সববাংলায়

এই ডিসেম্বরে ঘুরে আসুন বাংলার এই পাঁচটি জায়গায়

এই ডিসেম্বরে শীত ভালরকম জমিয়ে বসেছে পশ্চিমবঙ্গে। শীতকাল ঘোরার জন্য আদর্শ সময়। ভাবছেন তো কোথায় যাওয়া যায়? এই ডিসেম্বরে ঘুরে আসুন বাংলার এই পাঁচটি জায়গায়।

১) সুন্দরবন

যাঁরা শীতের অ্যাডভেঞ্চার ভালবাসেন, এই ডিসেম্বরে ঘুরে আসুন সুন্দরবন থেকে। সুন্দরবনের পাখিরালয়, দয়াপুর এলাকায় প্রচুর বেসরকারি লজ, হোটেল বা রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া সজনেখালিতে আছে সরকারি পর্যটন আবাস এখানে সেখানে থাকতে হলে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটে আগে বুকিং করতে হবে। তবে সুন্দরবনে বেড়াতে আসা অনেক মানুষই নদীর বুকে লঞ্চ ভাড়া করে থাকতে ভালবাসেন। সেই ব্যবস্থাও এখানে আছে৷ তবে লঞ্চ ভাড়া করতে গেলে আগে বুকিং করে রাখতে হবে৷

রোমাঞ্চের পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেখাও পেতে পারেন। তাছাড়া লঞ্চে করে ঘুরতে ঘুরতে রোদ পোহাতে থাকা কুমীর তো আছেই। বাঘ বা কুমীর ছাড়াও হরিণ, সজারু, গোসাপ, বন বিড়াল, মেছো বিড়াল, বাঁদর, বুনো শূকর, ভোঁদড়ের দেখা মিলবে। পাখিদের মধ্যে চোখে পড়বে গারাপোলা, মদনটাক, বাঁশকুয়াল, গয়াল, করমকুলি, বুনোহাঁস, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, টিয়া, দোয়েল, ফিঙে, দুধরাজ, রক্তরাজ, হাট্টিমাটিম ইত্যাদি নানা প্রজাতির পাখি। তবে সুন্দরবন সফরের মজাটাই হল নদীর বুকে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং রোমাঞ্চ। বিশেষ করে মাতলা নদীর বুকে যখন লঞ্চ ছুটে চলে, তখন মাতলার ব্যাপ্তি এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ জোগায় মনে। সুন্দরবন ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

২) শান্তিনিকেতন

কোপাই নদী ও অজয় নদের তীরে অবস্থিত শান্তিনিকেতনে এলে মন জুড়িয়ে যায়, এক আলাদা শান্তির অনুভূতি পাওয়া যায়। শান্তিনিকেতনে থাকার জন্য প্রচুর ছোট- বড় হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস এবং রিসর্ট রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন বিভাগের পক্ষ থেকে দুটো থাকার ব্যবস্থা আছে। তবে পৌষ মেলা ও বসন্ত উৎসবে এখানে প্রচণ্ড ভিড় হয়। তাই এই সময় যেতে হলে তিন-চার মাস আগে হোটেল বুকিং করে রাখা প্রয়োজনীয়।

এই ডিসেম্বরে ঘুরে আসুন বাংলার এই পাঁচটি জায়গায় | সববাংলায়
ছাতিমতলা। ছবি সববাংলায়

লাল মাটি, সবুজ বনানীর চিত্রপটে গড়ে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’। এখানের বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে পারেন, তবে বর্তমানে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই। সোনাঝুরি এবং খোয়াই বনের হাটে হরেকরকম হাতের কাজের জিনিস পাওয়া যায়। শান্তিনিকেতন ঘুরতে গেলে অবশ্যই হাটে গিয়ে কেনাকাটি করুন। কয়েক কিলোমিটার দূরেই কঙ্কালীতলায় পুজো দেন বহু মানুষ। শান্তিনিকেতন ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

৩) মুকুটমণিপুর

এই ডিসেম্বরে নদী, জঙ্গল আর পাহাড়ি সৌন্দর্যে ঘেরা মুকুটমণিপুর থেকে ঘুরে আসুন। শীতের শুরু থেকেই পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে কংসাবতী ও কুমারী নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত মুকুটমণিপুর। মুকুটমণিপুরে থাকার জন্য অনেক হোটেল, লজ ও রিসর্ট আছে৷ রয়েছে বাঁকুড়া শহরের সস্তার হোটেল এবং মুকুটমণিপুর জলাধারের পাড়েও বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি হোটেল রয়েছে।

কংসাবতী বাঁধ, মুসাফিরানা ভিউ পয়েন্ট, বনপুকুরিয়া ডিয়ার পার্ক, পরেশনাথ মন্দির সমেত অনেক দেখার জায়গা রয়েছে এখানে। তবে মুকুটমণিপুরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নৌকাবিহারে সূর্যাস্ত দেখা। স্থানীয় মানুষজনের জন্য মুকুটমণিপুর একটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট ও বটে। মুকুটমণিপুর ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

৪) ঝাড়গ্রাম

বহু পুরাতন, ঐতিহ্যমন্ডিত এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর ঝাড়গ্রামে যেমন রয়েছে রাজকীয় প্রাসাদ, প্রাচীন দেবালয় তেমনি শাল, সেগুন, মহুয়ার জঙ্গলে বিচিত্র ফুল ও পাখির সমাহার এক নিমেষে আনন্দে ভরে দেয় মন। মল্লদেব রাজাদের তৈরি ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির কিছুটা হেরিটেজ হোটেলে রূপান্তরিত করা হয়েছে, বেশির ভাগটায় রাজপরিবারের লোকজন থাকেন। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির ঠিক পাশেই রয়েছে সরকারী আবাসন। তাছাড়াও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক থাকার জায়গা রয়েছে এখানে।

মূল শহরের একেবারে নিকটেই রয়েছে ঝাড়গ্রামের ঐতিহাসিক রাজবাড়ি, যা ইতালীয় এবং ইসলামিক স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। এই রাজবাড়ির পিছনে একটি দূর্গ রয়েছে। তবে এখানে না থাকলে প্রবেশের অনুমতি নেই। তাছাড়া রয়েছে ডিয়ার পার্ক, যার পাশেই রয়েছে এখানের পিকনিক স্পট। তাছাড়া কয়েক কিলোমিটার দূরে চিল্কিগড় রাজপ্রাসাদ, কনক দুর্গা মন্দির ঘুরে আসতে পারেন। ঝাড়গ্রাম-চিল্কিগড় সড়কে কেন্দুয়া গ্রামে বিভিন্ন ধরণের পরিযায়ী পাখি দেখতে পারেন। তবে সাধারণত নভেম্বর বা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তারা চলে যায়। ঝাড়গ্রাম ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

৫) মুর্শিদাবাদ

প্রাচীন ভারতবর্ষের অন্যতম সম্পদশালী শহর এবং স্বাধীন বাংলার শেষ রাজধানী এই মুর্শিদাবাদের আনাচে-কানাচে ঘুরলে বাঙলার সমৃদ্ধশালী ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বাঙালি হিসেবে গর্বিত হতে হয়। গ্রীষ্মকালে মুর্শিদাবাদের তাপমাত্রা প্রচণ্ড বেশি থাকে ফলে শীতকালটাই মুর্শিদাবাদ ঘোরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত এবং আরামদায়ক। মুর্শিদাবাদে থাকবার জন্য নানারকম হোটেল রয়েছে। বহরমপুরের কাছে বা হাজারদুয়ারির কাছে রয়েছে বেশ কিছু হোটেল। শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কাশিমবাজারের রাজবাড়িটিতেও বর্তমানে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

মুর্শিদাবাদে অনেক দ্রষ্টব্য রয়েছে। সেগুলো টোটো বা অটো রিজার্ভ করে যেতে পারেন। রিজার্ভ টোটো বা অটো মীরজাফরের বাড়িতে সাধারণত নিয়ে যায় না, সেক্ষেত্রে যেতে হলে আগে থেকে তাকে বলে রাখতে হবে। মুর্শিদাবাদ বলতেই প্রথমে যে স্থানটির কথা আসে, তা অবশ্যই হাজারদুয়ারি। এর ভিতরে এক হাজার খানা দরজা রয়েছে যে কারণে এইরকম নাম। এখানে আসল দরজা ৯০০টি এবং বাকি ১০০টি কৃত্রিম দরজা। এছাড়াও আশেপাশে রয়েছে প্রচুর ঐতিহাসিক জায়গা যেমন নিজামত ইমামবাড়া, মোতিঝিল, জগৎ শেঠের বাড়ি , আজিমুন্নিসা বেগমের সমাধি ও মসজিদ, খোশবাগ এবং অন্যান্য। মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে


সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৪


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব সংকলন

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading