সব

আজিম প্রেমজি

আজিম  প্রেমজি (Azim Premji) হলেন ভারতের একজন  বিশিষ্ট শিল্পপতি যিনি বিখ্যাত ‘উইপ্রো লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান। সফটওয়্যার শিল্পে উইপ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে বিগত চার দশক ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। ২০১০ সালে তিনি ‘এশিয়াউইক’ (Asiaweek)-এর সংবাদ অনুযায়ী বিশ্বের ২০ জন সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মধ্যে তিনি স্থান পেয়েছেন। তিনি দু’বার টাইম ম্যাগাজিন (TIME magazine)-এর বিচারে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় অন্তুর্ভুক্ত হয়েছিলেন।

১৯৪৫ সালের ২৪ জুলাই ভারতের মুম্বাই শহরে এক মুসলিম পরিবারে আজিম প্রেমজির জন্ম হয়। তাঁর প্রকৃত নাম আজিম হাশিম প্রেমজি। তাঁর বাবা মহম্মদ হাশিম প্রেমজি ছিলেন একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী যিনি ‘Rice king of Burma’ নামে পরিচিত ছিলেন। পাকিস্তানের রূপকার মহম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁকে পাকিস্তানে থাকার আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা প্রত্যাখান করে ভারতেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রেমজি আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (Stanford University) থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ‘ব্যাচেলার অফ সায়েন্স’ (Bachelor of Science) ডিগ্রী অর্জন করেন।
১৯৪৫ সালে প্রেমজির বাবা মহম্মদ হাশিম প্রেমজি মহারাষ্ট্রের অন্তর্গত জলগাঁও জেলার এক ছোট শহরে অবস্থিত ‘ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ান ভেজিটেবিল প্রোডাক্টস লিমিটেড’ (Western Indian Vegetable Products Ltd.)-অধিগ্রহণ করেন।  এই কারখানায় সানফ্লাওয়ার বনস্পতি ব্র্যান্ড নামে রান্নার তেল এবং ৭৮৭ নামে কাপড় কাচা সাবান উৎপাদন হত।

১৯৬৬ সালে মহম্মদ হাশিম প্রেমজির মৃত্যুর খবর পেয়ে ২১ বছরের আজিম প্রেমজি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে আসেন। পরবর্তীকালে তিনি ব্যবসা আরও বিস্তার করার জন্য ও বৈচিত্র্য আনার জন্য বেকারি ফ্যাট, প্রসাধনী দ্রব্য সামগ্রী, আলোক বাতি, হাইড্রলিক সিলিন্ডার প্রভৃতি উৎপাদন করতে শুরু করেন। আশির দশকে আইবিএম (IBM) ভারত থেকে চলে যাওয়ার ফলে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এই শূন্যস্থান পূরণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে আজিম প্রেমজি নিজের কোম্পানির নাম পাল্টে ‘উইপ্রো’ (Wipro) নামটি রাখেন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। এর জন্য তিনি আমেরিকান কোম্পানি ‘সেন্টিনেল কম্পিউটার করপোরেশন-এর সহযোগিতায় মিনি কম্পিউটার উৎপাদন করতে শুরু করেন। পরবর্তীকালে উইপ্রো ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অন্যতম বিখ্যাত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

২০০০ সালে প্রেমজি সাম্মানিক ‘ডক্টরেট’ লাভ করেন ‘Manipal Academy of Higher Education’ থেকে। ২০০৬ সালে, ‘National Institute of Industrial Engineering, Mumbai’ কর্তৃক ‘Lakshya Business Visionary’ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০৯ সালে তিনি সাম্মানিক ‘ডক্টরেট’ উপাধি লাভ করেন,  Wesleyan University থেকে। ২০১৫ সালে Mysore University তাঁকে সম্মানিক ‘ডক্টরেট’ উপাধি প্রদান করে।
২০০৫ সালে ভারত সরকার তাঁর কাজের জন্য তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ (Padma Bhushan) উপাধিতে ভূষিত করে। ২০১১ সালে তিনি ভারত সরকারের ‘পদ্মবিভূষণ’ (Padma Vibhushan) পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৭ সালে ‘India Today’ পত্রিকার‌ তথ্যানুসারে ৫০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মধ্যে তিনি নবম স্থান অধিকার করেন।
২০১৮ সালে প্রেমজি ফরাসি সরকার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ফরাসি নাগরিক সম্মান ‘Chevalier de la Légion d’Honneur’ (Knight of the Legion of Honour) লাভ করেন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ফোর্বস ম্যাগাজিন (Forbes magazine) প্রেমজিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ‘Heroes of Philanthropy list of 30 altruists’ বলে অভিহিত করে। আজিম প্রেমজি প্রথম ভারতীয় যিনি ‘ফ্যারাডে মেডেল’ (Faraday Medal) লাভ করেন। ফোর্বস-এর ২০১৮ প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রেমজি বর্তমানে ভারতের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি এবং বিশ্বের ৫৮তম ধনী। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৭.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০০১ সালে তিনি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘আজিম প্রেমজি ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে ভারতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার উন্নতির জন্য তিনি দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করেন। আজিম প্রেমজি প্রথম ভারতীয় যিনি বিল গেটস (Bill Gates) এবং ওয়ারেন বাফের (Warren Buffett) শুরু করা ‘The Giving Pledge’ উদ্যোগে শরিক হয়েছেন। এই উদ্যোগের শরিক হয়ে বিশ্বের ধনকুবেররা প্রতিজ্ঞা করেন তাঁদের সম্পত্তির ৫০ শতাংশ দান করবেন সমাজের উন্নতির জন্যে। তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে কাজ করে এই ফাউন্ডেশন – সরকারি স্কুলের মান উন্নয়ন, আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বড় অংকের ভর্তুকি দেওয়া এবং বিশেষ কিছু অঞ্চলের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে আর্থিক সাহায্য করা।

২০২০ সালে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মোকাবিলায় সাহায্যের জন্য সরকারি তহবিলে অর্থ দান করেছে উইপ্রোর তিন সংস্থা- উইপ্রো, উইপ্রো এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও আজিম প্রেমজি ফাউন্ডেশন ১,১২৫ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে।  অনুদানের মধ্যে ১০০ কোটি টাকা দিয়েছে উইপ্রো লিমিটেড। উইপ্রো এন্টারপ্রাইস লিমিটেড দিয়েছে ২৫ কোটি। বাকি ১,০০০ কোটি টাকা দিয়েছে আজিম প্রেমজি ফাউন্ডেশন। আজিম প্রেমজি ফাউন্ডেশন ও উইপ্রোর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, করোনা মোকাবিলায় যাঁরা স্বাস্থ্যপরিষেবা ক্ষেত্রে নিযুক্ত আছেন তাঁদের সাহায্য করার জন্যই এই অনুদান। এছাড়াও করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার পরিকাঠামো তৈরি করার জন্য  ‘National Centre for Biological Sciences’ এবং ‘The Institute for Stem Cell Science and Regenerative Medicine’-এর সঙ্গে সহযোগিতা করছে তাঁর সংস্থা।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।