একদিবসীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সর্বশ্রেষ্ঠ আসর হল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা যা ক্রিকেট বিশ্বকাপ নামে পরিচিত। ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ (2019 Cricket World Cup) ছিল ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বাদশতম আসর। এই বিশ্বকাপের আসর ৩০ মে থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত যৌথভাবে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হয়। এই নিয়ে পঞ্চমবারের জন্য ইংল্যান্ডে এবং ওয়েলসে তৃতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। সর্বমোট ১০টি দেশ এই খেলায় অংশগ্রহণ করেছিল। এই বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ড প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
আইসিসির একদিবসীয় আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ সাতটি দল এবং আয়োজক হিসেবে ইংল্যান্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলবার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। বাকি দুটি দল অর্থাৎ আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০১৮ ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব দ্বারা বিশ্বকাপে খেলবার যোগ্যতা অর্জন করে। এটিই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে আইসিসির সবকটি পূর্ণ সদস্য দলের উপস্থিতি ছিল না। ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম জিম্বাবুয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। আয়ারল্যান্ডও ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি এবং প্রথমবারের মতো কোনো সহযোগী দেশ অংশগ্রহণ করেনি বিশ্বকাপে।
এই দ্বাদশ বিশ্বকাপের আসরে অংশগ্রহণ করেছিল মোট ১০ টি দেশ। এই দেশগুলি হল ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০ টি দলকে এই প্রথমবার একটি গ্রুপেই রাখা হয় এবং একটি রাউন্ড-রবিন টুর্নামেন্টের ধরনে খেলানো হয়।। প্রতিটা দল পরস্পরের বিরুদ্ধে একটি করে ম্যাচ খেলে। তাদের মধ্যে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে থাকা চারটি দল যথাক্রমে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছায়। নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড যথাক্রমে ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিল এবং ইংল্যান্ড কাপ জিতেছিল।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের যেসব স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের আয়োজন করা হয়েছিল সেগুলি হল: ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড, এজবাস্টন, সোফিয়া গার্ডেন, রিভারসাইড গ্রাউন্ড, হেডিংলে, লর্ডস, ওভাল, ওল্ড ট্র্যাফোর্ড, ট্রেন্ট ব্রিজ, রোজ বোল এবং কাউন্টি গ্রাউন্ড।
আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান লন্ডনের দ্য মল-এ অনুষ্ঠিত হয়। বিগত বিশ্বকাপের (২০১৫) বিজয়ী দেশ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের তৎকালীন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক, ইংল্যান্ডের ভূতপূর্ব অফ-স্পিনার গ্রামে সোয়ানের সহযোগিতায় বিশ্বকাপের ট্রফি মঞ্চে তুলে আনেন।
২০১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি কেনিংটন ওভালে ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। ইংল্যান্ড ১০৪ রানে সেই ম্যাচটি জিতেছিল। অন্যদিকে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল লর্ডসে, যাতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিল ইংল্যান্ড।
এই বিশ্বকাপের ঠিক প্রাক্কালে সেই ঐতিহাসিক পুলওয়ামা হত্যাকান্ড ঘটেছিল, যার ফলে পাকিস্তানের প্রতি অত্যন্ত রুষ্ট হয়ে উঠেছিল ভারত। তারই জেরে এই বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচটিকে ভারতীয় খেলোয়াড়রা এবং বিসিসিআই বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু দুবাইতে একটি বোর্ড সভা পরিচালনা করার পর আইসিসি বিসিসিআই-এর এই প্রস্তাবটিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং নির্ধারিত ম্যাচ-তালিকা অনুযায়ী ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। রোহিত শর্মা সেই ম্যাচে ১৪০ রান করেছিলেন এবং ভারত ৮৯ রানে জয়লাভ করেছিল।
গ্রুপপর্বে ভারতের শেষ ম্যাচটি ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচটিতে ভারতের সাফল্য লাভ এবং সেমিফাইনালে পৌঁছনোর পিছনে রোহিত শর্মা এবং কে এল রাহুলের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরা দুজনেই সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন এবং যশপ্রীত বুমরাহ ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন।
লর্ডসের মাঠে এই বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন মার্টিন গাপতিল এবং হেনরি নিকোলস। শুরুটা খুব একটা দ্রুতলয়ে করতে পারেনি তারা। তবে গাপতিল আউট হয়ে যাওয়ার পর একটা ভাল পার্টনারশিপ তৈরি করেন নিকোলস এবং অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। নিকোলস এই বিশ্বকাপের প্রথম হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন এই ফাইনাল ম্যাচেই। ৭৭ বলে ৫৫ রান করে আউট হন তিনি। নিউজিল্যান্ডের উইকেটকিপার টম ল্যাথাম এরপর ৪৭ রানের একটি ইনিংস খেলে দলকে খানিকটা এগিয়ে দিলেও নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য খেলোয়াড়রা খুব একটা আশাপ্রদ ইনিংস খেলতে পারেননি। অবশেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়িয়েছিল ৮ উইকেটে ২৪১ রান। ইংল্যান্ডের বোলার ক্রিস ওকস এবং লিয়াম প্লাঙ্ককেট ৩টি করে উইকেট নিয়েছিলেন। তাছাড়াও ইংল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোলার জিওফ্রে আর্চারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ধরাশায়ী হয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের হয়ে ওপেন করতে নামেন জেসন রয় এবং জনি বেয়ারস্টো। ২৮ রানে ইংল্যান্ড জেসন রয়ের উইকেট হারায় এবং তারপর ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যাটসম্যান জো রুট এবং ইয়ন মরগ্যান চুড়ান্তভাবে ব্যর্থ হন। ৮৬ রানে ইংল্যান্ড ৪টি উইকেট হারায়। তারপরেই বেন স্টোকস এবং জস বাটলার মিলে শক্ত হাতে হাল ধরেন খেলার। দুজনে ১১০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলে দলকে আশার আলো দেখান। শেষপর্যন্ত বেন স্টোকস অপরাজিত ছিলেন। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৫ রানের এবং হাতে ছিল ২টি উইকেট। দুটি ডট বলের পর একটি ছয় মারেন স্টোকস। পরবর্তী বলে একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটে। স্টোকস একটি শট মারলে বাউন্ডারির কাছে তা ফিল্ডারের হাতে যায়। এদিকে প্রথম রান সম্পূর্ণ করে দ্বিতীয় রানটি সম্পূর্ণ করতে লাফ দিয়ে ক্রিজে ঢোকার জন্য স্টোকস ব্যাট বাড়িয়ে দিলে ফিল্ডারের ছুঁড়ে দেওয়া বল স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারি লাইনে গিয়ে চার হয়ে যায়। আম্পায়ার তাতে ছয় রান দেওয়ার ঘোষণা করেন। যদিও ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী সেই ঘটনায় পাঁচ রান দেওয়া উচিত ছিল, কারণ দ্বিতীয় রানের জন্য যখন দৌঁড় শুরু করেন স্টোকস তখন উল্টোদিকের খেলোয়াড় জেমস এন্ডারসনকে ক্রস করার আগেই ফিল্ডার থ্রো-টি করেছিলেন বাউন্ডারি থেকে, ফলে দ্বিতীয় রানটি কাউন্ট হওয়া উচিত ছিল না। অবশেষে ১ বলে ২ রান বাকি থাকলে ম্যাচটি টাই হয়ে যায়। যদিও এন্ডারসন জানান, স্টোকস নাকি আম্পায়ারদের কাছে সেই চারটিকে বাতিল করার আবেদন করেছিলেন।
ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী এরপর সুপার ওভার অর্থাৎ এক ওভারের খেলা হয়। প্রথম ব্যাট করতে নেমে সুপার ওভারে ৬ বলে ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস এবং বাটলার মিলে ১৫ রান তোলেন। নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপতিল এবং জেমস নিশাম ব্যাট করতে নামেন এবং ১ উইকেট হারিয়ে তারাও শেষমেশ ১৫ রানেই শেষ করেন। সুপার ওভারও টাই হয়ে যায়। শেষে ক্রিকেটের বাউন্ডারি কাউন্ট ব্যাক রুল অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাউন্ডারি থাকার কারণে ইংল্যান্ডকে বিজেতা ঘোষণা করা হয়। রোমাঞ্চকর এই ফাইনাল জিতে ইংল্যান্ড প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচের খেতাব দেওয়া হয়েছিল ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসকে।
২০১৯ বিশ্বকাপে ৬৪৮ রান করে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় প্রথম স্থানে ছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার। অন্যদিকে ২৭টি উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় প্রথমে ছিলেন মিচেল স্টার্ক এবং ২১টি উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের লকি ফার্গুসন।
তবে ২০১৯ বিশ্বকাপের প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের অসাধারণ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে। গোটা টুর্নামেন্টে মোট ৫৭৮ রান করেছিলেন তিনি। দুটি সেঞ্চুরি এবং দুটি হাফসেঞ্চুরিও করেছিলেন। তবে সর্বোপরি তাঁর অসাধারণ অধিনায়কত্ব নিউজিল্যান্ডকে ফাইনাল পর্যন্ত এনেছিল, তাঁর সেই কৃতিত্বকে সম্মান জানিয়েই তাঁকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করা হয়েছিল।
২০১৯ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথমে তো রোহিত শর্মার কথা বলতেই হয়। এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান তো তাঁর ছিলই, সেইসঙ্গে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এই রোহিত শর্মা-ই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কোনও ক্রিকেটার হিসেবে একটি বিশ্বকাপে ৫ টি শতরান করে রেকর্ড তৈরি করেন। অন্যদিকে বলতে হয় বাংলাদেশের সাকিব-আল-হাসানের কথা। এই বিশ্বকাপেই বাংলাদেশের সাকিব-আল-হাসান বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কোনও অলরাউনডার হিসেবে ৬০০ রান ও ১০ টি উইকেট নিয়ে রেকর্ড তৈরি করেন।
২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ শেষ ওভারে, যখন ইংল্যান্ডের কাছে জেতবার জন্য ১৫ রান দরকার, তখন ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে হওয়া বাউন্ডারি এবং সেইসঙ্গে দৌড়ে নেওয়া দুই রানের জন্য আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার সেই বলে ছয় রান দিয়েছিলেন। অথচ ফিল্ডার যখন বল থ্রো করে তখন যেহেতু দ্বিতীয় রানের জন্য ইংল্যান্ডের দুই প্লেয়ার একে অপরকে ক্রস করেননি, তাই ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী সেই দ্বিতীয় রানটি কাউন্ট হওয়া উচিত ছিল না, অর্থাৎ সেই বলে ৫ রান দেওয়া উচিত ছিল। শেষ বলে ইংল্যান্ডের বাকি ছিল ২ রান। ইংল্যান্ড ১ রান নিতে সক্ষম হয় এবং ম্যাচটি ড্র হয়ে সুপার ওভারে গড়ায়। পরে সুপার ওভারেও টাই হলে বেশি সংখ্যক বাউন্ডারি থাকার কারণে ইংল্যান্ড ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। অতএব সেই বলটিতে ৬ রানের জায়গায় ন্যায্যভাবে ৫ রান দিলে শেষ বলে বাকি থাকত ৩ রান এবং ১ রানে ম্যাচটি জিতে নিউজিল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হতে পারত। এই ঘটনাটি অবশ্যই এক বিতর্কিত ঘটনা ছিল।
২০১৯ বিশ্বকাপে অধিনায়ক বিরাট কোহলির ভারতীয় দল খুব খারাপ পারফরম্যান্স করেনি। গ্রুপপর্বের নয়টি খেলায় সাতটি জিতে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল ভারত। তবে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে ভারতের সফর শেষ হয়ে গিয়েছিল। মহেন্দ্র সিং ধোনি (৫০ রান) এবং রবীন্দ্র জাদেজার (৭৭ রান) দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং পার্টনারশিপ সত্ত্বেও ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্টদের বোলিংয়ে ধ্বসে যায় ভারতীয় স্কোয়াড। ১৮ রানে সেই ম্যাচ জেতে নিউজিল্যান্ড।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর ফাইনালে ক্রিকেটের বাউন্ডারি কাউন্ট ব্যাক রুলের দৌলতে, বেশি সংখ্যক বাউন্ডারি থাকার কারণে ইংল্যান্ড জয়লাভ করে এবং প্রথমবার বিশ্বকাপ জিততে সক্ষম হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান