সববাংলায়

শেখ মুজিবর রহমান হত্যাকাণ্ড

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ মুজিবর রহমান হত্যাকাণ্ড (Assasination of Mujibar Rahman) এক শোকাবহ ঘটনা। এই হত্যাকাণ্ড এক ঘৃণ্য নৃশংস চক্রান্তের স্মৃতিকেই উসকে দেয় বারবার। শেখ মুজিবকে হত্যার পিছনে সক্রিয় ছিল একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র যার বিচার চূড়ান্ত পরিণতি পেয়েছিল ৩৫ বছর পর। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের বে-সামরিক প্রশাসনভিত্তিক রাজনীতিতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের জ্বলন্ত নিদর্শন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল তরুণ হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিতে প্রতি বছর ১৫ আগস্ট দিনটি সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয় এবং এই দিনটিকে একটি জাতীয় ছুটির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিব পরিচালিত আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে জয়লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তানে ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনই আওয়ামী লীগ অধিকার করেছিল। পাকিস্তানের সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বিলম্ব করলেও মার্চ মাসের মধ্যেই পূর্ব পাকিস্তানে শেখ মুজিবের বাড়িটিই হয়ে উঠেছিল কার্যকরী প্রধান সরকারি দপ্তর। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাঁর বাড়ি থেকে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানি সেনা। ততক্ষণে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিয়েছে। এরপরে ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার মুজিবনগর সরকার নামে ক্ষমতায় আসে এবং শেখ মুজিবর রহমানকে এই সরকারের এবং বাংলাদেশি সামরিক বাহিনীর প্রধান ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুজিবর রহমানকে ছাড়া হয় এবং তিনি তারপর থেকে দীর্ঘ তিন বছর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বেই গড়ে উঠেছিল ‘জাতীয় রক্ষী বাহিনী’। এই বাহিনী তৎকালীন বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্ব নিয়েছিল এবং একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের নিজস্ব বাহিনী হিসেবেও কাজ করত। পরবর্তীকালে এই বাহিনীর সঙ্গেই তহবিলের পরিমাণ বাড়ানো নিয়ে একটি অসন্তোষ দানা বাঁধে। মনে করা হয় বঙ্গবন্ধুর হত্যার পিছনে খুনিদের নানা মনোভাব থাকতে পারে বলে ঐতিহাসিকেরা মনে করেন। এগুলির মধ্যে অন্যতম হল মুজিবর রহমানের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন মুজিব-পরিবারের সদস্যদের বাড়তি সুবিধে দেওয়া, ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা প্রচার করা এবং সর্বোচ্চ কারণ হিসেবে অনেকেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘বাকশাল’-এর একনায়কতান্ত্রিক শাসন। শেখ মুজিবরের গঠিত সরকারে শেখ ফজলুল হক মণিকে লোভনীয় উচ্চপদ দেওয়া হয়, আবার সরকারের অন্যতম মন্ত্রী শেখ কামালকে অনেকে ব্যাঙ্ক ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন। শেখ ফজলুল হক কিংবা শেখ কামাল দুজনেই মুজিব-পরিবারের সদস্য ছিলেন। আবার ঐতিহাসিকরা বলছেন ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে এক বিপুল বামপন্থী উত্থান ও সহিংস সশস্ত্র গণহত্যার প্রবণতাও শেখ মুজিবর রহমানের হত্যাকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করেছিল বলে ধরে নেওয়া যায়। ১৯৭৫ সালের ৭ জুন শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়ে সকল রাজনৈতিক দল ও স্বাধীন সংবাদপত্রকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গড়ে তোলেন যার নাম বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা সংক্ষেপে ‘বাকশাল’। এই বাকশালের একদলীয় শাসনকালে দেশে এক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যথাযথ খাদ্য বন্টনের অভাব এবং খাদ্যের অপ্রতুলতার কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় বাংলাদেশে। এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩-৪.৫ লক্ষ লোক মারা গিয়েছিল। দেশের সমস্ত বুদ্ধিজীবী, অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরোধী নেতারা এমনকি সাধারণ জনগণও মুজিবর রহমানের বিরোধিতা করছিল। ফলে এই সব ঘটনাও একাংশে শেখ মুজিবর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পিছনে কার্যকরী ছিল।

মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান, খন্দকার আবদুল রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, রাশেদ চৌধুরী, এ কে এম মঈনুদ্দিন আহমেদ, বজলুল হুদা এবং এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী প্রমুখরা মুজিব সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে একটি সামরিক সরকার গড়ে তুলতে চেয়েছিল। ফারুক রহমান এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জিয়াউর রহমানকেও জড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি এর মধ্যে জড়াতে চাননি। ফলে মুজিব হত্যার পরে সরকারের দায়িত্ব অর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় খোন্দকার মোশতাক আহমেদের উপর। এই ষড়যন্ত্রের সংবাদ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের উপর যাতে জনগণের সন্দেহ না হয় সেই জন্য প্রচার করা হয় যে আমেরিকার সিআইএ (CIA) এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

শেখ মুজিবর রহমানের জীবনী

১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট সন্ধ্যে নামার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীর দুটি ফিল্ড রেজিমেন্টের গাড়ি করে ১০৫ মিমি কামানগুলিকে নিয়মিত প্রশিক্ষণের জন্য কুর্মিটোলায় নির্মাণাধীন বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। কমপক্ষে ১৮টি কামান এবং ২৮টি ট্যাঙ্ক জড়ো হয়েছিল। রাত্রি সাড়ে ১১টা নাগাদ মেজর শরিফুল হক ডালিম, মেজর এইচ এস এম বি নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন মহম্মদ বজলুল হুদা, মেজর শাহরিয়ার রশিদ, মেজর আজিজ পাশা এবং মেজর রাশেদ চৌধুরী সম্মিলিত হন সেখানে। ১৫ আগস্ট ভোর হওয়া মাত্র মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান বিমানবন্দরের নিকটবর্তী সদর দপ্তরের স্কোয়াড্রন অফিসে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেন এবং একজন অপারেশন-নেতা হিসেবে ধানমণ্ডি রোডের ৩২ নং-এর বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সরাসরি আক্রমণ হানার পরিকল্পনা সবিস্তারে বুঝিয়ে বলেন। দুটি বৃত্তে সজ্জিত হয়ে এই আক্রমণ করতে চায় তারা। প্রথম বৃত্তের সেনারা সরাসরি বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের উপর আক্রমণ চালাবে এবং বাইরের বৃত্তের সেনারা রক্ষীবাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করবে। ধানমণ্ডির ২৭ নং সড়ক ও ৩২ নং সড়কের ব্রিজ অবরোধ করার পরিকল্পনাও করা হয়। ফজলুল হক মণি এবং আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতেও একইসঙ্গে হামলার পরিকল্পনা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল অন্তত ৩৫০ জন সেনা যাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মেজর এ কে এম মহিনুদ্দিন আহমেদ। সরাসরি আক্রমণে মেজর রাশেদের কোনও ভূমিকা ছিল না, অন্যদিকে পরবর্তী পরিস্থিতি পরিচালনা ও সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিচালনার দায়ভার ছিল তার উপর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর ৪টের সময় বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে রওনা দেয় ঘাতকের দল। ভোর সোয়া ৫টা নাগাদ মেজর ডালিম ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন সেরনিয়াবাত ও শেখ ফজলুল হক মণির বাসভবনে হামলা চালায় এবং প্রায় সকলকেই মেরে ফেলে। শেখ মণি ও তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীর প্রাণ কেড়ে নেয় ঘাতকেরা, অন্যদিকে সেরনিয়াবাতের ১৪ বছরের মেয়ে, ১২ বছর বয়সী ছেলে আরিফ, ৪ বছরের নাতি, এক ভাগ্নে সহ আরও কয়েকজন অতিথি সকলকেই মেরে ফেলে তারা। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু সেরনিয়াবাত ও তাঁর এক মন্ত্রীসভার সদস্যের বাড়িতে হামলার সংবাদ পেয়েছিলেন। তাঁর বাড়ির গৃহকর্মী মহম্মদ সেলিম ও আবদুর রহমান শেখ রমা ঘরের বাইরে ঘুমাচ্ছিল। ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মহিতুল ইসলামকে ফোন করে বঙ্গবন্ধু বাড়ির নীচে ডেকে আনেন এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে সেরনিয়াবাত হত্যার খবর জানাতে বলেন। পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কেউ ফোন না তোলায় মহিতুল ঐ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয় গণভবন এক্সচেঞ্জে ফোন করার চেষ্টা করেন। ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রহরীরা বিউগলসহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুরু করেন আর ঠিক সেই মূহুর্তেই ঘাতকেরা বাড়িটির দক্ষিণ দিক থেকে আক্রমণ করেন। বারান্দায় এসে শেখ মুজিবর তাঁর গৃহকর্মী দুজনকেই ডেকে দেন। শেখ রমা গিয়ে মুজিবের ছেলে শেখ কামাল ও শেখ জামাল এবং তাঁদের স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজি জামালকে জাগিয়ে তোলে। সেনারা এলোপাথাড়ি গুলি করতে শুরু করে, এই সময়েও মহিতুল বঙ্গবন্ধুর সামনেই বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন। হঠাৎই এইসময় গুলিতে ঘরের জানলার কাচ ভেঙে যায়। বঙ্গবন্ধু গুড়ি মেরে টেবিলের পাশে মেঝেতে বসে পড়েন এবং মহিতুলকেও টেনে নেন। এরপরে বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামাল নীচে নেমে আসে এবং ঐ সময় মেজর বজলুল হুদা বাড়িতে ঢুকে পড়ে কামালকে অনবরত গুলি করে হত্যা করে। মহিতুলও গুরুতরভাবে আহত হন। বঙ্গবন্ধু ঘটনা আঁচ করতে পেরে নিজের ঘরে তালাবন্ধ করে বিভিন্ন লোককে ফোন করতে থাকেন এবং তাঁর সামরিক সচিব কর্ণেল জামিলউদ্দিনকে ফোনে পেয়ে শফিউল্লাহকে অনেক সেনাবাহিনী পাঠাতে বলেন বাড়িতে। তিনি স্পষ্টতই ফোনে জানান যে বাড়িতে সেনারা হামলা করেছে। তিনি নিজেও তখুনি সেনাধ্যক্ষ কর্নেল শফিউল্লাহকে ফোন করেন এবং বলেন যে তার বাহিনী বাড়িতে হামলা করেছে, সম্ভবত তারা কামালকেও মেরে ফেলেছে। শফিউল্লাহ এর উত্তরে জানান যে তিনি কিছু কাজে ব্যস্ত আছেন এবং বঙ্গবন্ধুকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আসার পথেই কর্নেল জামিল শোভানবাগ মসজিদের কাছে সেনাদের গুলিতে মারা যান, তবে তার গাড়ির চালক আয়েনুদ্দিন মোল্লা কোনওভাবে পালিয়ে বেঁচে যান। ঘাতকেরা এবার উপরে উঠে আসে এবং শেখ জামালের স্নানঘরে লুকিয়ে থাকা গৃহকর্মী সেলিমকে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু, তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল ও রোজি একত্রে বঙ্গবন্ধুর ঘরেই ছিলেন। ঘাতকেরা ঘরের বাইরে ঘাঁটি নেয়। গুলিবর্ষণ থেমে গেলে মুজিবর রহমান ঘরের দরজা খুলে বেরোনো মাত্রই ঘাতকেরা তাঁকে ঘিরে ধরে। মেজর মহিনুদ্দিন ও তার সেনারা বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে আসেন এবং সেখানেই বজলুল হুদা ও নূর চৌধুরী স্টেনগানের গুলিতে তাঁকে হত্যা করেন। ১৮টি বুলেটের আঘাতে রক্তাক্ত বঙ্গবন্ধুর লাশ সিঁড়ির উপরেই পড়েছিল। এরপরে ঘাতকেরা একে একে সকলকেই মেরে ফেলে। শেখ মুজিবের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দুজনেই মুজিবর রহমান হত্যাকাণ্ড ঘটার সময় পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। মুজিবের হত্যার সংবাদ পেয়ে তারা ভারতে এসে আশ্রয় নেয় ভারত সরকারের অধীনে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে ফিরে আসার আগে নয়া দিল্লিতে স্বেচ্ছা-নির্বাসনে ছিলেন শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরেই বাংলাদেশে সামরিক শাসন জারি হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর্যন্ত এই শাসন বজায় থাকে। এই সময়ের মধ্যেই দেশে ধর্মীয় দলগুলি রাজনীতির মঞ্চে আসতে শুরু করে। ‘জামাত-ই-ইসলামী’-র মত গোঁড়া রক্ষণশীল দলগুলি ক্ষমতায় এসে পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা বাংলাদেশের নাগরিকদের অত্যাচার করার পথ প্রশস্ত করে। ১৯৯৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে এবং বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হন মুজিব-কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি প্রথমেই পূর্ব-প্রচলিত ইনডেমনিটি অ্যাক্ট বাতিল করেন এবং মুজিবর রহমান হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত সমস্ত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মামলা করে বিচার শুরু করেন। বিচারে সকলেরই একে একে ফাঁসি হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading