সববাংলায়

চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট

বিভাগঃ ,

শীতকাল মানেই পিকনিকের মরশুম। মানুষ তখন পিকনিকের জায়গার সন্ধান করে। সারা বাংলা জুড়েই অজস্র পিকনিক স্পট ছড়িয়ে রয়েছে। শীত পড়লে পিকনিক করতে সেই জায়গাগুলো কানায় কানায় ভরে ওঠে। এখানে উত্তর চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট কী আছে, তা নিয়ে জানব।

১) বাদু পিকনিক স্পট অঞ্চল

উত্তর চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট হল বাদু পিকনিক স্পট অঞ্চল। এখানে রয়েছে প্রচুর প্রাইভেট পিকনিক স্পট। কলকাতা, হাওড়া, হুগলী, দুই চব্বিশ পরগণা এবং দক্ষিণবঙ্গের আরও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষেরা, যাঁরা দল বেঁধে পিকনিক করার পরিকল্পনা করেন এবং নিজেদের জন্য প্রাইভেট স্পট বুক করতে চান, তাঁদের কাছে পিকনিকের প্রথম পছন্দ বাদু পিকনিক স্পট গুলো। এখানে বাগানবাড়ি থেকে শুরু করে পার্ক বা আমবাগান এরম বিভিন্ন ধরনের জায়গা রয়েছে। বিভিন্ন মূল্যের পিকনিক স্পট এখানে বুকিং এর জন্য পাওয়া যায়। মোটামুটি ৪০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০০ টাকা অবধি মূল্যের বিভিন্ন পিকনিক স্পট রয়েছে এখানে। বাদু পিকনিক স্পটের সেইসব জায়গায় রান্নার ব্যবস্থা নিজেও করতে পারেন বা স্পটের সাথেও কথা বলতে পারেন।

২) ইকো পার্ক

উত্তর চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট নিউটাউনে অবস্থিত ইকো পার্কটি বর্তমানে কলকাতা সংলগ্ন মানুষের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় পিকনিক স্পট। এর ভেতরে বড় একটি লেক রয়েছে, এই লেকে বোটিং করা যায়। পার্কে একাধিক প্রবেশদ্বার বা গেট রয়েছে। পিকনিকের জন্য ২ নং গেট দিয়ে প্রবেশ করলে ভাল হয়। কারণ এখান দিয়ে ঢুকলে লেক কাছে পড়বে এবং লেকের পাশে চাদর বিছিয়ে বসে পিকনিক করা যায়।

ইকো পার্ক। ছবি সববাংলায়
ইকো পার্ক। ছবি সববাংলায়

প্রতি সোমবার ইকো পার্ক বন্ধ থাকে। সপ্তাহের বাকি দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা অবধি পার্ক খোলা থাকে। মঙ্গল থেকে শনিবার সকাল ১১টায় পার্ক খোলে এবং রবিবার ও অন্যান্য ছুটির দিনে সকাল সাড়ে দশটায় পার্ক খোলে। এখানে ৩০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। পিকনিক বলতে এখানে রান্না করতে পারবেন না, শুধুমাত্র খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। জোরে গান চালাতে না পারলেও নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো খেলার আয়োজন করতে পারবেন। লেক ছাড়াও এখানে প্রচুর দেখবার জায়গা আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিশ্বের ৭ আশ্চর্যের ছোট সংস্করণ, ফুলের বাগান, ফলের বাগান, মুখোশের বাগান, বাঁশ বাগান, প্রজাপতি বাগান, হরিণের বাগান, ট্রপিকাল রেইনফরেস্ট, বাংলার গ্রাম ইত্যাদি। ইকো পার্ক ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

৩) ইকো আরবান ভিলেজ

উত্তর ২৪ পরগণার নিউটাউনে অবস্থিত ইকো আরবান ভিলেজ উত্তর চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট তালিকায় নতুন সংযোজন। হিডকোর সহায়তায় গড়ে ওঠা এই আধুনিক পিকনিক স্পটটি ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ইকো পার্ক থেকে মাত্র ৩ কিমি দূরত্বে ৩ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা এই পিকনিক স্পটটি সম্পূর্ণ প্লাস্টিক মুক্ত একটি এলাকা। পিকনিক করবার জন্য এখানে দুটি স্পট আছে। সোমবার বাদে সপ্তাহের বাকি দিনগুলি স্পটটি সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যে ৬ টা অবধি খোলা থাকে।  প্রতি স্পটে সর্বাধিক ৬০ জনের একটি দল এখানে পিকনিক করতে পারে । স্পট প্রতি ভাড়া ৫০০০ টাকা। সঙ্গে ঘর নিতে চাইলে আরও ২০০০ টাকা।

চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট » সববাংলায়
ইকো আরবান ভিলেজ । ছবি সববাংলায়

মূলত রান্নার মাধ্যমে পিকনিক করার মজা দেওয়ার জন্যই এই স্পটটি তৈরি হয়েছে। রান্নার সামগ্রী কিন্তু আপনাকেই আনতে হবে। গান-বাজনা করতে পারবেন না তবে নিজেদের মধ্যে খেলার আয়োজন করতে পারবেন। মদ্যপান ও যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা এখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আবার পিকনিক না করে কেবল স্পটটি ঘুরে দেখতে চাইলেও আপনি এখানে ১০ টাকা টিকিটের বিনিময়ে ঘুরে দেখতে পারেন। তবে শুধুই যারা স্পট ঘুরতে যাবেন, তাঁদের জন্য জল এবং স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার বাদে বাইরে থেকে কিনে বা বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এখানে খাওয়া নিষিদ্ধ। এখানে বাচ্চাদের খেলার জন্য একটি পার্ক রয়েছে যেমন আবার একটি ওপেন এয়ার জিমের ব্যবস্থাও রয়েছে। এই স্পট লাগোয়া একটি ঝিল রয়েছে যেখানে শীতকালে পরিযায়ী পাখিরা ভিড় করে।

৪) টাকি

উত্তর চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট টাকি, শীতকালে কলকাতা, হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগণা এবং সংলগ্ন অঞ্চলের মানুষের প্রিয় পিকনিকের জায়গাগুলোর মধ্যে একটি। তবে শুধু শীতকালেই না, সারা বছর ধরেই  এখানে পর্যটকেরা আসে, সারা বছর জুড়েই চলে পিকনিক। বিভিন্ন স্কুল থেকেও একদিনের ভ্রমণের জন্য নিয়ে আসা হয় টাকি।

টাকি । টাকী
টাকি । ছবি সববাংলায়

এখানে ইছামতী নদীর পাড়ে পিকনিক করতে আসতে পারেন। এখানে খুব কাছ থেকে বাংলাদেশকে দেখা যায় কারণ ইছামতীর অন্য পাড়েই বাংলাদেশ। টাকি শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, তবে টাকির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বা দর্শনীয় স্থান হল গোলপাতার জঙ্গল বা মিনি সুন্দরবন। গোলপাতার জঙ্গল বা মিনি সুন্দরবনের দায়িত্বে স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। জঙ্গলে ঢোকার সময় তাদের কাছে সরকারী পরিচয়পত্র জমা দিয়ে ঢুকতে হয়। আবার বেরনোর সময় সেটি ফেরত পাওয়া যায়। তাই টাকি ভ্রমণকালে সঙ্গে সরকারী পরিচয়পত্র রাখা আবশ্যিক। টাকি ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

৫) জওহরকুঞ্জ পার্ক

উত্তর চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট ব্যারাকপুরে অবস্থিত জওহরকুঞ্জ পার্ক। সপরিবারে পিকনিক করতে যাবার আদর্শ স্থান এটা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আরবান রিক্রিয়েশন ফরেস্ট্রি ডিভিশন দ্বারা পরিচালিত। এই পার্কের ভিতরের সবুজ মনোরম পরিবেশ এবং পাশে বয়ে চলা গঙ্গার হাওয়া এই দুইয়ে মিলে পিকনিক জমে উঠবে। পার্কের ভিতরে শিশুদের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে।

চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট » সববাংলায়
জওহরকুঞ্জ পার্ক। ছবি সববাংলায়

এখানে পিকনিক করার জন্য যারা আসে তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন গাছ দিয়ে ঘেরা সবুজ মাঠ এবং সেই মাঠে বসার জন্য শেড রয়েছে। পার্কের ভেতরে প্লাস্টিক বা অন্য কোন দ্রব্য ফেলে পার্কটি নোংরা করবেন না। পার্কে প্রবেশ মাথাপিছু কিছু টাকা ধার্য করা আছে, তা ছাড়াও পিকনিক আয়োজন করতে হলে আলাদা টাকা দিয়ে পিকনিকের অনুমতি নিতে হবে। মাইক বাজানো, মদ খাওয়া, ক্রিকেট জুয়া বা ভলিবল খেলা নিষিদ্ধ। তাছাড়া এখানে থার্মোকল বা প্লাস্টিকের প্লেট বা গ্লাস একেবারে নিষিদ্ধ। জওহরকুঞ্জ পার্ক ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

৬) সংহতি পার্ক

উত্তর চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট সংহতি পার্ক, অশোকনগর, হাবড়া, কল্যাণগড় এবং এই সংলগ্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম। এটি মূলত একটি বিনোদন পার্ক যেখানে বোটিং, লেক, মিকি মাউস, টয় ট্রেন, মিউজিয়াম, রোপ ওয়ের মত বিভিন্ন বিনোদনের সামগ্রী রয়েছে।। পার্কের নির্দিষ্ট প্রবেশমূল্য রয়েছে এবং পিকনিক করতে চাইলে তার জন্য অতিরিক্ত টাকা লাগবে।

৭) কঙ্কনা বিনোদন উদ্যান

উত্তর চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট গোবরডাঙা য় অবস্থিত কঙ্কনা বিনোদন উদ্যান। গোবরডাঙা পুরসভার তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩৪ বিঘা জমির উপর এই উদ্যান তথা পিকনিক স্পটটি সাজিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্যানে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। গাড়ি পার্কিং-এর জন্য অতিরিক্ত ভাড়া লাগবে ৬০ টাকা, বাইক রাখার জন্য ১৫ টাকা। উদ্যানের মধ্যে ৬০টিরও বেশি পিকনিক স্পট রয়েছে। স্পটের জন্য আগে থেকেই কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। দুই ধরনের স্পট ভাড়া দেওয়া হয়, যার একটির ভাড়া ৬০০ টাকা এবং অন্যটির ভাড়া ৫০০ টাকা। সঙ্গে বিদ্যুতের খরচ আলাদা। পিকনিক স্পট ছাড়াও এখানে রেস্ট রুম ভাড়া নেওয়া যেতে পারে। নিজেদের রান্নার ব্যবস্থা করতে হবে, তবে আগে থেকে কথা বলে রাখলে ক্যাটারিং সার্ভিস পাওয়া যায়।

৮) বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য

উত্তর চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত। এই অরণ্যে অর্জুন, শিশু, শিমুল ইত্যাদি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ এবং বিচিত্র পশু ও পাখিদের সমারোহতে মন হারিয়ে যাবে সহজেই। সেই আরণ্যক নির্জনতা এবং সেইসঙ্গে ইছামতীর তীর ধরে হাঁটা, নদীর শীতল হাওয়ার স্পর্শ, নদীর বুকে বোটিং, জঙ্গলের মধ্যে আপনমনে ঘুরে বেড়ানো— পিকনিকের পাশাপাশি এই অভিজ্ঞতা অসামান্য। পিকনিক ছাড়াও লোকে ঘুরতে যায় এখানে। বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

৯) পূজালি নেতাজি পার্ক

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বজবজের পূজালিতে অবস্থিত নেতাজি পার্ক। পূজালি পৌরসভা পরিচালিত এই পার্কটি পর্যটন কেন্দ্র এবং পিকনিক স্পট দুই হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পিকনিকের জন্য সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা অবধি পার্ক খোলা থাকে। কিন্তু পিকনিক ব্যতিরেকে কেবল পার্ক ভ্রমণের সময়সীমা বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা। গ্রীষ্মকালে সন্ধ্যে ৭টা অবধি এই পার্ক খোলা থাকে। পার্কটিতে প্রবেশ মূল্য ১০টাকা। পিকনিক হোক এবং শুধুমাত্র পার্ক ভ্রমণ দুই ক্ষেত্রেই আপনাকে এই প্রবেশমূল্য দিতে হবে।

চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট » সববাংলায়
 পূজালি নেতাজি পার্ক । ছবি ইন্টারনেট

হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত এই পার্ক থেকে আপনি হুগলী নদী পারাপারকারী জাহাজ দেখতে পাবেন। মোট ৩৫ টি পিকনিক স্পট সম্বলিত এই পার্কে পিকনিক স্পটের ভাড়া ন্যূনতম ২৫০০ টাকা এবং সর্বাধিক ১২০০০ টাকা। ২৫ জনের দল থেকে শুরু করে ১০০ জনের দল অবধি এখানে পিকনিকের আয়োজন করা যায়। নিজেরা রান্না করে খাওয়াতে এই পার্কে কোন বিধিনিষেধ নেই। তাছাড়া ক্যাটারিং সার্ভিস এর ব্যবস্থাও আছে। তার জন্য পার্কের অফিসে কথা বলে নিতে হবে আগে থাকতেই। ছোট খাটো মজাদার প্রতিযোগিতা মূলক খেলার আয়োজন করা যেতেই পারে তবে ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলায় নিষেধাজ্ঞা আছে।

পিকনিক স্পট বুকিং না করে বাইরে থেকে খাবার কিনেও প্রবেশ করতে পারেন তবে বাইরের খাবার নিয়ে পার্কে খেতে হলে ১০০ টাকা মাথা পিছু প্রবেশমূল্য দিয়ে পার্কে প্রবেশ করতে হবে। পার্কে প্লাস্টিক এবং থার্মোকলের প্লেট, বাটি বা জলের গ্লাস ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। কেবলমাত্র কাগজ বা শালপাতার বা পরিবেশ বান্ধব উপাদানে তৈরি সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। পার্কে যত্রতত্র আবর্জনা বা পান ও গুটখার পিক ফেলবেন না। এতে ২০০ টাকা অবধি জরিমানা হতে পারে। ছোট এবং অল্প আওয়াজের বক্স ব্যবহারের মাধ্যমে গান বাজনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে তবে ডিজে বক্স ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আছে। কাছেই নদী থাকায় বাচ্চারা যাতে সেদিকে না চলে যায় সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে।  বাচ্চারা যাতে পার্কের ফুল গাছের ফুল পাতা না ছিঁড়ে ফেলে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

১০) ফলতা

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট ফলতা। এখানে নদীর পাড়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পিকনিক করতে পারেন। পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে তৈরি নলকূপ ব্যবহার করতে পারেন। নির্দিষ্ট শৌচালয়ের অভাব থাকার কারণে স্থানীয় মানুষরা নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে আগত পিকনিক পার্টিকে নিজেদের বাড়ির শৌচালয় ব্যবহার করতে দেন । এখানে মূলত নিজেরা রান্নার মাধ্যমে নদীর রূপ প্রত্যক্ষ করতে করতে পিকনিক করতে পারেন। পিকনিকের দল নিজেদের পছন্দ মত গান-বাজনাও যেমন করতে পারবে, তেমন খেলাধূলার আয়োজনও করতে পারবে এখানে। কাছেই নদী থাকায় বাচ্চারা খেলতে খেলতে যাতে নদীর পাড়ে না চলে যায় সেদিকে নজর রাখা খুব জরুরি।

চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট » সববাংলায়
ফলতা । ছবি ইন্টারনেট

নদীর পাড়ে বিনামূল্যের পিকনিক স্পটটি ছাড়াও ধারে কাছে বেশ কিছু পিকনিক স্পট রয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে পিকনিক করার স্পট ও রান্নার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়। পিকনিক করার আনন্দের সাথে সাথে খেয়াল রাখবেন যত্রতত্র প্লাস্টিক, আবর্জনা এবং খাবার প্লেট ফেলবেন না।  নিজেরা ময়লা আবর্জনা ফেলার কোন নির্দিষ্ট স্থানের ব্যবস্থা করা ভাল। মনে রাখবেন স্থানীয় মানুষ প্রতিদিন তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে এই নদীর জল ব্যবহার করে থাকে। আপনার একদিনের আনন্দ যেন তাদের নিরানন্দের কারণ না হয়ে ওঠে সেদিকে লক্ষ্য রাখাও আপনার বিশেষ প্রয়োজন। পিকনিকের পাশাপাশি এখানে নৌকা করে নদীতে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। এছাড়া কাছে পিঠে থাকা বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান যেমন – আচার্য জগদীশ চন্দ্র বোসের বাগানবাড়ি, ফতেপুর কেল্লা ইত্যাদি পিকনিকের ফাঁকে একবার ঘুরে আসতে পারেন। 

১১) ডায়মন্ড হারবার

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট ডায়মন্ড হারবারে শীতের রোদ এবং হুগলী নদী থেকে আগত হিমেল হাওয়া গায়ে মেখে পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের সাথে পিকনিক করার মজাই আলাদা। ডায়মন্ড হারবার পুরসভার উদ্যোগে কেল্লার মাঠে পরিবেশ বান্ধব পিকনিক স্পট গড়ে উঠেছে। ১০ টাকা প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে আপনি মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন । পিকনিক করতে চাইলে আপনাকে ১০০ টাকার বিনিময়ে স্পট সংরক্ষণ করতে হবে।

চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট » সববাংলায়
ডায়মন্ড হারবার। ছবি – সববাংলায়

এখানে মূলত নিজেরা রান্নার মাধ্যমে নদীর রূপ প্রত্যক্ষ করতে করতে পিকনিক করতে পারেন। নিজেদের ইচ্ছে মত আপনি এখানে গান-বাজনাও যেমন করতে পারবেন, তেমনি খেলাধূলার আয়োজনও করতে পারবেন এখানে। কাছেই নদী থাকায় বাচ্চারা খেলতে খেলতে যাতে নদীর পাড়ে না চলে যায় সেদিকে নজর রাখা খুব জরুরি। রোদের হাত থেকে বাঁচতে এখানে ডিলাক্স রুম ও ডিলাক্স  তাঁবুরও ব্যবস্থা আছে, নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে। তবে মাথায় রাখবেন এই তাঁবু কিংবা ঘরগুলিতে রাত কাটাতে পারবেন না। পিকনিকের ফাঁকে স্থানীয় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে আসতে পারেন। পিকনিক করা ছাড়াও  ডায়মন্ড হারবার একটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণস্থান। সেই ভ্রমণের বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

১২) পিয়ালী দ্বীপ

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট হল পিয়ালী দ্বীপ। পিয়ালি দ্বীপকে বলা হয় সুন্দরবনের প্রবেশপথ। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলি থেকে শীতকালে পর্যটকেরা এখানে পিকনিকের জন্য আসেন। সেই সময়ে এখানে প্রচুর পরিযায়ী পাখি দেখতে পাওয়া যায়। পিয়ালী দ্বীপ ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

১৩) বকখালি

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বকখালি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের একটি সমুদ্র সৈকত। বকখালি সৈকতের ওপরে পার্কিং এর পাশেই পিকনিকের জন্য একটি মাঠ রয়েছে।

বকখালি পিকনিক স্পট
বকখালি পিকনিক স্পট। ছবি – সববাংলায়

ওই মাঠে রান্না করে খাওয়া বা আলাদাভাবে পিকনিকের খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন। পিকনিকের জন্য মাঠ ভাড়া দিতে হয় ৫০ টাকা, যদি রান্না করেন তার জন্য ভাড়া দিতে হয় ৫০ টাকা এবং গাড়ি পার্কিং এর ভাড়া ছোট গাড়ির জন্য ৬০ টাকা ও বড় গাড়ির জন্য ১০০ টাকা। মাঠের বাইরে একটিমাত্রই শৌচাগার আছে এবং সেটি ব্যবহার করতে গেলে অনেক সময়েই লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়। পিকনিকের পর সেখানে প্লাস্টিকের থালা, গ্লাস, চায়ের কাপ, মদের বাক্স ইত্যাদি ফেলে যাবেন না। সমগ্র বকখালি ভ্রমণ নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

এখানে উল্লিখিত উত্তর চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট ছাড়াও দুই জেলায় প্রচুর প্রাইভেট পিকনিক স্পট রয়েছে। তবে সেই সমস্ত জায়গাকে এখানে উল্লেখ করা হয়নি কারণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিকনিকের সংজ্ঞা বিভিন্ন হওয়ার ফলে কোন জায়গাকে পিকনিক স্পট বলা হবে আর কোন জায়গাকে বলা হবে না তাই নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সববাংলায় এর থেকে “পিকনিক স্পট” আখ্যা দেওয়ার জন্য কিছু শর্ত বানানো হয়েছে এবং যে জায়গাগুলো সেই শর্তাবলী মানছে তাদের পিকনিক স্পটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই সমস্ত শর্তাবলীসমেত পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় পিকনিক স্পটগুলো নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে


সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. https://eisamay.com/kankana-binadan-park/
  3. https://bhramana.in/
  4. https://www.holidayhotspot.info/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading