা বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারে। জনসংখ্যার বৃদ্ধির পরিমাণ হ্রাস করতে, লিঙ্গানুপাত ঠিক রাখতে, মা ও সদ্যোজাত সন্তানের শরীর সুস্থ রাখতে, দারিদ্র্য কমাতে, মানবাধিকার, সুস্বাস্থ্যের অধিকার ও যৌনশিক্ষা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে মানুষকে পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব বোঝানো হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ব্যবহার সম্পর্কেও শিক্ষা দেওয়া হয়। প্রজনন স্বাস্থ্যরক্ষা, বয়ঃসন্ধিকালে মাতৃত্বের ক্ষতিকর দিক, বাল্যবিবাহ, মেয়েদের শিক্ষা ও যৌনরোগ ইত্যাদি সম্পর্কে বিশেষ ধারণাও দেওয়া হয় থাকে।

‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করার জন্য এবং দিনটির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পোস্টার লেখা এবং প্রবন্ধ রচনা বা খেলাধুলোর আয়োজন করা হয়।
এছাড়াও প্রতি বছর একটি বিশেষ বিষয় বা থিম নির্দিষ্ট করা হয় এই দিনটি উপলক্ষে। ২০১৭ সালের বিষয় বা থিম ছিল- ‘পরিবার পরিকল্পনা: জনসাধারণকে ক্ষমতা প্রদান করা, জাতিকে উন্নত করা’ (Family Planning: Empowering People, Developing Nations)। ২০১৮ সালের থিম বা বিষয় ছিল- ‘পরিবার পরিকল্পনা মানুষের অধিকার'(Family Planning is a  Human Right)। ২০১৯ সালে এই ধরনের কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা থিম ছিলনা। ২০২০ সালের বিষয় বা থিম ছিল- “কোভিড-১৯ কে নির্মূল করাঃ কিভাবে মহিলা এবং বালিকাদের স্বাস্থ্য এবং অধিকার রক্ষা করা যায়” (Putting the breaks on COVID-19: how to safeguard the health and rights of women and girls now)

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।