জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (Jnanendra Nath Mukherjee) ছিলেন এমন এক বাঙালি বিজ্ঞানী যিনি কলয়েড এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞানে অবদানের জন্য সারা বিশ্বে সুপরিচিত। ইলেক্ট্রোকাইনেটিক ডাবল লেয়ার এবং কলয়েডাল কণার ক্যাটাফোরেটিক গতি নির্ধারণ নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছিল ‘কলকাতা মৃত্তিকা বিজ্ঞান স্কুল’।
১৮৯৩ সালের ২৩ এপ্রিল তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির রাজশাহী জেলার মহাদেবপুর গ্রামে জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম ছিল দুর্গাদাস মুখোপাধ্যায় এবং মা ছিলেন শরৎশশী দেবী। জ্ঞানেন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁদের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর পিতা বরিশালের রাজচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন তবে পরে তিনি প্রাদেশিক বিচার বিভাগীয় পরিষেবার জন্য তা ছেড়ে দেন। মাত্র বারো বছর বয়সে পিতৃহারা হন জ্ঞানেন্দ্রনাথ। তারপর থেকে তিনি ও তাঁর ছোট ভাই হরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তাঁর মায়ের কাছেই মানুষ। পরবর্তীকালে হরেন্দ্রনাথ কারমাইকেল মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক হন। জ্ঞানেন্দ্রনাথের স্ত্রীর নাম ছিল অজিতা দেবী। তাঁদের একমাত্র ছেলে দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ১৯৫০ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হন এবং বার্মা শেল অ্যান্ড কোম্পানিতে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে তিনি স্বেচ্ছাবসর নিয়ে জামশেদপুর ও রাঁচিতে নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন।
১৯০৬ সালে জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় দিনাজপুর হাই স্কুলে ভর্তি হন। তখন স্বাধীনতার বিপ্লব চলছে দিকে দিকে। তিনিও এই স্রোতে নিজেকে মিশিয়ে দেন। ১৯০৭ সালে তিনি বর্ধমানের মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখানে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এই স্কুলে থাকাকালীন তিনি অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন এবং লাঠি চালনা শেখেন। বর্ধমানের স্কুলের পড়া শেষ করে ১৯০৯ সালের মার্চ মাসে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নেন এবং জেলা বৃত্তি পান।
কলকাতায় এসে জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯০৯ সাল থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯১৩ সালে বিএসসি এবং ১৯১৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে এমএসসি পড়ার সময়ই তিনি কলয়েডের উপর প্রথম স্বাধীনভাবে করা কাজ করা শুরু করেন। তাঁর এমএসসি ডিগ্রির জন্য করা গবেষণার ভিত্তিতে কলয়েডের বৈদ্যুতিক সংশ্লেষণ সম্পর্কিত একটি প্রবন্ধ ওই বছরই ‘জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি’তে প্রকাশিত হয়। ১৯১৯ সালে তিনি লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে অধ্যাপক এফ জি ডোনানের অধীনে কাজ শুরু করেন। সেখানে ভৌত রায়াসনিক পরীক্ষাগারে তিনি কলয়েডের উপর তাঁর গবেষণা চালিয়ে যান। তাঁর প্রধান কাজ ছিল তড়িৎগতির দ্বৈত স্তর এবং এর আয়নের গঠনের (Electrokinetic double layer and its ionic constitution) তত্ত্ব উন্মোচিত করা। কলয়েডের তড়িৎ রসায়ন এবং কলয়েড কণার ক্যাটাফোরেটিক গতি নির্ণয়ে তাঁর সীমানা পদ্ধতি (boundary method) নিয়ে তাঁর কাজ তাঁকে বিজ্ঞানের জগতে পরিচিতি এনে দেয়। ফ্যারাডে সোসাইটির উদ্যোগে ‘কলয়েডের পদার্থবিদ্যা এবং রসায়ন’ শীর্ষক আলোচনায় জ্ঞানেন্দ্রনাথের কলয়েডের চার্জের উৎপত্তি এবং নিউট্রালাইজেশন বিষয়ের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে তা নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ও প্রশংসিত হয়।
প্রফেসর ডোনান তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রটি বুঝতে পেরেছিলেন। স্থগিত অবস্থায় কলয়েডীয় কণার জটিল আচরণ এবং দ্রবণে আয়নের সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ার স্পষ্ট ব্যাখ্যা বুঝে তিনি গবেষণার জন্য জ্ঞানেন্দ্রনাথকে আরও গবেষণার জন্য উৎসাহিত করেন। তাঁরই ল্যাবরেটরিতে কলয়েডীয় কণার ক্যাটাফোরেটিক গতি (Cataphoretic motion of colloidal particles) নির্ধারণের যন্ত্র এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে গবেষণা করেন জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। সেই গবেষণাপত্র ১৯২৮ সালে রয়্যাল সোসাইটির কার্যপ্রণালীতে প্রকাশিত হয়। পরে ড. আর্নে টিসেলিয়াস আরও পরিমার্জিত যন্ত্র তৈরি করে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। অধ্যাপক ফ্রুন্ডলিচ এবং ড. জেহ, ড. ডব্লিউ হ্যাকার এবং প্রফেসর আই ট্রাউব তাঁর কৌশল ব্যবহার করেই তাঁদের গবেষণা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু এক ভারতীয়র এমন সাফল্য ও বৈজ্ঞানিক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা মানতে পারেনি পশ্চিমা বিশ্ব। ফলে জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে অনেক অবিচার এবং অবহেলা সহ্য করতে হয়। তবে তাঁদের মধ্যে সহানুভূতিশীল এবং বোধগম্য ব্যক্তিরাও ছিলেন যাঁরা ভারতীয়দের বৈজ্ঞানিক কাজের প্রতি কোনও রকম পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব পোষণ করতেন না। তাঁর কলয়েডের উপর গবেষণা ও রচনা এতটাই মৌলিক ছিল যে সমগ্র বিশ্বের কলয়েড রসায়নবিদরা ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখে অথবা তাঁদের প্রকাশনাগুলিতে তাঁর প্রশংসা করেন।
জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় মাটির বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করতে ও তার সমস্যা বুঝতে ক্ষারীয় মৃত্তিকার কলয়েড পরীক্ষা কতটা কার্যকরী হতে পারে তা অনুমান করতে পেরেছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি মাটির কলয়েড নিয়েও গবেষণা করেন। ১৯৪২ সালে এন সি সেনগুপ্তের সঙ্গে তিনি ঘূর্ণমান ভিসকোমিটার (rotary viscometer) আবিষ্কার করেন যা বিভিন্ন আঠালো পদার্থের বৈশিষ্ট্য অনুধাবন করতে পারে। ১৯৪৪ সালে তিনি ক্রোমাটোগ্রাফি কৈশিক বিশ্লেষণ এবং অতিবেগুনী আলোতে প্রতিপ্রভতার (chromatography capillary analysis and fluorescence in UV light) উপর ভিত্তি করে অপরিশোধিত তেলের পার্থক্য নির্ণয় করার পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন। এই সময় আপার সার্কুলার রোড (বর্তমানে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড) এবং বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ক্যাম্পাস-দুটি বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এখানে বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রেসিডেন্সি কলেজটিও বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। এই সময় তিনি, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা, নিখিলরঞ্জন সেন, পুলিনবিহারী সরকার, প্রশান্তচন্দ্র মহালনবিশ, শিশিরকুমার মিত্র সহ অনেকে বিভিন্ন বিষয়ের লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তরুণ প্রতিভার উপর বিশ্বাস করতেন। সেই কারণে তিনি তরুণদের সরাসরি স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে লেকচারারের পদে নিযুক্ত করেন। এর পাশাপাশি গবেষণার জন্যও বিজ্ঞানীদের সুযোগ দিতেন তিনি।
জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় দেখিয়েছিলেন মাটির বৈশিষ্ট্য এবং সমস্যা বুঝতে কলয়েড কীভাবে সাহায্য করতে পারে। এনিয়ে স্যার জন রাসেল ভারত সরকারের কাছে তাঁর প্রতিবেদনে লেখেন যে তাঁর কাজ কাদামাটির পদার্থের রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে অনেক অসুবিধা দূর করছিল। তাঁর পদ্ধতি ছিল মৌলিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ। মাটি নিয়ে পড়াশোনা যে বিজ্ঞান, তার পথপ্রদর্শক ছিলেন জ্ঞানেন্দ্রনাথ। মাটি নিয়ে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি একদল মৃত্তিকাকর্মী তৈরি করেন যাদেরকে অধ্যাপক সি ই মার্শাল “কলকাতা মৃত্তিকা বিজ্ঞান স্কুল” নামে অভিহিত করেছেন।
১৯৪৫ সালে ইম্পেরিয়ালের (বর্তমানে ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, নয়াদিল্লি) পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। নতুন এই পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি গোটা দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের পুনর্গঠন শুরু করেন। তাঁর সময়ে এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের দিক থেকে উন্নত হয়। এখানে তিনি মৃত্তিকা বিজ্ঞান ও কৃষি-রসায়নের গবেষণার জন্য মৃত্তিকা জরিপ, মৃত্তিকা পদার্থবিদ্যা, কৃষি রসায়নবিদ্যা, মৃত্তিকা উর্বরতা, মৃত্তিকা অণুজীববিদ্যা, জৈব রসায়নবিদ্যা ইত্যাদি বিভাগ চালু করেন। অত্যাধুনিক যন্ত্র এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক কৌশলের সাহায্যে মৃত্তিকা ও উদ্ভিদের অনুখাদ্য এবং মাটির কাদামাটির খনিজবিদ্যার উপর পদ্ধতিগত গবেষণা শুরু করার কৃতিত্ব তাঁরই। তিনি ইনস্টিটিউটে খাদ্য, পশুখাদ্যের পুষ্টিগুণ, বিভিন্ন প্রজাতির কীট ও ছত্রাকনাশক এবং উদ্ভিদজাত দ্রব্যের রাসায়নিক গুণ নিয়ে কাজ শুরু করেন। তিনিই দেশের প্রথম ব্যক্তি যিনি কৃষি উন্নয়নের জন্য মাটি জরিপের গুরুত্ব বোঝান। মাটির জরিপ, শ্রেণিবিভাগ এবং নামকরণের পদ্ধতির উপর জোর দেন তিনি। প্রধানত তাঁর উদ্যোগেই ভারত সরকারের কৃষি মন্ত্রক ১৯৪৯ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞান সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি প্রতিষ্ঠা করে যার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালে একটি নথি প্রকাশিত হয়, যেখানে ২০টি মাটির শ্রেণীবিন্যাস দেখানো হয়। তিনি ভারতের মাটির উপর জলবায়ু, ভূ-প্রকৃতি, গাছপালা প্রভৃতির প্রভাব বিশ্লেষণ করেন। তিনি ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (IARI) একটি নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ১৯৫৮ সালে ইন্দো-আমেরিকান কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা দলের সুপারিশে এবং রকফেলার ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ভারত সরকার এই ইনস্টিটিউটে স্নাতকোত্তর বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৫৬ সালের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইনের অধীনে এটি এখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়।
দেশ ও বিদেশের একাধিক জায়গায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব সামলেছেন জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – কলকাতার ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক, ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি, পশুপালন, সেচ, বন সম্প্রদায় উন্নয়ন বিভাগের আংশিক সময়ের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রশাসক, ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য, স্টেট কলেজ অফ এগ্রিকালচার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের সভাপতি, ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ইন্ডিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটির সভাপতি, ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ সয়েল সায়েন্সের সভাপতি, ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সের সভাপতি, ইন্ডিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটির সাম্মানিক সচিব ও প্রতিষ্ঠাতা, ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ সয়েল অ্যান্ড ওয়াটার কনজারভেশনের সভাপতি, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি, ফাউন্ডেশন কমিটির সদস্য, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স একাডেমির ফেলো, এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো, লন্ডনের কেমিক্যাল সোসাইটির আজীবন সদস্য, বোর্ড অফ এক্সিকিউটিভ কমিটি অফ দ্য ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক উইনিয়নসের সাধারণ পরিষদের সদস্য, এক্সপোর্ট ফার্টিলাইজেশন কমিটির চেয়ারম্যান, হোমিওপ্যাথিক এনকোয়্যারি কমিটির চেয়ারম্যান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি বিভাগের গবেষণা কমিটির চেয়ারম্যান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি ব্যবহার বোর্ডের চেয়ারম্যান, CSIR গবেষণা কমিটির চেয়ারম্যান, একই সংস্থার কারিগরি কমিটি এবং বোর্ডের সদস্য, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট এবং বোর্ড অফ অ্যাকাউন্টসের সদস্য, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্গঠন কমিটির সচিব (বিজ্ঞান), ICAR-এর বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কমিটির সদস্য, কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি।
এছাড়া জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ভারতীয় প্রতিনিধি হল্যান্ডের ষষ্ঠ কমিটির আন্তর্জাতিক মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি, অক্সফোর্ডের তৃতীয় কংগ্রেসের আন্তর্জাতিক মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কৃষি ব্যুরো পর্যালোচনা সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় ভারত সরকারের ভারতীয় বৈজ্ঞানিক মিশনের সদস্য, রয়্যাল সোসাইটি এম্পায়ার সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ব্রিটিশ কমনওয়েলথ অফিসিয়াল সায়েন্টিফিক কনফারেন্স, লন্ডনে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেক সাকসেসে ইউনাইটেড ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক কনফারেন্স অন দ্য কনজারভেশন অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অফ রিসোর্সেসে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য, অস্ট্রেলিয়ার পার্থে প্যান ইন্ডিয়ান ওশান সায়েন্টিফিক অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয় কংগ্রেসে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য, রোথামস্টেডে ক্রান্তীয় এবং উপক্রান্তীয় মৃত্তিকা সম্মেলনে প্রতিনিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও সামলেছেন তিনি।
১৯৪৩ থেকে ১৯৪৪ সাল এবং তারপরে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত তিনি INSA-র বিদেশ সচিব ছিলেন। ১৯৬৪ সালে জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত করা হয়।
১৯৮৩ সালের ১০ মে ৯০ বছর বয়সে কলকাতায় জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়। তাঁর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা, দৃঢ় শৃঙ্খলা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলে মৃত্তিকা ও কৃষিবিজ্ঞান এক নতুন দিশা পায়। তিনি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই দেশকে কৃষি গবেষণা, শিক্ষা এবং উন্নয়নের পথ দেখিয়েছেন যা আজও আমরা অনুসরণ করছি।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান