ইতিহাস

অজিতকৃষ্ণ বসু

রসসাহিত্যিক, জাদুকর এবং সঙ্গীতজ্ঞ অজিতকৃষ্ণ বসু (জন্মঃ- ৩ জুলাই, ১৯১২ – মৃত্যুঃ- ৭ মে, ১৯৯৩)

ঢাকার গ্যান্ডেরিয়ায় তাঁর জন্ম। পড়াশোনা ঢাকার ই জগন্নাথ কলেজ ও কলকাতার স্কটিশচার্চ কলেজে। ডি জে কিমার ও ডাকব্যাক কোম্পানিতে বিজ্ঞাপন ও প্রচারের কাজে কর্মজীবন শুরু। পরে ইংরেজির অধ্যাপনা গোবরডাঙা কলেজ ও আশুতোষ কলেজে।

প্রধানত রসসাহিত্যিক হলেও জাদুবিদ্যা ও সঙ্গীতেও তিনি পারদর্শি ছিলেন। অ কৃ ব নামেই তিনি অধিক পরিচিত ছিলেন। ১৯২৬-এ, মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘খোকাখুকু’ মাসিকপত্রে প্রকাশিত অনুবাদ-কবিতা দিয়ে লেখালিখির সূত্রপাত। কৌতুকরসের কবিতা-গল্প-উপন্যাসই লিখেছেন বেশি। ‘শনিবারের চিঠি’তে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত ‘পাগলা গারদের কবিতা’ তাঁর অন্যতম সেরা রচনা। ইংরেজি কৌতুককবিতা লিখেছেন ‘শঙ্করস উইকলি’তেও। জাদুসম্রাট পি সি সরকারের বাল্যবন্ধু অজিতকৃষ্ণ জাদুবিদ্যা নিয়ে লেখালিখিও করেছেন। সঙ্গীতশিক্ষার হাতেখড়ি কৃষ্ণচন্দ্র দে’র কাছে। তালিম নিয়েছেন উস্তাদ গুল মহম্মদ খাঁ ও তারাপদ চক্রবর্তীর কাছে। সে কথা আছে ওস্তাদ কাহিনী গ্রন্থে।

‘ও এক নদী বহু তরঙ্গ’ ,’বিধাতা’ (১৯৬৩), ‘চন্দনপুরের কাহিনী’ (১৯৬৬), ‘ম্যরিনা ক্যান্টিন’ (১৯৬৭), ‘নন্দিনী সোম’, ‘সৈকত সুন্দরী’ প্রভৃতি তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। কবিতার পাশাপাশি ছোটগল্প ও উপন্যাস রচনাতেও তাঁর প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। ‘শেষ বসন্ত’ (১৯৬৩), ‘প্রজ্ঞাপারমিতা’(১৯৬৬), ‘শকুন্তলা স্যানাটরিয়াম’ প্রভৃতি তাঁর উপন্যাস এবং ‘অকৃব’-র বিচিত্র গল্পসংকলন (১৯৭৬) তাঁর ছোটগল্প সংকলনের মধ্যে অন্যতম । তিনি মার্ক টোয়েন এবং ন্যথালিয়েন হর্নের বেশ কিছু গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ করেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সাহিত্যরচনার পাশাপাশি জাদুবিদ্যা এবং সঙ্গীতচর্চাতেও অজিতকৃষ্ণ বসুর উপস্থিতি ও অনুরাগ বিশেষ ভাবে লক্ষ করা যায়। সরস শব্দ চয়ন, হাস্য রসাত্মক বাক্যবিন্যাস এবং লেখনিশক্তির অসামান্য দক্ষতায় তিনি যে সৃষ্টিরাজি সাহিত্যপ্রেমী মানুষদের উপহার দিয়েছেন, তাতে তিনি পাঠক-হৃদয়ে তিনি অমর হয়ে আছেন।

তথ্যসূত্র


  1. http://archives.anandabazar.com/

 
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

বাংলা ভাষায় তথ্যের চর্চাকে ছড়িয়ে দিতে পোস্টটি লাইক ও শেয়ার করুন। 

  

error: Content is protected !!