সববাংলায়

ঝাড়গ্রাম ভ্রমণ 

শহরের কোলাহল এবং কালো ধোঁয়ায় দমবন্ধকারী পরিবেশ থেকে দুদন্ড মুক্তি পেতে যদি কয়েকদিন সবুজ অরণ্যের সান্নিধ্যে কাটিয়ে আসতে চান, তবে ঝাড়গ্রাম তাঁর জন্য উপযুক্ত ভ্রমণস্থল হতে পারে। বহু পুরাতন, ঐতিহ্যমন্ডিত এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই ঝাড়গ্রামে যেমন রয়েছে রাজকীয় প্রাসাদ, প্রাচীন দেবালয় তেমনি শাল, সেগুন, মহুয়ার জঙ্গলে বিচিত্র ফুল ও পাখির সমাহার এক নিমেষে আনন্দে ভরে দেয় মন। এখানকার আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শনের সাক্ষী থাকবারও সুযোগ মিলবে এখানে। রাস্তার দুপাশের বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমির মধ্যে দিয়ে ভ্রমণ করার অনুভূতি সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ইতিহাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রাচীন আদিবাসী সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এই ঝাড়গ্রামে।

ঝাড়গ্রাম কোথায়

কলকাতা থেকে আনুমানিক ১৭৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরের পশ্চিম অংশে অবস্থিত, যার উত্তরদিকে রয়েছে বেলপাহাড়ি এবং দক্ষিণে রয়েছে নির্মল সুবর্ণরেখা নদী এবং ছোটখাটো কয়েকটি পাহাড়। মেদিনীপুর থেকে ঝাড়গ্রামের দূরত্ব প্রায় ৩৯ কিলোমিটার, বর্ধমান থেকে ঝাড়গ্রামের দূরত্ব প্রায় ১৫৬ কিলোমিটার এবং শিলিগুড়ি ঝাড়গ্রামের দূরত্ব প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার।

ঝাড়গ্রামের ইতিহাস

১৫৭৪ সালে অম্বরের মান সিং মুঘল সম্রাট আকবরের নির্দেশে রাজপুতানা (রাজস্থান) থেকে মুঘল সাম্রাজ্যকে পূর্ব ভারতে বিস্তৃত করার জন্য বাংলা জয় করতে এসেছিলেন। তিনি জঙ্গলখন্ড নামে পরিচিত অঞ্চলের স্থানীয় শাসকদের পরাজিত করার জন্য সেনাবাহিনীতে তাঁর একজন অনুগত অফিসার সর্বেশ্বর সিংকে নিয়োগ করেছিলেন। এই সর্বেশ্বর আদিবাসী মল্লদের পরাজিত করে ঝাড়গ্রামকে রাজধানী করে রাজ্য স্থাপন করেছিলেন। আইন-ই-আকবরীতে এই এলাকাটিকে ঝারি-খণ্ড হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এখানে সাঁওতাল, মুন্ডা, ভূমিজ, কুড়মি, মাহাতো এবং লোধা জনগোষ্ঠীদের বসবাস। ঝাড়গ্রাম নামের অর্থ হল একটি জঙ্গলাকীর্ণ গ্রাম যা অনেক প্রাচীর এবং খাল দ্বারা বেষ্টিত। স্থানীয় ভাষায় এটি উগাল নামে পরিচিত। এই প্রাচীর বেষ্টনী ও পরিখার মধ্যে যিনি ছিলেন বীর, তাঁকে বলা হত উগল সান্দা। সেই জন্যই রাজ্যের রাজার পুরো নাম রাজা সর্বেশ্বর মল্ল উগল সান্দা দেব। এই উপাধি রাজা নরসিংহ মল্ল উগল সান্দা দেব নামে পরিচিত।  রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ঝাড়গ্রাম দুর্গ দখল করতে রাধানগর হয়ে মেদিনীপুর থেকে আসার আগে পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭৬৭ সাল পর্যন্ত ঝাড়গ্রাম একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। ঝাড়গ্রামে ব্রিটিশ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং স্বাধীন মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে সেই সময়কার ঝাড়গ্রামের রাজা চুয়ার বিদ্রোহতেও অংশ নিয়েছিলেন৷ ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৫ সালে ভারতের তৎকালীন ভাইস-রায় ঝাড়গ্রামকে সামন্ত রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতি দিতে সম্মত হন। কিন্তু সে সময় গোটা ভারত অশান্তির মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, ফলে সামন্ততান্ত্রিক রাজ্যের প্রস্তাব তখন সরিয়ে রাখা হয়েছিল। ১৯২২ থেকে ১৯৫০ সালের যে সময়কাল তাকে ঝাড়গ্রামের স্বর্ণযুগ বলে মনে করা হয়। সেই আটাশ বছরে ঝাড়গ্রাম একটি জনপদে পরিণত হয়েছিল।

ঝাড়গ্রাম কীভাবে যাবেন

ট্রেনে করে ঝাড়গ্রামে যেতে হলে হাওড়া-নাগপুর-মুম্বাই লাইনের খড়গপুর-টাটানগর সেকশনের ট্রেন ধরে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে নামতে হবে। বাসে করে সড়কপথে ঝাড়গ্রাম যেতে হলে কলকাতার ধর্মতলার শহীদ মিনার বা করুণাময়ী, শিলিগুড়ি এবং বর্ধমান থেকে সরাসরি ঝাড়গ্রাম যাওয়ার বাস পাওয়া যাবে। নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে ঝাড়গ্রামে যেতে হলে, কলকাতা থেকে প্রায় চার ঘন্টা ড্রাইভ করতে হবে।

ঝাড়গ্রামে কোথায় থাকবেন

পর্যটন স্থল হিসেবে ঝাড়গ্রাম পরিচিতি পেয়েছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে, সেইজন্য পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে এখানে। ঝাড়গ্রাম এবং তার আশেপাশে ১০-১৫ কিলোমিটারের ব্যবধানে রয়েছে দর্শনীয় সব জায়গা, তারমধ্যে কোনোটা ঐতিহাসিক স্থান, কোথাও আবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই মূল আকর্ষণ। সেই বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রচুর হোটেল। কেউ চাইলে ঝাড়গ্রামে অবস্থিত সরকারী হোটেলেও থাকতে পারেন। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির ঠিক কাছেই এই সরকারী আবাসনটি রয়েছে।

ঝাড়গ্রামে কী দেখবেন

সবুজ আরণ্যক প্রকৃতির মায়ায় হারিয়ে গিয়ে জীবনের ক্লেদ, গ্লানি, ক্লান্তির থেকে মুক্তি পাওয়ার ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলের এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত অঞ্চল ঝাড়গ্রাম। একেক ঋতুতে এই অরণ্যভূমির রূপ হয় একেকরকম। বসন্তে গাছে গাছে, সারা অরণ্যে কিশলয়ের উদগম যেমন অপূর্ব এক দৃশ্যপট নির্মাণ করে তেমনি বর্ষায় ভরা সবুজের আদরে অদ্ভুত পুলক জাগে মনে। শাল, সেগুন, মহুয়া ইত্যাদি নানাবিধ উদ্ভিদের সমাহার এখানে, তারই সঙ্গে বিচিত্র সব পাখি যেমন, তেমনি বন্য হাতি, হরিণ ইত্যাদি বন্যজন্তুর সমাবেশে ঝাড়গ্রাম অদ্ভুত এক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা উপহার দেয় পর্যটককে। পাখি প্রেমিকেরা আবার আলাদাভাবে এখানকার পাখি গ্রামে গিয়ে স্বদেশী, বিদেশী বিচিত্র সব পাখি দেখে সাধ মিটিয়ে নিতে পারবেন। বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকা উপভোগের সঙ্গে সঙ্গে হ্রদ, সরোবর, জলপ্রপাতেরও ছড়াছড়ি এই ঝাড়গ্রামের চতুর্দিকে। ছোটবড় নানারকম পাহাড়প্রমাণ টিলাও চোখে পড়বে এখানে ইতস্তত। দুপাশের জঙ্গল উপভোগ করতে করতে মাঝের কালো পিচ রাস্তার বুক চিরে চলে যাওয়া দূরে, এ-জিনিস যে না করেছে, তাকে ভাষায় বোঝানো দুষ্কর। আবার প্রকৃতির সঙ্গে এখানে মিশেছে ইতিহাস। সবমিলিয়ে অবসর যাপনের জন্য উৎকৃষ্ট একটি ভ্রমণস্থল হল ঝাড়গ্রাম। নীচে আমরা ঝাড়গ্রামের দর্শনীয় কিছু জায়গা নিয়ে আলোচনা করব।

ঝাড়গ্রাম রাজপ্রাসাদ

মূল শহরের একেবারে নিকটেই, আনুমানিক মিনিট দশেকের হাঁটা পথে রয়েছে ঝাড়গ্রামের ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ। ১৯৩১ সালে এই রাজপ্রাসাদের নির্মাণকার্য শেষ হয়েছিল। এই প্রাসাদ ইতালীয় এবং ইসলামিক স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। এই রাজপ্রাসাদের পিছনে আবার একটি দূর্গ রয়েছে।

বান্দারভুলা ট্রাইব্যাল ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার

মূল শহর থেকে আনুমানিক ১ কিলোমিটার দূরত্বে শালবনের ভিতরে এই সেন্টারটি অবস্থিত। মূলত এটি একটি জাদুঘর, যা রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে। আদিবাসী সংস্কৃতির নানারকম নিদর্শন এখানে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করবার সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা।

ঝাড়গ্রাম জুওলজিকাল পার্ক বা ডিয়ার পার্ক

মূল শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটারের দূরত্বেই এই জুওলজিকাল পার্কটি অবস্থিত। এই পার্কটি রাজ্য বন বিভাগ চালু করেছিল। এই পার্কে হরিণ, সাপ, ভালুক, কালো খরগোশ, নেকড়ে, ময়ূর, কুমির প্রভৃতি বন্যজন্তুদের দেখতে পাওয়া যাবে। বিশেষত শিশুরা এখানে এসে খুবই আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।

কেন্দুয়া পাখি গ্রাম

মূল শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে ঝাড়গ্রাম-চিল্কিগড় সড়কে কেন্দুয়া গ্রামটি অবস্থিত। বিভিন্ন ধরণের পরিযায়ী পাখি মে মাসে এখানে জড়ো হয়, বর্ষা শুরু হওয়ার বার্তা দেয় তারা এবং নভেম্বরের মধ্যে চলে যায়। এখানে যেসব প্রজাতির পাখি দেখা যায় তাদের মধ্যে রয়েছে গ্রেট এগ্রেট, ইন্টারমিডিয়েট এগ্রেট, লিটল এগ্রেট, ক্যাটল এগ্রেট, ইন্ডিয়ান পন্ড-হেরন, ইন্ডিয়ান গোল্ডেন ওরিওল, ব্ল্যাক-হুডেড ওরিওল এবং রুফাস ট্রিপি। পাখির সন্ধানে কেন্দুয়া গ্রামের ঘন বনের পথে হাঁটা এক অসাধারণ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দেয়।

চিল্কিগড় রাজপ্রাসাদ

মূল শহর থেকে আনুমানিক ১২ কিলোমিটার দূরে ঝাড়গ্রামের রহস্যাবৃত চিল্কিগড় রাজপ্রাসাদ অবস্থিত। মনে করা হয় যে, ত্রয়োদশ শতকে জগন্নাথ ধবলদেব জঙ্গলমহল আক্রমণ করেছিল যা পূর্বে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি স্থানীয় শাসককে পরাজিত করেন এবং চিল্কিগড় রাজপ্রাসাদ নামে দ্বিতল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সুবর্ণরেখা নদীর একটি ক্ষীণকায় উপনদী চিল্কিগড়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ডুলুং নামে পরিচিত। এটাও বিশ্বাস করা হয় যে বর্গি নামক মারাঠা দস্যুদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য ধবলদেব, ডুলুং বরাবর একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন।

কনক দুর্গা মন্দির

চিল্কিগড় প্রাসাদের খুব কাছেই এই কনক দুর্গা মন্দিরের অবস্থান। দেবী মহামায়া এখানে পূজিতা হন। রাজা গোপীনাথ এই মন্দিরটির নির্মাতা। অনুমান করা হয় এই মন্দির ৫০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। মন্দিরের বিগ্রহটি সম্পূর্ণ সোনায় মোড়া। কিংবদন্তি অনুসারে, এখানে আগেকার দিনে নাকি নরবলি হত। প্রাচীন রাজকীয় এই মন্দিরটির চারপাশে অনেক বিরল প্রজাতির ওষধির গাছ ও বন্য লতা রয়েছে, যেগুলি আসাম থেকে আনা হয়েছে বলা হয়। মন্দিরটির আশেপাশের জঙ্গলে বানর, রাজহাঁস, ময়ূর, মঙ্গুস, ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের বন্যপ্রাণীর বাস। মন্দিরের চারপাশের এই বনজঙ্গল এতই ঘন যে গ্রীষ্মের দিনেও এটি অন্ধকার ও শীতল থাকে। মহামায়ার পূজার সময় আশেপাশের গ্রাম থেকে মানুষ এসে ভিড় করে এখানে।

এছাড়া সাইটসিইং করতে ঝাড়গ্রামের আরও দুটি রেঞ্জ যথাক্রমে বেলপাহাড়ি এবং কাঁকড়াঝোরের দিকেও বেড়াতে যাওয়া যায়।

ঘাঘরা জলপ্রপাত – বেলপাহাড়ি থেকে ঘাঘরা জলপ্রপাত ৭ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এটি আসলে কালো পাথরের একটি গিরিখাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া একটি জলপ্রপাত। “ঘাগরা” শব্দটি এসেছে “গাগরা” শব্দ থেকে যার অর্থ জলে ভরা কলস। আসলে গিরিখাতের আকৃতিটি কলসের মতো।

গদ্রাসিনী পাহাড় – বেলপাহাড়ি থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে এই গদ্রাসিনী পাহাড় অবস্থিত। এই পাহাড়ের পাদদেশে গদ্রাসিনী আশ্রম রয়েছে। প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসে প্রচুর আধ্যাত্মিক সাধক এই স্থানটিতে যান। শান্ত ও নির্মল এই সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ সত্যিই উপভোগ্য। এই গদ্রাসিনী পাহাড়ে বিচিত্র রঙিন পাখির সমাহার দেখতে পাওয়া যায়।

কাঁকড়াঝোর – পাহাড় এবং অরণ্যের মেলবন্ধনে এই কাঁকড়াঝোর সৌন্দর্যে যেন স্বর্গরাজ্যের সমতুল। কোলাহলশূণ্য নির্জনে অরণ্যেকে নিবিড়ভাবে অনুভব করতে চাইলে আসতেই হবে কাঁকড়াঝোরে। পূর্ণিমার রাতে কিংবা বসন্তের সময়ে এই কাঁকড়াঝোরে সৌন্দর্য অবর্ণনীয় হয়ে ওঠে৷ লোধা, শবর ইত্যাদি উপজাতিদের বাস এখানে। এক রোমাঞ্চকর আরণ্যক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কাঁকড়াঝোর উৎকৃষ্ট স্থান।

উক্ত জায়গাগুলি ছাড়াও সাবিত্রী মন্দির, হাতিবাড়ি, ঝিলি লেক, খান্দারাণী বাঁধ, রামেশ্বর মন্দির, গোপীবল্লভপুর ইকো ট্যুরিজম পার্ক ইত্যাদি জায়গাগুলিও আপন সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে, ইতিহাস নিয়ে অপেক্ষা করে আছে মানুষের জন্য।

ঝাড়গ্রামে কখন যাবেন

সারাবছরই এই অরণ্য-অধ্যুষিত ঝাড়গ্রামে পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে৷ তবে একেক ঋতুতে এর একেক রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। কিন্তু এই যেহেতু এখানে গরম বেশি থাকে, তাই গ্রীষ্মকালে এখানে প্রচন্ড গরম পড়ে, অসহ্য হয়ে ওঠে সেই দাবদাহ। তাই গ্রীষ্মকালে ঝাড়গ্রামে আরামদায়ক নয়। সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ঘোরার জন্য মনোরম। আবার বর্ষার সময় থেকে ঝাড়গ্রামে ঘুরতে গেলে তার অন্য রূপ দেখা যায়।

সতর্কতা ও পরামর্শ

  • ঝাড়গ্রাম বেশ জঙ্গলাকীর্ণ এবং সেখানে বন্যপ্রাণী যথেষ্ট থাকায় শিশুদের সামলে রাখা এবং অবশ্যই জঙ্গলের পথে সাবধানে গাড়ি চালানো দরকার।
  • ঘন সবুজ এই অপূর্ব অরণ্য প্রকৃতির মাঝে বেড়াতে গিয়ে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে জায়গাটির নির্মল পরিবেশকে নোংরা করবেন না। আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।
  • ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে ঘোরার সময়ে প্রাচীন খোদাইকর্ম ও দেওয়াল, প্রাচীর ইত্যাদির খেয়াল রাখা দরকার, যাতে সেগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত না হয় বা তা কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৪


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading